রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় মহিপুর তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে মূল মহিপুর সেতুসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রংপুর-কাকিনা সড়কটি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। গতকাল শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা থেকে তিস্তা নদীতে আকস্মিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেতুটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধে এই ভয়াবহ ধস নামে।
মাত্র কয়েক ঘণ্টায় নদীগর্ভে ৩০ মিটার, তৈরি হয়েছে ৬০ ফুটের গর্ত
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ৮টার মধ্যে বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ মুহূর্তের মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনকবলিত স্থানে তীব্র স্রোতের কারণে প্রায় ৬০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত এই ভাঙন রোধ করা না গেলে যেকোনো মুহূর্তে মহিপুর সেতু ও কাকিনাগামী সড়কের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত বছরও এই বাঁধটির প্রায় ১০০ ফুট অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল। সে সময় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধের উজানে নামমাত্র বাঁশের পাইলিং করে তা রক্ষার চেষ্টা করেছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। পরবর্তীতে পানি কমে গেলেও সেখানে কোনো টেকসই বা স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে চলতি মৌসুমে পানির তীব্র স্রোত আসতেই সেই ১৪ লাখ টাকার বাঁশের পাইলিং ভেঙে ভেসে গেছে।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী এলজিইডির তীব্র সমালোচনা করে সাংবাদিকদের বলেন:
“গত বছর যখন ভাঙন ধরে, তখনই আমরা এলজিইডিকে ব্লক দিয়ে বাঁধটি টেকসই করার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের কথায় কান না দিয়ে ১৪ লাখ টাকা খরচ করে জোড়াতালির বাঁশের পাইলিং করেছিলেন। এবার পানির প্রথম ধাক্কাতেই সেটি ভেসে গেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। মূলত এলজিইডির অবহেলা আর সরকারি অর্থ অপচয়ের কারণেই আজ এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুল রহমান বলেন, “গত বছর ঢাকা থেকে আসা একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দলের দেওয়া নকশা ও পরামর্শ অনুযায়ীই সেখানে পাইলিং করা হয়েছিল। নতুন করে আবার ভাঙন শুরু হওয়ার বিষয়টি আমরা ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আপদকালীন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
রংপুর ও লালমনিরহাটের অন্যতম প্রধান এই সংযোগ সড়ক এবং সেতুটি রক্ষায় অতি দ্রুত জিও ব্যাগ ও কংক্রিট ব্লক ফেলে ভাঙন ঠেকানোর দাবি জানিয়েছেন দুই পারের ভুক্তভোগী হাজারো মানুষ।
জুফাস নিউজ/সরিগ
বিষয় : আবহাওয়া তথ্য রংপুরের খবর নদী ভাঙ্গন

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় মহিপুর তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে মূল মহিপুর সেতুসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রংপুর-কাকিনা সড়কটি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। গতকাল শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা থেকে তিস্তা নদীতে আকস্মিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেতুটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধে এই ভয়াবহ ধস নামে।
মাত্র কয়েক ঘণ্টায় নদীগর্ভে ৩০ মিটার, তৈরি হয়েছে ৬০ ফুটের গর্ত
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ৮টার মধ্যে বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ মুহূর্তের মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনকবলিত স্থানে তীব্র স্রোতের কারণে প্রায় ৬০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত এই ভাঙন রোধ করা না গেলে যেকোনো মুহূর্তে মহিপুর সেতু ও কাকিনাগামী সড়কের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত বছরও এই বাঁধটির প্রায় ১০০ ফুট অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল। সে সময় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধের উজানে নামমাত্র বাঁশের পাইলিং করে তা রক্ষার চেষ্টা করেছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। পরবর্তীতে পানি কমে গেলেও সেখানে কোনো টেকসই বা স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে চলতি মৌসুমে পানির তীব্র স্রোত আসতেই সেই ১৪ লাখ টাকার বাঁশের পাইলিং ভেঙে ভেসে গেছে।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী এলজিইডির তীব্র সমালোচনা করে সাংবাদিকদের বলেন:
“গত বছর যখন ভাঙন ধরে, তখনই আমরা এলজিইডিকে ব্লক দিয়ে বাঁধটি টেকসই করার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের কথায় কান না দিয়ে ১৪ লাখ টাকা খরচ করে জোড়াতালির বাঁশের পাইলিং করেছিলেন। এবার পানির প্রথম ধাক্কাতেই সেটি ভেসে গেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। মূলত এলজিইডির অবহেলা আর সরকারি অর্থ অপচয়ের কারণেই আজ এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুল রহমান বলেন, “গত বছর ঢাকা থেকে আসা একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দলের দেওয়া নকশা ও পরামর্শ অনুযায়ীই সেখানে পাইলিং করা হয়েছিল। নতুন করে আবার ভাঙন শুরু হওয়ার বিষয়টি আমরা ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আপদকালীন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
রংপুর ও লালমনিরহাটের অন্যতম প্রধান এই সংযোগ সড়ক এবং সেতুটি রক্ষায় অতি দ্রুত জিও ব্যাগ ও কংক্রিট ব্লক ফেলে ভাঙন ঠেকানোর দাবি জানিয়েছেন দুই পারের ভুক্তভোগী হাজারো মানুষ।
জুফাস নিউজ/সরিগ

আপনার মতামত লিখুন