রংপুরে মোটরসাইকেল চোরচক্রের হোতাসহ ৬ সদস্য গ্রেপ্তার
চোখের পলকে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় আতঙ্ক ছড়ানো সেই শাহিন চক্রের পর্দাফাঁস করেছে পুলিশ। তাজহাট থানায় দায়ের করা একটি মোটরসাইকেল চুরির সাধারণ এজাহার নিয়ে শুরু হওয়া দীর্ঘ দুই মাসের তদন্ত শেষ পর্যন্ত রূপ নিয়েছে এক বিশাল অপরাধ সিন্ডিকেট ভাঙার অভিযানে। পুলিশ জানিয়েছে, চক্রের মূল হোতা শাহিন মিয়াসহ মোট ছয়জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে রেজিস্ট্রেশনবিহীন ও চোরাই আটটি দামি মোটরসাইকেল।গত ৫ অক্টোবর বিকেলের ঘটনা। রংপুর নগরীর আলহাজনগর দর্শনা গ্রামের একটি বাড়ির সামনে থেকে মো গোলাম রব্বানীর দেড় শ সিসির অ্যাপাচি মোটরসাইকেলটি চোখের নিমিষে চুরি হয়ে যায়। ভুক্তভোগী এ ঘটনায় তাজহাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই সূত্র ধরে মাঠে নামে পুলিশ। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৯ অক্টোবর নগরীর ব্যস্ততম মডার্ন মোড় এলাকা থেকে চক্রের মূল পান্ডা শাহিন মিয়াকে আটক করা হয়। শাহিনের দেওয়া স্বীকারোক্তির সূত্র ধরে ওই রাতেই পুলিশ চালাতে শুরু করে একের পর এক অভিযান।তদন্তের জালে একে একে ধরা পড়তে শুরু করে চক্রের অন্যান্য কুশীলবরা। দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার শিমুল মন্ডল, পীরগঞ্জের মিলন মিয়া, জাহাঙ্গীরাবাদের হাসান মিয়া এবং ভগবানপুরের রাশেদ প্রধানকে আটক করা হয় বিভিন্ন স্থান থেকে। তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় মূল complainant গোলাম রব্বানীর বাইকসহ মোট পাঁচটি চোরাই মোটরসাইকেল। গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।[TECHTARANGA-POST:6918]রিমান্ডে প্রাপ্ত চাঞ্চল্যকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ২০ অক্টোবর গভীর রাতে মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ এলাকায় চালানো হয় আরও একটি আকস্মিক অভিযান। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পীরগঞ্জের শানেরহাট বাজার এলাকা থেকে চক্রের আরও এক সদস্য রাসেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রাসেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয় নিবন্ধনহীন আরও তিনটি পালসার মোটরসাইকেল। সব মিলিয়ে এই একটিমাত্র মামলার সূত্র ধরে পুলিশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে আটটি চোরাই বাইক।পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে এই চক্রের অভিনব সব অপকর্মের কৌশল। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে ও দ্রুততার সঙ্গে মোটরসাইকেলগুলো চুরি করে তারা একটি নির্দিষ্ট স্থানে জমা রাখত। এরপর সুযোগ বুঝে কম দামে কিংবা ভুয়া কাগজপত্রে সেগুলো বিভিন্ন ক্রেতার কাছে বিক্রি করে দিত চক্রের সদস্যরা।এ বিষয়ে তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, রংপুর অঞ্চলে সক্রিয় এই আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের মূল হোতাসহ ছয়জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। রিমান্ডে থাকা আসামিদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে এবং চক্রের বাকি পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।