রংপুর    শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
জুফাস নিউজ

আর্কাইভ

মতামতমতামত

আমার এত দল পরিবর্তন করার শখ নেই; আমার পল্টি দেওয়ার অভ্যাসও নেই

ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে পুরোদমে রাজনীতিতে সময় দিতে চান বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন দল পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা তার কোনোকালেই ছিল না এবং ভবিষ্যতেও নেই। বর্তমানে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা কিংবা নিষিদ্ধ থাকলেও এই অবস্থা চিরস্থায়ী হবে না বলেই বিশ্বাস করেন সাকিব আল হাসান।বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সোজাসাপ্টা কথা বলেন তিনি।দলের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা নিয়ে সাকিব বলেন, ‘আমার এত দল পরিবর্তন করার শখ নেই। আমি যখন ছোট কোনো দলেও খেলেছি, সেই দলের প্রতি অনুগত ছিলাম। আমার পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই।’ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজীবন কি কেউ কাউকে নিষিদ্ধ করে রাখতে পারে? এটা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার।জোর করে কিছুদিন দমিয়ে রাখা সম্ভব হলেও তাতে দেশের বা রাজনীতির কোনো উন্নতি হয় না।’সাবেক এই সংসদ সদস্য রাজনীতিতে প্রতিহিংসার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত উল্লেখ করে বলেন, ‘যদি আমরা আগে ভুল করে থাকি এবং এখন সেটির পুনরাবৃত্তি হয়, তবে এই খেলা চলতেই থাকবে। কাউকে না কাউকে এই ধারা শেষ করতে হবে। যে দল এটি শেষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, তারাই মানুষের মনে জায়গা করে নেবে।সাকিব বলেন, ‘আমার শতভাগ বিশ্বাস আছে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মাগুরার মানুষ আমাকে আবারও ভোট দেবে। আমি তো এবারের (অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তী সম্ভাব্য) নির্বাচনেও অংশ নিতে আগ্রহী ছিলাম। ভেবেছিলাম ভোটে দাঁড়িয়েই নিজের জনপ্রিয়তা দেখিয়ে দেব। কিন্তু পারিপার্শ্বিকতা ও দলের সিদ্ধান্তের কারণে তা সম্ভব হয়নি।’পুরোপুরি আশা আছে যে আমি দ্রুতই দেশে ফিরব উল্লেখ করে সাকিব আল হাসান বলেন, ‘আমি আইনের মুখোমুখি হতে চাই, কিন্তু আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।আমি বিশেষ কোনো প্রটোকল চাচ্ছি না, শুধু সাধারণ নাগরিক হিসেবে আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন হয়রানি না করার নিশ্চয়তা চাই। এই নিশ্চয়তা কাল দেওয়া হলে আমি পরশুই দেশে ফিরব।’২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সাকিবের সংসদীয় মেয়াদ ছিল মাত্র সাত মাস। ৫ আগস্টের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা সাকিবের নামে বর্তমানে হত্যা মামলাসহ চেক জালিয়াতি ও শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির মামলা রয়েছে। এসব মামলাকে আইনিভাবে মোকাবেলা করতে চাইলেও দেশে ফেরার ক্ষেত্রে মূল বাধা হিসেবে তিনি ‘নিরাপত্তাহীনতা’ ও ‘হয়রানি’কে দেখছেন।

‘কাজ শেষ না করে আমরা কোথাও যাচ্ছি না’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করছেন না উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, আমরা আমাদের কাজ শেষ না করে কোথাও যাচ্ছি না। শনিবার একনেক বৈঠকের পর হওয়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, তিনি চলে যাবেন বলেননি। তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, আমরা যে কাজ করছি, আমাদের সামনে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমরা সব বাধা অতিক্রম করব।অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর অর্পিত দায়িত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এর ওপর নির্ভর করছে। আমরা এ দায়িত্ব ছেড়ে যেতে পারি না।পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আমরা দেখছি বিভিন্ন জায়গা থেকে কী কী বাধা আসছে, কে কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং আমরা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কী কী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।উপদেষ্টা রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসহ সব পক্ষের সমর্থন চেয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা সব শক্তি এবং সব রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে আমরা এ লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করার আহ্বান জানাব। এটা শুধু আমাদের একার দায়িত্ব নয়।ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, উপদেষ্টারা স্বপ্রণোদিতভাবে এখানে আসেননি। তবে তাদের একটি জাতীয় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে এবং তারা তা ছেড়ে যাবেন না।আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেননি উপদেষ্টা।

এলডিসির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতির পুনর্মূল্যায়ন জরুরি

বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা  : এলডিসি পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয়তা এবং চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত অধ্যাপক লুৎফে সিদ্দিকী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।মূল প্রবন্ধে ড. সেলিম রায়হান বলেন, রাজস্ব খাতে সংস্কারের অভাব এবং প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে কর বৃদ্ধিতে সরকারের ব্যর্থতার ফলে পরোক্ষ কর ও আমদানি করের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা দেখা দিচ্ছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের আমদানি শুল্ক হার অনেক বেশি। রপ্তানি খাতও শুধু তৈরি পোশাকে সীমাবদ্ধ। তাও আবার পোশাকের প্রবৃদ্ধি নগদ প্রণোদনা ও কর ছাড়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চাপ সামলাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন রপ্তানি পণ্য ও নতুন বাজার খোঁজা উচিত।প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। তবে যে গতিতে বর্তমানে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। সত্যিকার অর্থে শিল্প খাতসহ অন্য সেক্টরে কোনো দীর্ঘমেয়াদে রোডম্যাপ নেই, যা হতাশার বিষয়। এলডিসি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি সরকারের সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে এলডিসি উত্তরণ করতেই হবে। এখান থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। তবে এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের উচ্চমানের তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ওপর বেশি হারে মনোযোগী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিল্প-কারখানা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস বৃদ্ধির বিকল্প নেই। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কাস্টমস) কাজী মোস্তাফিজুর রহমান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের জয়েন্ট চিফ (ইন্টারন্যাশাল কো-অপারেশন ডিভিশন) মসিউল ইসলাম, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন এবং ফকির ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ প্রমুখ।

অনিয়মে জর্জরিত ‘ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স’, ঝুঁকিতে ব্যান্ডউইথ নিরাপত্তা

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মকানুন উপেক্ষা করে একে একে আইআইজি, আইটিসি, আইজিডব্লিউসহ ইন্টারনেট-টেলিকম খাতের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স দখলে নেয় আওয়ামী সুবিধাভোগী এ প্রতিষ্ঠান। এসব লাইসেন্স অর্জনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি), দেশের অভ্যন্তরের আইটিসি প্রতিষ্ঠান এবং এয়ারটেল ও টাটার মতো শীর্ষ ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ওয়ান এশিয়ার মোট বকেয়ার পরিমাণ ২৩ কোটি টাকারও বেশি। বিটিআরসির কাছেই এর বকেয়া প্রায় ৪ কোটি টাকা। বিএসসিসিএল-এর কাছে রয়েছে আরও ১ কোটি টাকার বেশি। অপরদিকে টেলিকম জায়ান্ট এয়ারটেল তাদের ১৩ কোটি টাকার এবং টাটা ৫ কোটি টাকার বকেয়া দাবি করছে। এদিকে বকেয়া আদায়ে নানাভাবে চেষ্টা করে না পেয়ে ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স-এর বিরুদ্ধে বিএসসিপিএলসি ঢাকা জেলা জজ আদালতে ‘আরবিট্রেশন মামলা’ দায়ের করে। এর রায়ে তারা জয়ী হয়। সেই রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি ‘অ্যাওয়ার্ড এক্সিকিউশন মামলা’ করে, যা এখনো চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, যেন লাইসেন্স বাতিল না হয় এবং তাদের ব্যবসা চালু রাখা যায়। ইতোমধ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে তারা এনওসিও নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসির একটি সূত্র।ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স একসময় আইআইজি, আইটিসি ও আইজিডব্লিউ লাইসেন্স নিয়ে টেলিকম বাজারে প্রবেশ করলেও সময়ের সঙ্গে শর্ত লঙ্ঘন করে একাধিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মালিকানাধীন বেঙ্গল ব্রডব্যান্ড ২০১৬ সালে ডিভিশনাল আইএসপি লাইসেন্স পেলেও নবায়ন না করেই বর্তমানে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এর মালিকানাধীন প্রিজমা ডিজিটাল নেটওয়ার্কের রয়েছে ন্যাশন ওয়াইড আইএসপি লাইসেন্স।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারবার মোবালইল ফোনে কল, হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ওয়ান এশিয়া অ্যালায়ন্সের মূল প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসফারিয়া খায়েরের সঙ্গে। তবে তিনি সাড়া দেননি। পরে পুনরায় চেষ্টা করলে দেখা যায়, তিনি প্রতিবেদকের নম্বরই ব্লক করে দিয়েছেন।বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্সকে মোট বকেয়ার ৫০ শতাংশ এককালীন পরিশোধ এবং বাকি অংশ কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে এনওসি প্রদান করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মাত্র ১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বলে তিনি জানান।ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, আইএসপি সেক্টরের সেবাদান নির্ভর করে আইআইজি ও ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারীদের ওপর। কেউ যদি কোটি টাকা বকেয়া রেখে অনিয়ম করে, তা গ্রাহকের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের জন্য হুমকি। তবে নেপথ্যে যদি নীতিগত বা কাঠামোগত কোনো সমস্যা থাকে, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ম ও নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা জরুরি। এক্ষেত্রে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বকেয়া বা নীতিগত ব্যত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন তাগাদা দিলেও প্রতিষ্ঠানটি পাওনা পরিশোধ করেনি, চিঠির জবাবও দেয়নি। এখন তাদের কাউকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব যুগান্তরকে বলেন, আমরা চাই, ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করুক, গ্রাহকদের সেবা দিক। কিন্তু সরকারের পাওনা পরিশোধ না করে কেউ যদি অনিয়মে জড়ায়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

অধ্যাদেশ বিলুপ্তির দাবিতে কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে

ন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে তাদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। এনবিআরের অধীনস্থ সারা দেশের অন্য সব অফিসেও একইভাবে কর্মসূচি পালিত হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। ভ্যাট ও কর অফিসেও সেবা বন্ধ ছিল। তবে রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা কাযক্রম চলমান ছিল। শনিবার এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার এদিপ বিল্লাহ, উপকর কমিশনার মোস্তফিজুর রহমান, সহকারী কর কমিশনার ইশতিয়াক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক, যা ইতোমধ্যেই দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ও থিংকট্যাংকসহ সর্বমহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। এনবিআর তথা রাজস্ব প্রশাসনের আমূল সংস্কার আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। তবে এই সংস্কার হতে হবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত সর্বোত্তম ব্যবস্থা ও পদ্ধতির অনুরূপ। দেশের স্বার্থ ও উন্নয়ন দর্শন এতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হতে হবে। এছাড়া রাজস্ব প্রশাসন অধিকতর কার্যকর, প্রগতিশীল ও দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে এবং এ সংস্কার বিশেষ কারও স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হবে না। কিন্তু রাজস্ব ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের স্বার্থে আমাদের এমন যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে সরকার কেন, কী কারণে এবং কাদের প্ররোচনায় বিলম্ব করছে, তা বোধগম্য নয়।    এতে আরও বলা হয়, আজ (শনিবার) সকাল থেকেই এনবিআর ভবনের অভ্যন্তরে এবং বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে। এ বিষয়টি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে নানা ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে রোববারও একইভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেখানে হস্তক্ষেপ করবে, সেখানে তারা প্রেস ব্রিফিং করবেন।ভিন্নমত যাদের: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘দাবি আদায়ের নামে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এখন যা হচ্ছে তা রীতিমতো সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান। এটি সম্পূর্ণ শৃঙ্খলাপরিপন্থি কাজ, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি এসব কর্মকাণ্ড পারমিট করে না।’ তারা মনে করেন, এনবিআর বিলুপ্ত করে যে গেজেট করা হয়েছে সেখানে প্রত্যাশার অনেক কিছু চলে এসেছে। যেটুকু অবশিষ্ট আছে তা পরবর্তী সংশোধনী ও বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে সংযোজন করা সম্ভব। এজন্য এভাবে আন্দোলন করার প্রয়োজন ছিল না। বিষয়টিকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে নিয়ে গেলে ভালো হতো। 

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

৫ মে ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
গ্রামে কোনো লোডশেডিং নেই।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

গ্রামে কোনো লোডশেডিং নেই। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
জনপ্রিয় সব খবর
সর্বশেষ সব খবর

 বানিজ্য বানিজ্য

ঈদে টানা ৭ দিন বন্ধ থাকবে হিলি স্থলবন্দর

ঈদে টানা ৭ দিন বন্ধ থাকবে হিলি স্থলবন্দর

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে টানা সাত দিন সব ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই সময়ে বন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকবে।গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. শাহীনুর ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সকল ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। গত বুধবার (২০ মে) বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে এক যৌথ আলোচনা সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার এই বিষয়টি ইতোমধ্যে ভারতের সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, টানা সাত দিনের এই ছুটির সময়ে বন্দরের বেসরকারি ওয়্যারহাউস ‘পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেড’-এর অভ্যন্তরেও পণ্য লোড-আনলোড বা খালাস কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। আগামী ১ জুন থেকে পুনরায় বন্দরের স্বাভাবিক আমদানি-রপ্তানি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে।বন্দর দিয়ে পণ্য পারাপার বন্ধ থাকলেও দুই দেশের যাত্রী পারাপার চালু থাকার বিষয়ে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম জানান:"বন্দর এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত যথারীতি স্বাভাবিক থাকবে। সপ্তাহের সাত দিনই ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট খোলা থাকে এবং এই ছুটির দিনগুলোতেও যাত্রীদের সেবা প্রদান করা হবে।"

রংপুরে হাঁড়িভাঙা আমের বাম্পার ফলন, লক্ষ্যমাত্রা ২৫০ কোটি টাকা

রংপুরে হাঁড়িভাঙা আমের বাম্পার ফলন, লক্ষ্যমাত্রা ২৫০ কোটি টাকা

রংপুরের ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের প্রতীক 'হাঁড়িভাঙা' আমের স্বাদ নিতে অপেক্ষা আর মাত্র এক মাসের। জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্যের মর্যাদা পাওয়ার পর এবারই প্রথম বাজারে আসছে এই আম। অনুকূল আবহাওয়া আর বাম্পার ফলনে এবার রংপুর অঞ্চলে হাঁড়িভাঙা আমকে কেন্দ্র করে ২৫০ কোটি টাকারও বেশি বাণিজ্যের স্বপ্ন দেখছেন চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা।কৃষিবিদদের মতে, এ বছর হাঁড়িভাঙা আমের ‘অন ইয়ার’। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার ফলন অনেক বেশি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, "এবার গাছে প্রচুর আম ধরেছে। আমরা আশা করছি ২৫০ কোটিরও বেশি টাকার বাণিজ্য হবে।" জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে হাঁড়িভাঙার চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১০ থেকে ১২ টন ফলন হিসেবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টি আম বড় ও রসালো হতে সাহায্য করেছে। যদিও শিলাবৃষ্টিতে কিছু বাগানের সামান্য ক্ষতি হয়েছে, তবে সার্বিক অবস্থা অত্যন্ত ইতিবাচক।আঁশবিহীন, পাতলা ছাল আর ছোট আঁটির এই আম মিষ্টি ও সুগন্ধে অনন্য। প্রতিটি আমের ওজন গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আমটি রংপুরের নিজস্ব জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা ও ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ বহুগুণ বেড়েছে।কৃষিবিদ ও চাষিদের মতে, পরিপক্ব হাঁড়িভাঙা আমের আসল স্বাদ পেতে জুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। মিঠাপুকুরের আমচাষি নাজমুল ইসলাম জানান, বাগানগুলোতে এখন শেষ সময়ের পরিচর্যা চলছে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখনই যোগাযোগ শুরু করেছেন।সুজন-এর রংপুর জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, "হাঁড়িভাঙা এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বাগান থেকে আম সরবরাহের হারও বাড়ছে।" তবে আমটি দ্রুত পচনশীল হওয়ায় বিশেষ মালবাহী ট্রেন এবং আধুনিক হিমাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানপাট

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানপাট

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে দেশের সব দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলা রাখার সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (১২ মে) থেকে কার্যকর হওয়া নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কেনাকাটা করা যাবে। এতদিন এই সময়সীমা ছিল সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই নতুন সময়সূচীর কথা জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যবসায়িক কার্যক্রম গতিশীল করতে গত ৪ মে তারা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে রাত ১১টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার রাত ১০টা পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।সময় বাড়ানো হলেও বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কথা মাথায় রেখে কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়: দোকানপাট বা শপিং মলে কোনো ধরনের বাড়তি আলোকসজ্জা করা যাবে না। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। এই বিষয়ে দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ব্যবসায়ীদের ঈদের প্রস্তুতির কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সরকার এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি না করলেও মৌখিকভাবে ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি প্রদান করেছে।উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়। এর প্রভাবে বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে গত ২ এপ্রিল থেকে দোকানপাট দ্রুত বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধের নিয়ম থাকলেও ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে তা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে এখন রাত ১০টা করা হলো।

বাজেটে কৃষি খাতে ৪০ শতাংশ উন্নয়ন বরাদ্দের দাবি

বাজেটে কৃষি খাতে ৪০ শতাংশ উন্নয়ন বরাদ্দের দাবি

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বরাবর ১২ দাফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়।সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন- কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন মুকুল, শফিউর রহমান শফি, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পল্টু, অ্যাডভোকেট আসাদুল ইসলাম প্রমুখ। সমাবেশে বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, কৃষি হচ্ছে বাংলাদেশের বৃহত্তম খাত; কিন্তু এই খাতটি দীর্ঘদিন ধরেই চরম অবহেলার শিকার। দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৫ শতাংশ এবং গ্রামীণ নারীদের প্রায় ৬০ শতাংশ কৃষিতে নিয়োজিত। কৃষি খাত দেশের জিডিপিতে ১১ দশমিক ২ শতাংশ অবদান রাখলেও সরকারিভাবে এর গুরুত্ব নেই বললেই চলে। কৃষি ও কৃষক ক্ষেতমজুর না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না। কৃষি ও কৃষকের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত না হলে, দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়বে।তিনি বলেন, কৃষি উপকরণের দাম যেমন বেড়েই চলেছে, তেমনি কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর ফলে প্রতিবছর প্রায় ১১ লাখ কৃষক জমি হারিয়ে ভূমিহীন হয়ে পড়ছে। বাজার ভরে গেছে ভেজাল সার, বীজ ও কীটনাশকে। যার ফলে কৃষকরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ক্ষেতমজুরদের বছরে গড় কাজ থাকে ১৮০ দিনেরও কম। ‘আমি রেটে’ গ্রামীণ রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবিও বছরের পর বছর ধরে উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।দেশের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে হলে খাদ্য নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্যে তিনি জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতে উন্নয়ন বরাদ্দের ৪০ শতাংশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি। তাদের দাবিগুলো হলো- 

আর্কাইভ

যশোরে পালিত ছেলের হাতে মা খুন

যশোরে পালিত ছেলের হাতে মা খুন

শনিবার যশোর শহরের মণিহার মোড় ফলপট্টি এলাকায় শামস মার্কেটের দোতলা থেকে নিহত সুলতানার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্বজনরা জানায়, রুমি ও শেখ শাহজাহান দম্পতি তিন মাস বয়সি শামসকে খুলনা থেকে দত্তক আনেন। শেখ শাহজাহান বছর আট আগে মারা গেছেন। ফলপট্টি এলাকায় তাদের বিশাল একটি মার্কেট রয়েছে, যার দোতলায় রুমি ও শামস থাকতেন। জাকির হোসেন নামে মার্কেটের একজন দোকানি জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি দোতলায় গিয়ে চাচিকে খোঁজ করেন। কেননা নিচে তিনি পানি পাচ্ছিলেন না। সে সময় ঘরের ভিতরে শামস ছিলেন। তিনি তাকে জানান, মা বাড়ি নেই খুলনায়। দুপুরে ফের খোঁজ নিতে গেলে শামসের কথায় তার সন্দেহ হয়। তখন তিনি মার্কেটের আরও কয়েকজনকে ডাকেন। এরপর ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশে জানানো হয়। পুলিশ অনেক জোরাজুরির পর দরজা খুললে দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে রয়েছেন রুমি। শরীরের নিচে রক্তের ধারা। এরপর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসনাত বলেন, ওই নারীকে খুন করা হয়েছে। তার মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পালিত ছেলে বর্তমানে পুলিশের জিম্মায় রয়েছে। কী কারণে, কে বা কারা এই খুনে জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

০২ মে ২০২৫
কোন পোস্ট নেই !

আর্কাইভ

যশোরে পালিত ছেলের হাতে মা খুন

যশোরে পালিত ছেলের হাতে মা খুন

শনিবার যশোর শহরের মণিহার মোড় ফলপট্টি এলাকায় শামস মার্কেটের দোতলা থেকে নিহত সুলতানার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্বজনরা জানায়, রুমি ও শেখ শাহজাহান দম্পতি তিন মাস বয়সি শামসকে খুলনা থেকে দত্তক আনেন। শেখ শাহজাহান বছর আট আগে মারা গেছেন। ফলপট্টি এলাকায় তাদের বিশাল একটি মার্কেট রয়েছে, যার দোতলায় রুমি ও শামস থাকতেন। জাকির হোসেন নামে মার্কেটের একজন দোকানি জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি দোতলায় গিয়ে চাচিকে খোঁজ করেন। কেননা নিচে তিনি পানি পাচ্ছিলেন না। সে সময় ঘরের ভিতরে শামস ছিলেন। তিনি তাকে জানান, মা বাড়ি নেই খুলনায়। দুপুরে ফের খোঁজ নিতে গেলে শামসের কথায় তার সন্দেহ হয়। তখন তিনি মার্কেটের আরও কয়েকজনকে ডাকেন। এরপর ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশে জানানো হয়। পুলিশ অনেক জোরাজুরির পর দরজা খুললে দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে রয়েছেন রুমি। শরীরের নিচে রক্তের ধারা। এরপর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসনাত বলেন, ওই নারীকে খুন করা হয়েছে। তার মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পালিত ছেলে বর্তমানে পুলিশের জিম্মায় রয়েছে। কী কারণে, কে বা কারা এই খুনে জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

০২ মে ২০২৫

 রাজনীতি রাজনীতি

আসাদুজ্জামান নূরের জামিন স্থগিত

আসাদুজ্জামান নূরের জামিন স্থগিত

দুই মামলায় সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।এর আগে ১০ মে ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর ও রমনা থানার দু’টি হত্যা মামলায় সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দিয়েছিলেন।আদালতে নূরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না। রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শায়লা শারমিন, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আলামিন।২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর বেইলি রোড থেকে আসাদুজ্জামান নূরকে গ্রেফদার করে পুলিশ।

ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড করার আহ্বান গোলাম পরওয়ারের

ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড করার আহ্বান গোলাম পরওয়ারের

রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে এবং সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে আইন সংশোধনের দাবি তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন।বুধবার (২০ মে) বিকেলে রাজধানী ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটের সামনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।বিক্ষোভ সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ দেশের সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই। শিশু রামিসার এই অবর্ণনীয় ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড পুরো জাতির জন্য একটি বড় লজ্জার বিষয়। আমরা দাবি করছি, অনতিবিলম্বে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল অপরাধীর ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে। সমাজে এমন পশুতুল্য অপরাধ রুখতে প্রয়োজনে দেশের প্রচলিত আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান চালু করতে হবে।’বক্তব্যে দেশের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘পল্লবীতে শিশুর এমন করুণ মৃত্যুর পরও আপনার বিবেক জাগ্রত হয় না, আপনার বিবেক একটুও কাঁদে না? সংবিধানের দোহাই দেওয়া ছেড়ে আগে দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করুন।’ সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন।নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি বহুতল ভবনের পাশের ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসার মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ওই ফ্ল্যাটেরই বাথরুমের ভেতর থেকে শিশুটির খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এই লোমহর্ষক ও বর্বরোচিত ঘটনার পর নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। রামিসার পরিবার গণমাধ্যমকে জানায়, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড় বোন রাইসার সঙ্গে রামিসার একসঙ্গে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই রামিসাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তার মা পারভীন আক্তার ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে রামিসার পায়ের একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন। এতে সন্দেহ হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় নক করেন। কিন্তু ভেতর থেকে বন্ধ থাকা দরজাটি দীর্ঘ সময় ধরে কেউ খুলছিল না। অনেক সময় ধরে ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় এবং তারা বিষয়টি দ্রুত পল্লবী থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। এদিকে ঘটনার পরপরই ওই কক্ষের জানালার লোহার গ্রিল কেটে কৌশলে পালিয়ে যান এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। তবে ঘটনার দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনের এলাকা থেকে ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হওয়া সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা এনসিপির

আসন্ন স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ রোববার বিকেলে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য সংগঠক ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি সারজিস আলম প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য হাজারের বেশি অ্যাপ্লিকেশন জমা হয়েছিল। সেই থেকে আমরা প্রাথমিকভাবে ১০০ জনের নাম ঘোষণা করছি। আমরা আশা করছি এ মাসের ২০ তারিখে দ্বিতীয় ধাপে আবারও ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারব। আমাদের এই নাম ঘোষণা প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। সারজিস আলম আরও বলেন, ‘আমাদের সারাদেশ থেকে এনসিপিতে যারা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে আছেন, নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের যারা পরিশ্রমী, গ্রহণযোগ্য, যারা মানুষের ওপর কখনো জুলুমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না, যাদের সঙ্গে ফ্যাসিস্টদের সরাসরি সম্পৃক্ততা বা তাদের পর্যায়ে অপরাধের সম্পৃক্ততা ছিল না, তারা অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দলেরই হোক না কেন, তারা এনসিপির প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবে।’  সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট রূপরেখা, কোনো সময়সীমা আমরা পাইনি। আমরা আশা করব যে সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে একটা টাইমলাইন আমাদেরকে দেবে। যেহেতু ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়, তাই সিটি কর্পোরেশন, উপজেলায় নির্বাচনের সময়সীমা দেওয়া হবে। তারা যেটা বলছেন, অতি দ্রুত, সেটা পাঁচ বছরও হইতে পারে, পাঁচ মাসও হইতে পারে। আমরা এটা স্পষ্ট সময়সীমা দাবি করছি।’  তিনি আরও বলেন, ‘যাদেরকে প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়েছে, তারা প্রশাসকের পদে থেকে ভোট চাচ্ছেন। সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের কাজ নগরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। কিন্তু তারা পোস্টার দিয়ে পুরো নগরের সকল দেয়াল ভরে ফেলেছেন। আমরা এর আগেও নির্বাচনের নিরপেক্ষতার স্বার্থে দাবি জানিয়েছি যে, প্রশাসক যারা নিয়োজিত হয়েছেন তারা সেই সিটে বসে প্রশাসকের চেয়ারে বসে নির্বাচন করতে পারবেন না। তারা যদি নির্বাচন অংশগ্রহণ করেন তাহলে এটা নির্বাচনটা একদম শুরু থেকেই বিতর্কিত, একপাক্ষিক এবং নির্বাচনে কোন ধরনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে না।’  গুরুত্বপূর্ণ জেলায় যারা প্রার্থীঢাকার সাভার উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সালামত উল্লাহ রনি, শিল্পাঞ্চল খ্যাত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় মো. তুহিন মাহমুদ এবং টাঙ্গাইল পৌরসভায় মেয়র পদে মাসুদুর রহমান রাসেল, ফরিদপুর পৌরসভায় মেয়র পদে সাইফ খাঁন এবং মাদারীপুর পৌরসভায় মোহাম্মদ হাসিবুল্লাহকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় জোবাইরুল আলম মানিক, নোয়াখালী পৌরসভায় মেয়র পদে কাজী মাইনুদ্দিন তানভীর এবং কক্সবাজার সদর উপজেলায় শফিকুল ইসলাম শফিক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আমিনুল হক চৌধুরী এবং চাঁদপুর সদর উপজেলায় জসিম গাজী প্রার্থী হয়েছেন।  উত্তরাঞ্চলের মধ্যে বগুড়ার সদর উপজেলায় এ এম জেড শাহরিয়ার এবং শিবগঞ্জে জাহাঙ্গীর আলম, রাজশাহীর গোদাগারী উপজেলায় আতিকুর রহমান এবং সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌরসভায় ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মামুন লিয়ন, কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলায় অ্যাডভোকেট আবুল হাশিম বাদশা নির্বাচন করবেন। সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় মো. জাকারিয়া (লাদেন) এবং কানাইঘাট উপজেলায় বুরহান উদ্দিন ইউসুফ চেয়ারম্যান পদে লড়বেন। অন্যদিকে ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলায় ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম এবং শেরপুর সদর উপজেলায় ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ লিখন মিয়াকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। রংপুর সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় মাওলানা এম এ তাফসীর হাসান, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলায় ফরিদ আহমেদ এবং ভোলা সদর উপজেলায় জিয়াউর রহমান মনোনয়ন পেয়েছেন।

১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা এনসিপির

জলঢাকায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা আবু সাঈদ লিওন

আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের উত্তরাঞ্চলীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আবু সাঈদ লিওন।রবিবার (১০ মে ) রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে সারা দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের এক শত জনের প্রার্থীর মধ্যে জলঢাকা উপজেলার প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়।এসময় দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল মানুষের পাশে থেকে সামাজিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন আবু সাঈদ লিওন। বর্তমানে তিনি এনসিপির নীলফামারী জেলা কমিটির উত্তরাঞ্চলীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় তরুণ সমাজ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছে ইতোমধ্যেই তিনি একজন সক্রিয় ও জনমুখী নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় আবু সাঈদ লিওন, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজকে বলেন, উপজেলা পরিষদ শুধু একটি প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে হলে স্থানীয় সরকারকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে হবে। আমি চাই জলঢাকার প্রতিটি মানুষ উন্নয়ন ও ন্যায্য সেবার সুফল ভোগ করুক।তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জলঢাকার মানুষ নানা সমস্যা ও বঞ্চনার মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করছে। কৃষক ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না, শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে, অনেক এলাকায় এখনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। আমি জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চাই। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি আধুনিক, উন্নত ও মানবিক জলঢাকা গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। তিনি জানান, নির্বাচিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবেন। পাশাপাশি দুর্নীতি ও স্বজন প্রীতিমুক্ত স্বচ্ছ উপজেলা পরিষদ গঠনেরও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।এদিকে, তাঁর মনোনয়ন ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়লে জলঢাকা উপজেলায় এনসিপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।অনেকেই মনে করছেন, তরুণ ও জনসম্পৃক্ত নেতৃত্ব হিসেবে আবু সাঈদ লিওন জলঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারেন

জলঢাকায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা আবু সাঈদ লিওন

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক কমিটি গঠন

ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা জাতীয় ছাত্রশক্তির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ৯টায় জাতীয় ছাত্রশক্তি ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার পক্ষ থেকে এ কমিটি প্রকাশ করা হয়।প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগামী ০৬ (ছয়) মাসের জন্য বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় যোদ্ধা মোঃ জুনায়েদ আল ফুয়াদকে আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়াও ফরহাদ হুসেনকে মুখ্য সংগঠক দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। নবগঠিত এ কমিটিতে আরও অনেক তরুণ ও সক্রিয় সদস্য স্থান পেয়েছেন। সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, তাদের কর্মদক্ষতা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা ইতোমধ্যেই ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার নেতৃবৃন্দের আস্থা ও মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।নতুন এ কমিটি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক কমিটি গঠন

কারমাইকেল কলেজে নবীন শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ছাত্রশিবিরের

ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল কলেজে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অনার্স  প্রথম বর্ষ  ভর্তি হতে আসা নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে ও ভর্তি প্রক্রিয়া সহজ করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, কারমাইকেল কলেজ শাখা। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এবং সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে ‘ইনফরমেশন বুথ ও হেল্প ডেস্ক’।শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও ভিড়ের কথা মাথায় রেখে ক্যাম্পাসের তিনটি কৌশলগত স্থানে বুথ স্থাপন করা হয়েছে: প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখভাগ,থার্ড বিল্ডিং-এর সামনে, কলেজ ব্যাংকের সামনে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহায়তায় নিয়োজিত শিবিরের স্বেচ্ছাসেবকরা ভর্তির ফরম পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ও সঠিক বিন্যাস করে দিচ্ছেন। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য সৌজন্য উপহার হিসেবে প্রদান করা হচ্ছে: লেখার জন্য মানসম্মত কলম, প্রয়োজনীয় তথ্য (নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর) লেখার সুবিধা সংবলিত খাম, তীব্র গরমে স্বস্তির জন্য সুপেয় পানি ও টিস্যু, শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে চকলেট। শাখা নেতৃবৃন্দ জানান, "কারমাইকেল কলেজ উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে জ্ঞান অর্জনে আসে। নতুন পরিবেশে এসে তারা যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা বিভ্রান্তির শিকার না হয়, সেজন্যই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমরা চাই নবীন শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের মধ্য দিয়ে তাদের কলেজ জীবন শুরু করুক।"ভর্তি প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এই সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

কারমাইকেল কলেজে নবীন শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ছাত্রশিবিরের

আর্কাইভ

সকল জেলার খবর

আর্কাইভ

আর্কাইভ

যশোরে পালিত ছেলের হাতে মা খুন

যশোরে পালিত ছেলের হাতে মা খুন

শনিবার যশোর শহরের মণিহার মোড় ফলপট্টি এলাকায় শামস মার্কেটের দোতলা থেকে নিহত সুলতানার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্বজনরা জানায়, রুমি ও শেখ শাহজাহান দম্পতি তিন মাস বয়সি শামসকে খুলনা থেকে দত্তক আনেন। শেখ শাহজাহান বছর আট আগে মারা গেছেন। ফলপট্টি এলাকায় তাদের বিশাল একটি মার্কেট রয়েছে, যার দোতলায় রুমি ও শামস থাকতেন। জাকির হোসেন নামে মার্কেটের একজন দোকানি জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি দোতলায় গিয়ে চাচিকে খোঁজ করেন। কেননা নিচে তিনি পানি পাচ্ছিলেন না। সে সময় ঘরের ভিতরে শামস ছিলেন। তিনি তাকে জানান, মা বাড়ি নেই খুলনায়। দুপুরে ফের খোঁজ নিতে গেলে শামসের কথায় তার সন্দেহ হয়। তখন তিনি মার্কেটের আরও কয়েকজনকে ডাকেন। এরপর ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশে জানানো হয়। পুলিশ অনেক জোরাজুরির পর দরজা খুললে দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে রয়েছেন রুমি। শরীরের নিচে রক্তের ধারা। এরপর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসনাত বলেন, ওই নারীকে খুন করা হয়েছে। তার মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পালিত ছেলে বর্তমানে পুলিশের জিম্মায় রয়েছে। কী কারণে, কে বা কারা এই খুনে জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ইভেন্ট

লা লিগা
লা লিগা
ইপিএল
ইপিএল
ফ্রেঞ্চ লিগ
ফ্রেঞ্চ লিগ
ফ্রেঞ্চ ওপেন
ফ্রেঞ্চ ওপেন
উইম্বলডন
উইম্বলডন
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
বুন্দেসলিগা
বুন্দেসলিগা
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
ইউরোপা লিগ
ইউরোপা লিগ
ইউএস ওপেন
ইউএস ওপেন