বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করেছে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে দিনাজপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষকও রয়েছেন।শনিবার দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সরবরাহের কাজে জড়িত রয়েছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর ধাপ এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। অভিযানে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়।পরে ওই বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ১৫টি স্ট্যাম্প, ৮টি স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক, ৩টি জাতীয় পরিচয়পত্র, ৪টি মূল শিক্ষাগত সনদপত্র এবং ৫টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রতারণা ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানায় পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।ডিবি পুলিশের দাবি, আটককৃতদের মধ্যে একজন দিনাজপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, যিনি এর আগেও প্রতারণার মামলায় আটক হয়েছিলেন। অপর একজন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করলেও চাকরি না পেয়ে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আরও বেশ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।আটককৃতরা হলেন— রংপুর নগরীর চিড়ার মিল এলাকার ফেরদৌস আলমের ছেলে তাওরাত আকরাম (২৭), সাতগাড়া এলাকার মোবারক আলীর ছেলে বাধন মিয়া (৩৭), ধাপ মোহাম্মদপুর এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে সাহেব আলী (২৬), বদরগঞ্জ উপজেলার তাল দামোদরপুর এলাকার এমদাদুল হকের ছেলে আতিকুর রহমান (৩৪), দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার তেলিপাড়া এলাকার রিয়াজুল ইসলামের ছেলে হাফিজ আল মামুন এবং আশরাফুল ইসলাম (৩৬)।পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
অনলাইন জরিপ
রংপুরের ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারে এসেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও জুনের মাঝামাঝি সময়ে এই রসালো ও সুস্বাদু আমের আনুষ্ঠানিক বিক্রি শুরু হয়েছে।সোমবার (১৫ জুন) থেকে সরকারিভাবে রংপুরের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারজাতকরণ শুরু হয়। প্রথম দিনেই রংপুরের বিখ্যাত আম বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থল পদাগঞ্জ হাটসহ বিভিন্ন বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।আমবাগানের মালিক, আমের ফড়িয়া, বাগানের পরিচর্যায় নিয়োজিত ব্যক্তি, মৌসুমি আম বিক্রেতা, অনলাইনে আম বিক্রেতা, পরিবহন ব্যবসায়ী, কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসায়ী সবাই যে যার মতো করে আম কেনা-বেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পরিপক্ব হওয়ার আগেই এক সপ্তাহ আগে থেকেই এই আম বিক্রি শুরু করেছেন।চাষি ও স্থানীয় পাইকারি বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মান ও আকারের ওপর ভিত্তি করে প্রতি মণ বড় সাইজের আমের দাম এখন ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা এবং মাঝারি সাইজের প্রতি মণ আম ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ পাইকারি মূল্যে প্রতি কেজি আমের দাম পড়ছে ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা।তবে খুচরা বাজারে বড় সাইজের আম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আর মাঝারি সাইজের আম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।স্থানীয় আমচাষি মেহেদী হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘নিজস্ব পাঁচ বিঘা জমিতে এবার আম চাষ করেছেন। টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ফলন কম হয়েছে। সেইসঙ্গে আমের গায়ের কালারও পরিবর্তন হয়েছে। গত বছর শুরুতে যে আমের মণ ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত ছিল, এবার সেই আমের দাম কমে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’পদাগঞ্জ এলাকার আমচাষি মোসাব্বির বকসি বলেন, ৮ একর জমিতে আমের চাষ করেছি। শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে বাগানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এখন যে দামে বিক্রি হচ্ছে তাতে আশানুরূপ লাভ হবে না। তবে দিন গড়ালে দাম আরও বাড়তে পারে।’ঢাকা থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘রংপুরের মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বাগান থেকে আম সংগ্রহ করে ট্রাকে করে চলে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। শুধু তাই নয়, কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর পাশাপাশি এবারও অনলাইনে হাঁড়িভাঙ্গা আম বিক্রির ধুম পড়েছে। ফেসবুক পেজ ও ই-কমার্স সাইটগুলোর মাধ্যমে ঘরে বসেই ক্রেতারা একদম তাজা আম পেয়ে যাচ্ছেন।কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো প্রতি কেজি আমের খরচ ১৩ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ১৬ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ক্যারেট/বক্স, প্যাকিং খরচসহ এক মণ আম পাঠাতে ৩৬০০ থেকে ৪০০০ টাকা খরচ পড়ছে। এদিকে রংপুর নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সড়ক, সিটি বাজার, লালবাগ, মডার্ন মোড়, ধাপ বাজার, শাপলা চত্বরসহ নগরীর বিভিন্ন হাট-বাজারেও মিলছে এই আম। হাট-বাজার ছাড়াও পাড়ামহল্লার অলিগলিতে ফেরি করে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি করতে দেখা গেছে।স্থানীয়রা বলেন, সরকারি উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ জুন থেকে আম বাজারজাত শুরু হয়েছে। কিন্তু এই আম পরিপক্ব না হতেই এক সপ্তাহ আগে থেকে অনেকেই বাড়তি লাভের আশায় বাগান থেকে পেরে বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো শুরু করেছেন।পদাগঞ্জ এলাকার মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমের কারণে এবার আগেভাগেই আম পাড়া শুরু হয়েছে। তবে কেউ কেউ আম পাকাতে স্প্রে মেশাচ্ছেন। যদিও এটা করা অন্যায় এবং এতে হাঁড়িভাঙা আমের প্রকৃত স্বাদ থাকছে না।’পাইকারি ব্যবসায়ী আলম মিয়া বলেন, ‘বাগানে আম পরিপক্ব হয়েছে। বাগান মালিকরা তাকে ডেকে আম বিক্রির কথা বলেন। তাই এক সপ্তাহ আগ থেকেই তাদের কাছ থেকে তিনি আম কিনে বিক্রি শুরু করছেন।’কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবার রংপুর জেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০০ হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে হাঁড়িভাঙা আমের ফলন হয় প্রায় ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০০ কোটি টাকার ওপরে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি হবে বলে।কৃষি সম্প্রসারণ রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শিলাবৃষ্টিতে হাঁড়িভাঙা ঝড়ে পড়লেও ফলন ভালো হয়েছে। আকারেও বড় হয়েছে। তাই কৃষকরা পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করা যায়।’হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারজাতকরণের উদ্বোধনী দিনে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘হাড়িভাঙ্গা আমের জন্য পদাগঞ্জ বাজার অন্যতম বাণিজ্যিক জায়গা। তবে এটার অবকাঠামোগত কিছু অসুবিধা আছে। এই অসুবিধাগুলো দূর করার জন্য তিন বছর মেয়াদি অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা নিয়েছি। এই হাটটাকে কীভাবে আরও উন্নত করা যায় এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ কীভাবে লাঘব করা যায়- সে বিষয়ে কাজ করছি। এছাড়াও রপ্তানির প্রতিবন্ধকতাগুলোও সমাধানের চেষ্টা করছি।’উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। হাঁড়িভাঙা আম এখন আর কেবল দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, পাকিস্তান, ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই আম রপ্তানি করা হয়। দেশের ভেতরে ফেসবুক ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বাগান থেকে আম সরবরাহের হার গত কয়েক বছরে কয়েক গুণ বেড়েছে।
“করবো মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করবো বারো মাস”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ৩ দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পলাশবাড়ীর আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ ফল মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলায় দেশীয় বিভিন্ন মৌসুমি ফল, উন্নত জাতের ফলের চারা, আধুনিক ফল উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোহেলের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহম্মেদ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও শেখ জাবের আহম্মেদ বলেন:“ফল চাষের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের ঘাটতি পূরণে আমাদের দেশীয় ফলের ভূমিকা অপরিসীম।”তিনি মেলায় আগত সকলকে এবং উপজেলার সর্বস্তরের জনগণকে যার যার বসতবাড়ি ও পতিত জমিতে বিভিন্ন জাতের পুষ্টিকর ও লাভজনক ফলদ গাছ রোপণের উদাত্ত আহ্বান জানান।ছবি: সংগৃহীতঅনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নকিবুল হাসান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা গোলেনুর, উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক এবং পলাশবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত চন্দ্র প্রামানিক।এছাড়াও মেলা প্রাঙ্গণে কৃষি অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকে আসা কৃষক-কৃষাণী, স্কুলের শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।মেলা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সফল কৃষকরা তাদের নিজেদের বাগানে উৎপাদিত নানা প্রজাতির ও হরেক রকমের মৌসুমি ফল স্টলে প্রদর্শন করছেন।উপজেলা কৃষি অফিস তথা আয়োজকরা জানান, ফল চাষে স্থানীয় কৃষকদের আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করা, সাধারণ মানুষের মাঝে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে ফল সংরক্ষণ ও সঠিক বাজারজাতকরণ বিষয়ে সম্যক ধারণা দেওয়াই এই মেলার মূল উদ্দেশ্য। আগামী তিন দিন এই মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশীয় ফলের যত বিলুপ্ত প্রজাতি রয়েছে, সেগুলো কৃষকদের উৎপাদনে উৎসাহিত করার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) খামারবাড়ির বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি) চত্বরে তিন দিনব্যাপী (১৮-২০ জুন) জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।এর আগে তিনি পুরো মেলা ঘুরে দেশীয় বিভিন্ন ফলের সঙ্গে পরিচিত হন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর দেশে ফল মেলার উৎসব হয়। এ মেলার মাধ্যমে ফল উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে। দেশীয় ফলের যত বিলুপ্ত প্রজাতি রয়েছে, সেগুলো ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।কৃষিমন্ত্রী বলেন, একই সঙ্গে বিদেশ থেকে যেসব ফল আমদানি করা হতো, সেসব ফলের জাতের জিন এনে দেশে চাষাবাদের মাধ্যমে অনন্য বিপ্লব ঘটানো হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশীয়ভাবে উৎপাদন করে আমাদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনা হচ্ছে।ড্রাগন ফলের উদাহরণ দিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিদেশের তুলনায় আমাদের উৎপাদিত ড্রাগন ফল সুস্বাদু ও সুমিষ্ট। এ ফলের উদ্ভাবনী কাজে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।চলতি অর্থবছরে কৃষিতে বাজেট বেড়েছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এর বাইরে উন্নয়ন ও প্রণোদনা বাজেট বেড়েছে গত অর্থবছরের তুলনায় ৫৯ শতাংশ। তাই কৃষিতে বাজেট কমেছে কথাটি সঠিক নয় বলে জানান মন্ত্রী।
রংপুরের জনপ্রিয় ও সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আমের আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। তীব্র তাপদাহের কারণে এবার নির্ধারিত সময়ের পাঁচ দিন আগেই আম বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে হাঁড়িভাঙা আমের বাজারজাতকরণের উদ্বোধন করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এ সময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।একসময় রংপুর অঞ্চলে আম বিক্রির প্রচলিত হিসাব ছিল ‘গন্ডা’ ও ‘হালি’ ভিত্তিক। দুই দশক আগেও ৩৬ গন্ডা বা ৩৬ হালিতে একশ আম পাইকারি বিক্রি হতো। পরে সেই আম শহরে ৩২ গন্ডায় একশ হিসেবে বিক্রি করা হতো। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই ঐতিহ্য এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই গন্ডা হিসেবে আম বিক্রির প্রচলন সম্পর্কে জানেন না। এখন আম বিক্রি হয় কেজি দরে।স্থানীয় প্রবীণরা জানান, একসময় ৮ হালিকে এক পোয়া, ১৬ হালিকে দুই পোয়া এবং ২৪ হালিকে তিন পোয়া বলা হতো। বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসজুড়ে বিভিন্ন জাতের আমে বাজার ভরে থাকত। আধুনিকতার ছোঁয়া ও আমের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গন্ডা ও হালির হিসাব হারিয়ে গেছে।প্রবীণ আলী হোসেন মোল্লা বলেন, ১৫ থেকে ২০ বছর আগেও ৩৬ গন্ডায় একশ আম ২৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতো। ফজলি, কেরোয়া, এছাহাক তেলি, ছাইবুদ্দিন, আশ্বিনী, সাদা নেংড়া, কালা নেংড়া, কলিকাতা নেংড়া, মিশ্রীভোগ, গোপালভোগ, আম্রপালি, সাদা রচি, চোচা ও আঁটিসহ বিভিন্ন জাতের আম গন্ডা হিসেবে কেনাবেচা হতো। বর্তমানে এসব জাতের আমের চাষ কমে গেছে এবং বাজার দখল করেছে হাঁড়িভাঙা আম। তিনি বলেন, হাঁড়িভাঙা আমের ওজন সাধারণত ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম হয়ে থাকে। মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় দেশজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে অতীতের ঐতিহ্য ধরে রাখতে কিছু আম এখনো গন্ডা বা হালি হিসেবে বিক্রির ব্যবস্থা থাকা উচিত।কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলায় এবার প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়েছে এক হাজার ৯২০ হেক্টরের বেশি জমিতে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যায়। এবার হাঁড়িভাঙা আমের উৎপাদন ২০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যার বাজারমূল্য ৩০০ কোটি টাকারও বেশি।মৌসুমের শুরুতে হাঁড়িভাঙা আম প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও মৌসুমের শেষ দিকে দাম ১৫০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকার আমচাষি সামছুজ্জামান বলেন, এবার আমের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। কৃষকরা ভালো দাম পাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার হাঁড়িভাঙা আমের ‘অন ইয়ার’। ফলে উৎপাদনও বেশি হয়েছে। বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশা করছি।
রংপুরের ঐতিহ্য আর গৌরবের প্রতীক, জিআই পণ্য ‘হাঁড়িভাঙা’ আমের আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকায় বাগানে আম পেড়ে এই মৌসুমের বিক্রয় কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে পদাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আমচাষি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন জেলা প্রশাসক। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি হাঁড়িভাঙা আমকে জেলা প্রশাসনের ‘অগ্রাধিকার প্রকল্প’ হিসেবে ঘোষণা করেন। চাষিরা এসময় আম সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণ, যাতায়াতের জন্য রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, ব্যাংকিং সুবিধা বৃদ্ধি, হাটে স্থায়ী শেড ও ওয়াশ ব্লক স্থাপন এবং বিদেশে আম রফতানির সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানান।চাষিদের দাবির প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক আশ্বাস দিয়ে বলেন, “হাঁড়িভাঙা আমের বিশ্ববাজার ধরতে এবং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত সড়ক সংস্কার, ব্যাংকের শাখা স্থাপন এবং আম পরিবহনের জন্য ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন’ চালুসহ সব সমস্যার সমাধানে জেলা প্রশাসন কাজ করছে।”উদ্বোধনের প্রথম দিনেই পদাগঞ্জ হাটে প্রচুর আমের সরবরাহ দেখা গেছে। তবে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে কেনাবেচায় কিছুটা ধীরগতি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জমে ওঠে বাজার। বর্তমানে প্রতি মণ হাঁড়িভাঙা আম মানভেদে ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।ফলন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াচলতি মৌসুমে শিলাবৃষ্টির কারণে আমের ফলন প্রায় ৩০ শতাংশ কম হলেও আমের আকার বেশ বড় হয়েছে। কৃষকরা জানান, ফলন কম হওয়ায় দাম আশানুরূপ না পেলে তাদের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। তবে কৃষি বিভাগ আশার বাণী শুনিয়েছে। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সিরাজুল ইসলাম জানান, ফলন কিছুটা কম হলেও আমের গুণগত মান ও আকার ভালো হয়েছে। শুরুতে দাম কিছুটা কম মনে হলেও দিন বাড়ার সাথে সাথে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।ঐতিহ্যবাহী এই আমের বাজারজাতকরণ শুরু হওয়ায় রংপুরের আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখন ব্যস্ততা আর উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
ক্রমাগত লোকসানের কারণে চরম সংকটে পড়েছেন দেশের কৃষকরা। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলেও ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষক ঋণের বোঝা নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।পীরগঞ্জের কৃষক শাফি মন্ডল জানান, এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষের জন্য তিনি ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। আশা ছিল মরিচ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করবেন এবং সংসারের খরচ মেটাবেন। কিন্তু বাজারে মরিচের দাম কম থাকায় বিক্রি করে উৎপাদন খরচের অর্ধেক টাকাও তুলতে পারেননি।তিনি আরও জানান, মরিচ চাষে লোকসানের পর বেঁচে থাকার তাগিদে অন্য জমিতে ধান চাষ করেন। ধান কাটার পর ঋণ পরিশোধের জন্য বাধ্য হয়ে মৌসুমেই মাত্র ৭৫০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করতে হয়। অন্যদিকে, চাষ করা মরিচ বর্তমানে মাত্র ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কৃষকটির ভাষ্য, “আমরা আর বাঁচবো না। কৃষক মরে শেষ হয়ে যাব। আমাদের দেখার কেউ নেই।”কৃষকদের দাবি, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা না হলে কৃষি খাত আরও বড় সংকটের মুখে পড়বে। মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের মতে, লোকসান ও ঋণের চাপ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে অনেকেই কৃষিকাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হতে পারেন।