রংপুর    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জুফাস নিউজ
সর্বশেষ

জাতীয়

মতামতমতামত

‘হাসিনা নিজেই আজরাইলকে দাওয়াত দিয়ে বাসায় এনেছিলেন’

‘হাসিনা নিজেই আজরাইলটাকে দাওয়াত দিয়া বাসায় খাবারের জন্য ডাইকা নিয়ে আসছে’ বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে কোটা সমস্যার যে সমাধান হয়ে গিয়েছিল, ২০২৪ সালে আদালতকে ব্যবহার করে হাসিনা নিজেই সেই ক্ষত আবার খুঁচিয়ে তুলেছেন। জুনে আদালতপাড়ায় এই চ্যাপ্টারটি পুনরায় শুরু করার মাধ্যমে তিনি নিজের পতন নিজেই ডেকে এনেছেন।’সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।ব্যারিস্টার ফুয়াদ জানান, স্বার্থে সরাসরি আঘাত লাগাই ছিল তরুণদের এই আন্দোলনে অংশগ্রহণের প্রধান কারণ। তাদের কোটা পদ্ধতি সরাসরি মেধাবী তরুণদের চাকরির অধিকার খর্ব করেছিল, যা তাদের ক্ষোভের মূল কারণ।তারপর যখন এই লড়াইয়ে আবু সাঈদ ও মুগ্ধর মতো শত শত তরুণকে হত্যা করা হলো, তখন সেই স্বার্থের লড়াইটি জেদে রূপান্তরিত হয়। এই জেদ এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ক্ষোভ, ভোটের অধিকার না থাকার যন্ত্রণা এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বঞ্চনা জানিয়ে তিনি বলেন, সবগুলো ধারা এক হয়ে একটি মহাসমুদ্রের সুনামিতে রূপ নিয়েছিল। শেখ হাসিনা নিজের কৃতকর্মের কারণেই এমন এক জনস্রোতের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যা ঠেকানোর ক্ষমতা আর কারও ছিল না।

সরকার বদলায়, নেতা বদলায়—রাজনীতির চরিত্র কেন বদলায় না?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন নতুন কোনো শব্দ নয়। সরকার বদলেছে, প্রধানমন্ত্রী বদলেছেন, মন্ত্রিসভা বদলেছে, সংসদ বদলেছে, বিরোধী দল বদলেছে। কখনো নির্বাচনের মাধ্যমে, কখনো গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে, কখনো রাজনৈতিক সংকটের চাপে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। কিন্তু একটি প্রশ্ন আজও অমীমাংসিত—নেতা বদলালেও রাজনীতির চরিত্র কেন বদলায় না?এই প্রশ্নটি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়। বরং বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘ পথচলার দিকে তাকিয়ে নিজেদের সামনে রাখা একটি আয়না।১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রে নতুন যাত্রার প্রত্যাশা করেছিল। এরপর বহু নির্বাচন হয়েছে, সরকার পরিবর্তন হয়েছে, ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই আমরা একই ধরনের কিছু রাজনৈতিক প্রবণতা ফিরে আসতে দেখেছি—ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, দলীয় আনুগত্যের অতিমূল্যায়ন, বিরোধী মতকে সন্দেহের চোখে দেখা, প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব, প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার প্রবণতা এবং ক্ষমতায় থাকাকালে জবাবদিহির প্রতি অনীহা। ফলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—আমরা কি সরকার পরিবর্তন করেছি, নাকি শুধু সরকারের মালিক পরিবর্তন করেছি? ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক মোড় তৈরি করেছিল। দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনের অবসানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। সেই সময়ে রাষ্ট্র সংস্কার হয়ে ওঠে জাতীয় আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, পুলিশ, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন ও দুর্নীতি দমনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য কমিশন গঠন করা হয়। পরে আরও কয়েকটি খাতেও সংস্কার কমিশন করা হয়।এটি ছিল একটি বড় সুযোগ। কারণ একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সাধারণত জনগণ শুধু নতুন সরকার চায় না; তারা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতিও চায়।কিন্তু রাজনৈতিক সংস্কৃতি কি এত সহজে বদলায়?সম্ভবত না।কারণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি কোনো এক ব্যক্তির হাতে তৈরি হয় না। এটি তৈরি হয় দলীয় আচরণ, প্রতিষ্ঠান, নেতৃত্বের মানসিকতা, রাজনৈতিক কর্মীদের প্রশিক্ষণ, প্রশাসনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক এবং জনগণের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক—সবকিছুর সম্মিলিত প্রভাবে।বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট সম্ভবত এখানেই।আমরা ক্ষমতায় থাকলে রাষ্ট্রকে নিজেদের সাফল্যের মাপকাঠি দিয়ে দেখি, আর বিরোধী দলে থাকলে একই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলি। ক্ষমতায় থাকা দল মনে করে তারা দেশ পরিচালনার একমাত্র বৈধ শক্তি; বিরোধী দল মনে করে ক্ষমতাসীনদের সরানোই তাদের প্রধান রাজনৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু এর মাঝখানে যে রাষ্ট্র, যে প্রতিষ্ঠান এবং যে জনগণ—তাদের জায়গাটি কোথায়?গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ক্ষমতায় থাকা নয়; ক্ষমতা হারানোর পরও প্রতিষ্ঠানকে সম্মান করতে পারা। একটি দল পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবে, এরপর জনগণ চাইলে তাকে সরিয়ে দেবে—এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদল অনেক সময় রাজনৈতিক অস্তিত্বের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। ফলে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা এবং বিরোধী অবস্থানে ক্ষমতায় ফেরার সংগ্রাম—দুটিই কখনো কখনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার হাতিয়ার বানিয়েছে। এই সংস্কৃতি ভাঙা জরুরি। কারণ রাষ্ট্র কোনো দলের নয়। সরকার কোনো দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। পুলিশ, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন কিংবা সংসদও কোনো রাজনৈতিক দলের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান নয়। এগুলো জনগণের প্রতিষ্ঠান।২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আবার নির্বাচিত সরকারের অধীনে ফিরেছে। বিএনপি ৩০০ সরাসরি নির্বাচিত আসনের মধ্যে ২১০টি আসন পেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে সংসদে এসেছে।এই নির্বাচন তাই শুধু একটি নতুন সরকারের জন্ম দেয়নি; বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলানোর আরেকটি সুযোগও তৈরি করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে—এই সুযোগ কি এবার কাজে লাগানো হবে?নতুন সরকার যদি পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি করে, তাহলে জনগণের হতাশা খুব দ্রুত ফিরে আসবে। আর বিরোধী দল যদি শুধু সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করাকেই রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য বানায়, তাহলেও গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে না।সরকারের কাজ সরকার করা। বিরোধী দলের কাজ বিরোধিতা করা—কিন্তু সেই বিরোধিতা হতে হবে দায়িত্বশীল, তথ্যভিত্তিক ও রাষ্ট্রের স্বার্থকেন্দ্রিক। বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির একটি দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা হলো, বিরোধী দলের ভূমিকা অনেক সময় সংসদের ভেতরের কার্যকর নজরদারির পরিবর্তে রাজপথকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। আবার ক্ষমতাসীন দলও অনেক সময় বিরোধী মতকে গণতান্ত্রিক সম্পদ হিসেবে না দেখে রাজনৈতিক বাধা হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে সংসদ দুর্বল হয়, রাজনৈতিক সংলাপ দুর্বল হয় এবং শেষ পর্যন্ত রাজপথই হয়ে ওঠে প্রধান রাজনৈতিক মঞ্চ। এটি কোনো সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষণ নয়।একটি শক্তিশালী সরকার দরকার। কিন্তু তার চেয়েও বেশি দরকার শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে দরকার শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও কার্যকর বিরোধী দল।কারণ বিরোধী দল দুর্বল হলে সরকারও শেষ পর্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। কেননা ক্ষমতার বাইরে থেকে যে প্রশ্নগুলো করা দরকার, সেগুলো না থাকলে ক্ষমতার ভেতরে আত্মতুষ্টি তৈরি হয়।বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আমরা বারবার দেখেছি—ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় যে দল বিরোধী দলের অধিকার নিয়ে কথা বলেছে, ক্ষমতায় গিয়ে কখনো কখনো সেই একই দল বিরোধী দলের রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত করেছে। আবার যে দল বিরোধী দলে থেকে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দাবি করেছে, ক্ষমতায় গিয়ে তারাও সবসময় সেই মানদণ্ডে নিজেদের ধরে রাখতে পারেনি। এই দ্বৈত মানসিকতা বদলানো দরকার।রাজনীতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো—আপনি আপনার প্রতিপক্ষের জন্য যে অধিকার চান, ক্ষমতায় গিয়ে সেই অধিকার তাকে দিতে পারেন কি না। আপনি যদি নিজের দলের জন্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চান, তাহলে আপনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষেরও সেই অধিকার স্বীকার করতে হবে। আপনি যদি নিজের দলের সভা-সমাবেশের অধিকার চান, তাহলে অন্য দলের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। আপনি যদি নিজের কর্মীর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ করেন, তাহলে প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করতে হবে। এটাই রাজনৈতিক নৈতিকতা।কিন্তু আমাদের রাজনীতিতে নীতির চেয়ে দলীয় সুবিধা অনেক সময় বড় হয়ে ওঠে। আর এখানেই চরিত্রের সংকট।রাজনীতির আরেকটি বড় সমস্যা হলো ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা। রাজনৈতিক দল যত বড়ই হোক, নেতৃত্ব যদি কয়েকজন ব্যক্তিকে ঘিরে আবর্তিত হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হয় না। দলের ভেতরে মতের বৈচিত্র্য কমে যায়। সিদ্ধান্ত গ্রহণ কেন্দ্রীভূত হয়। তোষামোদ বাড়ে। আর নেতা ধীরে ধীরে বাস্তবতা থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন।একজন নেতার চারপাশে যদি শুধু প্রশংসাকারীরা থাকে, তাহলে তিনি দেশের বাস্তব চিত্র কীভাবে জানবেন?রাজনীতিতে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মানুষটি তাই সবসময় প্রশংসাকারী নন। বরং প্রয়োজন সেই মানুষটির, যিনি ক্ষমতার সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারেন—‘স্যার, এই সিদ্ধান্তটি ভুল।’ কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এমন মানুষ অনেক সময় টেকে না।দলীয় আনুগত্যের অর্থ যদি হয়ে যায় প্রশ্নহীন আনুগত্য, তাহলে সেখানে গণতন্ত্রের জায়গা সংকুচিত হয়। দল শক্তিশালী হয়তো হয়, কিন্তু গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না।রাষ্ট্র সংস্কারের আলোচনাতেও এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪-২৫ সময়ে গঠিত সংস্কার কমিশনগুলো নির্বাচন, পুলিশ, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, দুর্নীতি দমন ও সংবিধানসহ রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরির জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনও কাজ করেছে।কিন্তু কোনো সংস্কারই দীর্ঘস্থায়ী হবে না, যদি রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের আচরণে সংস্কার না আসে।আইন বদলানো যায়। সংবিধান সংশোধন করা যায়। প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করা যায়। কিন্তু রাজনৈতিক মানসিকতা না বদলালে পুরোনো সংস্কৃতি নতুন কাঠামোর ভেতরেও ফিরে আসতে পারে। সুতরাং বাংলাদেশের এখন সবচেয়ে জরুরি সংস্কার সম্ভবত শুধু আইন বা প্রতিষ্ঠান সংস্কার নয়—রাজনৈতিক আচরণের সংস্কার।রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে দেশবিরোধী বানানোর প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক মতভেদকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় পরিণত করা যাবে না। নির্বাচনে পরাজয়কে অপমান এবং বিজয়কে চূড়ান্ত বৈধতা হিসেবে দেখা যাবে না।নির্বাচনে জয়ী হওয়া মানে জনগণের কাছ থেকে পাঁচ বছরের জন্য একটি দায়িত্ব পাওয়া; জনগণের ওপর পাঁচ বছরের মালিকানা পাওয়া নয়।এই পার্থক্যটি রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বুঝতে হবে। একইভাবে বিরোধী দলকেও বুঝতে হবে—সরকারের প্রতিটি কাজের বিরোধিতা করা আর সরকারের ভুলের বিরোধিতা করা এক জিনিস নয়। দেশ ভালো করলে সেটিকে স্বীকার করা এবং ভুল করলে সমালোচনা করা—এটাই দায়িত্বশীল বিরোধী রাজনীতি।রাজনীতিতে দেশপ্রেমের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বক্তৃতায় নয়; নিজের দলের স্বার্থের ওপরে রাষ্ট্রের স্বার্থকে স্থান দিতে পারায়।বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের একটি বড় অংশ রাজনীতিকে পুরোনো চোখে দেখতে চায় না। তারা প্রশ্ন করতে চায়। তারা জবাবদিহি চায়। তারা ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠানকে বড় দেখতে চায়। তারা চায় না রাজনীতি মানেই সংঘাত, মিছিল, পাল্টা মিছিল, মামলা, গ্রেপ্তার, প্রতিশোধ এবং ক্ষমতার লড়াই হোক।তারা এমন রাজনীতি চায় যেখানে সংসদে বিতর্ক হবে, নীতির প্রতিযোগিতা হবে, যোগ্যতার মূল্য থাকবে এবং জনগণ নির্বাচনের পরও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ থাকবে।এই প্রত্যাশাকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। কারণ ২০২৪ সালের অভিজ্ঞতা আমাদের একটি বিষয় খুব স্পষ্ট করে দেখিয়েছে—কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা যত শক্তিশালীই মনে হোক, জনগণের আস্থা হারালে তার ভিত দুর্বল হয়ে যায়। আর ২০২৬ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ আবার একটি নতুন সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। এখন সেই আস্থা ধরে রাখার দায়িত্ব সরকারের, রাজনৈতিক দলগুলোর এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর।সরকার বদলেছে। নেতা বদলেছেন। সংসদ বদলেছে। এখন বদলাতে হবে রাজনীতির ভাষা।বদলাতে হবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দেখার চোখ। বদলাতে হবে ক্ষমতাকে নিজের সম্পদ মনে করার মানসিকতা।বদলাতে হবে ‘আমার লোক’ আর ‘তোমার লোক’-এর রাজনীতি।বদলাতে হবে সেই ধারণা—ক্ষমতায় থাকলে সব বৈধ, আর বিরোধী দলে থাকলে সব অন্যায়।বাংলাদেশের রাজনীতির সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ক্ষমতায় কে আছে, সেটি নয়। বরং ক্ষমতায় যে-ই থাকুক, সে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানকে কতটা সম্মান করে এবং ক্ষমতার বাইরে থাকা মানুষটির অধিকার কতটা নিশ্চিত করে—সেটিই আসল পরীক্ষা।আমরা বহুবার সরকার বদলেছি। বহুবার নেতা বদলেছি। বহুবার নতুন স্লোগান শুনেছি। এবার যদি সত্যিই পরিবর্তন চাই, তাহলে শুধু মুখ বদলালে হবে না; রাজনীতির আচরণ বদলাতে হবে।কারণ একই রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর নতুন নেতা বসালে নতুন বাংলাদেশ তৈরি হয় না। নতুন বাংলাদেশ তৈরি হবে তখনই, যখন ক্ষমতায় থাকা দল বুঝবে—ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। বিরোধী দল বুঝবে—বিরোধিতা মানেই রাষ্ট্রবিরোধিতা নয়, আবার সরকারবিরোধিতাও রাষ্ট্রবিরোধিতা নয়। আর জনগণ বুঝবে—ভোট দেওয়া গণতন্ত্রের শেষ নয়; জবাবদিহি দাবি করাও গণতন্ত্রের অংশ।সবশেষে রাজনীতিবিদদের জন্য একটি সরল প্রশ্ন রেখে যেতে চাই— আপনি ক্ষমতায় থাকলে যে বাংলাদেশ চান, বিরোধী দলে থাকলেও কি একই বাংলাদেশ চান?যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে সেখান থেকেই শুরু হতে পারে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি।আর যদি উত্তর ‘না’ হয়, তাহলে সরকার বদলাবে, নেতা বদলাবে—কিন্তু রাজনীতির চরিত্র বদলাবে না।লেখক পরিচিতি: জাহিদ ইকবাল, সিনিয়র সাংবাদিক ও সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন।

আন্দোলন হয় রংপুরে, বাজেট যায় দক্ষিণে: এমপি আতিক মুজাহিদ

কুড়িগ্রাম-২ (সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ি) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব ড. আতিক মুজাহিদ বলেছেন, আন্দোলন রংপুরে হলেও উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চলে যায়।আজ শুক্রবার(২৬জুন) সন্ধ্যায় রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে যুবশক্তির রংপুর বিভাগীয় সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।বাজেট বৈষম্য নিয়ে ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, ‘আপনারা শুনেছেন, অর্থমন্ত্রী অনেক কষ্ট, মায়া-দয়া করে বলেছে, রংপুর অঞ্চলের জন্য তিন হাজার কোটি টাকার একটা বাজেট রেখেছে। কিন্তু উন্নয়ন বাজেট বাংলাদেশের তিন লক্ষ ত্রিশ হাজার কোটি টাকা। সেখানে তিন হাজার কোটি টাকা কয় শতাংশ হয় ভাই? এক শতাংশ। দুই কোটির মানুষের জন্য এক শতাংশ বাজেট দিয়ে উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব?’তিনি  আরও বলেন, ‘এখন লোকে বলে আন্দোলন হয় রংপুরে, কিন্ত আমি বলতে চাই না, নিন্দুকেরা বলে বাজেট যায় দক্ষিণে। আমাদের অঞ্চলের মানুষকে দীর্ঘদিন পিছিয়ে রাখা হয়েছে। পিছিয়ে পড়া নয়, পিছিয়ে রাখা হয়েছে।’রংপুরে গ্যাস ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অভাবের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে গ্যাসও আসে না, শিল্প প্রতিষ্ঠানও আসে না। আমরা মঙ্গা আর বেকারই থেকে যাই।’রংপুরের উন্নয়নে ন্যায্য বরাদ্দ দাবি করে তিনি বলেন, দেশের আলু উৎপাদনের ৭২ শতাংশ এবং খাদ্য উৎপাদনের ৪০-৫০ শতাংশ রংপুর অঞ্চল থেকে আসে। এজন্য এই রাষ্ট্রের কাছে ন্যায়বিচারের জন্য রংপুর অঞ্চলের মানুষকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি তারিকুল ইসলাম বলেন, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক উদারতা দেখিয়ে আওয়ামী লীগকে দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ১৩ দিনের মাথায় তাকে হত্যা করা হয়।তিস্তা মহা পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোন এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা হয়নি। শুধু আশ্বস্ত করা হয়েছে। চায়না থেকে শুধু আশ্বস্ত করা হয়েছে যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা করা হবে। আমরা তো আশ্বস্ত অনেক আগে থেকেই শুনেছি। রিয়েলি বলেন কবে করতে চান তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ।যেমন একনীকে পদ্মা ব্যারেজ হয়েছে সেটি ছয় মাসের মধ্যে তার ফাংশনের কাজ হবে। কিন্তু মহা পরিকল্পনা বাস্তুবিনের কাজ কবে হবে সেটি সরকারকে জানিয়ে দেওয়া উচিত। একটা সময় সীমা দেওয়া দরকার তাহলে আমরা বুঝবো আপনাদের কথার সত্যতা আছে। তা না হলে মুলা ঝুলার মতো হবে। প্রতিনিয়তই নদী ভাঙছে। মানুষের আবাদি জমি ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে সরকার এসব দেখছে না।প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে একাকী রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল। কিন্ত আপনি যেভাবে এই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার রাস্তা ওপেন রেখেছেন তা আপনাদের করুণ পরিণতি ডেকে আনবে।রংপুর জেলা জাতীয় যুবশক্তির আহবায়ক রাকিবুল হাসান তৌফিকের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মাসুম বিল্লাহ, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুজ্জামান বাবু, মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব আব্দুল মালেকসহ এনসিপি, জাতীয় যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতারা।সমাবেশ শেষে রাতে নগরীতে মাদকবিরোধী একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর যুবশক্তির সংগঠক মোতাওয়াক্কিল বিল্লাহ শাহ ফকির।

১৮ বছরের নিচে তামাক ও নিকোতিন পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিন্ধ। পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহন ধূমপান এবং ধোয়াাবহীন তামাক সেবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে; প্রধানমন্ত্রী

তামাক ও নিকোটিনের মরণঘাতী প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ দেশের আগামী প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (৩১ মে) ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’।প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ ২০০৩ সালে এফসিটিসিতে স্বাক্ষর, ২০০৪ সালে অনুসমর্থন এবং ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। পরবর্তী সময়ে এই আইনকে আরো শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সংশোধনও আনা হয়েছে।তিনি বলেন, তামাকে বিদ্যমান নিকোটিন মারাত্মক আসক্তি সৃষ্টি করে। বিড়ি, সিগারেট, ই-সিগারেট, জর্দা, গুলসহ যেকোনো তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার হৃদরোগ, স্ট্রোক, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার এবং ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগসহ অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।তিনি আরো বলেন, তামাকের প্রলোভন থেকে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষার লক্ষ্যে তামাকজাত দ্রব্যের সকল প্রকার বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও প্রমোশন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অ্যাপস, ওটিটি প্ল্যাটফরম, নাটক-সিনেমাসহ সব মাধ্যমেই তামাকের প্রচারণা নিষিদ্ধ।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালে তামাক কম্পানির প্রচার-প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১৮ বছরের নিচে তামাক ও নিকোটিন পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে।তারেক রহমান বলেন, নতুন বিধি-বিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি। জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগে ঘটে, যার একটি প্রধান ঝুঁকির কারণ তামাক ও নিকোটিনের ব্যবহার। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে ১ লাখ ৯৯ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে।এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, তামাক ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্য ব্যয়, পরিবেশগত ক্ষতি ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ দেশের অর্থনীতিতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

আমার এত দল পরিবর্তন করার শখ নেই; আমার পল্টি দেওয়ার অভ্যাসও নেই

ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে পুরোদমে রাজনীতিতে সময় দিতে চান বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন দল পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা তার কোনোকালেই ছিল না এবং ভবিষ্যতেও নেই। বর্তমানে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা কিংবা নিষিদ্ধ থাকলেও এই অবস্থা চিরস্থায়ী হবে না বলেই বিশ্বাস করেন সাকিব আল হাসান।বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সোজাসাপ্টা কথা বলেন তিনি।দলের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা নিয়ে সাকিব বলেন, ‘আমার এত দল পরিবর্তন করার শখ নেই। আমি যখন ছোট কোনো দলেও খেলেছি, সেই দলের প্রতি অনুগত ছিলাম। আমার পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই।’ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজীবন কি কেউ কাউকে নিষিদ্ধ করে রাখতে পারে? এটা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার।জোর করে কিছুদিন দমিয়ে রাখা সম্ভব হলেও তাতে দেশের বা রাজনীতির কোনো উন্নতি হয় না।’সাবেক এই সংসদ সদস্য রাজনীতিতে প্রতিহিংসার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত উল্লেখ করে বলেন, ‘যদি আমরা আগে ভুল করে থাকি এবং এখন সেটির পুনরাবৃত্তি হয়, তবে এই খেলা চলতেই থাকবে। কাউকে না কাউকে এই ধারা শেষ করতে হবে। যে দল এটি শেষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, তারাই মানুষের মনে জায়গা করে নেবে।সাকিব বলেন, ‘আমার শতভাগ বিশ্বাস আছে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মাগুরার মানুষ আমাকে আবারও ভোট দেবে। আমি তো এবারের (অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তী সম্ভাব্য) নির্বাচনেও অংশ নিতে আগ্রহী ছিলাম। ভেবেছিলাম ভোটে দাঁড়িয়েই নিজের জনপ্রিয়তা দেখিয়ে দেব। কিন্তু পারিপার্শ্বিকতা ও দলের সিদ্ধান্তের কারণে তা সম্ভব হয়নি।’পুরোপুরি আশা আছে যে আমি দ্রুতই দেশে ফিরব উল্লেখ করে সাকিব আল হাসান বলেন, ‘আমি আইনের মুখোমুখি হতে চাই, কিন্তু আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।আমি বিশেষ কোনো প্রটোকল চাচ্ছি না, শুধু সাধারণ নাগরিক হিসেবে আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন হয়রানি না করার নিশ্চয়তা চাই। এই নিশ্চয়তা কাল দেওয়া হলে আমি পরশুই দেশে ফিরব।’২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সাকিবের সংসদীয় মেয়াদ ছিল মাত্র সাত মাস। ৫ আগস্টের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা সাকিবের নামে বর্তমানে হত্যা মামলাসহ চেক জালিয়াতি ও শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির মামলা রয়েছে। এসব মামলাকে আইনিভাবে মোকাবেলা করতে চাইলেও দেশে ফেরার ক্ষেত্রে মূল বাধা হিসেবে তিনি ‘নিরাপত্তাহীনতা’ ও ‘হয়রানি’কে দেখছেন।

অনিয়মে জর্জরিত ‘ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স’, ঝুঁকিতে ব্যান্ডউইথ নিরাপত্তা

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মকানুন উপেক্ষা করে একে একে আইআইজি, আইটিসি, আইজিডব্লিউসহ ইন্টারনেট-টেলিকম খাতের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স দখলে নেয় আওয়ামী সুবিধাভোগী এ প্রতিষ্ঠান। এসব লাইসেন্স অর্জনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি), দেশের অভ্যন্তরের আইটিসি প্রতিষ্ঠান এবং এয়ারটেল ও টাটার মতো শীর্ষ ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ওয়ান এশিয়ার মোট বকেয়ার পরিমাণ ২৩ কোটি টাকারও বেশি। বিটিআরসির কাছেই এর বকেয়া প্রায় ৪ কোটি টাকা। বিএসসিসিএল-এর কাছে রয়েছে আরও ১ কোটি টাকার বেশি। অপরদিকে টেলিকম জায়ান্ট এয়ারটেল তাদের ১৩ কোটি টাকার এবং টাটা ৫ কোটি টাকার বকেয়া দাবি করছে। এদিকে বকেয়া আদায়ে নানাভাবে চেষ্টা করে না পেয়ে ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স-এর বিরুদ্ধে বিএসসিপিএলসি ঢাকা জেলা জজ আদালতে ‘আরবিট্রেশন মামলা’ দায়ের করে। এর রায়ে তারা জয়ী হয়। সেই রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি ‘অ্যাওয়ার্ড এক্সিকিউশন মামলা’ করে, যা এখনো চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, যেন লাইসেন্স বাতিল না হয় এবং তাদের ব্যবসা চালু রাখা যায়। ইতোমধ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে তারা এনওসিও নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসির একটি সূত্র।ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স একসময় আইআইজি, আইটিসি ও আইজিডব্লিউ লাইসেন্স নিয়ে টেলিকম বাজারে প্রবেশ করলেও সময়ের সঙ্গে শর্ত লঙ্ঘন করে একাধিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মালিকানাধীন বেঙ্গল ব্রডব্যান্ড ২০১৬ সালে ডিভিশনাল আইএসপি লাইসেন্স পেলেও নবায়ন না করেই বর্তমানে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এর মালিকানাধীন প্রিজমা ডিজিটাল নেটওয়ার্কের রয়েছে ন্যাশন ওয়াইড আইএসপি লাইসেন্স।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারবার মোবালইল ফোনে কল, হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ওয়ান এশিয়া অ্যালায়ন্সের মূল প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসফারিয়া খায়েরের সঙ্গে। তবে তিনি সাড়া দেননি। পরে পুনরায় চেষ্টা করলে দেখা যায়, তিনি প্রতিবেদকের নম্বরই ব্লক করে দিয়েছেন।বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্সকে মোট বকেয়ার ৫০ শতাংশ এককালীন পরিশোধ এবং বাকি অংশ কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে এনওসি প্রদান করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মাত্র ১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বলে তিনি জানান।ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, আইএসপি সেক্টরের সেবাদান নির্ভর করে আইআইজি ও ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারীদের ওপর। কেউ যদি কোটি টাকা বকেয়া রেখে অনিয়ম করে, তা গ্রাহকের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের জন্য হুমকি। তবে নেপথ্যে যদি নীতিগত বা কাঠামোগত কোনো সমস্যা থাকে, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ম ও নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা জরুরি। এক্ষেত্রে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বকেয়া বা নীতিগত ব্যত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন তাগাদা দিলেও প্রতিষ্ঠানটি পাওনা পরিশোধ করেনি, চিঠির জবাবও দেয়নি। এখন তাদের কাউকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব যুগান্তরকে বলেন, আমরা চাই, ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করুক, গ্রাহকদের সেবা দিক। কিন্তু সরকারের পাওনা পরিশোধ না করে কেউ যদি অনিয়মে জড়ায়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহতের ঘটনায় আসামিপক্ষের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। এই আপসের বিষয়টি আপনি সমর্থন করেন?

বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহতের ঘটনায় আসামিপক্ষের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। এই আপসের বিষয়টি আপনি সমর্থন করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন
১

বর্ণিল সাজে কারমাইকেল কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগ, নবীনবরণের প্রস্তুতি

২

মুক্তি পেল উত্তরবঙ্গের তরুণ শিল্পী জনির ‘তোমায় ছাড়া বাঁচে না জীবন’

৩

জুফাস নিউজের সূত্রে তিস্তাপাড়ের বানভাসিদের পাশে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিল 'তারুণ্যের আলো সেবা সংঘ'

৪

সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিককে হুমকি

৫

লাশ দাহ করতে যাচ্ছিলেন স্বজনরা, পথে সাপ দেখে শুরু হলো ‘ঝাড়ফুঁক’

৬

স্ত্রীর জন্মদিনের পরদিনই সোহাগের ঝুলন্ত লাশ: আত্মহত্যার নেপথ্যে কী কারণ?

৭

তারাগঞ্জে মহাসড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার: পরিচয় শনাক্তে প্রশাসনের আকুতি

৮

কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সোহাগের মৃত্যুর সত্য প্রকাশে বাধা: জুফাস নিউজের সাংবাদিকদের অজ্ঞাত ফোনের হুমকি!

৯

অপপ্রচারে ব্যর্থ হয়ে আবু সাঈদ অপুর কাছে ফোন কলে ক্ষমা চাইলেন সেই প্রতিনিধি

১০

বোদায় দেড় কোটি টাকার উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের মুখে ইউএনও

জনপ্রিয় সব খবর
১

শরতের শুভ্রতায় সেজেছে ধরলাপাড়, কাশফুল দেখতে মানুষের ঢল

২

‘আবু সাঈদের বাড়ি ও কবরস্থানের উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে’

৩

ব্যাংক খাতের উন্নয়নে একনেকে ১,২৭৬ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

৪

রংপুরে দাম কমেছে ডিম-মুরগির

৫

ডিমলায় ভারতীয় পণ্য জব্দ , পালিয়ে গেলো চোরাকারবারিরা

৬

সৈয়দপুরে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার ২

৭

নজরুল বর্ষ-২৬ উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ে লালমনিরহাট নেছারিয়া কামিল মাদরাসার পুরুষ্কার পেল ২২ শিক্ষার্থী

৮

৭৮ লাখ টাকার সেতু, নেই সংযোগ সড়ক

৯

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক হবে না : নাহিদ

১০

আলোকিত লালমনিরহাটের সেচ্ছাসেবী দের অভিযানে মাকদসেবী আটক

সর্বশেষ সব খবর

 রাজনীতি রাজনীতি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক হবে না : নাহিদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক হবে না : নাহিদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে পদে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।নাহিদ বলেন, ‘বিএনপি সারাদেশে যে নৈরাজ্য, তাণ্ডব, দখলবাজি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি ২০২৪ সালের ৬ আগস্টের পর শুরু করেছিল, আমরা মনে করি সেটারই ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে মিরপুরের রাড্ডা সেন্টার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় আমরা দেখতে পেলাম, কীভাবে প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থাকছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।’বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আজকে পুরো জনগণের সামনে বিষয়টি স্পষ্ট যে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক নেই। এ জন্য বর্তমান সরকার, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী বলে আমরা মনে করি। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে তা সম্ভব নয়।’এনসিপি নেতা বলেন, ‘মিরপুরে রাড্ডা সেন্টারটি রাতের আঁধারে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে স্থানীয় বিএনপির সংশ্লিষ্টতা এবং সংরক্ষিত এমপির নামও এসেছে। পুলিশ প্রশাসনের নীরবতা ও পরোক্ষ সহযোগিতা ছাড়া রাজধানী শহরে রাতের বেলা তিন ঘণ্টা ধরে এভাবে ভাঙচুর চালানো সম্ভব নয়। ফলে সরকারি ইন্ধনে, রাষ্ট্রীয় মদদে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ মদদেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা মনে করি।’ নাহিদ বলেন, ‘এই দুটি ঘটনা রাজধানীতে ঘটায় এবং বিভিন্ন কারণে গণমাধ্যমে আসায় আমরা জানতে পেরেছি। কিন্তু সারাদেশের পরিস্থিতি এর চেয়েও ভয়াবহ। হবিগঞ্জে সিএনজি বা অটোরিকশা স্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক মারামারির ঘটনা আমরা দেখেছি। সাভারে মাদরাসা দখলের চেষ্টার ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। সারাদেশে এক ধরনের নৈরাজ্য চলছে। দেশে কোনো কার্যকর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।’ এনসিপির শীর্ষ নেতা বলেন, ‘এই সরকার বলেছিল, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ ঠিক থাকবে। কিন্তু আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি, বিএনপি সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। তারা নিজেদের দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। বরং প্রশাসনের সহযোগিতায় সারাদেশে এই দখল-বাণিজ্য চলছে বলে আমরা মনে করি।’তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার দায়িত্ব পালনে ইতোমধ্যে ব্যর্থ হয়েছেন। সংস্কার ইস্যুতেও আমরা দেখেছি, তিনি জাতির সঙ্গে প্রতারণামূলক কথা বলেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে তাকে প্রশ্ন করা হলে বা জবাবদিহির আওতায় আনা হলে তিনি ‘এটা পল্টনের বক্তব্য’, ‘এটা রাজপথের বক্তব্য’- এ ধরনের নানা কথা বলে মূল বিষয় এড়িয়ে যেতেন এবং এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করতেন।”নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সারাদেশে জনগণের নিরাপত্তার জন্য রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা জনগণের সঙ্গে আছি। আমাদের সারাদেশের এনসিপির নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা মজলুম জনগণের পাশে দাঁড়ান। যেখানে দখলদারি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস হচ্ছে, সেখানে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।’

‘জুলাইয়ের অকুতোভয় কণ্ঠস্বর’ সালমানের স্টুডিওতে ছিনতাই-লুটপাট করেছে ‘বিএনপির সন্ত্রাসীরা’

‘জুলাইয়ের অকুতোভয় কণ্ঠস্বর’ সালমানের স্টুডিওতে ছিনতাই-লুটপাট করেছে ‘বিএনপির সন্ত্রাসীরা’

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তার দাবি, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণেই সালমানের স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়েছে।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ করেন সাদিক কায়েম।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ করেন সাদিক কায়েম।পোস্টে তিনি লেখেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ‘জুলাইয়ের অকুতোভয় কণ্ঠস্বর’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ব্যাপক ভাঙচুর, ছিনতাই ও লুটপাট করেছে ‘বিএনপির সন্ত্রাসীরা’। তিনি ঘটনাটিকে সারাদেশে চাঁদাবাজি ও দখলদারির অভিযোগের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।সাদিক কায়েম আরও লেখেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সরকারের প্রশ্রয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ‘নব্য জমিদারদের’ উত্থান ঘটেছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জায়গায় চাঁদা দাবি করা হচ্ছে এবং চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তিনি বলেন, এভাবে দেশ চলতে পারে না। সরকারের উচিত নিজেদের দলের অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। বাংলাদেশকে কারও জমিদারিতে পরিণত হতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন ডাকসু ভিপি।এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর সালমান নিজেও চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগ করেন।অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা স্টুডিওর সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায়। পাশাপাশি স্টুডিওর আসবাব ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙচুর করে তছনছ করা হয়। ঘটনার পর প্রকাশিত ভিডিওতেও স্টুডিওর বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আসবাব ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা যায়।তবে হামলায় বিএনপির কারা জড়িত—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি এখনো বাকি।

‘সরকার যদি নিজের কর্মকাণ্ডের ভারেই একদিন পইড়া যায়, বিশ্বাস করবেন না?’

‘সরকার যদি নিজের কর্মকাণ্ডের ভারেই একদিন পইড়া যায়, বিশ্বাস করবেন না?’

গভর্নমেন্ট ফালাইয়া দিতে হবে, এই কথা শুনলেই যাদের চাঁদাবাজি আর দুর্নীতির টাকায় জীবনটা একটু ‘সেটেল’ হইছে, তারা এমনভাবে পাগল হয়ে যায়, মনে হয় কথাটা তাদের গায়ে লাগছে!-এমনটাই মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১টা ২৮ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।পোস্টে নাসীরুদ্দীন লিখেন, আচ্ছা, আমার কথা বিশ্বাস করলেন না, ভালো কথা। কিন্তু সরকার যদি নিজের ভুল, নিজের সিদ্ধান্ত আর নিজের কর্মকাণ্ডের ভারেই একদিন মাঘ মাসে পইড়া যায়, এই সম্ভাবনাটাও কি বিশ্বাস করবেন না?যদি সত্যিই বিশ্বাস না করেন, তাহলে এত ভয় কিসের? এত ঠেকানোর চেষ্টা কিসের প্রশ্ন রেখে এনসিপির এই নেতা বলেন, ঠেকাতে পারবেন? পারলে ঠেকান। কীভাবে পারবেন, সেটা এখন আর কমু না। সময় আসলে উত্তরটা নিজেরাই পেয়ে যাবেন।এদিকে এই প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত পোস্টে প্রায় ৪০ হাজার রিয়্যাকশন পড়েছে।

‘কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন করার মূল্য সরকারকে দিতে হবে’

‘কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন করার মূল্য সরকারকে দিতে হবে’

সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬ কোরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী একটা আইন পাস করেছে। যা সুস্পষ্টভাবে আল্লাহ্ কোরআন এবং রাসূল (সা.) এর খেলাফ। সরকারকে এর মূল্য দিতে হবে। এই আইনের কারণে ঘরে ঘরে বিপর্যয় সৃষ্টি হবে। এই হারাম আইন প্রত্যাহার করে নিতে হবে।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যর ঢাকা-রংপুর লং মার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, সরকার সাহস করে বলে না গণভোট মানি না। তারা ইনিয়ে-বিনিয়ে বলে সংবিধানে গণভোট নাই। সংবিধানে যদি গণভোট না থাকে, তাহলে কোনো সংবিধান মেনে চব্বিশের গণবিপ্লব হয়নি। ফ্যাসিস্টদের সংবিধান অনুসরণ করে আপনারা তাড়াতে পারেননি, আমরাও পারি নাই। সংবিধানের বাইরে গিয়েই ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশ করা হয়েছে। যদি সংবিধানে গণভোট না থাকে, ছাব্বিশ সালে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচনও নাই, কোনো সরকারও নাই। সুতরাং মানতে হলে সবটাই মানতে হবে। আর বাদ দিতে হলে সবটাই বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিতে হবে। তখন দেখা যাবে কার বুকের পাটা কতটুকু।বিএনপি সরকার গঠনের পর তাদের সব ওয়াদা ভুলে গেছে দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচিত হওয়ার আগে তারা দফায় দফায় জাতির কাছে ওয়াদা দিয়েছেন। কিন্তু আজব ব্যাপার তারা সংসদে গিয়ে সব ভুলে গেছেন। সরকার গঠন করার পরে একটা একটা করে তারা সবকিছুতে উল্টা পথে চলছেন। যে পথে হাসিনা চলে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল, আমরা স্পষ্টভাবে দেখছে পাচ্ছি সেই একই পথ ধরে বর্তমান সরকার হাঁটছে। যদি একই পথে হাঁটেন তাহলে পরিণতি একই হবে।ওয়াদা ভঙ্গ করায় ১১ দলীয় ঐক্য লং মার্চ কর্মসূচি করছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, তোমরা (বিএনপি) ওয়াদা রাখো আজকে ঘোষণা করে দাও আমরা যা করেছি ভুল করেছি; এখন সব সংশোধন করে নেবো এবং দৃশ্যমান বাস্তবায়ন করে আমাদেরকে দেখাও। তাহলে আমাদের লং মার্চের প্রয়োজন হবে না। কিন্তু যদি না হয়, লং মার্চের পর যে কি হবে সেটা আল্লাহ ভাল জানেন। সমস্ত অপশক্তি, অন্যায় এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। আট দফা যেকোনো সময় জাতির প্রয়োজনে এক দফায় পরিণত হতে পারে। আমরা চাই সেই এক দফার আগে সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। যদি না হয়, বসে বসে আঙুল চুষবো না। সংসদের ভিতরে তীব্র প্রতিবাদ এবং রাজপথে সমানতালে আন্দোলনও চলবে।তিনি আরও বলেন, দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস, সার ও কর্মসংস্থান নেই। কিন্তু একদলের লোকেরা ঠিকই কাজ পায়, সেই কাজ হলো চাঁদাবাজি। সারা দেশে চাঁদাবাজি আছে। চাঁদাবাজদের জ্বালায় জাতি অস্থির। চাঁদাবাজদের কারণে দ্রব্যমূল্য তিন-চারগুণ। চাঁদাবাজদের কারণে মানুষের জীবনও চলে যাচ্ছে।  চাঁদা না পেয়ে মানুষ খুন করা হচ্ছে। এমনকি পরের মানুষ যখন না পায় তখন নিজের মানুষকে পাথর মেরে খুন করে। এরা সন্ত্রাসী যারা এই কাজ করে।তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে লালমনিরহাটের এমপি ‘জাগো বাহে কোণ্ঠে সবাই তিস্তা বাঁচাই’ আওয়াজ দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর শেষে সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী পরিষ্কারভাবে বলছেন- যে নামেই হোক তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। সাত মাস চলে গেল নড়াচড়া যে কিছু বুঝি না। কোনদিক থেকে কোন পানিপরা খাইলেন, এখন যে আপনাদের কণ্ঠে এতো জোর দেখি না। জনগণকে বারবার ধোকা দেওয়া ঠিক হবে না।তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে এই মাঠে বলেছিলাম সরকার নির্বাচিত হলে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষির রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলব। নদীগুলোর জীবন আমরা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। ভোট আপনারা দিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ারিং করে আপনাদের প্রিয় প্রার্থী, মানুষ ও দলের বিজয় তারা ছিনিয়ে নিয়েছে। আল্লাহর বিচার ঘুরে ফিরে যে অপরাধ করে তার ঘাড়ের উপর পড়ে। আমরা সবকিছু সহ্য করছি দেশের স্বার্থে। ফলাফল মেনেছিলাম যেন দেশটা শান্তির দিকে আসে।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহর কসম আট দফার একটা দাবিও আমাদের দলীয় দাবি নয়। এসব দাবি ১৮ কোটি মানুষের দাবি। ১৮ কোটি মানুষের অধিকারের জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। সরকার জনগণের সাথে কথা দিয়ে কথা রাখেনি। নির্বাচিত হওয়ার আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রংপুর থেকেই ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘গণভোটে হ্যাঁ’ বলুন। জনগণ ৭০ ভাগ গণভোটে হ্যাঁ দিয়েছে। কিন্তু তিনি (প্রধানমন্ত্রী) গণভোটের রায় মানেননি, অগ্রাহ্য করেছেন।সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, এনসিপির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ কে এম হামিদুর রহমান আজাদ, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী।সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দীন আহমদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েক, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর আমির এটিএম আজম খান প্রমুখ।প্রসঙ্গত, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবি আদায়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চ কর্মসূচি হিসেবে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে এ সমাপনী সমাবেশ চলে।এর আগে আট দফা দাবিতে সকালে ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে ঢাকা টু রংপুরের এই লং মার্চ শুরু হয়। এরপর গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোডে প্রথম পথসভা করা হয়। পরে টাঙ্গাইল নগর জালফৈ বাইপাস রোড দ্বিতীয়, সিরাজগঞ্জ হাটিকমরুল মোড়ে তৃতীয়, বগুড়া মাটিডালি বিমান মোড়ে চতুর্থ ও গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে পঞ্চম পথসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের আমিরসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।১১ দলীয় ঐক্যর পক্ষ থেকে ঘোষিত আট দফা দাবির মধ্যে আছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

প্রিয় সৈয়দপুর

সৈয়দপুরে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার ২

সৈয়দপুরে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার ২

নীলফামারীর সৈয়দপুরে অভিযান চালিয়ে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সৈয়দপুর শহর ও উপজেলার পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতার শাহরিয়ার ইসলাম ফরহাদ (২৫) ধলাগাছ সর্দারপাড়া এলাকার মরহুম জহুরুল ইসলামের ছেলে। আর সাব্বির হোসেন (২৮) দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামের মোতাহার হোসেনের ছেলে।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাব্বির হোসেন মোটরসাইকেল চোর চক্রের সাথে সরাসরি জড়িত। আর ফরহাদ চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয় করে নিজের হেফাজতে রাখতেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে সৈয়দপুর শহরের পার্বতীপুর রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মতির মোড় এলাকায় শাহরিয়ার ইসলাম ফরহাদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করার পাশাপাশি ফরহাদকে গ্রেফতার করা হয়।থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, ‘গ্রেফতার দুইজনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে মোটরসাইকেল চুরি ও চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সাথে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।’ওসি আরো বলেন, ‘সৈয়দপুরে মোটরসাইকেল চুরি প্রতিরোধ এবং চোরাই যানবাহন উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। আটকদের সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কি-না সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

৭ ঘন্টা আগে

 বানিজ্য বানিজ্য

রংপুরে দাম কমেছে ডিম-মুরগির

রংপুরে দাম কমেছে ডিম-মুরগির

রংপুরে সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে পাকিস্তানি সোনালি মুরগির দাম। একই সঙ্গে দাম কমেছে পোলট্রি মুরগির ডিম ও কিছু সবজির। তবে দাম বেড়েছে আদা ও ছোলাবুটের। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ-মাংসের দাম।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, টমেটো গত সপ্তাহের মতোই ১০০-১২০ টাকা, গাজর ১৪০-১৬০, কাঁকরোল ৪০-৫০, ঝিংগা ৬০-৭০ টাকা থেকে কমে ৫০-৬০, বাজারে নতুন আসা বাঁধাকপি ৬০-৭০, মুলা আগের মতো ৪০-৫০, চালকুমড়া প্রতি পিস (আকারভেদে) ৪০-৫০ টাকা থেকে কমে ৩০-৪০, কাঁচকলার হালি গত সপ্তাহের মতোই ২৫-৩০, সজনে ডাঁটা ১৪০-১৬০, দুধকুষি ৩৫-৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০-৫০, শসা ৪০-৫০ টাকা থেকে কমে ৩৫-৪০, লেবুর হালি ২৫-৩০ টাকা থেকে কমে ২০-২৫, চিকন বেগুন ৬০-৭০ টাকা থেকে কমে ৫০-৬০, গোল বেগুন অপরিবর্তিত ৮০-১০০, পটল ৪০-৫০, ঢেঁড়শ ৫০-৬০ টাকা থেকে কমে ৪০-৫০ এবং পেঁপে ২০-২৫ টাকা থেকে কমে ১৫-২০ টাকা।শিম আগের মতো ১৮০-২০০ টাকা, বরবটি ৬০-৭০ টাকা থেকে কমে ৫০-৬০, করলা ৭০-৮০ টাকা থেকে কমে ৬০-৭০, লাউ (আকারভেদে) ৩০-৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০-৫০, কচুরমুখী গত সপ্তাহের মতোই ৩৫-৪০ টাকা, কচুরলতি ৬০-৭০, প্রতিকেজি ধনেপাতা ১৮০-২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫০-৩০০, রকমভেদে শাকের আঁটি ১০ থেকে ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া আগের মতো ৫০-৬০, শুকনো মরিচ আগের মতোই ৪৫০-৫০০, কার্ডিনাল আলু গত সপ্তাহের মতোই ২০-২৫, দেশি সাদা আলু ২৫-৩০, বগুড়ার লাল পাকড়ি আলু ২৫-৩০, শিল আলু ৪৫-৫০ এবং ঝাউ আলু ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।এছাড়া দেশি নতুন আদা ১০০-১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০-১৬০ টাকা, আমদানি করা আদা আগের মতো ১৪০-১৬০ টাকা, দেশি রসুন আগের মতো ১০০-১২০ টাকা এবং ভারতীয় রসুন ১৬০-১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।এদিকে, কাঁচামরিচ ১৩০-১৪০ টাকা থেকে কমে ১২০-১৩০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খুচরা বাজারে প্রতিহালি ডিম ৫০-৫২ টাকা থেকে কমে ৪৮-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।স্টেশন বাজারের সবজি বিক্রেতা ইমরান হোসেন বলেন, মাসের শেষ সপ্তাহে সাধারণত সব ধরনের জিনিসপত্রের চাহিদা কম থাকে। এ কারণে বিক্রিও কম হয়। তাই বেশ কিছু সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় সামান্য হারে কমেছে।এদিকে, মুরগি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি গত সপ্তাহের মতোই ১৭০-১৮০ টাকা, পাকিস্তানি সোনালি মুরগি ৩১০-৩২০ টাকা থেকে কমে ৩০০ টাকা, পাকিস্তানি হাইব্রিড জাতের মুরগি ২৮০-২৯০ টাকা, পাকিস্তানি লেয়ার গত সপ্তাহের মতোই ৩৪০-৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৪০-৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।এছাড়া বাজারে গরুর মাংস ৭২০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে, খুচরা বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল গত সপ্তাহের মতোই ২০৫-২১০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ২০০-২১০ টাকা, মসুর ডাল (চিকন) গত সপ্তাহের মতোই ১৬০-১৮০, মাঝারি ১১০-১১০, মুগডাল (চিকন) ১৭০-১৮০ টাকা থেকে কমে ১৬০-১৭০, বুটের ডাল ১১০-১২০, খোলা চিনি ১১৫-১২০ টাকা থেকে কমে ১১০-১১৫, ছোলাবুট ৯০-১০০ থেকে বেড়ে ১১০-১২০, প্যাকেট আটা গত সপ্তাহের মতোই ৬০-৬৫, খোলা আটা ৫০-৫৫ এবং প্যাকেট ময়দা ৭৫-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের মতোই স্বর্ণা (মোটা) ৪৮-৫০ টাকা, স্বর্ণা (চিকন) ৫২-৫৫, বিআর২৮- ৬০-৬৫ টাকা, বিআর২৯- ৫৫-৬০ টাকা, জিরাশাইল ৫৫-৬০ টাকা, মিনিকেট ৮০-৮৫, নাজিরশাইল ৮৫-৯০ টাকা এবং খোলা আতপ চাল ২০০-২১০ ও প্যাকেট চাল ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।এদিকে মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে রুইমাছ গত সপ্তাহের মতোই ২৫০-৪৫০ টাকা, টেংরা ৪০০-৬০০, কই ২০০-৫০০, মৃগেল ২৫০-৩০০, কারপু ২০০-৩০০, পাঙাস ১৫০-২০০, তেলাপিয়া ১৫০-২২০, কাতল ৩০০-৫০০, বাটা ১৫০-২৫০, শিং ৩০০-৫০০, সিলভার কার্প ১২০-২৫০ এবং গছিমাছ ৮০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

৪ ঘন্টা আগে

কৃষকের জানালা

পঞ্চগড়ের বোদায় ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ, উপকৃত ৫ হাজার ৮৯০ কৃষক

পঞ্চগড়ের বোদায় ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ, উপকৃত ৫ হাজার ৮৯০ কৃষক

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় ৫ হাজার ৮৯০ জন কৃষকের মাঝে প্রায় ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকার কৃষি ঋণ মওকুফের সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক কৃষকের হাতে পাঁচটি করে মোট ২৯ হাজার ৪৫০টি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজনকে ঘিরে কৃষকদের মাঝে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে বোদা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বোদা মডেল পাইলট সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে কৃষি ঋণ মওকুফ সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে কয়েক হাজার কৃষক অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে স্থানীয় শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং রাজশাহী থেকে আগত শিল্পীদের গম্ভীরা পরিবেশনের মাধ্যমে কৃষকবান্ধব বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।জেলা প্রশাসক মোসাঃ শুকরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার আবু সাইম, বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহেমদ রাশেদ উন নবী এবং বোদা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দিল রেজা ফেরদৌস চিন্ময়সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা।প্রধান অতিথি অনুষ্ঠানে ৫ হাজার ৮৯০ জন কৃষকের হাতে প্রায় ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকার কৃষি ঋণ মওকুফের সনদ তুলে দেন। পাশাপাশি প্রত্যেক কৃষককে পাঁচটি করে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা প্রদান করা হয়। সব মিলিয়ে ২৯ হাজার ৪৫০টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কৃষকদের অংশগ্রহণে হাঁস ধরা, কলাগাছ খেলা, দড়ি টানাটানিসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনে অংশ নিয়ে কৃষকরা আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগে উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।

হাঁড়িভাঙ্গা আম ঘিরে জমজমাট পদাগঞ্জ হাট

হাঁড়িভাঙ্গা আম ঘিরে জমজমাট পদাগঞ্জ হাট

রংপুরের ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারে এসেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও জুনের মাঝামাঝি সময়ে এই রসালো ও সুস্বাদু আমের আনুষ্ঠানিক বিক্রি শুরু হয়েছে।সোমবার (১৫ জুন) থেকে সরকারিভাবে রংপুরের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারজাতকরণ শুরু হয়। প্রথম দিনেই রংপুরের বিখ্যাত আম বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থল পদাগঞ্জ হাটসহ বিভিন্ন বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।আমবাগানের মালিক, আমের ফড়িয়া, বাগানের পরিচর্যায় নিয়োজিত ব্যক্তি, মৌসুমি আম বিক্রেতা, অনলাইনে আম বিক্রেতা, পরিবহন ব্যবসায়ী, কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসায়ী সবাই যে যার মতো করে আম কেনা-বেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পরিপক্ব হওয়ার আগেই এক সপ্তাহ আগে থেকেই এই আম বিক্রি শুরু করেছেন।চাষি ও স্থানীয় পাইকারি বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মান ও আকারের ওপর ভিত্তি করে প্রতি মণ বড় সাইজের আমের দাম এখন ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা এবং মাঝারি সাইজের প্রতি মণ আম ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ পাইকারি মূল্যে প্রতি কেজি আমের দাম পড়ছে ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা।তবে খুচরা বাজারে বড় সাইজের আম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আর মাঝারি সাইজের আম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।স্থানীয় আমচাষি মেহেদী হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘নিজস্ব পাঁচ বিঘা জমিতে এবার আম চাষ করেছেন। টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ফলন কম হয়েছে। সেইসঙ্গে আমের গায়ের কালারও পরিবর্তন হয়েছে। গত বছর শুরুতে যে আমের মণ ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত ছিল, এবার সেই আমের দাম কমে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’পদাগঞ্জ এলাকার আমচাষি মোসাব্বির বকসি বলেন, ৮ একর জমিতে আমের চাষ করেছি। শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে বাগানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এখন যে দামে বিক্রি হচ্ছে তাতে আশানুরূপ লাভ হবে না। তবে দিন গড়ালে দাম আরও বাড়তে পারে।’ঢাকা থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘রংপুরের মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বাগান থেকে আম সংগ্রহ করে ট্রাকে করে চলে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। শুধু তাই নয়, কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর পাশাপাশি এবারও অনলাইনে হাঁড়িভাঙ্গা আম বিক্রির ধুম পড়েছে। ফেসবুক পেজ ও ই-কমার্স সাইটগুলোর মাধ্যমে ঘরে বসেই ক্রেতারা একদম তাজা আম পেয়ে যাচ্ছেন।কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো প্রতি কেজি আমের খরচ ১৩ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ১৬ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ক্যারেট/বক্স, প্যাকিং খরচসহ এক মণ আম পাঠাতে ৩৬০০ থেকে ৪০০০ টাকা খরচ পড়ছে। এদিকে রংপুর নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সড়ক, সিটি বাজার, লালবাগ, মডার্ন মোড়, ধাপ বাজার, শাপলা চত্বরসহ নগরীর বিভিন্ন হাট-বাজারেও মিলছে এই আম। হাট-বাজার ছাড়াও পাড়ামহল্লার অলিগলিতে ফেরি করে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি করতে দেখা গেছে।স্থানীয়রা বলেন, সরকারি উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ জুন থেকে আম বাজারজাত শুরু হয়েছে। কিন্তু এই আম পরিপক্ব না হতেই এক সপ্তাহ আগে থেকে অনেকেই বাড়তি লাভের আশায় বাগান থেকে পেরে বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো শুরু করেছেন।পদাগঞ্জ এলাকার মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমের কারণে এবার আগেভাগেই আম পাড়া শুরু হয়েছে। তবে কেউ কেউ আম পাকাতে স্প্রে মেশাচ্ছেন। যদিও এটা করা অন্যায় এবং এতে হাঁড়িভাঙা আমের প্রকৃত স্বাদ থাকছে না।’পাইকারি ব্যবসায়ী আলম মিয়া বলেন, ‘বাগানে আম পরিপক্ব হয়েছে। বাগান মালিকরা তাকে ডেকে আম বিক্রির কথা বলেন। তাই এক সপ্তাহ আগ থেকেই তাদের কাছ থেকে তিনি আম কিনে বিক্রি শুরু করছেন।’কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবার রংপুর জেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০০ হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে হাঁড়িভাঙা আমের ফলন হয় প্রায় ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০০ কোটি টাকার ওপরে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি হবে বলে।কৃষি সম্প্রসারণ রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শিলাবৃষ্টিতে হাঁড়িভাঙা ঝড়ে পড়লেও ফলন ভালো হয়েছে। আকারেও বড় হয়েছে। তাই কৃষকরা পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করা যায়।’হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারজাতকরণের উদ্বোধনী দিনে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘হাড়িভাঙ্গা আমের জন্য পদাগঞ্জ বাজার অন্যতম বাণিজ্যিক জায়গা। তবে এটার অবকাঠামোগত কিছু অসুবিধা আছে। এই অসুবিধাগুলো দূর করার জন্য তিন বছর মেয়াদি অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা নিয়েছি। এই হাটটাকে কীভাবে আরও উন্নত করা যায় এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ কীভাবে লাঘব করা যায়- সে বিষয়ে কাজ করছি। এছাড়াও রপ্তানির প্রতিবন্ধকতাগুলোও সমাধানের চেষ্টা করছি।’উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। হাঁড়িভাঙা আম এখন আর কেবল দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, পাকিস্তান, ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই আম রপ্তানি করা হয়। দেশের ভেতরে ফেসবুক ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বাগান থেকে আম সরবরাহের হার গত কয়েক বছরে কয়েক গুণ বেড়েছে।

পলাশবাড়ীতে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন

“করবো মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করবো বারো মাস”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ৩ দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পলাশবাড়ীর আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ ফল মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলায় দেশীয় বিভিন্ন মৌসুমি ফল, উন্নত জাতের ফলের চারা, আধুনিক ফল উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোহেলের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহম্মেদ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও শেখ জাবের আহম্মেদ বলেন:“ফল চাষের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের ঘাটতি পূরণে আমাদের দেশীয় ফলের ভূমিকা অপরিসীম।”তিনি মেলায় আগত সকলকে এবং উপজেলার সর্বস্তরের জনগণকে যার যার বসতবাড়ি ও পতিত জমিতে বিভিন্ন জাতের পুষ্টিকর ও লাভজনক ফলদ গাছ রোপণের উদাত্ত আহ্বান জানান।ছবি: সংগৃহীতঅনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নকিবুল হাসান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা গোলেনুর, উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক এবং পলাশবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত চন্দ্র প্রামানিক।এছাড়াও মেলা প্রাঙ্গণে কৃষি অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকে আসা কৃষক-কৃষাণী, স্কুলের শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।মেলা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সফল কৃষকরা তাদের নিজেদের বাগানে উৎপাদিত নানা প্রজাতির ও হরেক রকমের মৌসুমি ফল স্টলে প্রদর্শন করছেন।উপজেলা কৃষি অফিস তথা আয়োজকরা জানান, ফল চাষে স্থানীয় কৃষকদের আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করা, সাধারণ মানুষের মাঝে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে ফল সংরক্ষণ ও সঠিক বাজারজাতকরণ বিষয়ে সম্যক ধারণা দেওয়াই এই মেলার মূল উদ্দেশ্য। আগামী তিন দিন এই মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

পলাশবাড়ীতে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন

দেশীয় ফলের বিলুপ্ত প্রজাতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি

কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশীয় ফলের যত বিলুপ্ত প্রজাতি রয়েছে, সেগুলো কৃষকদের উৎপাদনে উৎসাহিত করার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) খামারবাড়ির বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি) চত্বরে তিন দিনব্যাপী (১৮-২০ জুন) জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।এর আগে তিনি পুরো মেলা ঘুরে দেশীয় বিভিন্ন ফলের সঙ্গে পরিচিত হন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর দেশে ফল মেলার উৎসব হয়। এ মেলার মাধ্যমে ফল উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে। দেশীয় ফলের যত বিলুপ্ত প্রজাতি রয়েছে, সেগুলো ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।কৃষিমন্ত্রী বলেন, একই সঙ্গে বিদেশ থেকে যেসব ফল আমদানি করা হতো, সেসব ফলের জাতের জিন এনে দেশে চাষাবাদের মাধ্যমে অনন্য বিপ্লব ঘটানো হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশীয়ভাবে উৎপাদন করে আমাদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনা হচ্ছে।ড্রাগন ফলের উদাহরণ দিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিদেশের তুলনায় আমাদের উৎপাদিত ড্রাগন ফল সুস্বাদু ও সুমিষ্ট। এ ফলের উদ্ভাবনী কাজে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।চলতি অর্থবছরে কৃষিতে বাজেট বেড়েছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এর বাইরে উন্নয়ন ও প্রণোদনা বাজেট বেড়েছে গত অর্থবছরের তুলনায় ৫৯ শতাংশ। তাই কৃষিতে বাজেট কমেছে কথাটি সঠিক নয় বলে জানান মন্ত্রী।

দেশীয় ফলের বিলুপ্ত প্রজাতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি

বাজারে এলো রংপুরের হাঁড়িভাঙা, ৩০০ কোটি টাকার ব্যবসার আশা

রংপুরের জনপ্রিয় ও সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আমের আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। তীব্র তাপদাহের কারণে এবার নির্ধারিত সময়ের পাঁচ দিন আগেই আম বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে হাঁড়িভাঙা আমের বাজারজাতকরণের উদ্বোধন করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এ সময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।একসময় রংপুর অঞ্চলে আম বিক্রির প্রচলিত হিসাব ছিল ‘গন্ডা’ ও ‘হালি’ ভিত্তিক। দুই দশক আগেও ৩৬ গন্ডা বা ৩৬ হালিতে একশ আম পাইকারি বিক্রি হতো। পরে সেই আম শহরে ৩২ গন্ডায় একশ হিসেবে বিক্রি করা হতো। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই ঐতিহ্য এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই গন্ডা হিসেবে আম বিক্রির প্রচলন সম্পর্কে জানেন না। এখন আম বিক্রি হয় কেজি দরে।স্থানীয় প্রবীণরা জানান, একসময় ৮ হালিকে এক পোয়া, ১৬ হালিকে দুই পোয়া এবং ২৪ হালিকে তিন পোয়া বলা হতো। বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসজুড়ে বিভিন্ন জাতের আমে বাজার ভরে থাকত। আধুনিকতার ছোঁয়া ও আমের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গন্ডা ও হালির হিসাব হারিয়ে গেছে।প্রবীণ আলী হোসেন মোল্লা বলেন, ১৫ থেকে ২০ বছর আগেও ৩৬ গন্ডায় একশ আম ২৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতো। ফজলি, কেরোয়া, এছাহাক তেলি, ছাইবুদ্দিন, আশ্বিনী, সাদা নেংড়া, কালা নেংড়া, কলিকাতা নেংড়া, মিশ্রীভোগ, গোপালভোগ, আম্রপালি, সাদা রচি, চোচা ও আঁটিসহ বিভিন্ন জাতের আম গন্ডা হিসেবে কেনাবেচা হতো। বর্তমানে এসব জাতের আমের চাষ কমে গেছে এবং বাজার দখল করেছে হাঁড়িভাঙা আম। তিনি বলেন, হাঁড়িভাঙা আমের ওজন সাধারণত ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম হয়ে থাকে। মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় দেশজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে অতীতের ঐতিহ্য ধরে রাখতে কিছু আম এখনো গন্ডা বা হালি হিসেবে বিক্রির ব্যবস্থা থাকা উচিত।কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলায় এবার প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়েছে এক হাজার ৯২০ হেক্টরের বেশি জমিতে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যায়। এবার হাঁড়িভাঙা আমের উৎপাদন ২০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যার বাজারমূল্য ৩০০ কোটি টাকারও বেশি।মৌসুমের শুরুতে হাঁড়িভাঙা আম প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও মৌসুমের শেষ দিকে দাম ১৫০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকার আমচাষি সামছুজ্জামান বলেন, এবার আমের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। কৃষকরা ভালো দাম পাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার হাঁড়িভাঙা আমের ‘অন ইয়ার’। ফলে উৎপাদনও বেশি হয়েছে। বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশা করছি।

বাজারে এলো রংপুরের হাঁড়িভাঙা, ৩০০ কোটি টাকার ব্যবসার আশা

হাঁড়িভাঙার বাজারজাত শুরু, চাষিরা চান কোল্ড স্টোরেজ

রংপুরের ঐতিহ্য আর গৌরবের প্রতীক, জিআই পণ্য ‘হাঁড়িভাঙা’ আমের আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকায় বাগানে আম পেড়ে এই মৌসুমের বিক্রয় কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে পদাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আমচাষি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন জেলা প্রশাসক। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি হাঁড়িভাঙা আমকে জেলা প্রশাসনের ‘অগ্রাধিকার প্রকল্প’ হিসেবে ঘোষণা করেন। চাষিরা এসময় আম সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণ, যাতায়াতের জন্য রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, ব্যাংকিং সুবিধা বৃদ্ধি, হাটে স্থায়ী শেড ও ওয়াশ ব্লক স্থাপন এবং বিদেশে আম রফতানির সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানান।চাষিদের দাবির প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক আশ্বাস দিয়ে বলেন, “হাঁড়িভাঙা আমের বিশ্ববাজার ধরতে এবং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত সড়ক সংস্কার, ব্যাংকের শাখা স্থাপন এবং আম পরিবহনের জন্য ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন’ চালুসহ সব সমস্যার সমাধানে জেলা প্রশাসন কাজ করছে।”উদ্বোধনের প্রথম দিনেই পদাগঞ্জ হাটে প্রচুর আমের সরবরাহ দেখা গেছে। তবে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে কেনাবেচায় কিছুটা ধীরগতি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জমে ওঠে বাজার। বর্তমানে প্রতি মণ হাঁড়িভাঙা আম মানভেদে ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।ফলন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াচলতি মৌসুমে শিলাবৃষ্টির কারণে আমের ফলন প্রায় ৩০ শতাংশ কম হলেও আমের আকার বেশ বড় হয়েছে। কৃষকরা জানান, ফলন কম হওয়ায় দাম আশানুরূপ না পেলে তাদের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। তবে কৃষি বিভাগ আশার বাণী শুনিয়েছে। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সিরাজুল ইসলাম জানান, ফলন কিছুটা কম হলেও আমের গুণগত মান ও আকার ভালো হয়েছে। শুরুতে দাম কিছুটা কম মনে হলেও দিন বাড়ার সাথে সাথে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।ঐতিহ্যবাহী এই আমের বাজারজাতকরণ শুরু হওয়ায় রংপুরের আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখন ব্যস্ততা আর উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

হাঁড়িভাঙার বাজারজাত শুরু, চাষিরা চান কোল্ড স্টোরেজ

শিক্ষাঙ্গন

সকল জেলার খবর

 স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

আর্কাইভ

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

ফেসবুক বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধে বিকাশ যুক্ত করছে মেটা

ফেসবুক বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধে বিকাশ যুক্ত করছে মেটা

বাংলাদেশের ই-কমার্স, এফ-কমার্স ও ডিজিটাল বিপণন খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার খবর এসেছে। ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা তাদের বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধের পদ্ধতিতে দেশের মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ঋণ বা ডেবিট কার্ডের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।যদিও সুবিধাটি এখনো সবার জন্য চালু হয়নি, তবে পরীক্ষামূলকভাবে অনেক ব্যবহারকারী ইতোমধ্যে বিকাশের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের বিল সফলভাবে পরিশোধ করেছেন। বিভিন্ন ব্যবহারকারীর শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে, বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনার বিল পরিশোধের অংশে ব্যাংক কার্ডের পাশাপাশি বিকাশের নামও যুক্ত হয়েছে।এতদিন বাংলাদেশে ফেসবুক বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধে আন্তর্জাতিক কার্ড, দ্বৈত মুদ্রা সুবিধা এবং ব্যাংকিং-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতার কারণে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা নানা সমস্যার মুখোমুখি হতেন। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্যও এই প্রক্রিয়া ছিল তুলনামূলক ব্যয়বহুল ও জটিল।সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বিকাশ যুক্ত হলে স্থানীয় মুদ্রায় আরও সহজে বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করা সম্ভব হবে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, মেটা সাধারণত নতুন বিল পরিশোধের সুবিধা ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে। তাই এটি এখনো সবার কাছে দৃশ্যমান না হলেও পরীক্ষা সফল হলে পর্যায়ক্রমে সব ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত হতে পারে।তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মেটার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

ইভেন্ট

লা লিগা
লা লিগা
ইপিএল
ইপিএল
ফ্রেঞ্চ লিগ
ফ্রেঞ্চ লিগ
ফ্রেঞ্চ ওপেন
ফ্রেঞ্চ ওপেন
উইম্বলডন
উইম্বলডন
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
বুন্দেসলিগা
বুন্দেসলিগা
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
ইউরোপা লিগ
ইউরোপা লিগ
ইউএস ওপেন
ইউএস ওপেন