রংপুর    সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
জুফাস নিউজ
সর্বশেষ

জাতীয়

মতামতমতামত

আন্দোলন হয় রংপুরে, বাজেট যায় দক্ষিণে: এমপি আতিক মুজাহিদ

কুড়িগ্রাম-২ (সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ি) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব ড. আতিক মুজাহিদ বলেছেন, আন্দোলন রংপুরে হলেও উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চলে যায়।আজ শুক্রবার(২৬জুন) সন্ধ্যায় রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে যুবশক্তির রংপুর বিভাগীয় সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।বাজেট বৈষম্য নিয়ে ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, ‘আপনারা শুনেছেন, অর্থমন্ত্রী অনেক কষ্ট, মায়া-দয়া করে বলেছে, রংপুর অঞ্চলের জন্য তিন হাজার কোটি টাকার একটা বাজেট রেখেছে। কিন্তু উন্নয়ন বাজেট বাংলাদেশের তিন লক্ষ ত্রিশ হাজার কোটি টাকা। সেখানে তিন হাজার কোটি টাকা কয় শতাংশ হয় ভাই? এক শতাংশ। দুই কোটির মানুষের জন্য এক শতাংশ বাজেট দিয়ে উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব?’তিনি  আরও বলেন, ‘এখন লোকে বলে আন্দোলন হয় রংপুরে, কিন্ত আমি বলতে চাই না, নিন্দুকেরা বলে বাজেট যায় দক্ষিণে। আমাদের অঞ্চলের মানুষকে দীর্ঘদিন পিছিয়ে রাখা হয়েছে। পিছিয়ে পড়া নয়, পিছিয়ে রাখা হয়েছে।’রংপুরে গ্যাস ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অভাবের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে গ্যাসও আসে না, শিল্প প্রতিষ্ঠানও আসে না। আমরা মঙ্গা আর বেকারই থেকে যাই।’রংপুরের উন্নয়নে ন্যায্য বরাদ্দ দাবি করে তিনি বলেন, দেশের আলু উৎপাদনের ৭২ শতাংশ এবং খাদ্য উৎপাদনের ৪০-৫০ শতাংশ রংপুর অঞ্চল থেকে আসে। এজন্য এই রাষ্ট্রের কাছে ন্যায়বিচারের জন্য রংপুর অঞ্চলের মানুষকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি তারিকুল ইসলাম বলেন, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক উদারতা দেখিয়ে আওয়ামী লীগকে দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ১৩ দিনের মাথায় তাকে হত্যা করা হয়।তিস্তা মহা পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোন এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা হয়নি। শুধু আশ্বস্ত করা হয়েছে। চায়না থেকে শুধু আশ্বস্ত করা হয়েছে যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা করা হবে। আমরা তো আশ্বস্ত অনেক আগে থেকেই শুনেছি। রিয়েলি বলেন কবে করতে চান তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ।যেমন একনীকে পদ্মা ব্যারেজ হয়েছে সেটি ছয় মাসের মধ্যে তার ফাংশনের কাজ হবে। কিন্তু মহা পরিকল্পনা বাস্তুবিনের কাজ কবে হবে সেটি সরকারকে জানিয়ে দেওয়া উচিত। একটা সময় সীমা দেওয়া দরকার তাহলে আমরা বুঝবো আপনাদের কথার সত্যতা আছে। তা না হলে মুলা ঝুলার মতো হবে। প্রতিনিয়তই নদী ভাঙছে। মানুষের আবাদি জমি ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে সরকার এসব দেখছে না।প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে একাকী রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল। কিন্ত আপনি যেভাবে এই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার রাস্তা ওপেন রেখেছেন তা আপনাদের করুণ পরিণতি ডেকে আনবে।রংপুর জেলা জাতীয় যুবশক্তির আহবায়ক রাকিবুল হাসান তৌফিকের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মাসুম বিল্লাহ, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুজ্জামান বাবু, মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব আব্দুল মালেকসহ এনসিপি, জাতীয় যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতারা।সমাবেশ শেষে রাতে নগরীতে মাদকবিরোধী একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর যুবশক্তির সংগঠক মোতাওয়াক্কিল বিল্লাহ শাহ ফকির।

১৮ বছরের নিচে তামাক ও নিকোতিন পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিন্ধ। পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহন ধূমপান এবং ধোয়াাবহীন তামাক সেবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে; প্রধানমন্ত্রী

তামাক ও নিকোটিনের মরণঘাতী প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ দেশের আগামী প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (৩১ মে) ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’।প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ ২০০৩ সালে এফসিটিসিতে স্বাক্ষর, ২০০৪ সালে অনুসমর্থন এবং ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। পরবর্তী সময়ে এই আইনকে আরো শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সংশোধনও আনা হয়েছে।তিনি বলেন, তামাকে বিদ্যমান নিকোটিন মারাত্মক আসক্তি সৃষ্টি করে। বিড়ি, সিগারেট, ই-সিগারেট, জর্দা, গুলসহ যেকোনো তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার হৃদরোগ, স্ট্রোক, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার এবং ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগসহ অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।তিনি আরো বলেন, তামাকের প্রলোভন থেকে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষার লক্ষ্যে তামাকজাত দ্রব্যের সকল প্রকার বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও প্রমোশন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অ্যাপস, ওটিটি প্ল্যাটফরম, নাটক-সিনেমাসহ সব মাধ্যমেই তামাকের প্রচারণা নিষিদ্ধ।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালে তামাক কম্পানির প্রচার-প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১৮ বছরের নিচে তামাক ও নিকোটিন পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে।তারেক রহমান বলেন, নতুন বিধি-বিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি। জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগে ঘটে, যার একটি প্রধান ঝুঁকির কারণ তামাক ও নিকোটিনের ব্যবহার। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে ১ লাখ ৯৯ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে।এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, তামাক ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্য ব্যয়, পরিবেশগত ক্ষতি ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ দেশের অর্থনীতিতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

আমার এত দল পরিবর্তন করার শখ নেই; আমার পল্টি দেওয়ার অভ্যাসও নেই

ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে পুরোদমে রাজনীতিতে সময় দিতে চান বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন দল পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা তার কোনোকালেই ছিল না এবং ভবিষ্যতেও নেই। বর্তমানে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা কিংবা নিষিদ্ধ থাকলেও এই অবস্থা চিরস্থায়ী হবে না বলেই বিশ্বাস করেন সাকিব আল হাসান।বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সোজাসাপ্টা কথা বলেন তিনি।দলের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা নিয়ে সাকিব বলেন, ‘আমার এত দল পরিবর্তন করার শখ নেই। আমি যখন ছোট কোনো দলেও খেলেছি, সেই দলের প্রতি অনুগত ছিলাম। আমার পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই।’ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজীবন কি কেউ কাউকে নিষিদ্ধ করে রাখতে পারে? এটা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার।জোর করে কিছুদিন দমিয়ে রাখা সম্ভব হলেও তাতে দেশের বা রাজনীতির কোনো উন্নতি হয় না।’সাবেক এই সংসদ সদস্য রাজনীতিতে প্রতিহিংসার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত উল্লেখ করে বলেন, ‘যদি আমরা আগে ভুল করে থাকি এবং এখন সেটির পুনরাবৃত্তি হয়, তবে এই খেলা চলতেই থাকবে। কাউকে না কাউকে এই ধারা শেষ করতে হবে। যে দল এটি শেষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, তারাই মানুষের মনে জায়গা করে নেবে।সাকিব বলেন, ‘আমার শতভাগ বিশ্বাস আছে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মাগুরার মানুষ আমাকে আবারও ভোট দেবে। আমি তো এবারের (অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তী সম্ভাব্য) নির্বাচনেও অংশ নিতে আগ্রহী ছিলাম। ভেবেছিলাম ভোটে দাঁড়িয়েই নিজের জনপ্রিয়তা দেখিয়ে দেব। কিন্তু পারিপার্শ্বিকতা ও দলের সিদ্ধান্তের কারণে তা সম্ভব হয়নি।’পুরোপুরি আশা আছে যে আমি দ্রুতই দেশে ফিরব উল্লেখ করে সাকিব আল হাসান বলেন, ‘আমি আইনের মুখোমুখি হতে চাই, কিন্তু আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।আমি বিশেষ কোনো প্রটোকল চাচ্ছি না, শুধু সাধারণ নাগরিক হিসেবে আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন হয়রানি না করার নিশ্চয়তা চাই। এই নিশ্চয়তা কাল দেওয়া হলে আমি পরশুই দেশে ফিরব।’২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সাকিবের সংসদীয় মেয়াদ ছিল মাত্র সাত মাস। ৫ আগস্টের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা সাকিবের নামে বর্তমানে হত্যা মামলাসহ চেক জালিয়াতি ও শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির মামলা রয়েছে। এসব মামলাকে আইনিভাবে মোকাবেলা করতে চাইলেও দেশে ফেরার ক্ষেত্রে মূল বাধা হিসেবে তিনি ‘নিরাপত্তাহীনতা’ ও ‘হয়রানি’কে দেখছেন।

অনিয়মে জর্জরিত ‘ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স’, ঝুঁকিতে ব্যান্ডউইথ নিরাপত্তা

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মকানুন উপেক্ষা করে একে একে আইআইজি, আইটিসি, আইজিডব্লিউসহ ইন্টারনেট-টেলিকম খাতের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স দখলে নেয় আওয়ামী সুবিধাভোগী এ প্রতিষ্ঠান। এসব লাইসেন্স অর্জনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি), দেশের অভ্যন্তরের আইটিসি প্রতিষ্ঠান এবং এয়ারটেল ও টাটার মতো শীর্ষ ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ওয়ান এশিয়ার মোট বকেয়ার পরিমাণ ২৩ কোটি টাকারও বেশি। বিটিআরসির কাছেই এর বকেয়া প্রায় ৪ কোটি টাকা। বিএসসিসিএল-এর কাছে রয়েছে আরও ১ কোটি টাকার বেশি। অপরদিকে টেলিকম জায়ান্ট এয়ারটেল তাদের ১৩ কোটি টাকার এবং টাটা ৫ কোটি টাকার বকেয়া দাবি করছে। এদিকে বকেয়া আদায়ে নানাভাবে চেষ্টা করে না পেয়ে ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স-এর বিরুদ্ধে বিএসসিপিএলসি ঢাকা জেলা জজ আদালতে ‘আরবিট্রেশন মামলা’ দায়ের করে। এর রায়ে তারা জয়ী হয়। সেই রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি ‘অ্যাওয়ার্ড এক্সিকিউশন মামলা’ করে, যা এখনো চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, যেন লাইসেন্স বাতিল না হয় এবং তাদের ব্যবসা চালু রাখা যায়। ইতোমধ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে তারা এনওসিও নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসির একটি সূত্র।ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স একসময় আইআইজি, আইটিসি ও আইজিডব্লিউ লাইসেন্স নিয়ে টেলিকম বাজারে প্রবেশ করলেও সময়ের সঙ্গে শর্ত লঙ্ঘন করে একাধিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মালিকানাধীন বেঙ্গল ব্রডব্যান্ড ২০১৬ সালে ডিভিশনাল আইএসপি লাইসেন্স পেলেও নবায়ন না করেই বর্তমানে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এর মালিকানাধীন প্রিজমা ডিজিটাল নেটওয়ার্কের রয়েছে ন্যাশন ওয়াইড আইএসপি লাইসেন্স।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারবার মোবালইল ফোনে কল, হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ওয়ান এশিয়া অ্যালায়ন্সের মূল প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসফারিয়া খায়েরের সঙ্গে। তবে তিনি সাড়া দেননি। পরে পুনরায় চেষ্টা করলে দেখা যায়, তিনি প্রতিবেদকের নম্বরই ব্লক করে দিয়েছেন।বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্সকে মোট বকেয়ার ৫০ শতাংশ এককালীন পরিশোধ এবং বাকি অংশ কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে এনওসি প্রদান করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মাত্র ১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বলে তিনি জানান।ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, আইএসপি সেক্টরের সেবাদান নির্ভর করে আইআইজি ও ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারীদের ওপর। কেউ যদি কোটি টাকা বকেয়া রেখে অনিয়ম করে, তা গ্রাহকের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের জন্য হুমকি। তবে নেপথ্যে যদি নীতিগত বা কাঠামোগত কোনো সমস্যা থাকে, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ম ও নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা জরুরি। এক্ষেত্রে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বকেয়া বা নীতিগত ব্যত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন তাগাদা দিলেও প্রতিষ্ঠানটি পাওনা পরিশোধ করেনি, চিঠির জবাবও দেয়নি। এখন তাদের কাউকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব যুগান্তরকে বলেন, আমরা চাই, ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করুক, গ্রাহকদের সেবা দিক। কিন্তু সরকারের পাওনা পরিশোধ না করে কেউ যদি অনিয়মে জড়ায়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

৯ জুন ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
লিটারে ৫ টাকা বেড়েছে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম। আপনি এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করেন?

লিটারে ৫ টাকা বেড়েছে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম। আপনি এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

বর্ণিল সাজে কারমাইকেল কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগ, নবীনবরণের প্রস্তুতি

তারাগঞ্জে নিখোঁজের পরদিন পাটক্ষেতে মিলল ৯ বছরের শিশুর মরদেহ, শরীরে আঘাতের চিহ্ন

বালিয়াডাঙ্গীতে গাঁজাসহ পান দোকানদার আটক, মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের সাফল্য

তারাগঞ্জে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য

চামড়া সংরক্ষণে বিনামূল্যে ৩০ হাজার টন লবণ দেবে সরকার

তারাগঞ্জে শিশু সানজিদা হত্যা মামলা: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক যুবক আটক

কারমাইকেল কলেজে ছাত্রশিবিরের বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন

শৈশবে একসাথে খেলাধুলা, শেষযাত্রাতেও পাশাপাশি দুই বন্ধু অহিদ ও মাসুদ

সিলেট থেকে উদ্ধার বালিয়াডাঙ্গীর নিখোঁজ চার স্কুলছাত্রী, মানবপাচার চক্রের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ

১০

বৃহস্পতিবার দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ থাকবে না নীলফামারীর একাংশ

জনপ্রিয় সব খবর

বালিয়াডাঙ্গীতে অপমানে বাবার আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় বিএনপি নেতা ফরহাদ গ্রেফতার

নীলফামারীতে ট্রাকচাপায় একই পরিবারের ৩ জনসহ নিহত ৪

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ১৮ প্রকল্পের ১৬টির সদস্য সচিব এমপির ভাগিনা মাসুদ রানা

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

গাইবান্ধায় চাচাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ ভাতিজার বিরুদ্ধে

রাণীশংকৈলে চুরির ঘটনায় এক আসামি গ্রেফতার, স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার উদ্ধার

বাবার বাড়ি থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

অবশেষে বাংলাদেশেও পুরোনো গুগল অ্যাকাউন্টের ইমেল অ্যাড্রেস পরিবর্তনের সুবিধা চালু হয়েছে

সৈয়দপুরে শহরের ৩৩টি শতবর্ষী গাছ কাটার সিদ্ধান্ত: দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনুমতি, বদলে রোপণ করা হবে ৫ হাজার চারা

১০

নীলফামারীতে গভীর রাতে নারীসহ আর্জেন্টিনার জার্সি পরিহিত যুবক আটক

সর্বশেষ সব খবর

 রাজনীতি রাজনীতি

শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে

শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে

শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।তিনি বলেন, আজ একটা ইন্টারভিউ দেখেছি, ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। দেশ ১৬ বছরের ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে। এখন আমরাও চাই তিনি দেশে ফিরবেন ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য।বাংলাদেশে তাঁর রায় হয়ে গেছে উল্লেখ করে যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় এই গণহত্যাকারীকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা উদ্যোগ (এমএসএমই) দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা সভার আয়োজন করে ন্যাশনাল এসএমই ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা কীভাবে আসবেন, কাদের নিয়ে আসবেন বা সারেন্ডার করবেন কি করবেন না, এটি ঠিক করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে দিল্লির সঙ্গে কথা বলবে। এখানে আর কোনো পক্ষ নেই। ফলে সরকারই ঠিক করবে তাঁকে কখন, কীভাবে আনবে এবং বিচারের রায় কীভাবে কার্যকর করবে। সব প্রস্তুতি নিয়েই তাঁকে আনতে হবে।নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। দিল্লি থেকে তাঁকে যতটুকু অনুমতি দেওয়া হয়, সে অনুযায়ী তিনি কথা বলেন। ফলে শেখ হাসিনা আসবেন কি আসবেন না, কীভাবে আসবেন বা বিচার হবে কি না, এসব মূলত দিল্লির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করবে। শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ এখন কোনো রাজনৈতিক দলই নয়।জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা অংশগ্রহণ করেছে, রাজনৈতিকভাবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তারা প্রস্তুত আছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য তারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।নাহিদ ইসলাম সতর্ক করে বলেন, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার যদি কোনো ধরনের পাঁয়তারা বা প্রচেষ্টা হয় এবং সরকার যদি সেটাকে প্রশ্রয় দেয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন সরকারই হবে। বাংলাদেশের আপামর জনগণ, জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষ, ত্রিশ হাজার আহত ও ১ হাজার ৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্যরা সবাই প্রস্তুত আছেন।আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে এখন আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে বিচারের আওতায় নেওয়ার কথা সরকারও ভাবছে। তিনি মনে করেন, এটিই সঠিক রাস্তা। শেখ হাসিনার রায় হয়ে গেছে এবং এটি কার্যকর করতে হবে। শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে কেবল ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্যই ফিরবেন।অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন উদ্যোক্তা অংশ নেন। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তাগণ বক্তব্য প্রদান করেন।

বিএনপি নেতাকর্মীদের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিএনপি নেতাকর্মীদের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশাসনকে চলমান দুর্যোগ ও বন্যায় দৃঢ়ভাবে জনগণের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন। দলীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকতে বিএনপির নেতাকর্মীদেরও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।আজ শুক্রবার  রাজধানীর মিরপুরে সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এসব তথ্য জানান মাহদী আমিন।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, বন্যাদুর্গতদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের কাছে আড়াই হাজার মেট্রিক টন চাল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার চেষ্টা করছে জানিয়েছেন মাহদী আমিন।

দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবির ২০২৬ অনুষ্ঠিত

দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবির ২০২৬ অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শাখার উদ্যোগে ‘দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবির-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) দিনব্যাপী আয়োজিত এ শিক্ষাশিবিরে উপজেলা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ঠাকুরগাঁও জেলা আমির মাওলানা আব্দুল হাকিম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, একজন দায়িত্বশীল কর্মীর সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো আল্লাহভীতি, সততা, আমানতদারিতা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ। ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর আদর্শ বাস্তবায়নে দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার বর্তমান আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দীন প্রধান। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের সফলতা অর্জনের জন্য কর্মীদের আদর্শিক মান উন্নয়ন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ এবং দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতার কোনো বিকল্প নেই। তিনি সবাইকে নিয়মিত কুরআন অধ্যয়ন, আত্মসমালোচনা এবং ইসলামী আদর্শের আলোকে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন আহাম্মদ এবং জেলা শাখার নেতা মাওলানা সোলাইমান হোসেন। তাঁরা দায়িত্বশীলদের সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, দাওয়াতি কার্যক্রম সম্প্রসারণ, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শাখার আমির অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, দায়িত্বশীলদের নিজেদের চরিত্র, আচরণ ও কর্মের মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। সংগঠনের প্রতিটি দায়িত্ব নিষ্ঠা, জবাবদিহিতা ও ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে পালন করার আহ্বান জানান তিনি।শিক্ষাশিবিরে কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও হাদিসের আলোকে দায়িত্বশীলদের করণীয়, নেতৃত্বের গুণাবলি, দাওয়াতি কাজের কৌশল, সময়ের সঠিক ব্যবহার, আত্মশুদ্ধি, সাংগঠনিক পরিকল্পনা, সমাজসেবা এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, একজন দায়িত্বশীল কর্মীকে সবসময় আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে এবং ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠায় ধৈর্য, ত্যাগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।দিনব্যাপী আয়োজিত এ শিক্ষাশিবিরে বিভিন্ন শিক্ষামূলক অধিবেশন, প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের শিক্ষাশিবির দায়িত্বশীলদের আদর্শিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর না খুললে জনগণই খুলে দেবে

৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর না খুললে জনগণই খুলে দেবে

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ৫ আগস্টের মধ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ খুলে দেওয়া না হলে জনগণই সেটা খুলে দেবে।বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর রায়েরবাজারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের গণকবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।নাহিদ ইসলাম জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর হয়ে গেছে। আমরা বলেছিলাম, জুলাই গণহত্যার বিচার, সংস্কার এবং বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ এখনো পাইনি। সরকারকে প্রমাণ করতে হবে তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে আছে।বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, আজ পহেলা জুলাই। দুই বছর আগে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তার শহীদদের স্মরণে আমরা রায়েরবাজারে গণকবরে কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। আজ থেকে আমাদের ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। ঢাকা ও সারাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে।এনসিপির এ নেতা বলেন, আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ফারহান, ফাইয়াজ, রিয়াগোপসহ জুলাইয়ের প্রায় ১৪০০ শহীদকে। আমরা স্মরণ করছি আহত প্রায় ৩০০ জন জুলাই যোদ্ধাকে। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে রাজপথে নামা ছাত্রসমাজ পাবলিক, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

প্রিয় সৈয়দপুর

সৈয়দপুরে শহরের ৩৩টি শতবর্ষী গাছ কাটার সিদ্ধান্ত: দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনুমতি, বদলে রোপণ করা হবে ৫ হাজার চারা

সৈয়দপুরে শহরের ৩৩টি শতবর্ষী গাছ কাটার সিদ্ধান্ত: দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনুমতি, বদলে রোপণ করা হবে ৫ হাজার চারা

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে রেলওয়ের ব্রিটিশ আমলের শতবর্ষী ৩৩টি রেইনট্রি ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেকোনো সময় এগুলো উপড়ে বা ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় গাছগুলো কাটার চূড়ান্ত অনুমতি দিয়েছে বিভাগীয় বন বিভাগ। তবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এসব গাছের বদলে চলতি বর্ষা মৌসুমেই শহরজুড়ে পাঁচ হাজার গাছের চারা লাগানোর এক বিশাল উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।আজ শনিবার (১১ জুলাই) গাছগুলো কাটার বিষয়ে বন বিভাগের আনুষ্ঠানিক অনুমতিপত্র সৈয়দপুর রেলওয়ে বিভাগের হাতে এসে পৌঁছেছে বলে রেল সূত্র নিশ্চিত করেছে।রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ১৮৭০ সালে তৎকালীন আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের বৃহত্তম কারখানাটি সৈয়দপুরে গড়ে ওঠে। তৎকালীন ব্রিটিশ কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা এই জৌলুশপূর্ণ শহরে প্রচুর বৃক্ষরোপণ করা হয়েছিল। বর্তমানে শহরের অফিসার্স কলোনি, সাহেবপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, মুন্সিপাড়া, হাতিখানা, শহীদ আতিয়ার কলোনি, গোলাহাট ও বাঁশবাড়ী এলাকার রেলওয়ে কলোনিগুলোয় প্রায় হাজারখানেক এমন শতবর্ষী বৃক্ষ রয়েছে।তবে দীর্ঘদিন পার হওয়ায় এর মধ্যে ৩৩টি গাছ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত এসব গাছের অধিকাংশই রেইনট্রি, যা প্রায় মৃত এবং গোড়া ভঙ্গুর ও খোলসযুক্ত হয়ে পড়েছে।রেলওয়ে পূর্ত বিভাগ জানায়, গত মে মাসে সামান্য বাতাসে অফিসার্স কলোনি এলাকায় রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়কের (ডিএস) বাসভবনের একটি বড় গাছ বিমানবন্দর সড়কের ওপর উপড়ে পড়ে। এর আগে পাঁচমাথা মোড় এলাকায় এবং গত ৩০ জুন জিআরপি মোড়ে আরও দুটি বিশাল গাছ ভেঙে পড়ে। সবশেষ গতকাল শুক্রবার রাতেও সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়কে লায়ন্স স্কুল ও কলেজের কাছে একটি শতবর্ষী পাকুড় গাছের বড় ডাল ভেঙে পড়ে। এসব ঘটনায় অলৌকিকভাবে কেউ হতাহত না হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।সৈয়দপুরের শিল্পপতি সিদ্দিকুল আলম বলেন, "জন্মের পর থেকে এই বিশাল বিশাল রেইনট্রি দেখছি। কিন্তু এখন এগুলো মারা যাচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে। গাছগুলো কেটে ফেলতে আমরা রেলওয়ের কাছে বহুবার দাবি জানিয়েছি।"একই সুর মিলিয়ে স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী ম আ শামীম বলেন, "রেলের কিছু কিছু গাছ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সাধারণ মানুষের জানমালের স্বার্থে এগুলো কেটে ফেলাই ভালো হবে। তবে আমরা চাইব বন বিভাগের নীতিমালা ও আইনি প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করেই যেন কাজটা করা হয়।"সরকারি গাছ কাটার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা থাকায় দীর্ঘদিন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। পরবর্তীতে গত ১৮ মে গাছগুলো অপসারণের জন্য রংপুরে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন সৈয়দপুর রেলওয়ে বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলাম।এর প্রেক্ষিতে বন বিভাগের একটি প্রতিনিধিদল সরেজমিন অনুসন্ধান চালিয়ে ৩৩টি গাছকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং এর মূল্য নির্ধারণ করে। গত ১১ জুন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গাছগুলো কাটার সবুজ সংকেত দেওয়া হয়।বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, "রেলওয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থে ৩৩টি গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এর শর্ত হিসেবে কাটা গাছের বিপরীতে অন্তত তিন গুণ নতুন বৃক্ষরোপণ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।"বন বিভাগ তিন গুণ গাছ লাগানোর নির্দেশনা দিলেও পরিবেশের সুরক্ষায় আরও বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ৩৩টি গাছের বিপরীতে তারা ৫ হাজার গাছের চারা রোপণ করবে— যা নিয়মের চেয়েও প্রায় ৫০ গুণ বেশি।সৈয়দপুর রেলওয়ে বিভাগের জ্যেষ্ট সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলাম বলেন, "জনস্বার্থে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো দ্রুত কেটে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে আমরা পরিবেশের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তিন গুণ নয়, চলতি বর্ষা মৌসুমেই শহরজুড়ে পাঁচ হাজার গাছের চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে এই চারা রোপণ কর্মসূচি শুরু হবে।"

১১ জুলাই ২০২৬

 বানিজ্য বানিজ্য

৬০ পণ্যে কর ছাড়ে স্বস্তির আশা ভোক্তাদের

৬০ পণ্যে কর ছাড়ে স্বস্তির আশা ভোক্তাদের

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসের কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে ১০ বছরের কর সুবিধারও প্রস্তাব করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার একটি জনমুখী পদক্ষেপ হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের ওপর উৎসের কর হ্রাসের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্যের ওপর বর্তমানে বিদ্যমান ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ উৎসের  কর কমিয়ে ০ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হবে।অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল, তা কমাতে এবং সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।এ ছাড়া দেশে ভোজ্যতেলের সরবরাহ বৃদ্ধি ও আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উত্পাদনকারী শিল্পের জন্য বিশেষ কর সুবিধা প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগকারীরা প্রথম পাঁচ বছর শতভাগ কর অব্যাহতি পাবেন। পরবর্তী তিন বছর ৫০ শতাংশ এবং শেষ দুই বছর ২৫ শতাংশ কর অব্যাহতির সুবিধা ভোগ করবেন। এ পদক্ষেপ দেশীয় ভোজ্যতেল উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের তৈলবীজ চাষে উৎসাহিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।

১৬ ঘন্টা আগে

কৃষকের জানালা

হাঁড়িভাঙ্গা আম ঘিরে জমজমাট পদাগঞ্জ হাট

হাঁড়িভাঙ্গা আম ঘিরে জমজমাট পদাগঞ্জ হাট

রংপুরের ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারে এসেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও জুনের মাঝামাঝি সময়ে এই রসালো ও সুস্বাদু আমের আনুষ্ঠানিক বিক্রি শুরু হয়েছে।সোমবার (১৫ জুন) থেকে সরকারিভাবে রংপুরের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারজাতকরণ শুরু হয়। প্রথম দিনেই রংপুরের বিখ্যাত আম বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থল পদাগঞ্জ হাটসহ বিভিন্ন বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।আমবাগানের মালিক, আমের ফড়িয়া, বাগানের পরিচর্যায় নিয়োজিত ব্যক্তি, মৌসুমি আম বিক্রেতা, অনলাইনে আম বিক্রেতা, পরিবহন ব্যবসায়ী, কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসায়ী সবাই যে যার মতো করে আম কেনা-বেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পরিপক্ব হওয়ার আগেই এক সপ্তাহ আগে থেকেই এই আম বিক্রি শুরু করেছেন।চাষি ও স্থানীয় পাইকারি বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মান ও আকারের ওপর ভিত্তি করে প্রতি মণ বড় সাইজের আমের দাম এখন ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা এবং মাঝারি সাইজের প্রতি মণ আম ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ পাইকারি মূল্যে প্রতি কেজি আমের দাম পড়ছে ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা।তবে খুচরা বাজারে বড় সাইজের আম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আর মাঝারি সাইজের আম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।স্থানীয় আমচাষি মেহেদী হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘নিজস্ব পাঁচ বিঘা জমিতে এবার আম চাষ করেছেন। টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ফলন কম হয়েছে। সেইসঙ্গে আমের গায়ের কালারও পরিবর্তন হয়েছে। গত বছর শুরুতে যে আমের মণ ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত ছিল, এবার সেই আমের দাম কমে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’পদাগঞ্জ এলাকার আমচাষি মোসাব্বির বকসি বলেন, ৮ একর জমিতে আমের চাষ করেছি। শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে বাগানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এখন যে দামে বিক্রি হচ্ছে তাতে আশানুরূপ লাভ হবে না। তবে দিন গড়ালে দাম আরও বাড়তে পারে।’ঢাকা থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘রংপুরের মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বাগান থেকে আম সংগ্রহ করে ট্রাকে করে চলে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। শুধু তাই নয়, কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর পাশাপাশি এবারও অনলাইনে হাঁড়িভাঙ্গা আম বিক্রির ধুম পড়েছে। ফেসবুক পেজ ও ই-কমার্স সাইটগুলোর মাধ্যমে ঘরে বসেই ক্রেতারা একদম তাজা আম পেয়ে যাচ্ছেন।কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো প্রতি কেজি আমের খরচ ১৩ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ১৬ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ক্যারেট/বক্স, প্যাকিং খরচসহ এক মণ আম পাঠাতে ৩৬০০ থেকে ৪০০০ টাকা খরচ পড়ছে। এদিকে রংপুর নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সড়ক, সিটি বাজার, লালবাগ, মডার্ন মোড়, ধাপ বাজার, শাপলা চত্বরসহ নগরীর বিভিন্ন হাট-বাজারেও মিলছে এই আম। হাট-বাজার ছাড়াও পাড়ামহল্লার অলিগলিতে ফেরি করে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি করতে দেখা গেছে।স্থানীয়রা বলেন, সরকারি উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ জুন থেকে আম বাজারজাত শুরু হয়েছে। কিন্তু এই আম পরিপক্ব না হতেই এক সপ্তাহ আগে থেকে অনেকেই বাড়তি লাভের আশায় বাগান থেকে পেরে বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো শুরু করেছেন।পদাগঞ্জ এলাকার মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমের কারণে এবার আগেভাগেই আম পাড়া শুরু হয়েছে। তবে কেউ কেউ আম পাকাতে স্প্রে মেশাচ্ছেন। যদিও এটা করা অন্যায় এবং এতে হাঁড়িভাঙা আমের প্রকৃত স্বাদ থাকছে না।’পাইকারি ব্যবসায়ী আলম মিয়া বলেন, ‘বাগানে আম পরিপক্ব হয়েছে। বাগান মালিকরা তাকে ডেকে আম বিক্রির কথা বলেন। তাই এক সপ্তাহ আগ থেকেই তাদের কাছ থেকে তিনি আম কিনে বিক্রি শুরু করছেন।’কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবার রংপুর জেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০০ হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে হাঁড়িভাঙা আমের ফলন হয় প্রায় ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০০ কোটি টাকার ওপরে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি হবে বলে।কৃষি সম্প্রসারণ রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শিলাবৃষ্টিতে হাঁড়িভাঙা ঝড়ে পড়লেও ফলন ভালো হয়েছে। আকারেও বড় হয়েছে। তাই কৃষকরা পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করা যায়।’হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারজাতকরণের উদ্বোধনী দিনে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘হাড়িভাঙ্গা আমের জন্য পদাগঞ্জ বাজার অন্যতম বাণিজ্যিক জায়গা। তবে এটার অবকাঠামোগত কিছু অসুবিধা আছে। এই অসুবিধাগুলো দূর করার জন্য তিন বছর মেয়াদি অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা নিয়েছি। এই হাটটাকে কীভাবে আরও উন্নত করা যায় এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ কীভাবে লাঘব করা যায়- সে বিষয়ে কাজ করছি। এছাড়াও রপ্তানির প্রতিবন্ধকতাগুলোও সমাধানের চেষ্টা করছি।’উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। হাঁড়িভাঙা আম এখন আর কেবল দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, পাকিস্তান, ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই আম রপ্তানি করা হয়। দেশের ভেতরে ফেসবুক ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বাগান থেকে আম সরবরাহের হার গত কয়েক বছরে কয়েক গুণ বেড়েছে।

পলাশবাড়ীতে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন

পলাশবাড়ীতে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন

“করবো মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করবো বারো মাস”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ৩ দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পলাশবাড়ীর আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ ফল মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলায় দেশীয় বিভিন্ন মৌসুমি ফল, উন্নত জাতের ফলের চারা, আধুনিক ফল উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোহেলের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহম্মেদ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও শেখ জাবের আহম্মেদ বলেন:“ফল চাষের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের ঘাটতি পূরণে আমাদের দেশীয় ফলের ভূমিকা অপরিসীম।”তিনি মেলায় আগত সকলকে এবং উপজেলার সর্বস্তরের জনগণকে যার যার বসতবাড়ি ও পতিত জমিতে বিভিন্ন জাতের পুষ্টিকর ও লাভজনক ফলদ গাছ রোপণের উদাত্ত আহ্বান জানান।ছবি: সংগৃহীতঅনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নকিবুল হাসান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা গোলেনুর, উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক এবং পলাশবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত চন্দ্র প্রামানিক।এছাড়াও মেলা প্রাঙ্গণে কৃষি অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকে আসা কৃষক-কৃষাণী, স্কুলের শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।মেলা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সফল কৃষকরা তাদের নিজেদের বাগানে উৎপাদিত নানা প্রজাতির ও হরেক রকমের মৌসুমি ফল স্টলে প্রদর্শন করছেন।উপজেলা কৃষি অফিস তথা আয়োজকরা জানান, ফল চাষে স্থানীয় কৃষকদের আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করা, সাধারণ মানুষের মাঝে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে ফল সংরক্ষণ ও সঠিক বাজারজাতকরণ বিষয়ে সম্যক ধারণা দেওয়াই এই মেলার মূল উদ্দেশ্য। আগামী তিন দিন এই মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

দেশীয় ফলের বিলুপ্ত প্রজাতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি

কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশীয় ফলের যত বিলুপ্ত প্রজাতি রয়েছে, সেগুলো কৃষকদের উৎপাদনে উৎসাহিত করার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) খামারবাড়ির বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি) চত্বরে তিন দিনব্যাপী (১৮-২০ জুন) জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।এর আগে তিনি পুরো মেলা ঘুরে দেশীয় বিভিন্ন ফলের সঙ্গে পরিচিত হন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর দেশে ফল মেলার উৎসব হয়। এ মেলার মাধ্যমে ফল উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে। দেশীয় ফলের যত বিলুপ্ত প্রজাতি রয়েছে, সেগুলো ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।কৃষিমন্ত্রী বলেন, একই সঙ্গে বিদেশ থেকে যেসব ফল আমদানি করা হতো, সেসব ফলের জাতের জিন এনে দেশে চাষাবাদের মাধ্যমে অনন্য বিপ্লব ঘটানো হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশীয়ভাবে উৎপাদন করে আমাদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনা হচ্ছে।ড্রাগন ফলের উদাহরণ দিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিদেশের তুলনায় আমাদের উৎপাদিত ড্রাগন ফল সুস্বাদু ও সুমিষ্ট। এ ফলের উদ্ভাবনী কাজে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।চলতি অর্থবছরে কৃষিতে বাজেট বেড়েছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এর বাইরে উন্নয়ন ও প্রণোদনা বাজেট বেড়েছে গত অর্থবছরের তুলনায় ৫৯ শতাংশ। তাই কৃষিতে বাজেট কমেছে কথাটি সঠিক নয় বলে জানান মন্ত্রী।

দেশীয় ফলের বিলুপ্ত প্রজাতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি

বাজারে এলো রংপুরের হাঁড়িভাঙা, ৩০০ কোটি টাকার ব্যবসার আশা

রংপুরের জনপ্রিয় ও সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আমের আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। তীব্র তাপদাহের কারণে এবার নির্ধারিত সময়ের পাঁচ দিন আগেই আম বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে হাঁড়িভাঙা আমের বাজারজাতকরণের উদ্বোধন করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এ সময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।একসময় রংপুর অঞ্চলে আম বিক্রির প্রচলিত হিসাব ছিল ‘গন্ডা’ ও ‘হালি’ ভিত্তিক। দুই দশক আগেও ৩৬ গন্ডা বা ৩৬ হালিতে একশ আম পাইকারি বিক্রি হতো। পরে সেই আম শহরে ৩২ গন্ডায় একশ হিসেবে বিক্রি করা হতো। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই ঐতিহ্য এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই গন্ডা হিসেবে আম বিক্রির প্রচলন সম্পর্কে জানেন না। এখন আম বিক্রি হয় কেজি দরে।স্থানীয় প্রবীণরা জানান, একসময় ৮ হালিকে এক পোয়া, ১৬ হালিকে দুই পোয়া এবং ২৪ হালিকে তিন পোয়া বলা হতো। বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসজুড়ে বিভিন্ন জাতের আমে বাজার ভরে থাকত। আধুনিকতার ছোঁয়া ও আমের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গন্ডা ও হালির হিসাব হারিয়ে গেছে।প্রবীণ আলী হোসেন মোল্লা বলেন, ১৫ থেকে ২০ বছর আগেও ৩৬ গন্ডায় একশ আম ২৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতো। ফজলি, কেরোয়া, এছাহাক তেলি, ছাইবুদ্দিন, আশ্বিনী, সাদা নেংড়া, কালা নেংড়া, কলিকাতা নেংড়া, মিশ্রীভোগ, গোপালভোগ, আম্রপালি, সাদা রচি, চোচা ও আঁটিসহ বিভিন্ন জাতের আম গন্ডা হিসেবে কেনাবেচা হতো। বর্তমানে এসব জাতের আমের চাষ কমে গেছে এবং বাজার দখল করেছে হাঁড়িভাঙা আম। তিনি বলেন, হাঁড়িভাঙা আমের ওজন সাধারণত ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম হয়ে থাকে। মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় দেশজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে অতীতের ঐতিহ্য ধরে রাখতে কিছু আম এখনো গন্ডা বা হালি হিসেবে বিক্রির ব্যবস্থা থাকা উচিত।কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলায় এবার প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়েছে এক হাজার ৯২০ হেক্টরের বেশি জমিতে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যায়। এবার হাঁড়িভাঙা আমের উৎপাদন ২০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যার বাজারমূল্য ৩০০ কোটি টাকারও বেশি।মৌসুমের শুরুতে হাঁড়িভাঙা আম প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও মৌসুমের শেষ দিকে দাম ১৫০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকার আমচাষি সামছুজ্জামান বলেন, এবার আমের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। কৃষকরা ভালো দাম পাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার হাঁড়িভাঙা আমের ‘অন ইয়ার’। ফলে উৎপাদনও বেশি হয়েছে। বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশা করছি।

বাজারে এলো রংপুরের হাঁড়িভাঙা, ৩০০ কোটি টাকার ব্যবসার আশা

হাঁড়িভাঙার বাজারজাত শুরু, চাষিরা চান কোল্ড স্টোরেজ

রংপুরের ঐতিহ্য আর গৌরবের প্রতীক, জিআই পণ্য ‘হাঁড়িভাঙা’ আমের আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকায় বাগানে আম পেড়ে এই মৌসুমের বিক্রয় কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে পদাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আমচাষি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন জেলা প্রশাসক। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি হাঁড়িভাঙা আমকে জেলা প্রশাসনের ‘অগ্রাধিকার প্রকল্প’ হিসেবে ঘোষণা করেন। চাষিরা এসময় আম সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণ, যাতায়াতের জন্য রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, ব্যাংকিং সুবিধা বৃদ্ধি, হাটে স্থায়ী শেড ও ওয়াশ ব্লক স্থাপন এবং বিদেশে আম রফতানির সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানান।চাষিদের দাবির প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক আশ্বাস দিয়ে বলেন, “হাঁড়িভাঙা আমের বিশ্ববাজার ধরতে এবং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত সড়ক সংস্কার, ব্যাংকের শাখা স্থাপন এবং আম পরিবহনের জন্য ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন’ চালুসহ সব সমস্যার সমাধানে জেলা প্রশাসন কাজ করছে।”উদ্বোধনের প্রথম দিনেই পদাগঞ্জ হাটে প্রচুর আমের সরবরাহ দেখা গেছে। তবে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে কেনাবেচায় কিছুটা ধীরগতি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জমে ওঠে বাজার। বর্তমানে প্রতি মণ হাঁড়িভাঙা আম মানভেদে ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।ফলন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াচলতি মৌসুমে শিলাবৃষ্টির কারণে আমের ফলন প্রায় ৩০ শতাংশ কম হলেও আমের আকার বেশ বড় হয়েছে। কৃষকরা জানান, ফলন কম হওয়ায় দাম আশানুরূপ না পেলে তাদের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। তবে কৃষি বিভাগ আশার বাণী শুনিয়েছে। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সিরাজুল ইসলাম জানান, ফলন কিছুটা কম হলেও আমের গুণগত মান ও আকার ভালো হয়েছে। শুরুতে দাম কিছুটা কম মনে হলেও দিন বাড়ার সাথে সাথে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।ঐতিহ্যবাহী এই আমের বাজারজাতকরণ শুরু হওয়ায় রংপুরের আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখন ব্যস্ততা আর উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

হাঁড়িভাঙার বাজারজাত শুরু, চাষিরা চান কোল্ড স্টোরেজ

রংপুররের পীরগঞ্জে মরিচের বাম্পার ফলন, ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

ক্রমাগত লোকসানের কারণে চরম সংকটে পড়েছেন দেশের কৃষকরা। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলেও ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষক ঋণের বোঝা নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।পীরগঞ্জের কৃষক শাফি মন্ডল জানান, এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষের জন্য তিনি ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। আশা ছিল মরিচ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করবেন এবং সংসারের খরচ মেটাবেন। কিন্তু বাজারে মরিচের দাম কম থাকায় বিক্রি করে উৎপাদন খরচের অর্ধেক টাকাও তুলতে পারেননি।তিনি আরও জানান, মরিচ চাষে লোকসানের পর বেঁচে থাকার তাগিদে অন্য জমিতে ধান চাষ করেন। ধান কাটার পর ঋণ পরিশোধের জন্য বাধ্য হয়ে মৌসুমেই মাত্র ৭৫০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করতে হয়। অন্যদিকে, চাষ করা মরিচ বর্তমানে মাত্র ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কৃষকটির ভাষ্য, “আমরা আর বাঁচবো না। কৃষক মরে শেষ হয়ে যাব। আমাদের দেখার কেউ নেই।”কৃষকদের দাবি, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা না হলে কৃষি খাত আরও বড় সংকটের মুখে পড়বে। মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের মতে, লোকসান ও ঋণের চাপ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে অনেকেই কৃষিকাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হতে পারেন।

রংপুররের পীরগঞ্জে মরিচের বাম্পার ফলন, ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

শিক্ষাঙ্গন

সকল জেলার খবর

 স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

আর্কাইভ

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

অবশেষে বাংলাদেশেও পুরোনো গুগল অ্যাকাউন্টের ইমেল অ্যাড্রেস পরিবর্তনের সুবিধা চালু হয়েছে

অবশেষে বাংলাদেশেও পুরোনো গুগল অ্যাকাউন্টের ইমেল অ্যাড্রেস পরিবর্তনের সুবিধা চালু হয়েছে

দীর্ঘদিনের একটি সীমাবদ্ধতা দূর করতে যাচ্ছে Google। এতদিন একবার @gmail.com ইমেইল অ্যাড্রেস তৈরি করার পর সেটি পরিবর্তনের সুযোগ ছিল না। ফলে পুরোনো বা অপছন্দের Gmail অ্যাড্রেস ব্যবহারকারীদের নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে ব্যবহার করতে হতো। তবে এবার ধাপে ধাপে চালু হচ্ছে নতুন একটি সুবিধা, যার মাধ্যমে একই Google অ্যাকাউন্টে Gmail অ্যাড্রেস পরিবর্তন করা যাবে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, Gmail অ্যাড্রেস পরিবর্তন করলেও অ্যাকাউন্টের কোনো তথ্য হারাবে না। ব্যবহারকারীর Gmail-এর সব ইমেইল, Google Drive-এর ফাইল, Google Photos-এর ছবি, YouTube অ্যাকাউন্ট, Google Contacts, Calendar এবং অন্যান্য Google পরিষেবার তথ্য আগের মতোই সংরক্ষিত থাকবে।নতুন Gmail অ্যাড্রেস ব্যবহারের পরও পুরোনো অ্যাড্রেসটি বিকল্প ইমেইল (Alias) হিসেবে সক্রিয় থাকবে। অর্থাৎ কেউ যদি পুরোনো Gmail অ্যাড্রেসে ইমেইল পাঠান, সেটিও ব্যবহারকারীর একই ইনবক্সে পৌঁছে যাবে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ইমেইল হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।তবে এই সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। Google-এর নীতিমালা অনুযায়ী, Gmail অ্যাড্রেস পরিবর্তনের সুযোগ প্রতি ১২ মাসে একবার ব্যবহার করা যাবে। তাই নতুন অ্যাড্রেস নির্বাচন করার আগে ভালোভাবে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।বর্তমানে ফিচারটি সব ব্যবহারকারীর জন্য একযোগে চালু করা হয়নি। Google ধাপে ধাপে বিভিন্ন অঞ্চলের অ্যাকাউন্টে এটি উন্মুক্ত করছে। তাই কারও অ্যাকাউন্টে সুবিধাটি দেখা গেলেও অন্য কারও অ্যাকাউন্টে এখনও নাও আসতে পারে।ব্যবহারকারীরা তাদের অ্যাকাউন্টে ফিচারটি এসেছে কি না তা দেখতে Google Account-এর Personal info বিভাগে গিয়ে Email অপশনে প্রবেশ করতে পারেন। সেখানে Google Account email-এর পাশে Change বা Edit অপশন দেখা গেলে বুঝতে হবে, অ্যাকাউন্টে নতুন সুবিধাটি চালু হয়েছে।প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারকারীদের অন্যতম বড় চাওয়া ছিল Gmail অ্যাড্রেস পরিবর্তনের সুযোগ। নতুন এই সুবিধা চালু হলে ব্যক্তিগত, শিক্ষাগত এবং পেশাগত প্রয়োজনে আরও উপযুক্ত Gmail অ্যাড্রেস ব্যবহার করা সহজ হবে। পাশাপাশি নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্থানান্তরের ঝামেলাও অনেকটাই কমে আসবে।

ইভেন্ট

লা লিগা
লা লিগা
ইপিএল
ইপিএল
ফ্রেঞ্চ লিগ
ফ্রেঞ্চ লিগ
ফ্রেঞ্চ ওপেন
ফ্রেঞ্চ ওপেন
উইম্বলডন
উইম্বলডন
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
বুন্দেসলিগা
বুন্দেসলিগা
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
ইউরোপা লিগ
ইউরোপা লিগ
ইউএস ওপেন
ইউএস ওপেন