রংপুর    শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
জুফাস নিউজ
সর্বশেষ

জাতীয়

মতামতমতামত

১৮ বছরের নিচে তামাক ও নিকোতিন পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিন্ধ। পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহন ধূমপান এবং ধোয়াাবহীন তামাক সেবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে; প্রধানমন্ত্রী

তামাক ও নিকোটিনের মরণঘাতী প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ দেশের আগামী প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (৩১ মে) ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’।প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ ২০০৩ সালে এফসিটিসিতে স্বাক্ষর, ২০০৪ সালে অনুসমর্থন এবং ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। পরবর্তী সময়ে এই আইনকে আরো শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সংশোধনও আনা হয়েছে।তিনি বলেন, তামাকে বিদ্যমান নিকোটিন মারাত্মক আসক্তি সৃষ্টি করে। বিড়ি, সিগারেট, ই-সিগারেট, জর্দা, গুলসহ যেকোনো তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার হৃদরোগ, স্ট্রোক, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার এবং ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগসহ অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।তিনি আরো বলেন, তামাকের প্রলোভন থেকে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষার লক্ষ্যে তামাকজাত দ্রব্যের সকল প্রকার বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও প্রমোশন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অ্যাপস, ওটিটি প্ল্যাটফরম, নাটক-সিনেমাসহ সব মাধ্যমেই তামাকের প্রচারণা নিষিদ্ধ।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালে তামাক কম্পানির প্রচার-প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১৮ বছরের নিচে তামাক ও নিকোটিন পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে।তারেক রহমান বলেন, নতুন বিধি-বিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি। জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগে ঘটে, যার একটি প্রধান ঝুঁকির কারণ তামাক ও নিকোটিনের ব্যবহার। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে ১ লাখ ৯৯ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে।এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, তামাক ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্য ব্যয়, পরিবেশগত ক্ষতি ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ দেশের অর্থনীতিতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

আমার এত দল পরিবর্তন করার শখ নেই; আমার পল্টি দেওয়ার অভ্যাসও নেই

ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে পুরোদমে রাজনীতিতে সময় দিতে চান বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন দল পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা তার কোনোকালেই ছিল না এবং ভবিষ্যতেও নেই। বর্তমানে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা কিংবা নিষিদ্ধ থাকলেও এই অবস্থা চিরস্থায়ী হবে না বলেই বিশ্বাস করেন সাকিব আল হাসান।বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সোজাসাপ্টা কথা বলেন তিনি।দলের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা নিয়ে সাকিব বলেন, ‘আমার এত দল পরিবর্তন করার শখ নেই। আমি যখন ছোট কোনো দলেও খেলেছি, সেই দলের প্রতি অনুগত ছিলাম। আমার পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই।’ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজীবন কি কেউ কাউকে নিষিদ্ধ করে রাখতে পারে? এটা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার।জোর করে কিছুদিন দমিয়ে রাখা সম্ভব হলেও তাতে দেশের বা রাজনীতির কোনো উন্নতি হয় না।’সাবেক এই সংসদ সদস্য রাজনীতিতে প্রতিহিংসার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত উল্লেখ করে বলেন, ‘যদি আমরা আগে ভুল করে থাকি এবং এখন সেটির পুনরাবৃত্তি হয়, তবে এই খেলা চলতেই থাকবে। কাউকে না কাউকে এই ধারা শেষ করতে হবে। যে দল এটি শেষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, তারাই মানুষের মনে জায়গা করে নেবে।সাকিব বলেন, ‘আমার শতভাগ বিশ্বাস আছে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মাগুরার মানুষ আমাকে আবারও ভোট দেবে। আমি তো এবারের (অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তী সম্ভাব্য) নির্বাচনেও অংশ নিতে আগ্রহী ছিলাম। ভেবেছিলাম ভোটে দাঁড়িয়েই নিজের জনপ্রিয়তা দেখিয়ে দেব। কিন্তু পারিপার্শ্বিকতা ও দলের সিদ্ধান্তের কারণে তা সম্ভব হয়নি।’পুরোপুরি আশা আছে যে আমি দ্রুতই দেশে ফিরব উল্লেখ করে সাকিব আল হাসান বলেন, ‘আমি আইনের মুখোমুখি হতে চাই, কিন্তু আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।আমি বিশেষ কোনো প্রটোকল চাচ্ছি না, শুধু সাধারণ নাগরিক হিসেবে আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন হয়রানি না করার নিশ্চয়তা চাই। এই নিশ্চয়তা কাল দেওয়া হলে আমি পরশুই দেশে ফিরব।’২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সাকিবের সংসদীয় মেয়াদ ছিল মাত্র সাত মাস। ৫ আগস্টের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা সাকিবের নামে বর্তমানে হত্যা মামলাসহ চেক জালিয়াতি ও শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির মামলা রয়েছে। এসব মামলাকে আইনিভাবে মোকাবেলা করতে চাইলেও দেশে ফেরার ক্ষেত্রে মূল বাধা হিসেবে তিনি ‘নিরাপত্তাহীনতা’ ও ‘হয়রানি’কে দেখছেন।

‘কাজ শেষ না করে আমরা কোথাও যাচ্ছি না’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করছেন না উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, আমরা আমাদের কাজ শেষ না করে কোথাও যাচ্ছি না। শনিবার একনেক বৈঠকের পর হওয়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, তিনি চলে যাবেন বলেননি। তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, আমরা যে কাজ করছি, আমাদের সামনে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমরা সব বাধা অতিক্রম করব।অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর অর্পিত দায়িত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এর ওপর নির্ভর করছে। আমরা এ দায়িত্ব ছেড়ে যেতে পারি না।পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আমরা দেখছি বিভিন্ন জায়গা থেকে কী কী বাধা আসছে, কে কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং আমরা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কী কী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।উপদেষ্টা রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসহ সব পক্ষের সমর্থন চেয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা সব শক্তি এবং সব রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে আমরা এ লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করার আহ্বান জানাব। এটা শুধু আমাদের একার দায়িত্ব নয়।ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, উপদেষ্টারা স্বপ্রণোদিতভাবে এখানে আসেননি। তবে তাদের একটি জাতীয় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে এবং তারা তা ছেড়ে যাবেন না।আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেননি উপদেষ্টা।

এলডিসির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতির পুনর্মূল্যায়ন জরুরি

বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা  : এলডিসি পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয়তা এবং চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত অধ্যাপক লুৎফে সিদ্দিকী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।মূল প্রবন্ধে ড. সেলিম রায়হান বলেন, রাজস্ব খাতে সংস্কারের অভাব এবং প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে কর বৃদ্ধিতে সরকারের ব্যর্থতার ফলে পরোক্ষ কর ও আমদানি করের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা দেখা দিচ্ছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের আমদানি শুল্ক হার অনেক বেশি। রপ্তানি খাতও শুধু তৈরি পোশাকে সীমাবদ্ধ। তাও আবার পোশাকের প্রবৃদ্ধি নগদ প্রণোদনা ও কর ছাড়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চাপ সামলাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন রপ্তানি পণ্য ও নতুন বাজার খোঁজা উচিত।প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। তবে যে গতিতে বর্তমানে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। সত্যিকার অর্থে শিল্প খাতসহ অন্য সেক্টরে কোনো দীর্ঘমেয়াদে রোডম্যাপ নেই, যা হতাশার বিষয়। এলডিসি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি সরকারের সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে এলডিসি উত্তরণ করতেই হবে। এখান থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। তবে এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের উচ্চমানের তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ওপর বেশি হারে মনোযোগী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিল্প-কারখানা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস বৃদ্ধির বিকল্প নেই। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কাস্টমস) কাজী মোস্তাফিজুর রহমান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের জয়েন্ট চিফ (ইন্টারন্যাশাল কো-অপারেশন ডিভিশন) মসিউল ইসলাম, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন এবং ফকির ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ প্রমুখ।

অনিয়মে জর্জরিত ‘ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স’, ঝুঁকিতে ব্যান্ডউইথ নিরাপত্তা

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মকানুন উপেক্ষা করে একে একে আইআইজি, আইটিসি, আইজিডব্লিউসহ ইন্টারনেট-টেলিকম খাতের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স দখলে নেয় আওয়ামী সুবিধাভোগী এ প্রতিষ্ঠান। এসব লাইসেন্স অর্জনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি), দেশের অভ্যন্তরের আইটিসি প্রতিষ্ঠান এবং এয়ারটেল ও টাটার মতো শীর্ষ ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ওয়ান এশিয়ার মোট বকেয়ার পরিমাণ ২৩ কোটি টাকারও বেশি। বিটিআরসির কাছেই এর বকেয়া প্রায় ৪ কোটি টাকা। বিএসসিসিএল-এর কাছে রয়েছে আরও ১ কোটি টাকার বেশি। অপরদিকে টেলিকম জায়ান্ট এয়ারটেল তাদের ১৩ কোটি টাকার এবং টাটা ৫ কোটি টাকার বকেয়া দাবি করছে। এদিকে বকেয়া আদায়ে নানাভাবে চেষ্টা করে না পেয়ে ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স-এর বিরুদ্ধে বিএসসিপিএলসি ঢাকা জেলা জজ আদালতে ‘আরবিট্রেশন মামলা’ দায়ের করে। এর রায়ে তারা জয়ী হয়। সেই রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি ‘অ্যাওয়ার্ড এক্সিকিউশন মামলা’ করে, যা এখনো চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, যেন লাইসেন্স বাতিল না হয় এবং তাদের ব্যবসা চালু রাখা যায়। ইতোমধ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে তারা এনওসিও নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসির একটি সূত্র।ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স একসময় আইআইজি, আইটিসি ও আইজিডব্লিউ লাইসেন্স নিয়ে টেলিকম বাজারে প্রবেশ করলেও সময়ের সঙ্গে শর্ত লঙ্ঘন করে একাধিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মালিকানাধীন বেঙ্গল ব্রডব্যান্ড ২০১৬ সালে ডিভিশনাল আইএসপি লাইসেন্স পেলেও নবায়ন না করেই বর্তমানে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এর মালিকানাধীন প্রিজমা ডিজিটাল নেটওয়ার্কের রয়েছে ন্যাশন ওয়াইড আইএসপি লাইসেন্স।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারবার মোবালইল ফোনে কল, হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ওয়ান এশিয়া অ্যালায়ন্সের মূল প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসফারিয়া খায়েরের সঙ্গে। তবে তিনি সাড়া দেননি। পরে পুনরায় চেষ্টা করলে দেখা যায়, তিনি প্রতিবেদকের নম্বরই ব্লক করে দিয়েছেন।বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্সকে মোট বকেয়ার ৫০ শতাংশ এককালীন পরিশোধ এবং বাকি অংশ কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে এনওসি প্রদান করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মাত্র ১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বলে তিনি জানান।ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, আইএসপি সেক্টরের সেবাদান নির্ভর করে আইআইজি ও ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারীদের ওপর। কেউ যদি কোটি টাকা বকেয়া রেখে অনিয়ম করে, তা গ্রাহকের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের জন্য হুমকি। তবে নেপথ্যে যদি নীতিগত বা কাঠামোগত কোনো সমস্যা থাকে, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ম ও নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা জরুরি। এক্ষেত্রে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বকেয়া বা নীতিগত ব্যত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন তাগাদা দিলেও প্রতিষ্ঠানটি পাওনা পরিশোধ করেনি, চিঠির জবাবও দেয়নি। এখন তাদের কাউকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব যুগান্তরকে বলেন, আমরা চাই, ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করুক, গ্রাহকদের সেবা দিক। কিন্তু সরকারের পাওনা পরিশোধ না করে কেউ যদি অনিয়মে জড়ায়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

অধ্যাদেশ বিলুপ্তির দাবিতে কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে

ন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে তাদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। এনবিআরের অধীনস্থ সারা দেশের অন্য সব অফিসেও একইভাবে কর্মসূচি পালিত হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। ভ্যাট ও কর অফিসেও সেবা বন্ধ ছিল। তবে রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা কাযক্রম চলমান ছিল। শনিবার এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার এদিপ বিল্লাহ, উপকর কমিশনার মোস্তফিজুর রহমান, সহকারী কর কমিশনার ইশতিয়াক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক, যা ইতোমধ্যেই দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ও থিংকট্যাংকসহ সর্বমহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। এনবিআর তথা রাজস্ব প্রশাসনের আমূল সংস্কার আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। তবে এই সংস্কার হতে হবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত সর্বোত্তম ব্যবস্থা ও পদ্ধতির অনুরূপ। দেশের স্বার্থ ও উন্নয়ন দর্শন এতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হতে হবে। এছাড়া রাজস্ব প্রশাসন অধিকতর কার্যকর, প্রগতিশীল ও দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে এবং এ সংস্কার বিশেষ কারও স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হবে না। কিন্তু রাজস্ব ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের স্বার্থে আমাদের এমন যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে সরকার কেন, কী কারণে এবং কাদের প্ররোচনায় বিলম্ব করছে, তা বোধগম্য নয়।    এতে আরও বলা হয়, আজ (শনিবার) সকাল থেকেই এনবিআর ভবনের অভ্যন্তরে এবং বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে। এ বিষয়টি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে নানা ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে রোববারও একইভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেখানে হস্তক্ষেপ করবে, সেখানে তারা প্রেস ব্রিফিং করবেন।ভিন্নমত যাদের: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘দাবি আদায়ের নামে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এখন যা হচ্ছে তা রীতিমতো সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান। এটি সম্পূর্ণ শৃঙ্খলাপরিপন্থি কাজ, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি এসব কর্মকাণ্ড পারমিট করে না।’ তারা মনে করেন, এনবিআর বিলুপ্ত করে যে গেজেট করা হয়েছে সেখানে প্রত্যাশার অনেক কিছু চলে এসেছে। যেটুকু অবশিষ্ট আছে তা পরবর্তী সংশোধনী ও বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে সংযোজন করা সম্ভব। এজন্য এভাবে আন্দোলন করার প্রয়োজন ছিল না। বিষয়টিকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে নিয়ে গেলে ভালো হতো। 

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

৯ জুন ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
লিটারে ৫ টাকা বেড়েছে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম। আপনি এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করেন?

লিটারে ৫ টাকা বেড়েছে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম। আপনি এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

চামড়া সংরক্ষণে বিনামূল্যে ৩০ হাজার টন লবণ দেবে সরকার

শৈশবে একসাথে খেলাধুলা, শেষযাত্রাতেও পাশাপাশি দুই বন্ধু অহিদ ও মাসুদ

অন্য কেউ আপনার জিমেইল ব্যবহার করছে? এখনই ব্যবস্থা না নিলে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি!

সৈয়দপুর রুটে এয়ার অ্যাস্ট্রার ভাড়া কমলো, টিকিট ৩ হাজার ৩৫০ টাকা

দুলাভাইয়ের বাড়িতে দাওয়াতে এসে মারধরে শ্যালকের মৃত্যু

পার্বতীপুরে রেলগেটে ট্রেন–ট্রাক সংঘর্ষে ১১ যাত্রী আহত

ঈদের দিন সকাল থেকে আবহাওয়া যেমন থাকবে রংপুরে!

জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে তারাগঞ্জ উপজেলার থানাপাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা

ঘরে বসেই স্টারলিংকের সংযোগ পাবেন যেভাবে

১০

ঈদুল আযহা উপলক্ষে দুওসুও ইউনিয়নে ছাত্রশিবিরের আন্তঃফুটবল টুর্নামেন্ট

জনপ্রিয় সব খবর

তারাগঞ্জে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগে বরখাস্ত শিক্ষক

এবারের বাজেট চানাচুরের মতো, খেতে ভালো কিন্তু পুষ্টিগুণ নেই: নাহিদ

আমি ডাকলেই যিনি শত কাজ ফেলে আমার দেওয়া দায়িত্ব পালন করতেন: সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদের স্মরণে খবির উদ্দিন প্রামাণিক

বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি বাধ্যতামূলক হচ্ছে তৃতীয় ভাষা

৬০ পণ্যে কর ছাড়ে স্বস্তির আশা ভোক্তাদের

বাজেটে ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতদের জন্য বরাদ্দ কত?

ফুলবাড়ীতে ২ কেজি গাঁজাসহ পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া ছাত্রী আটক

প্রস্তাবিত বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়ছে

ডিমলায় অবৈধ মিনি পাম্প সিলগালা, জরিমানা

১০

শিক্ষা খাতে রেকর্ড বরাদ্দ এমপিওভুক্তির জন্য ২০০ কোটি টাকা

সর্বশেষ সব খবর

 রাজনীতি রাজনীতি

এবারের বাজেট চানাচুরের মতো, খেতে ভালো কিন্তু পুষ্টিগুণ নেই: নাহিদ

এবারের বাজেট চানাচুরের মতো, খেতে ভালো কিন্তু পুষ্টিগুণ নেই: নাহিদ

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে 'উচ্চাভিলাষী, বাস্তবতা-বিবর্জিত ও ঋণগ্রস্ত' বলে অভিহিত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট পেশের পর জাতীয় সংসদ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই বাজেটকে পুষ্টিগুণহীন চানাচুরের সঙ্গে তুলনা করেন।নাহিদ ইসলাম বলেন, "এই বাজেট অনেকটা চানাচুরের মতো, যা খেতে ভালো লাগবে এবং দেখতে সুন্দর মনে হবে, কিন্তু এর কোনো পুষ্টিগুণ নেই।" তিনি অভিযোগ করেন, অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়নের কথা বললেও ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক খাত সংস্কার নিয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপের উল্লেখ নেই। ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, লুটেরা গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ, পাচার করা অর্থ ফেরত আনা কিংবা অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধির কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে পাওয়া যায়নি।বাজেট নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, এই বাজেট দেশের অর্থনীতিতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারবে না; বরং এর ফলে দেশি-বিদেশি ঋণ ও মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়বে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া অর্থনৈতিক সংস্কার সম্ভব নয় এবং এ সরকারের রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ও অর্জন 'শূন্য'।ব্যাংকিং খাতে দলীয়করণ ও রাজনীতিকরণের তীব্র সমালোচনা করে তিনি ইসলামী ব্যাংকের উদাহরণ টেনে আনেন। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, "ইসলামী ব্যাংককে আবারও এস আলমের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।" তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আমানতকারীদের মধ্যে চরম অনাস্থা তৈরি হয়েছে, যা পুরো ব্যাংকিং খাতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিতর্কিত ও দলীয় নিয়োগ নিয়েও তিনি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন।বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগ ও দুদক সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, "দুদক ও বিচার বিভাগ সংস্কার না হলে এই বিশাল বাজেটের আড়ালে ব্যাপক দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হবে।" শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত না করলে এ ধরনের বাজেট সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তারাগঞ্জে জনদুর্ভোগ লাঘবে নিজ অর্থায়নে সড়ক সংস্কার করলেন সমাজসেবক লালমিয়া

তারাগঞ্জে জনদুর্ভোগ লাঘবে নিজ অর্থায়নে সড়ক সংস্কার করলেন সমাজসেবক লালমিয়া

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ২নং কুর্শা ইউনিয়নে জনদুর্ভোগ লাঘবে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তরুণ সমাজসেবক হাজ্জাজ ইসলাম লালমিয়া। দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা ও চলাচলের অনুপযোগী একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক তিনি নিজ উদ্যোগে এবং নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কার করে দিয়েছেন।গতকাল সোমবার (৮ জুন) বিকেলে উপজেলার অনজিরুননেছা কৃষি প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সামনের বেহাল হয়ে পড়া বাইপাস সড়কটি তিনি সংস্কার করেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনজিরুননেছা কৃষি প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সামনের এই বাইপাস সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে সড়কটি সাধারণ মানুষ ও যান চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে সড়কটি যেন এক একটি মিনি পুকুরে পরিণত হতো, যার কারণে প্রতিদিনই পথচারী ও যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তি এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হতো। জনসাধারণের এই দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সমাজসেবক হাজ্জাজ ইসলাম লালমিয়া নিজেই মাঠে নামেন। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে শ্রমিকদের সাথে নিয়ে ইটের খোয়া ও বালু (রাবিশ) ফেলে সড়কটির বড় বড় গর্ত ভরাট করেন এবং সাময়িকভাবে রাস্তাটি পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী করে তোলেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও বাজারমুখী হাজারো মানুষের যাতায়াতে স্বস্তি ফিরে এসেছে।লালমিয়ার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। নিয়মিত যাতায়াতকারী জুলফিকার আলম নামের এক পথচারী বলেন:“রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে আমাদের যাতায়াত করা ভীষণ কষ্টকর ছিল। প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিরা যা করেনি, তিনি সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা ভেবে সেই রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করেছেন। তাঁর এই কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়।”খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাজ্জাজ ইসলাম লালমিয়ার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর পিতা আব্দুর রশিদ কুর্শা ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি (ইউনিয়ন পরিষদ) সদস্য। বাবার দেখানো জনসেবার পথ অনুসরণ করেই লালমিয়া নিজেকে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত রেখেছেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাজ্জাজ ইসলাম লালমিয়া বলেন, “জনগণের সেবা করাই আমার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। জনপ্রতিনিধি না হয়েও যে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা এবং তাঁদের দুর্ভোগ দূর করা সম্ভব—সেই সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমি এই ছোট উদ্যোগটি নিয়েছি। ভবিষ্যতেও আমি কুর্শা ইউনিয়নবাসীর যেকোনো সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে চাই।”

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ

দফায় দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুর মহানগরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর টাউন হল চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি সিটি বাজার, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, দাবানল মোড় ও গ্র্যান্ড হোটেল মোড় প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান। আরও বক্তব্য দেন মহানগর সেক্রেটারি কে. এম. আনোয়ারুল হক কাজল, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, আল-আমিন হাসান, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাওছার আলী, কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহজাহান সিরাজ, স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সরকারি পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হাশেম বাদল, রংপুর মহানগর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সাজ্জাদ হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সুমন সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল— “তেলের দাম কমাতে হবে”, “গ্যাসের দাম কমাতে হবে”, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মানি না, মানব না”, “জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে” ইত্যাদি। এতে পুরো নগরী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।সমাবেশে মহানগর আমির এটিএম আজম খান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি গণতান্ত্রিক, নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ছিল নতুন সরকারের সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। কিন্তু বাস্তবে বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে অস্বচ্ছতা ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে জনগণ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। রাতের আঁধারে সিদ্ধান্ত নিয়ে মূল্যবৃদ্ধি জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।তিনি আরও বলেন, জনগণের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। অন্যথায় জনগণের ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পাবে।সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মূল্য নির্ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাবি মানা না হলে জনস্বার্থে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে এনসিপির বিক্ষোভ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে এনসিপির বিক্ষোভ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা।বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে রাজধানীর বাংলামোটর থেকে শাহবাগ সড়কে এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে অংশ নেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব এবং জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, দুই বছরের মধ্যে দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই বলার এক মাসের মাথায় বিদুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিল সরকার। এই সরকার আসলে পল্টিবাজ, সকালে এক কথা বলে, দুপুরে এক কথা বলে, আর রাতে আরেক কথা বলে। জনগণ যাবে কোথায়?বিক্ষোভ মিছিলে দলীয় নেতাকর্মীরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তা প্রত্যাহারের দাবি জানান।এ সময় বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। অবিলম্বে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং জনস্বার্থে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেন।

প্রিয় সৈয়দপুর

সৈয়দপুরে দেশীয় পাখি বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীর জরিমানা

সৈয়দপুরে দেশীয় পাখি বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীর জরিমানা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে নিয়ামতপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় প্রজাতির পাখি বিক্রির দায়ে মো. ইমরান হোসেন (২৬) নামে এক ব্যবসায়ীকে দুই হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাব্বির হোসেন।বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাব্বির হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ‘পেট অ্যান্ড বার্ড হাউস’ নামের প্রতিষ্ঠান থেকে দেশীয় প্রজাতির তিনটি ময়না ও পাঁচটি টিয়া পাখি উদ্ধার করা হয়।এ সময় প্রতিষ্ঠানটির মালিক টেকনিক্যাল কলেজপাড়া এলাকার মৃত নুর আলমের ছেলে মো. ইমরান হোসেনকে (২৬) বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দুই হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে সাতদিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়। উদ্ধার করা পাখিগুলো সৈয়দপুর সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে রংপুর বন-বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রয়োজনীয় পরিচর্যা শেষে সেগুলো প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।এসময় সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাব্বির হোসেন বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দেশীয় পাখি শিকার ও বিক্রি বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। 

১১ জুন ২০২৬

 বানিজ্য বানিজ্য

৬০ পণ্যে কর ছাড়ে স্বস্তির আশা ভোক্তাদের

৬০ পণ্যে কর ছাড়ে স্বস্তির আশা ভোক্তাদের

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসের কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে ১০ বছরের কর সুবিধারও প্রস্তাব করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার একটি জনমুখী পদক্ষেপ হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের ওপর উৎসের কর হ্রাসের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্যের ওপর বর্তমানে বিদ্যমান ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ উৎসের  কর কমিয়ে ০ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হবে।অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল, তা কমাতে এবং সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।এ ছাড়া দেশে ভোজ্যতেলের সরবরাহ বৃদ্ধি ও আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উত্পাদনকারী শিল্পের জন্য বিশেষ কর সুবিধা প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগকারীরা প্রথম পাঁচ বছর শতভাগ কর অব্যাহতি পাবেন। পরবর্তী তিন বছর ৫০ শতাংশ এবং শেষ দুই বছর ২৫ শতাংশ কর অব্যাহতির সুবিধা ভোগ করবেন। এ পদক্ষেপ দেশীয় ভোজ্যতেল উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের তৈলবীজ চাষে উৎসাহিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।

১৩ ঘন্টা আগে

কৃষকের জানালা

হাঁড়িভাঙ্গায় ২০০ কোটি টাকার স্বপ্ন, বাজারে ২০ জুন

হাঁড়িভাঙ্গায় ২০০ কোটি টাকার স্বপ্ন, বাজারে ২০ জুন

দেশের ঐতিহ্যবাহি জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া রংপুরের হাঁড়িভাঙ্গা আম আগামী ২০ জুন থেকে বাজারে আসা শুরু হবে। দেশে উৎপাদিত একমাত্র আঁশবিহিন সুস্বাদু এই ফল দেশে উৎপাদিত সব আমের সেরা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। এবারেও আম পুষ্ট হবার আগেই মধ্যপ্রাচ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশে ২৫ কোটি টাকারও বেশি আমের রপ্তানি অর্ডার পেয়েছেন বাগান মালিকরা।তবে এবার বৈশাখ মাস জুড়ে অবিরাম বৃষ্টি আর ঝড়ের কারণে ফলন কম হবার আশঙ্কা করছেন আমচাষিরা। তারা বলছেন, এবারের বৈরী আবহাওয়া, বৃষ্টি, ঝড়সহ নানা প্রতিকূলতার কারণে ফলন ভালো হচ্ছে না।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর রংপুরে ২ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে।যা গত বছরের চেয়ে ২শ হেক্টর বেশি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পরেও ৩০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের আশা করছেন বাগান মালিক ও চাষিরা। যাতে অন্তত ২শ কোটি টাকার আম তারা বিক্রি করতে পারবেন।এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, হাঁড়িভাঙ্গা আম পুরোপুরি পুষ্ট হতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের আমের চেয়ে বেশি সময় লাগে।ফলে আগামী ২০ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এবারে হাঁড়িভাঙ্গা আমের আকার অন্যান্য বারের চেয়ে কাঙ্ক্ষিত হয়েছে।ন্যায্য মূল্য পেলে আমচাষিরা লাভবান হবেন বলে আশা করছেন। তাছাড়া অন্যান্য বারের চেয়ে এবারে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাহিদা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বেশি হবে বলে আশা করছেন আম ব্যবসায়ীরা।হাঁড়িভাঙ্গার ইতিহাসরংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লালমাটি বলে পরিচিত পদাগঞ্জ এলাকায় হাঁড়িভাঙ্গা আম প্রথম উৎপাদন করেন সালাম নামের এক চাষি।সম্পূর্ণ আঁশমুক্ত আর দারুণ সুস্বাদু হওয়ায় আমটির চাহিদা এখন উত্তরাঞ্চল আর দেশ ছাপিয়ে সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে।প্রতিবছর লাখ লাখ টাকার আম রপ্তানি করছেন চাষিরা।ফলে বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গোপালপুর, পদাগঞ্জ, কুতুবপুর ইউনিয়নের নাগেরহাট সর্দ্দারপাড়া, সদর উপজেলার সদ্যপুষ্করণী ইউনিয়নের কাঁটাবাড়ি, পাশের মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামেই এখন গড়ে উঠেছে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাণিজ্যিক বাগান।মূলত, লালমাটি এলাকায় হাঁড়িভাঙ্গা আমের যেমন ভালো ফলন হয়, তেমনি অনেক বেশি সুস্বাদুও। গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবার নতুন নতুন বাগান গড়ে উঠেছে।আমচাষিরা বলছেন, বৈশাখ মাস জুড়ে অবিরাম ঝড়-বৃষ্টির কারণে আমের অনেক বেশি ক্ষতি হয়েছে।ক্ষুদ্র চাষিদের অভিযোগ, আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে তারা আরও বেশি লাভবান হতে পারতেন।আমচাষিদের অভিযোগ, বড় বড় ব্যবসায়ী আগাম টাকা দিয়ে আমের বাগান কিনে নেয়ায় তারা লাভবান হচ্ছেন বেশি।এভাবেই হাঁড়িভাঙ্গা আম বদরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলার অন্তত ৯০টি গ্রামের মানুষের ভাগ্যের চাকা খুলে দিয়েছে। এই আম চাষ করে হাজার হাজার পরিবার এখন একেবারেই স্বাবলম্বি।সরেজমিনে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার পদাগঞ্জ ও খোড়াগাছ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সারি সারি বাগান ছাড়াও প্রতিটি বাড়িতেই রয়েছে ১০-১৫টি হাঁড়িভাঙ্গা আমের গাছ। আবার কোনো কোনো বাড়ি ঘিরে শুধুই আমগাছ। আম পাকা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। একই এলাকার আমচাষি মনোয়ার হোসেন, রহমত আলী, আয়েশা বেগমসহ অনেকেই জানালেন, ১০ বছর আগেও এসব এলাকা ছিলো অভাবী মানুষে ভরা। এখন সেই অভাব দূর হয়েছে। সচ্ছলতা এসেছে ঘরে ঘরে।এক সময় তিন বেলা তো দূরের কথা এক বেলা খাবারও জুটতো না।মাটি লাল হওয়ায় বছরে একবার মাত্র ধান উৎপাদন হতো। বাকি ৮ মাস পতিত পড়ে থাকতো। তবে হাঁড়িভাঙ্গা আম এসে তাদের ভাগ্যের চাকা বদলে দিয়েছে। এখন এক ফসলি ধানী জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে একের পর এক আম বাগান।বছরে আম বিক্রি করে সবার সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, ভূমিহীন পরিবারগুলো তাদের বাস্তুভিটাতেই হাঁড়িভাঙ্গা আম গাছ লাগিয়ে উৎপাদিত আম বিক্রি করে সচ্ছলতা এনেছেন।তবে চাষিদের সবার দাবি একটাই, আম সংরক্ষণে ব্যবস্থা করা। কারণ সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় পানির দামে আম বিক্রি করতে বাধ্য হন।এ ব্যাপারে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করছেন চাষিরা।হাঁড়িভাঙ্গা আমের সবচেয়ে বড় বাগান মালিক রমজান আলী জানান, ঢাকা থেকে বেশ কয়েকজন আড়তদার এবার অগ্রিম টাকা দিয়ে বুকিং করছেন। তার মতো আরও অন্তত ৪০টি বাগান মালিকদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। আপাতত ২০ কোটি টাকার আমের অর্ডার মিলেছে। তবে রপ্তানি এবার ৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা চাষিদের।একই কথা বললেন আমচাষি রবিউল ইসলাম।রংপুরের জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন জানান, সরাসরি বাগান থেকে যাতে আম কিনতে পারা যায়, সেজন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাইকারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। টাকা লেনদেনের জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ খোলা হবে। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর নজরদারিও বাড়ানো হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আম পৌঁছে দেওয়ার জন্য জনপ্রিয় কুরিয়ার সার্ভিসগুলো পদাগঞ্জ এলাকায় বিশেষ অফিস স্থাপন করেছে।তারা বাগান থেকে আম সরাসরি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য বিশেষ গাড়ির ব্যবস্থা রেখেছে।জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন বলেন, কৃষিবিভাগসহ সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে আগামী ২০ জুন থেকে হাঁড়িভাঙ্গা আম বিক্রি করার সময় নির্ধারণ করে দিয়েছি।রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উপ-পরিচালক হাবিবুর রহমান জানান, এবার অবিরাম ঝড়-বৃষ্টির কারণে কিছুটা ক্ষতি হলেও তা অস্বাভাবিক নয়। এতে ততবেশি ক্ষতি হবে না বলেও মনে করছেন হাবিবুর রহমান।রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিপণন বিভাগের উপ-পরিচালক সিফাত জাহান জানান, হাঁড়িভাঙ্গা আম রংপুরের ঐতিহ্যকে আরো বেশি করে দেশে বিদেশে পরিচিত করেছে। এবার আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে ফলন একটু কম হলেও তা উল্লেখযোগ্য নয়। আশা করা যায়, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩০ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবার চাষিরা লাভবান হবেন বলে আশা করা যায়।

তারাগঞ্জে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগ

তারাগঞ্জে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগ

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা আলমপুর পাইকপাড়া গ্রামে একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে বিপুল পরিমাণ মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগী পরিবার ও থানা সূত্রে জানা যায়, পাইকপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে ইব্রাহীম তাঁর বাড়ির পাশের একটি পুকুরে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন ২০২৬) দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা শত্রুতা করে তাঁর পুকুরের পানিতে বিষ প্রয়োগ করে।পরের দিন শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ইব্রাহীম পুকুরপাড়ে গিয়ে দেখতে পান শত শত মরা মাছ পানিতে ভেসে রয়েছে। এতে তাঁর বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।এই ঘটনায় ক্ষোভে ও ক্ষয়ক্ষতিতে ভেঙে পড়েছেন মাছ চাষি ইব্রাহীম। এ বিষয়ে জড়িতদের বিচার দাবি করে তিনি বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে তারাগঞ্জ থানার এএসআই আশরাফুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দিনাজপুরে জমে উঠেছে সুস্বাদু লিচুর বাজার

লিচুর রাজ্যখ্যাত দিনাজপুরে জমে উঠেছে বেচাকেনা। বাজারে এসেছে মাদ্রাজি, বেদানা, বোম্বাই ও চায়না-থ্রি জাতের লিচু। বর্তমানে ১০০ লিচু সর্বনিম্ন ২৫০ ও সর্বোচ্চ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।তবে ঈদের কারণে শহর ছেড়ে মানুষ গ্রামে ফেরায় এবং পণ্যবাহী যানাবাহন বন্ধ থাকায় গতবারের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর একই সময় লিচু সর্বনিম্ন দাম ছিল ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল।চাষিরা বলছেন, দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, অন্য বছরের তুলনায় এবার দাম অনেক কম। ক্রেতারাও বলছেন, গতবারের চেয়ে এখন পর্যন্ত দাম অনেক কম। তবে আজ থেকে পণ্যবাহী পরিবহন, কুরিয়ার সার্ভিসের বুকিং শুরু হওয়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা আসতে শুরু করেছেন। ফলে দুই একদিনের মধ্যে লিচুর দাম বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।কৃষি বিভাগ জানায়, জেলায় পাঁচ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে পাঁচ হাজার ৪১৮টি। এর মধ্যে বোম্বাই লিচু তিন হাজার ১৭০ হেক্টর, মাদ্রাজি এক হাজার ১৬৬ হেক্টর, চায়না-থ্রি ৮০২ হেক্টর, বেদানা ২৯৫ দশমিক ৫ হেক্টর, কাঁঠালি ৫৬ হেক্টর ও মোজাফফরপুরী ১ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। পাশাপাশি বসতবাড়ির উঠান ও বাগানসহ লিচুগাছ আছে প্রায় সাত লাখ। এবার লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন।গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ৩০ হাজার মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য ছিল প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা। তবে এবার লিচুর ফলন কিছুটা কম।জেলার সবচেয়ে বড় লিচুর বাজার শহরের কোতোয়ালি থানার নিকটবর্তী নিউমার্কেট। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় থাকে।সোমবার (১ জুন) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, একদিকে চলছে ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক। অপরদিকে চলছে দর-কষাকষি। বাজারে মাদ্রাজি, বেদানা ও বোম্বাই জাতের লিচু বেশি দেখা গেলেও খুচরা বাজারে অল্প পরিমাণ দেখা মিলেছে বেদানা ও চায়না-থ্রি লিচু। বাজারের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ভ্যান ও ইজিবাইকে লিচু নিয়ে বিক্রির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন চাষি ও বাগানিরা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাইকারিতে মাদ্রাজি লিচুর হাজার বিক্রি হচ্ছে ১৮০০-২০০০ টাকা। বেদানার হাজার ৩৫০০ টাকা থেকে ৬০০০ হাজার, চায়না থ্রি সাত-আট হাজার এবং বোম্বাই ২২০০-২৫০০ টাকা।লিচু ব্যবসায়ী দরদী ফল ভান্ডরের সত্ত্বাধিকারী মো. রানা বলেন, বৃষ্টি ও রোদের কারণে লিচুর সাইজ ও রং অনেক ভালো হয়েছে। মাদ্রাজী ১৮০০-২০০০ টাকা হাজার, চায়না থ্রি সাত-আট হাজার এবং বোম্বাই ২২০০-২৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।মামুন ফল ভান্ডারের সত্ত্বাধিকারী ও আড়ৎদার মো. মামুন বলেন, মার্কেটে জায়গা সংকীর্ণ হওয়ায় খুব কষ্টে আছি। পৌরসভা যেন সহায়তা করে।ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, ব্যাপক লিচু আমদানি হওয়ায় দাম কম। বাগান থেকে মোম্বাই লিচু নিয়ে এনেছি ২৪০০ করে হাজার, এখানে দিলাম ২০০ টাকা লসে ২২০০ করে। গতকাল দাম ভালোই ছিল।বিরল উপজেলার কামদেবপুর থেকে আসা মিজানুর রহমান বলেন, নিউ মার্কেট মাদ্রাজী লিচু নিয়ে প্রায় ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করছি। কখন আড়তে পৌঁছে বিক্রি করবো আল্লাহ জানে।সদর উপজেলার ঘুঘুডাঙ্গা থেকে আসা সজীব হাসান বলেন, লিচু বিক্রির জন্য প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে রাস্তায় লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছি। আর কতক্ষণ লাগবে বলা মুশকিল। লিচুর দাম পাবো কি না তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।নিউমার্কেটে লিচু কিনতে এসেছেন মুশফিকুর রহমান। তিনি দিনাজপুর শহরের বাসিন্দা হলেও চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন। দুপুর ২টার গাড়িতে ঢাকায় যাবেন লিচু নিয়ে। বেদানা লিচু ৫০০ এবং চায়না থ্রি ৮০০ টাকা শ হিসেবে কিনলেন। দাম কম পেয়ে খুশি বলে জানালেন।দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, এবার লিচুর ফলন কিছুটা কম হয়েছে। তবে এবার লিচুর আকার, সাইজ ও রং ভালো। কেবল বাজার শুরু হয়েছে। চাষিরা দাম ভালো পাবেন আশা করছি।

দিনাজপুরে জমে উঠেছে সুস্বাদু লিচুর বাজার

উদ্বোধনের অপেক্ষায় রংপুরের আধুনিক কসাইখানা: নিশ্চিত হবে স্বাস্থ্যসম্মত মাংস

রংপুর নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করতে আধুনিক কসাইখানা (স্লটার হাউস) নির্মাণ করেছে সিটি করপোরেশন। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নগরীর ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কসাইখানাটি এখন উদ্বোধনের প্রহর গুনছে। বর্তমানে এখানে পরীক্ষামূলকভাবে পশু জবাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এই কসাইখানায় পশু জবাইয়ের জন্য রয়েছে পৃথক ইউনিট ও উন্নত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। এছাড়া মাংসের গুণমান ঠিক রাখতে জীবাণুনাশক সুবিধা, স্বাস্থ্যসম্মত সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এখানে পশু জবাইয়ের আগে বিশেষজ্ঞ দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা হবে, ফলে অসুস্থ পশুর মাংস বাজারে আসার কোনো সুযোগ থাকবে না।মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে নবনির্মিত এই প্রকল্প পরিদর্শন করেন রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন। তিনি বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,"পরীক্ষামূলকভাবে পশু জবাই শুরু হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ ও পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা গুছিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে অতিদ্রুত এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।"অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু জবাই ও যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর করতে এই প্রকল্প বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুল হুদা জানান, উন্নত দেশের মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাংস প্রক্রিয়াজাত করা গেলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নগরবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল রহমান বলেন, "খোলা স্থানে জবাইয়ের ফলে যে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণ হতো, আধুনিক কসাইখানা চালু হলে তা বন্ধ হবে।" রাশেদা বেগম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, "নিরাপদ খাদ্য নিয়ে আমরা এখন অনেক সচেতন। এমন ব্যবস্থা চালু হলে আমরা নিশ্চিন্তে মাংস কিনতে পারব।"

উদ্বোধনের অপেক্ষায় রংপুরের আধুনিক কসাইখানা: নিশ্চিত হবে স্বাস্থ্যসম্মত মাংস

রংপুরে হাঁড়িভাঙা আমের বাম্পার ফলন, লক্ষ্যমাত্রা ২৫০ কোটি টাকা

রংপুরের ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের প্রতীক 'হাঁড়িভাঙা' আমের স্বাদ নিতে অপেক্ষা আর মাত্র এক মাসের। জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্যের মর্যাদা পাওয়ার পর এবারই প্রথম বাজারে আসছে এই আম। অনুকূল আবহাওয়া আর বাম্পার ফলনে এবার রংপুর অঞ্চলে হাঁড়িভাঙা আমকে কেন্দ্র করে ২৫০ কোটি টাকারও বেশি বাণিজ্যের স্বপ্ন দেখছেন চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা।কৃষিবিদদের মতে, এ বছর হাঁড়িভাঙা আমের ‘অন ইয়ার’। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার ফলন অনেক বেশি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, "এবার গাছে প্রচুর আম ধরেছে। আমরা আশা করছি ২৫০ কোটিরও বেশি টাকার বাণিজ্য হবে।" জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে হাঁড়িভাঙার চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১০ থেকে ১২ টন ফলন হিসেবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টি আম বড় ও রসালো হতে সাহায্য করেছে। যদিও শিলাবৃষ্টিতে কিছু বাগানের সামান্য ক্ষতি হয়েছে, তবে সার্বিক অবস্থা অত্যন্ত ইতিবাচক।আঁশবিহীন, পাতলা ছাল আর ছোট আঁটির এই আম মিষ্টি ও সুগন্ধে অনন্য। প্রতিটি আমের ওজন গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আমটি রংপুরের নিজস্ব জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা ও ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ বহুগুণ বেড়েছে।কৃষিবিদ ও চাষিদের মতে, পরিপক্ব হাঁড়িভাঙা আমের আসল স্বাদ পেতে জুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। মিঠাপুকুরের আমচাষি নাজমুল ইসলাম জানান, বাগানগুলোতে এখন শেষ সময়ের পরিচর্যা চলছে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখনই যোগাযোগ শুরু করেছেন।সুজন-এর রংপুর জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, "হাঁড়িভাঙা এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বাগান থেকে আম সরবরাহের হারও বাড়ছে।" তবে আমটি দ্রুত পচনশীল হওয়ায় বিশেষ মালবাহী ট্রেন এবং আধুনিক হিমাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা।

রংপুরে হাঁড়িভাঙা আমের বাম্পার ফলন, লক্ষ্যমাত্রা ২৫০ কোটি টাকা

১৫ তারিখের পর থেকেই বাজারজাত করা যাবে দিনাজপুরের লিচু

মধু মাসের আগাম বার্তা নিয়ে বাজারে আসতে শুরু করেছে রসালো ফল লিচু। তবে লিচু প্রেমীদের জন্য সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত খবর হলো, আগামী (১৫ মে) এর পর থেকেই পুরোদমে বাজারজাত করা যাবে উত্তরের জনপদ দিনাজপুরের সুস্বাদু ও সুমিষ্ট লিচু।কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, অপরিপক্ক লিচু বাজারে আসা রোধ করতে এবং ক্রেতাদের গুণগত মানসম্পন্ন ফল পৌঁছে দিতে প্রতি বছরের মতো এবারও সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। দিনাজপুরের প্রধান অর্থকরী ফসল এই লিচু যেন রাসায়নিকমুক্ত এবং পরিপক্ক অবস্থায় মানুষের হাতে পৌঁছায়, সেটি নিশ্চিত করতেই (১৫ মে) পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। গাছে গাছে গাঢ় সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে হালকা সবুজ লিচুর গুটি । ছবি: হেল্প ডেক্সদিনাজপুরের বড় মাঠসহ বিভিন্ন অস্থায়ী বাজারগুলোতে এখন সাজসাজ রব। বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা লিচু পাড়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রথম পর্যায়ে বাজারে আসবে স্থানীয় জাতের ‘মাদরাজি’ লিচু। এরপর পর্যায়ক্রমে বোম্বাই, বেদানা এবং সবশেষে বিশ্বখ্যাত ‘চায়না-থ্রি’ লিচু বাজারে নামবে। লিচু বাজারজাতকরণ নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করাবে । দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লিচু দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ ট্রাক ও পরিবহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া বাজারে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা এবং লেনদেন সহজ করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে থাকবে।বাগানিরা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার দিনাজপুরের লিচু থেকে শতকোটি টাকার ব্যবসা হবে। তীব্র গরমের কারণে ফলের আকার কিছুটা ছোট হলেও স্বাদে কোনো কমতি হবে না বলে জানিয়েছেন চাষিরা।আগামী মঙ্গলবার থেকে বিপণিবিতানগুলো রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তার ফলে ঈদ বাজারের পাশাপাশি মৌসুমী ফলের বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৫ তারিখের পর থেকেই বাজারজাত করা যাবে দিনাজপুরের লিচু

শিক্ষাঙ্গন

সকল জেলার খবর

 স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

আর্কাইভ

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

টাকা ছাড়াই ইউটিউব প্রিমিয়াম সুবিধা, নতুন অফার আনছে গুগল

টাকা ছাড়াই ইউটিউব প্রিমিয়াম সুবিধা, নতুন অফার আনছে গুগল

ভিডিও দেখার সময় হঠাৎ বিজ্ঞাপন চলে আসা এখন অনেক ব্যবহারকারীর কাছেই বড় ধরনের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউটিউবে গান শোনা, সিনেমা দেখা কিংবা পছন্দের কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ভিডিও উপভোগের মাঝপথে বিজ্ঞাপন চলে এলে দেখার অভিজ্ঞতা অনেকটাই নষ্ট হয়। এতদিন এই ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে ব্যবহারকারীদের আলাদা করে ইউটিউব প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন কিনতে হতো। তবে এবার নতুন সুবিধা নিয়ে এসেছে গুগল। প্রযুক্তি জায়ান্টটি তাদের এআইভিত্তিক পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করেছে নতুন একটি অফার। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সাবস্ক্রিপশন ব্যবহারকারীরা অতিরিক্ত অর্থ খরচ ছাড়াই বিজ্ঞাপনমুক্ত ইউটিউব দেখার সুযোগ পাবেন। মূলত গুগল এআই প্রো প্ল্যানের গ্রাহকদের জন্য বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে ইউটিউব প্রিমিয়াম লাইট সুবিধা।ইউটিউব প্রিমিয়াম লাইট হলো ইউটিউবের তুলনামূলক কম খরচের একটি সাবস্ক্রিপশন পরিষেবা। এটি এমন ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যারা নিয়মিত ভিডিও দেখেন কিন্তু পূর্ণাঙ্গ ইউটিউব প্রিমিয়াম প্ল্যানের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে চান না।এই প্ল্যানে ব্যবহারকারীরা অধিকাংশ ভিডিও বিজ্ঞাপন ছাড়া দেখতে পারবেন। মোবাইল ফোন, স্মার্ট টিভি এবং ওয়েব প্ল্যাটফর্ম সব জায়গাতেই এই পরিষেবা ব্যবহার করা যাবে। ফলে ব্যবহারকারীরা আগের তুলনায় আরও স্বাচ্ছন্দ্যে ভিডিও উপভোগ করতে পারবেন।শুধু তাই নয়, কিছু ক্ষেত্রে ভিডিও ডাউনলোড করে অফলাইনে দেখার সুবিধাও থাকবে। ফলে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া পরবর্তী সময়ে ভিডিও উপভোগ করা সম্ভব হবে।নতুন আপডেট অনুযায়ী, গুগল এআই প্রো প্ল্যানের সাবস্ক্রাইবাররা অতিরিক্ত কোনো চার্জ ছাড়াই ইউটিউব প্রিমিয়াম লাইট সুবিধা পাবেন। এর ফলে সাধারণ ভিডিও দেখার সময় বিজ্ঞাপনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।বিশেষ করে যারা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ইউটিউব ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এই সুবিধা বেশ কার্যকর হতে পারে। কারণ বারবার বিজ্ঞাপন দেখার ঝামেলা কমে গেলে ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও স্বস্তিদায়ক হবে।যদিও ইউটিউব প্রিমিয়াম লাইট অনেক ব্যবহারকারীর জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে, তবুও এটি পূর্ণাঙ্গ ইউটিউব প্রিমিয়ামের বিকল্প নয়। এই প্ল্যানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফিচার অনুপস্থিত থাকবে।উদাহরণ হিসেবে, ইউটিউব শর্টস দেখার সময় এখনো বিজ্ঞাপন দেখা যেতে পারে। এছাড়া ইউটিউব মিউজিক প্রিমিয়াম সুবিধাও এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে গান শোনার সময় কিংবা মিউজিক ভিডিও দেখার ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন পুরোপুরি বন্ধ হবে না।এ ছাড়া সার্চ পেজ এবং কিছু নির্দিষ্ট কনটেন্টেও বিজ্ঞাপন থাকতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যাকগ্রাউন্ড প্লে সুবিধা সীমিত থাকবে। অর্থাৎ অন্য অ্যাপ ব্যবহার করার সময় সব ক্ষেত্রে ভিডিও বা অডিও চালু রাখা সম্ভব হবে না।বিশ্বজুড়ে এখন সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক ডিজিটাল পরিষেবার বাজার দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। নেটফ্লিক্স, স্পটিফাই এবং ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ইতোমধ্যেই বিজ্ঞাপনমুক্ত অভিজ্ঞতার জন্য আলাদা সাবস্ক্রিপশন সুবিধা চালু করেছে।তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অনেক ব্যবহারকারী এখন কম খরচে সীমিত সুবিধার প্ল্যান খুঁজছেন। গুগলের নতুন এই উদ্যোগ মূলত সেই চাহিদাকেই লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এআইভিত্তিক পরিষেবার ব্যবহার বাড়ানো এবং ব্যবহারকারীদের ধীরে ধীরে প্রিমিয়াম পরিষেবার দিকে আকৃষ্ট করাও এই কৌশলের অংশ বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গুগল ভবিষ্যতে এআই পরিষেবার সঙ্গে আরও বিভিন্ন ডিজিটাল সুবিধা যুক্ত করতে পারে। এতে একদিকে যেমন ব্যবহারকারীরা অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন, অন্যদিকে গুগলও তাদের সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক ব্যবসা আরও শক্তিশালী করতে পারবে।যারা নিয়মিত ইউটিউবে ভিডিও দেখেন এবং বিজ্ঞাপনের ঝামেলা কমাতে চান, তাদের জন্য গুগল এআই প্রোর সঙ্গে পাওয়া ইউটিউব প্রিমিয়াম লাইট সুবিধা একটি নতুন ও আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।

ইভেন্ট

লা লিগা
লা লিগা
ইপিএল
ইপিএল
ফ্রেঞ্চ লিগ
ফ্রেঞ্চ লিগ
ফ্রেঞ্চ ওপেন
ফ্রেঞ্চ ওপেন
উইম্বলডন
উইম্বলডন
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
বুন্দেসলিগা
বুন্দেসলিগা
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
ইউরোপা লিগ
ইউরোপা লিগ
ইউএস ওপেন
ইউএস ওপেন