গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের ধাপেরহাট সংলগ্ন জাতীয় মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় রফিক (৩৮) নামে এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। শনিবার (৭ জুন) ভোররাত আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে উপজেলার একবারপুর গ্রামের হাজী মাল্টিমিডিয়া কোল্ড স্টোরেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত রফিক টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার তালিমা গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রংপুরগামী একটি কাভার্ড ভ্যানের পেছনে থাকা ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং গুরুতর আহত হন চালক রফিক। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ও ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। পরে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ইনচার্জ মোজাফফর হোসেন জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাকচালক রফিক সামনে থাকা কাভার্ড ভ্যানটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অনলাইন জরিপ
দেশের ঐতিহ্যবাহি জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া রংপুরের হাঁড়িভাঙ্গা আম আগামী ২০ জুন থেকে বাজারে আসা শুরু হবে। দেশে উৎপাদিত একমাত্র আঁশবিহিন সুস্বাদু এই ফল দেশে উৎপাদিত সব আমের সেরা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। এবারেও আম পুষ্ট হবার আগেই মধ্যপ্রাচ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশে ২৫ কোটি টাকারও বেশি আমের রপ্তানি অর্ডার পেয়েছেন বাগান মালিকরা।তবে এবার বৈশাখ মাস জুড়ে অবিরাম বৃষ্টি আর ঝড়ের কারণে ফলন কম হবার আশঙ্কা করছেন আমচাষিরা। তারা বলছেন, এবারের বৈরী আবহাওয়া, বৃষ্টি, ঝড়সহ নানা প্রতিকূলতার কারণে ফলন ভালো হচ্ছে না।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর রংপুরে ২ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে।যা গত বছরের চেয়ে ২শ হেক্টর বেশি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পরেও ৩০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের আশা করছেন বাগান মালিক ও চাষিরা। যাতে অন্তত ২শ কোটি টাকার আম তারা বিক্রি করতে পারবেন।এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, হাঁড়িভাঙ্গা আম পুরোপুরি পুষ্ট হতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের আমের চেয়ে বেশি সময় লাগে।ফলে আগামী ২০ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এবারে হাঁড়িভাঙ্গা আমের আকার অন্যান্য বারের চেয়ে কাঙ্ক্ষিত হয়েছে।ন্যায্য মূল্য পেলে আমচাষিরা লাভবান হবেন বলে আশা করছেন। তাছাড়া অন্যান্য বারের চেয়ে এবারে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাহিদা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বেশি হবে বলে আশা করছেন আম ব্যবসায়ীরা।হাঁড়িভাঙ্গার ইতিহাসরংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লালমাটি বলে পরিচিত পদাগঞ্জ এলাকায় হাঁড়িভাঙ্গা আম প্রথম উৎপাদন করেন সালাম নামের এক চাষি।সম্পূর্ণ আঁশমুক্ত আর দারুণ সুস্বাদু হওয়ায় আমটির চাহিদা এখন উত্তরাঞ্চল আর দেশ ছাপিয়ে সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে।প্রতিবছর লাখ লাখ টাকার আম রপ্তানি করছেন চাষিরা।ফলে বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গোপালপুর, পদাগঞ্জ, কুতুবপুর ইউনিয়নের নাগেরহাট সর্দ্দারপাড়া, সদর উপজেলার সদ্যপুষ্করণী ইউনিয়নের কাঁটাবাড়ি, পাশের মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামেই এখন গড়ে উঠেছে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাণিজ্যিক বাগান।মূলত, লালমাটি এলাকায় হাঁড়িভাঙ্গা আমের যেমন ভালো ফলন হয়, তেমনি অনেক বেশি সুস্বাদুও। গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবার নতুন নতুন বাগান গড়ে উঠেছে।আমচাষিরা বলছেন, বৈশাখ মাস জুড়ে অবিরাম ঝড়-বৃষ্টির কারণে আমের অনেক বেশি ক্ষতি হয়েছে।ক্ষুদ্র চাষিদের অভিযোগ, আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে তারা আরও বেশি লাভবান হতে পারতেন।আমচাষিদের অভিযোগ, বড় বড় ব্যবসায়ী আগাম টাকা দিয়ে আমের বাগান কিনে নেয়ায় তারা লাভবান হচ্ছেন বেশি।এভাবেই হাঁড়িভাঙ্গা আম বদরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলার অন্তত ৯০টি গ্রামের মানুষের ভাগ্যের চাকা খুলে দিয়েছে। এই আম চাষ করে হাজার হাজার পরিবার এখন একেবারেই স্বাবলম্বি।সরেজমিনে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার পদাগঞ্জ ও খোড়াগাছ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সারি সারি বাগান ছাড়াও প্রতিটি বাড়িতেই রয়েছে ১০-১৫টি হাঁড়িভাঙ্গা আমের গাছ। আবার কোনো কোনো বাড়ি ঘিরে শুধুই আমগাছ। আম পাকা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। একই এলাকার আমচাষি মনোয়ার হোসেন, রহমত আলী, আয়েশা বেগমসহ অনেকেই জানালেন, ১০ বছর আগেও এসব এলাকা ছিলো অভাবী মানুষে ভরা। এখন সেই অভাব দূর হয়েছে। সচ্ছলতা এসেছে ঘরে ঘরে।এক সময় তিন বেলা তো দূরের কথা এক বেলা খাবারও জুটতো না।মাটি লাল হওয়ায় বছরে একবার মাত্র ধান উৎপাদন হতো। বাকি ৮ মাস পতিত পড়ে থাকতো। তবে হাঁড়িভাঙ্গা আম এসে তাদের ভাগ্যের চাকা বদলে দিয়েছে। এখন এক ফসলি ধানী জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে একের পর এক আম বাগান।বছরে আম বিক্রি করে সবার সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, ভূমিহীন পরিবারগুলো তাদের বাস্তুভিটাতেই হাঁড়িভাঙ্গা আম গাছ লাগিয়ে উৎপাদিত আম বিক্রি করে সচ্ছলতা এনেছেন।তবে চাষিদের সবার দাবি একটাই, আম সংরক্ষণে ব্যবস্থা করা। কারণ সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় পানির দামে আম বিক্রি করতে বাধ্য হন।এ ব্যাপারে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করছেন চাষিরা।হাঁড়িভাঙ্গা আমের সবচেয়ে বড় বাগান মালিক রমজান আলী জানান, ঢাকা থেকে বেশ কয়েকজন আড়তদার এবার অগ্রিম টাকা দিয়ে বুকিং করছেন। তার মতো আরও অন্তত ৪০টি বাগান মালিকদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। আপাতত ২০ কোটি টাকার আমের অর্ডার মিলেছে। তবে রপ্তানি এবার ৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা চাষিদের।একই কথা বললেন আমচাষি রবিউল ইসলাম।রংপুরের জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন জানান, সরাসরি বাগান থেকে যাতে আম কিনতে পারা যায়, সেজন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাইকারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। টাকা লেনদেনের জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ খোলা হবে। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর নজরদারিও বাড়ানো হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আম পৌঁছে দেওয়ার জন্য জনপ্রিয় কুরিয়ার সার্ভিসগুলো পদাগঞ্জ এলাকায় বিশেষ অফিস স্থাপন করেছে।তারা বাগান থেকে আম সরাসরি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য বিশেষ গাড়ির ব্যবস্থা রেখেছে।জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন বলেন, কৃষিবিভাগসহ সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে আগামী ২০ জুন থেকে হাঁড়িভাঙ্গা আম বিক্রি করার সময় নির্ধারণ করে দিয়েছি।রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উপ-পরিচালক হাবিবুর রহমান জানান, এবার অবিরাম ঝড়-বৃষ্টির কারণে কিছুটা ক্ষতি হলেও তা অস্বাভাবিক নয়। এতে ততবেশি ক্ষতি হবে না বলেও মনে করছেন হাবিবুর রহমান।রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিপণন বিভাগের উপ-পরিচালক সিফাত জাহান জানান, হাঁড়িভাঙ্গা আম রংপুরের ঐতিহ্যকে আরো বেশি করে দেশে বিদেশে পরিচিত করেছে। এবার আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে ফলন একটু কম হলেও তা উল্লেখযোগ্য নয়। আশা করা যায়, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩০ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবার চাষিরা লাভবান হবেন বলে আশা করা যায়।
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা আলমপুর পাইকপাড়া গ্রামে একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে বিপুল পরিমাণ মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগী পরিবার ও থানা সূত্রে জানা যায়, পাইকপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে ইব্রাহীম তাঁর বাড়ির পাশের একটি পুকুরে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন ২০২৬) দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা শত্রুতা করে তাঁর পুকুরের পানিতে বিষ প্রয়োগ করে।পরের দিন শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ইব্রাহীম পুকুরপাড়ে গিয়ে দেখতে পান শত শত মরা মাছ পানিতে ভেসে রয়েছে। এতে তাঁর বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।এই ঘটনায় ক্ষোভে ও ক্ষয়ক্ষতিতে ভেঙে পড়েছেন মাছ চাষি ইব্রাহীম। এ বিষয়ে জড়িতদের বিচার দাবি করে তিনি বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে তারাগঞ্জ থানার এএসআই আশরাফুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লিচুর রাজ্যখ্যাত দিনাজপুরে জমে উঠেছে বেচাকেনা। বাজারে এসেছে মাদ্রাজি, বেদানা, বোম্বাই ও চায়না-থ্রি জাতের লিচু। বর্তমানে ১০০ লিচু সর্বনিম্ন ২৫০ ও সর্বোচ্চ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।তবে ঈদের কারণে শহর ছেড়ে মানুষ গ্রামে ফেরায় এবং পণ্যবাহী যানাবাহন বন্ধ থাকায় গতবারের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর একই সময় লিচু সর্বনিম্ন দাম ছিল ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল।চাষিরা বলছেন, দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, অন্য বছরের তুলনায় এবার দাম অনেক কম। ক্রেতারাও বলছেন, গতবারের চেয়ে এখন পর্যন্ত দাম অনেক কম। তবে আজ থেকে পণ্যবাহী পরিবহন, কুরিয়ার সার্ভিসের বুকিং শুরু হওয়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা আসতে শুরু করেছেন। ফলে দুই একদিনের মধ্যে লিচুর দাম বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।কৃষি বিভাগ জানায়, জেলায় পাঁচ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে পাঁচ হাজার ৪১৮টি। এর মধ্যে বোম্বাই লিচু তিন হাজার ১৭০ হেক্টর, মাদ্রাজি এক হাজার ১৬৬ হেক্টর, চায়না-থ্রি ৮০২ হেক্টর, বেদানা ২৯৫ দশমিক ৫ হেক্টর, কাঁঠালি ৫৬ হেক্টর ও মোজাফফরপুরী ১ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। পাশাপাশি বসতবাড়ির উঠান ও বাগানসহ লিচুগাছ আছে প্রায় সাত লাখ। এবার লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন।গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ৩০ হাজার মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য ছিল প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা। তবে এবার লিচুর ফলন কিছুটা কম।জেলার সবচেয়ে বড় লিচুর বাজার শহরের কোতোয়ালি থানার নিকটবর্তী নিউমার্কেট। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় থাকে।সোমবার (১ জুন) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, একদিকে চলছে ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক। অপরদিকে চলছে দর-কষাকষি। বাজারে মাদ্রাজি, বেদানা ও বোম্বাই জাতের লিচু বেশি দেখা গেলেও খুচরা বাজারে অল্প পরিমাণ দেখা মিলেছে বেদানা ও চায়না-থ্রি লিচু। বাজারের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ভ্যান ও ইজিবাইকে লিচু নিয়ে বিক্রির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন চাষি ও বাগানিরা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাইকারিতে মাদ্রাজি লিচুর হাজার বিক্রি হচ্ছে ১৮০০-২০০০ টাকা। বেদানার হাজার ৩৫০০ টাকা থেকে ৬০০০ হাজার, চায়না থ্রি সাত-আট হাজার এবং বোম্বাই ২২০০-২৫০০ টাকা।লিচু ব্যবসায়ী দরদী ফল ভান্ডরের সত্ত্বাধিকারী মো. রানা বলেন, বৃষ্টি ও রোদের কারণে লিচুর সাইজ ও রং অনেক ভালো হয়েছে। মাদ্রাজী ১৮০০-২০০০ টাকা হাজার, চায়না থ্রি সাত-আট হাজার এবং বোম্বাই ২২০০-২৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।মামুন ফল ভান্ডারের সত্ত্বাধিকারী ও আড়ৎদার মো. মামুন বলেন, মার্কেটে জায়গা সংকীর্ণ হওয়ায় খুব কষ্টে আছি। পৌরসভা যেন সহায়তা করে।ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, ব্যাপক লিচু আমদানি হওয়ায় দাম কম। বাগান থেকে মোম্বাই লিচু নিয়ে এনেছি ২৪০০ করে হাজার, এখানে দিলাম ২০০ টাকা লসে ২২০০ করে। গতকাল দাম ভালোই ছিল।বিরল উপজেলার কামদেবপুর থেকে আসা মিজানুর রহমান বলেন, নিউ মার্কেট মাদ্রাজী লিচু নিয়ে প্রায় ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করছি। কখন আড়তে পৌঁছে বিক্রি করবো আল্লাহ জানে।সদর উপজেলার ঘুঘুডাঙ্গা থেকে আসা সজীব হাসান বলেন, লিচু বিক্রির জন্য প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে রাস্তায় লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছি। আর কতক্ষণ লাগবে বলা মুশকিল। লিচুর দাম পাবো কি না তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।নিউমার্কেটে লিচু কিনতে এসেছেন মুশফিকুর রহমান। তিনি দিনাজপুর শহরের বাসিন্দা হলেও চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন। দুপুর ২টার গাড়িতে ঢাকায় যাবেন লিচু নিয়ে। বেদানা লিচু ৫০০ এবং চায়না থ্রি ৮০০ টাকা শ হিসেবে কিনলেন। দাম কম পেয়ে খুশি বলে জানালেন।দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, এবার লিচুর ফলন কিছুটা কম হয়েছে। তবে এবার লিচুর আকার, সাইজ ও রং ভালো। কেবল বাজার শুরু হয়েছে। চাষিরা দাম ভালো পাবেন আশা করছি।
রংপুর নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করতে আধুনিক কসাইখানা (স্লটার হাউস) নির্মাণ করেছে সিটি করপোরেশন। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নগরীর ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কসাইখানাটি এখন উদ্বোধনের প্রহর গুনছে। বর্তমানে এখানে পরীক্ষামূলকভাবে পশু জবাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এই কসাইখানায় পশু জবাইয়ের জন্য রয়েছে পৃথক ইউনিট ও উন্নত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। এছাড়া মাংসের গুণমান ঠিক রাখতে জীবাণুনাশক সুবিধা, স্বাস্থ্যসম্মত সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এখানে পশু জবাইয়ের আগে বিশেষজ্ঞ দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা হবে, ফলে অসুস্থ পশুর মাংস বাজারে আসার কোনো সুযোগ থাকবে না।মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে নবনির্মিত এই প্রকল্প পরিদর্শন করেন রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন। তিনি বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,"পরীক্ষামূলকভাবে পশু জবাই শুরু হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ ও পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা গুছিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে অতিদ্রুত এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।"অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু জবাই ও যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর করতে এই প্রকল্প বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুল হুদা জানান, উন্নত দেশের মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাংস প্রক্রিয়াজাত করা গেলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নগরবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল রহমান বলেন, "খোলা স্থানে জবাইয়ের ফলে যে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণ হতো, আধুনিক কসাইখানা চালু হলে তা বন্ধ হবে।" রাশেদা বেগম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, "নিরাপদ খাদ্য নিয়ে আমরা এখন অনেক সচেতন। এমন ব্যবস্থা চালু হলে আমরা নিশ্চিন্তে মাংস কিনতে পারব।"
রংপুরের ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের প্রতীক 'হাঁড়িভাঙা' আমের স্বাদ নিতে অপেক্ষা আর মাত্র এক মাসের। জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্যের মর্যাদা পাওয়ার পর এবারই প্রথম বাজারে আসছে এই আম। অনুকূল আবহাওয়া আর বাম্পার ফলনে এবার রংপুর অঞ্চলে হাঁড়িভাঙা আমকে কেন্দ্র করে ২৫০ কোটি টাকারও বেশি বাণিজ্যের স্বপ্ন দেখছেন চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা।কৃষিবিদদের মতে, এ বছর হাঁড়িভাঙা আমের ‘অন ইয়ার’। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার ফলন অনেক বেশি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, "এবার গাছে প্রচুর আম ধরেছে। আমরা আশা করছি ২৫০ কোটিরও বেশি টাকার বাণিজ্য হবে।" জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে হাঁড়িভাঙার চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১০ থেকে ১২ টন ফলন হিসেবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টি আম বড় ও রসালো হতে সাহায্য করেছে। যদিও শিলাবৃষ্টিতে কিছু বাগানের সামান্য ক্ষতি হয়েছে, তবে সার্বিক অবস্থা অত্যন্ত ইতিবাচক।আঁশবিহীন, পাতলা ছাল আর ছোট আঁটির এই আম মিষ্টি ও সুগন্ধে অনন্য। প্রতিটি আমের ওজন গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আমটি রংপুরের নিজস্ব জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা ও ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ বহুগুণ বেড়েছে।কৃষিবিদ ও চাষিদের মতে, পরিপক্ব হাঁড়িভাঙা আমের আসল স্বাদ পেতে জুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। মিঠাপুকুরের আমচাষি নাজমুল ইসলাম জানান, বাগানগুলোতে এখন শেষ সময়ের পরিচর্যা চলছে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখনই যোগাযোগ শুরু করেছেন।সুজন-এর রংপুর জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, "হাঁড়িভাঙা এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বাগান থেকে আম সরবরাহের হারও বাড়ছে।" তবে আমটি দ্রুত পচনশীল হওয়ায় বিশেষ মালবাহী ট্রেন এবং আধুনিক হিমাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা।
মধু মাসের আগাম বার্তা নিয়ে বাজারে আসতে শুরু করেছে রসালো ফল লিচু। তবে লিচু প্রেমীদের জন্য সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত খবর হলো, আগামী (১৫ মে) এর পর থেকেই পুরোদমে বাজারজাত করা যাবে উত্তরের জনপদ দিনাজপুরের সুস্বাদু ও সুমিষ্ট লিচু।কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, অপরিপক্ক লিচু বাজারে আসা রোধ করতে এবং ক্রেতাদের গুণগত মানসম্পন্ন ফল পৌঁছে দিতে প্রতি বছরের মতো এবারও সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। দিনাজপুরের প্রধান অর্থকরী ফসল এই লিচু যেন রাসায়নিকমুক্ত এবং পরিপক্ক অবস্থায় মানুষের হাতে পৌঁছায়, সেটি নিশ্চিত করতেই (১৫ মে) পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। গাছে গাছে গাঢ় সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে হালকা সবুজ লিচুর গুটি । ছবি: হেল্প ডেক্সদিনাজপুরের বড় মাঠসহ বিভিন্ন অস্থায়ী বাজারগুলোতে এখন সাজসাজ রব। বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা লিচু পাড়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রথম পর্যায়ে বাজারে আসবে স্থানীয় জাতের ‘মাদরাজি’ লিচু। এরপর পর্যায়ক্রমে বোম্বাই, বেদানা এবং সবশেষে বিশ্বখ্যাত ‘চায়না-থ্রি’ লিচু বাজারে নামবে। লিচু বাজারজাতকরণ নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করাবে । দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লিচু দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ ট্রাক ও পরিবহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া বাজারে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা এবং লেনদেন সহজ করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে থাকবে।বাগানিরা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার দিনাজপুরের লিচু থেকে শতকোটি টাকার ব্যবসা হবে। তীব্র গরমের কারণে ফলের আকার কিছুটা ছোট হলেও স্বাদে কোনো কমতি হবে না বলে জানিয়েছেন চাষিরা।আগামী মঙ্গলবার থেকে বিপণিবিতানগুলো রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তার ফলে ঈদ বাজারের পাশাপাশি মৌসুমী ফলের বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।