প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে সরকার। নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি সবার জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।আগামীকাল সোমবার (০৫ অক্টোবর) ‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে রোববার (০৪ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ন ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও বসবাসযোগ্য নগর গড়ে তোলাই বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ১৯৮৬ সাল থেকে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হয়ে আসছে। ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ন’ প্রত্যয় সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।তিনি বলেন, বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান আবাসন চাহিদার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ।সবার জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করা এবং পরিকল্পিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগরায়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে আবাসন, নগর পরিকল্পনা, নাগরিক সেবা, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, নগর উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর নগর জীবন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন নিশ্চিতকরণ ও সুষম নগর উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকল নাগরিকের জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বাসস্থান এবং এমন নগর ও বসতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন— যেখানে মানুষ প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা, সুস্থ পরিবেশ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ পায়। বিশ্ব বসতি দিবস আমাদের সেই দায়িত্বের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।তিনি বলেন, সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করা এবং টেকসই নগরায়নের মাধ্যমে সবার জন্য বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা আজ আমাদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহর ও নগর দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ন, যানজট, দূষণ, অপর্যাপ্ত নাগরিক সেবা, আবাসন সংকট এবং জলবায়ুজনিত অভিবাসন নগরজীবনে নানা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ন এবং নিম্ন আয়ের পরিবার ও বস্তিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, বস্তিবাসী মানুষের দীর্ঘদিনের আবাসনের মালিকানা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি এবং সমন্বিত পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।‘সবার জন্য বাসস্থান’কে শুধু একটি ঘরের নিশ্চয়তা হিসেবে নয়, বরং নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবার সমন্বিত নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে।তিনি বলেন, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের মাধ্যমে পরিকল্পিত ও সুষম নগর উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তুলতে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-১১ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তারেক রহমান বলেন, টেকসই আবাসন ও নগরায়ন নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। এক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগকারী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, এনজিও, সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন, বস্তি উন্নয়ন, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।সরকার প্রধান বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে নগর ও গ্রাম নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন, প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা এবং সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবে।পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে একটি মানবিক, বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
অনলাইন জরিপ
প্রচলিত ধারণাকে পাল্টে দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে অসময়ে তরমুজ চাষ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও হয়েছে ভালো। ভালো দাম পাওয়ায় খুশি চাষিরাও। লাভজনক এই ফসল আবাদ করতে কৃষকদের উৎসাহিত করছেন কৃষি বিভাগ।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, তরমুজ সাধারণত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চাষ করা হয়। তবে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ও পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে পীরগঞ্জে আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অসময়ে তরমুজ চাষ করছেন কৃষকেরা। গত বছর উপজেলায় প্রায় ১০০ একর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছিল। এবার তা বেড়ে প্রায় ১৫০ একরে দাঁড়িয়েছে।সরেজমিনে উপজেলার দানাজপুরের গণেশ ফার্মসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। ক্ষেতজুড়ে ফলন ধরা তরমুজ। পাইকারেরা ক্ষেত থেকেই তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কৃষকেরাও ব্যস্ত ফলন সংগ্রহ ও বিক্রিতে।গণেশ ফার্মে প্রায় ছয় বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন কৃষক আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, এবার ফলন ভালো হয়েছে। পাইকারেরা ক্ষেত থেকেই তরমুজ কিনে নিচ্ছেন। বর্তমানে প্রতি কেজি তরমুজ প্রায় ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।চাষিরা জানান, এক বিঘা জমিতে তরমুজ চাষে খরচ হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। ফলন ও বাজারদর ভালো থাকলে এক বিঘা জমির তরমুজ এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। চাষের প্রায় দুই মাসের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। আবার ক্ষেত থেকেই পাইকারেরা তরমুজ কিনে নেওয়ায় বাজারজাতের ঝামেলাও কম।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, পীরগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী। অসময়েও ভালো ফলন ও স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে কৃষকদের এ চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৭ নম্বর আমজানখোর ইউনিয়নের কাশিবাড়ি গ্রামে ৬৬ শতক জমির ধানের চারা নষ্ট হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগ উঠেছে। কৃষক রুবেলের দাবি, জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের কারণে ধানের চারাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, যাদের সঙ্গে তার আগে থেকেই জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।কৃষক রুবেলের ভাষ্য, কাশিবাড়ি গ্রামে তার ৬৬ শতক জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছিল। নিয়মিত পরিচর্যার পর জমির চারা ভালোভাবেই বেড়ে উঠছিল। তবে পরবর্তীতে তিনি জমির ধানের চারায় ক্ষতির বিষয়টি দেখতে পান।তার ধারণা, জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের কারণেই ধানের চারাগুলো নষ্ট হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনার সঙ্গে জমি নিয়ে পূর্ববিরোধ থাকা ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। তবে তার এই অভিযোগের পক্ষে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রমাণের বিষয় এখনো জানা যায়নি।রুবেল বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি, তাদের সঙ্গে আগে থেকেই জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ধানের চারা নষ্ট হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আমার সন্দেহ হয়েছে। আমি চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসুক।”এদিকে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তারা কৃষক রুবেলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের বক্তব্য, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও তারা ধানের চারা নষ্ট করার সঙ্গে জড়িত নন। তারা দাবি করেন, অন্য কেউ এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন।অভিযুক্তদের একজন বলেন, “আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। বিষয়টি তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।”স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষক রুবেলের সঙ্গে অভিযুক্তদের জমি নিয়ে পূর্ববিরোধ রয়েছে। তবে ওই বিরোধের সঙ্গে ধানের চারা নষ্ট হওয়ার ঘটনার সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে জমির ক্ষতির বিষয়টি যাচাই, কী কারণে ধানের চারা নষ্ট হয়েছে তা নির্ধারণ এবং অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।এ ঘটনায় কৃষক রুবেল ক্ষতিগ্রস্ত জমির বিষয়ে তদন্ত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে অভিযুক্তরাও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি করেছেন।তবে তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা বা ঘটনার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দায়ী করা যাচ্ছে না।
গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার সিট আলোকডিহি গ্রামের কৃষক ময়েজ উদ্দিন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চলতি মৌসুমে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষ করে লাভের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।আজ বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ময়েজ উদ্দিনের ২০ শতক জমির শিমখেত ফুল ও ফলে ভরে উঠেছে। মাচাজুড়ে ঝুলছে কচি শিম। পরিচর্যা, শিম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ময়েজ উদ্দিন।ময়েজ উদ্দিনের শিম চাষ দেখে একই এলাকার অন্য কৃষকরাও গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তাঁর সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে কৃষক কায়েসসহ ওই এলাকার আরও কয়েকজন কৃষক চলতি মৌসুমে শিম চাষ করেছেন। এতে এলাকায় গ্রীষ্মকালীন শিম চাষের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যে বিকল্প ও লাভজনক সবজি চাষে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।কৃষক ময়েজ উদ্দিন জানান, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি বিকল্প ও লাভজনক ফসল চাষের চিন্তা থেকেই তিনি গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে আগ্রহী হন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রকল্পের সহযোগিতায় ২০ শতক জমিতে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষ শুরু করেন। গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে শিমের ভালো ফলন ও তুলনামূলক ভালো বাজারদর পাওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে আরও জমিতে এ জাতের শিম চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।ময়েজ জানান, ‘২০ শতক জমিতে শিম চাষে এ পর্যন্ত তাঁর প্রায় ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বর্তমান ফলনের ধারাবাহিকতায় প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করার আশা করছেন তিনি। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি শিম ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে তাঁর প্রায় ৩৫ থেকে ৪২ হাজার টাকা লাভ হতে পারে।’উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল বিন আমিন বলেন, ময়েজ উদ্দিনের শিমখেতে নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতটি গ্রীষ্মকালীন সময়ে চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় কৃষকের ভালো ফলন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাঁরা আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে কম খরচে বেশি উৎপাদন ও লাভ করতে পারেন।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, জলবায়ু ও মৌসুমভেদে ফসলের বৈচিত্র্য আনা এবং একই জমিতে অধিকতর লাভজনক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যেই বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত জাত সম্পর্কে উৎসাহিত করা হচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন শিম চাষের মতো উদ্যোগ কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়াতেও ভূমিকা রাখছে।
বাজারে নতুন আলুর চড়া দামের আশায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। শীত আসার আগেই নতুন আলু বাজারে তুলে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় আমন ধান কাটার পরপরই উঁচু জমিতে আলু রোপণ শুরু করেছেন তারা। গত মৌসুমে আলুর দাম কম থাকায় লোকসান গুনতে হয়েছে অনেক কৃষককে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার অনুকূল আবহাওয়া, তুলনামূলক বীজের দাম ও সারের স্বাভাবিক সরবরাহকে কাজে লাগিয়ে আগেভাগেই মাঠে নেমেছেন কৃষকেরা। কিশোরগঞ্জ উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই আগাম আলু চাষের জন্য পরিচিত। এঅঞ্চলের কৃষকেরা শীতের আগেই আলু বাজারে তুলে তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করেন।কৃষকেরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগাম আলু প্রতি কেজি ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে। স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় সেভেন জাতের আলু রোপণের ৫০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই তোলা যায়। বাজারে নতুন আলুর চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় আগাম আলু চাষে কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে।সরেজমিনে দেখা যায়, বাহাগিলী, নিতাই, পুটিমারী, গাড়াগ্রাম ও রণচণ্ডীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে আগাম আমন ধান কাটার পরপরই জমি প্রস্তুত করে আলু রোপণ করছেন কৃষকেরা। কেউ আলু রোপণ শেষ করেছেন, আবার কেউ জমি প্রস্তুত করছেন। ফলে মাঠে বেড়েছে কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের ব্যস্ততা। বেড়েছে শ্রমিকের চাহিদা ও মজুরিও।বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি পশ্চিমপাড়া গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি এবার ৫০ শতাংশ জমিতে আগাম আলু রোপণ করছি। জমি ইজারা, হালচাষ, শ্রমিক ও কৃষি উপকরণসহ আলু তোলা পর্যন্ত প্রায় ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। বাজারদর ভালো থাকলে প্রতি কেজি আলু ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে। একই এলাকার কৃষক এজাজুল ইসলাম বলেন, গত বছর বিঘাপ্রতি বেশ লোকসান হয়েছে। এবার সেই লোকসানের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগাম আলু চাষ করছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলন ও চড়া দাম পাওয়ার আশা করছি। পুটিমারী ইউনিয়নের কৃষক মনছুর আলী বলেন, প্রতি বছরই আমাদের উপজেলায় আগাম আলু চাষ হয়। আমি এবার দুই বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছি। হিমাগার থেকে আলু এনে বীজ হিসেবে ব্যবহার করেছি। খরচ কিছুটা বেশি হয়েছে। তবে ভালো দাম পেলে লাভ হবে। এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম বলেন, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা ভালো বাজারদর পেয়ে লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় ৫ হাজার ৮৯০ জন কৃষকের মাঝে প্রায় ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকার কৃষি ঋণ মওকুফের সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক কৃষকের হাতে পাঁচটি করে মোট ২৯ হাজার ৪৫০টি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজনকে ঘিরে কৃষকদের মাঝে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে বোদা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বোদা মডেল পাইলট সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে কৃষি ঋণ মওকুফ সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে কয়েক হাজার কৃষক অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে স্থানীয় শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং রাজশাহী থেকে আগত শিল্পীদের গম্ভীরা পরিবেশনের মাধ্যমে কৃষকবান্ধব বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।জেলা প্রশাসক মোসাঃ শুকরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার আবু সাইম, বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহেমদ রাশেদ উন নবী এবং বোদা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দিল রেজা ফেরদৌস চিন্ময়সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা।প্রধান অতিথি অনুষ্ঠানে ৫ হাজার ৮৯০ জন কৃষকের হাতে প্রায় ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকার কৃষি ঋণ মওকুফের সনদ তুলে দেন। পাশাপাশি প্রত্যেক কৃষককে পাঁচটি করে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা প্রদান করা হয়। সব মিলিয়ে ২৯ হাজার ৪৫০টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কৃষকদের অংশগ্রহণে হাঁস ধরা, কলাগাছ খেলা, দড়ি টানাটানিসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনে অংশ নিয়ে কৃষকরা আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগে উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।
রংপুরের ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারে এসেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও জুনের মাঝামাঝি সময়ে এই রসালো ও সুস্বাদু আমের আনুষ্ঠানিক বিক্রি শুরু হয়েছে।সোমবার (১৫ জুন) থেকে সরকারিভাবে রংপুরের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারজাতকরণ শুরু হয়। প্রথম দিনেই রংপুরের বিখ্যাত আম বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থল পদাগঞ্জ হাটসহ বিভিন্ন বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।আমবাগানের মালিক, আমের ফড়িয়া, বাগানের পরিচর্যায় নিয়োজিত ব্যক্তি, মৌসুমি আম বিক্রেতা, অনলাইনে আম বিক্রেতা, পরিবহন ব্যবসায়ী, কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসায়ী সবাই যে যার মতো করে আম কেনা-বেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পরিপক্ব হওয়ার আগেই এক সপ্তাহ আগে থেকেই এই আম বিক্রি শুরু করেছেন।চাষি ও স্থানীয় পাইকারি বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মান ও আকারের ওপর ভিত্তি করে প্রতি মণ বড় সাইজের আমের দাম এখন ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা এবং মাঝারি সাইজের প্রতি মণ আম ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ পাইকারি মূল্যে প্রতি কেজি আমের দাম পড়ছে ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা।তবে খুচরা বাজারে বড় সাইজের আম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আর মাঝারি সাইজের আম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।স্থানীয় আমচাষি মেহেদী হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘নিজস্ব পাঁচ বিঘা জমিতে এবার আম চাষ করেছেন। টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ফলন কম হয়েছে। সেইসঙ্গে আমের গায়ের কালারও পরিবর্তন হয়েছে। গত বছর শুরুতে যে আমের মণ ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত ছিল, এবার সেই আমের দাম কমে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’পদাগঞ্জ এলাকার আমচাষি মোসাব্বির বকসি বলেন, ৮ একর জমিতে আমের চাষ করেছি। শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে বাগানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এখন যে দামে বিক্রি হচ্ছে তাতে আশানুরূপ লাভ হবে না। তবে দিন গড়ালে দাম আরও বাড়তে পারে।’ঢাকা থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘রংপুরের মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বাগান থেকে আম সংগ্রহ করে ট্রাকে করে চলে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। শুধু তাই নয়, কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর পাশাপাশি এবারও অনলাইনে হাঁড়িভাঙ্গা আম বিক্রির ধুম পড়েছে। ফেসবুক পেজ ও ই-কমার্স সাইটগুলোর মাধ্যমে ঘরে বসেই ক্রেতারা একদম তাজা আম পেয়ে যাচ্ছেন।কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো প্রতি কেজি আমের খরচ ১৩ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ১৬ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ক্যারেট/বক্স, প্যাকিং খরচসহ এক মণ আম পাঠাতে ৩৬০০ থেকে ৪০০০ টাকা খরচ পড়ছে। এদিকে রংপুর নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সড়ক, সিটি বাজার, লালবাগ, মডার্ন মোড়, ধাপ বাজার, শাপলা চত্বরসহ নগরীর বিভিন্ন হাট-বাজারেও মিলছে এই আম। হাট-বাজার ছাড়াও পাড়ামহল্লার অলিগলিতে ফেরি করে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি করতে দেখা গেছে।স্থানীয়রা বলেন, সরকারি উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ জুন থেকে আম বাজারজাত শুরু হয়েছে। কিন্তু এই আম পরিপক্ব না হতেই এক সপ্তাহ আগে থেকে অনেকেই বাড়তি লাভের আশায় বাগান থেকে পেরে বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো শুরু করেছেন।পদাগঞ্জ এলাকার মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমের কারণে এবার আগেভাগেই আম পাড়া শুরু হয়েছে। তবে কেউ কেউ আম পাকাতে স্প্রে মেশাচ্ছেন। যদিও এটা করা অন্যায় এবং এতে হাঁড়িভাঙা আমের প্রকৃত স্বাদ থাকছে না।’পাইকারি ব্যবসায়ী আলম মিয়া বলেন, ‘বাগানে আম পরিপক্ব হয়েছে। বাগান মালিকরা তাকে ডেকে আম বিক্রির কথা বলেন। তাই এক সপ্তাহ আগ থেকেই তাদের কাছ থেকে তিনি আম কিনে বিক্রি শুরু করছেন।’কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবার রংপুর জেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০০ হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে হাঁড়িভাঙা আমের ফলন হয় প্রায় ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০০ কোটি টাকার ওপরে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি হবে বলে।কৃষি সম্প্রসারণ রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শিলাবৃষ্টিতে হাঁড়িভাঙা ঝড়ে পড়লেও ফলন ভালো হয়েছে। আকারেও বড় হয়েছে। তাই কৃষকরা পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করা যায়।’হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারজাতকরণের উদ্বোধনী দিনে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘হাড়িভাঙ্গা আমের জন্য পদাগঞ্জ বাজার অন্যতম বাণিজ্যিক জায়গা। তবে এটার অবকাঠামোগত কিছু অসুবিধা আছে। এই অসুবিধাগুলো দূর করার জন্য তিন বছর মেয়াদি অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা নিয়েছি। এই হাটটাকে কীভাবে আরও উন্নত করা যায় এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ কীভাবে লাঘব করা যায়- সে বিষয়ে কাজ করছি। এছাড়াও রপ্তানির প্রতিবন্ধকতাগুলোও সমাধানের চেষ্টা করছি।’উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। হাঁড়িভাঙা আম এখন আর কেবল দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, পাকিস্তান, ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই আম রপ্তানি করা হয়। দেশের ভেতরে ফেসবুক ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বাগান থেকে আম সরবরাহের হার গত কয়েক বছরে কয়েক গুণ বেড়েছে।