বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে সহায়তা হিসেবে ৫০ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাপান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেইয়ে’ এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ সময় জাপানি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। অন্যদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, বাংলাদেশকে গভীরভাবে সমর্থন করে জাপান। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী টোকিও। এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
অনলাইন জরিপ
কীটনাশক বা বালাইনাশকের পেছনে অতিরিক্ত টাকা ঢালার দিন এখন অতীত। রংপুরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে রোপা আমন ক্ষেতে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে এখন বিপ্লব ঘটিয়েছে পরিবেশবান্ধব ও সম্পূর্ণ সাশ্রয়ী ‘পার্চিং’ পদ্ধতি। ক্ষেতের মাঝখানে পাখি বসার ছোট একটি ব্যবস্থা করেই প্রাকৃতিকভাবে ক্ষেতের শত্রু পোকা দমন করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। এর ফলে একদিকে যেমন কীটনাশক কেনার খরচ কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ, অন্যদিকে বেঁচে গেছে প্রকৃতি ও পরিবেশ।চলতি মৌসুমে রংপুর জেলায় ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাঠের ফসল দেখতে দারুণ সতেজ ও সবুজ। কৃষি বিভাগ আশা প্রকাশ করেছে, শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া ঠিক থাকলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে। আর এই সফলতার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে আধুনিক অথচ প্রকৃতিসম্মত পার্চিং পদ্ধতি।পরিসংখ্যান বলছে, এবার জেলার মোট আবাদি জমির প্রায় ৮৮ শতাংশ—অর্থাৎ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৫ হেক্টর জমিতেই এই পদ্ধতি সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ধইঞ্চা গাছ লাগিয়ে ‘লাইভ পার্চিং’ এবং ১ লাখ ৩১ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে গাছের ডাল, বাঁশ ও কঞ্চি পুঁতে ‘ডেড পার্চিং’-এর মাধ্যমে পাখি বসার স্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়েছে।কার্যপ্রণালী অত্যন্ত সহজ। জমির মাঝে পুঁতে দেওয়া ডাল কিংবা ধইঞ্চা গাছের ওপর এসে বসে ফিঙে, শালিক, বুলবুলি ও দোয়েলের মতো পোকাখেকো পাখি। এরপর ধানের প্রধান শত্রু—মাজরা, পাতা মোড়ানো, চুঙ্গি ও লেদা পোকার মথ বা কীড়াগুলো নিখুঁতভাবে ধরে খেয়ে ফেলে তারা। এতে কোনো কেমিক্যালের বালাই ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবেই নির্মূল হয় ফসলের পোকা। এমনকি পাখিদের বিষ্ঠা জমিতে জৈব সার হিসেবে জমা হয়ে মাটির উর্বরতা শক্তিও বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।কাউনিয়া, মিঠাপুকুর কিংবা সদর উপজেলার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, দিগন্তজোড়া সোনালী ও সবুজ ধানের শীষের সমারোহের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা পার্চিংগুলোতে অনবরত চলছে পাখিদের পোকা শিকারের উৎসব। স্থানীয় কৃষক নাছির উদ্দিন, শাহজাহান মন্ডল ও রতন চন্দ্ররা জানান, কোনো খরচ ছাড়াই পোকা দমন করা সম্ভব হওয়ায় এখন আর আগের মতো ক্ষতিকর কীটনাশকের ওপর নির্ভর করতে হয় না।রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ মো. সাইফুল আলম জানান, কৃষকদের মুখে এখন দারুণ স্বস্তির হাসি। জেলার আটটি উপজেলাতেই এই পদ্ধতি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ায় কীটনাশক বাবদ খরচ কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি বাম্পার ফলন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই সবুজ বিপ্লব কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।
করোনা কালে তামাক চাষের বিকল্প হিসেবে মাল্টা চাষ শুরু করেন লালমনিরহাট সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন। ২০২১ সালে আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের তালেরতল গ্রামে দুই একর জমিতে মাত্র আড়াই লাখ টাকা বিনিয়োগে গড়ে তোলেন ফলের বাগান। বর্তমানে মাল্টা, কমলা ও পেঁপে চাষ করে বছরে আয় করছেন ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা।তাঁর এই উদ্যোগে স্থানীয় চারটি পরিবারের কর্মসংস্থান হয়েছে। বাগান দেখতে ও চাষের পদ্ধতি শিখতে আসছেন বিভিন্ন এলাকার তরুণেরা। তাঁদের অনেকেই নিজের জমিতে ফলের বাগান করার পরিকল্পনা করছেন।মামুন জানান, তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মাদকের ঝুঁকি থেকে দূরে রাখার চিন্তা থেকেই তাঁর এই উদ্যোগ।লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, পরিকল্পিতভাবে মাল্টা চাষ করলে কৃষকেরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন।তামাকের বিকল্প হিসেবে আব্দুল্লাহ আল মামুনের এই উদ্যোগ এলাকায় ফল চাষ ও স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
প্রচলিত ধারণাকে পাল্টে দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে অসময়ে তরমুজ চাষ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও হয়েছে ভালো। ভালো দাম পাওয়ায় খুশি চাষিরাও। লাভজনক এই ফসল আবাদ করতে কৃষকদের উৎসাহিত করছেন কৃষি বিভাগ।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, তরমুজ সাধারণত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চাষ করা হয়। তবে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ও পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে পীরগঞ্জে আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অসময়ে তরমুজ চাষ করছেন কৃষকেরা। গত বছর উপজেলায় প্রায় ১০০ একর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছিল। এবার তা বেড়ে প্রায় ১৫০ একরে দাঁড়িয়েছে।সরেজমিনে উপজেলার দানাজপুরের গণেশ ফার্মসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। ক্ষেতজুড়ে ফলন ধরা তরমুজ। পাইকারেরা ক্ষেত থেকেই তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কৃষকেরাও ব্যস্ত ফলন সংগ্রহ ও বিক্রিতে।গণেশ ফার্মে প্রায় ছয় বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন কৃষক আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, এবার ফলন ভালো হয়েছে। পাইকারেরা ক্ষেত থেকেই তরমুজ কিনে নিচ্ছেন। বর্তমানে প্রতি কেজি তরমুজ প্রায় ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।চাষিরা জানান, এক বিঘা জমিতে তরমুজ চাষে খরচ হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। ফলন ও বাজারদর ভালো থাকলে এক বিঘা জমির তরমুজ এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। চাষের প্রায় দুই মাসের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। আবার ক্ষেত থেকেই পাইকারেরা তরমুজ কিনে নেওয়ায় বাজারজাতের ঝামেলাও কম।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, পীরগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী। অসময়েও ভালো ফলন ও স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে কৃষকদের এ চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৭ নম্বর আমজানখোর ইউনিয়নের কাশিবাড়ি গ্রামে ৬৬ শতক জমির ধানের চারা নষ্ট হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগ উঠেছে। কৃষক রুবেলের দাবি, জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের কারণে ধানের চারাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, যাদের সঙ্গে তার আগে থেকেই জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।কৃষক রুবেলের ভাষ্য, কাশিবাড়ি গ্রামে তার ৬৬ শতক জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছিল। নিয়মিত পরিচর্যার পর জমির চারা ভালোভাবেই বেড়ে উঠছিল। তবে পরবর্তীতে তিনি জমির ধানের চারায় ক্ষতির বিষয়টি দেখতে পান।তার ধারণা, জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের কারণেই ধানের চারাগুলো নষ্ট হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনার সঙ্গে জমি নিয়ে পূর্ববিরোধ থাকা ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। তবে তার এই অভিযোগের পক্ষে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রমাণের বিষয় এখনো জানা যায়নি।রুবেল বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি, তাদের সঙ্গে আগে থেকেই জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ধানের চারা নষ্ট হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আমার সন্দেহ হয়েছে। আমি চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসুক।”এদিকে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তারা কৃষক রুবেলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের বক্তব্য, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও তারা ধানের চারা নষ্ট করার সঙ্গে জড়িত নন। তারা দাবি করেন, অন্য কেউ এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন।অভিযুক্তদের একজন বলেন, “আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। বিষয়টি তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।”স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষক রুবেলের সঙ্গে অভিযুক্তদের জমি নিয়ে পূর্ববিরোধ রয়েছে। তবে ওই বিরোধের সঙ্গে ধানের চারা নষ্ট হওয়ার ঘটনার সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে জমির ক্ষতির বিষয়টি যাচাই, কী কারণে ধানের চারা নষ্ট হয়েছে তা নির্ধারণ এবং অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।এ ঘটনায় কৃষক রুবেল ক্ষতিগ্রস্ত জমির বিষয়ে তদন্ত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে অভিযুক্তরাও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি করেছেন।তবে তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা বা ঘটনার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দায়ী করা যাচ্ছে না।
গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার সিট আলোকডিহি গ্রামের কৃষক ময়েজ উদ্দিন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চলতি মৌসুমে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষ করে লাভের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।আজ বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ময়েজ উদ্দিনের ২০ শতক জমির শিমখেত ফুল ও ফলে ভরে উঠেছে। মাচাজুড়ে ঝুলছে কচি শিম। পরিচর্যা, শিম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ময়েজ উদ্দিন।ময়েজ উদ্দিনের শিম চাষ দেখে একই এলাকার অন্য কৃষকরাও গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তাঁর সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে কৃষক কায়েসসহ ওই এলাকার আরও কয়েকজন কৃষক চলতি মৌসুমে শিম চাষ করেছেন। এতে এলাকায় গ্রীষ্মকালীন শিম চাষের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যে বিকল্প ও লাভজনক সবজি চাষে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।কৃষক ময়েজ উদ্দিন জানান, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি বিকল্প ও লাভজনক ফসল চাষের চিন্তা থেকেই তিনি গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে আগ্রহী হন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রকল্পের সহযোগিতায় ২০ শতক জমিতে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষ শুরু করেন। গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে শিমের ভালো ফলন ও তুলনামূলক ভালো বাজারদর পাওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে আরও জমিতে এ জাতের শিম চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।ময়েজ জানান, ‘২০ শতক জমিতে শিম চাষে এ পর্যন্ত তাঁর প্রায় ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বর্তমান ফলনের ধারাবাহিকতায় প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করার আশা করছেন তিনি। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি শিম ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে তাঁর প্রায় ৩৫ থেকে ৪২ হাজার টাকা লাভ হতে পারে।’উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল বিন আমিন বলেন, ময়েজ উদ্দিনের শিমখেতে নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতটি গ্রীষ্মকালীন সময়ে চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় কৃষকের ভালো ফলন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাঁরা আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে কম খরচে বেশি উৎপাদন ও লাভ করতে পারেন।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, জলবায়ু ও মৌসুমভেদে ফসলের বৈচিত্র্য আনা এবং একই জমিতে অধিকতর লাভজনক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যেই বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত জাত সম্পর্কে উৎসাহিত করা হচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন শিম চাষের মতো উদ্যোগ কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়াতেও ভূমিকা রাখছে।
বাজারে নতুন আলুর চড়া দামের আশায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। শীত আসার আগেই নতুন আলু বাজারে তুলে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় আমন ধান কাটার পরপরই উঁচু জমিতে আলু রোপণ শুরু করেছেন তারা। গত মৌসুমে আলুর দাম কম থাকায় লোকসান গুনতে হয়েছে অনেক কৃষককে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার অনুকূল আবহাওয়া, তুলনামূলক বীজের দাম ও সারের স্বাভাবিক সরবরাহকে কাজে লাগিয়ে আগেভাগেই মাঠে নেমেছেন কৃষকেরা। কিশোরগঞ্জ উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই আগাম আলু চাষের জন্য পরিচিত। এঅঞ্চলের কৃষকেরা শীতের আগেই আলু বাজারে তুলে তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করেন।কৃষকেরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগাম আলু প্রতি কেজি ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে। স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় সেভেন জাতের আলু রোপণের ৫০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই তোলা যায়। বাজারে নতুন আলুর চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় আগাম আলু চাষে কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে।সরেজমিনে দেখা যায়, বাহাগিলী, নিতাই, পুটিমারী, গাড়াগ্রাম ও রণচণ্ডীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে আগাম আমন ধান কাটার পরপরই জমি প্রস্তুত করে আলু রোপণ করছেন কৃষকেরা। কেউ আলু রোপণ শেষ করেছেন, আবার কেউ জমি প্রস্তুত করছেন। ফলে মাঠে বেড়েছে কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের ব্যস্ততা। বেড়েছে শ্রমিকের চাহিদা ও মজুরিও।বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি পশ্চিমপাড়া গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি এবার ৫০ শতাংশ জমিতে আগাম আলু রোপণ করছি। জমি ইজারা, হালচাষ, শ্রমিক ও কৃষি উপকরণসহ আলু তোলা পর্যন্ত প্রায় ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। বাজারদর ভালো থাকলে প্রতি কেজি আলু ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে। একই এলাকার কৃষক এজাজুল ইসলাম বলেন, গত বছর বিঘাপ্রতি বেশ লোকসান হয়েছে। এবার সেই লোকসানের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগাম আলু চাষ করছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলন ও চড়া দাম পাওয়ার আশা করছি। পুটিমারী ইউনিয়নের কৃষক মনছুর আলী বলেন, প্রতি বছরই আমাদের উপজেলায় আগাম আলু চাষ হয়। আমি এবার দুই বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছি। হিমাগার থেকে আলু এনে বীজ হিসেবে ব্যবহার করেছি। খরচ কিছুটা বেশি হয়েছে। তবে ভালো দাম পেলে লাভ হবে। এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম বলেন, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা ভালো বাজারদর পেয়ে লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।