দেশের ব্যাংক খাতের সামগ্রিক তদারকি জোরদার, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ১,২৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ের পাঁচ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই প্রকল্পসহ মোট ১৫,৮২৩.৫৭ কোটি টাকা ব্যয় সংবলিত ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০,১৮৮.৩৩ কোটি টাকা, বৈদেশিক ঋণ ৫,২৫২.৯৬ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮২ কোটি টাকা।ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তায় ১,২৭৬ কোটি টাকার প্রকল্প'ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২' শীর্ষক প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রকল্প ডকুমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, এই তহবিলের প্রায় পুরোটাই অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ)। দেশে বর্তমানে ব্যাংক খাতে প্রায় ৩৩ শতাংশ খেলাপি ঋণ, দুর্বল সুশাসন, বেশ কয়েকটি ব্যাংকে মূলধন ও তীব্র তারল্য সংকট এবং পুরোনো তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি মূলত আর্থিক খাতের নিরাপত্তা বলয় শক্তিশালীকরণ, ব্যাংকের পুনর্গঠন ও সংকট সমাধান এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কারের ওপর দৃষ্টি দেবে। প্রকল্পের ব্যয়ের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট ১,২৭৬ কোটি টাকার মধ্যে ১,০৭৭ কোটি টাকাই মূলধনী ব্যয় হিসেবে বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭১২ কোটি টাকা আইসিটি সরঞ্জাম এবং ৩৫৫ কোটি টাকা কম্পিউটার সফটওয়্যার কেনার জন্য রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শক সেবার সংস্থান রাখা হয়েছে।নথিতে বলা হয়, সমন্বিত তথ্যব্যবস্থার অভাবসহ ব্যাংকিং তদারকির দুর্বলতার কারণে সাইবার হামলা ও আন্তঃসীমান্ত আর্থিক ঝুঁকির মতো উদীয়মান ঝুঁকি মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় নতুন এই প্রকল্প ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ট্রাস্ট ফান্ডের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াবে এবং আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার সময়সীমা কমাবে। পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করে জানায়, এটি আর্থিক খাতের নিরাপত্তা বলয়, প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিং এবং খাতটির সামগ্রিক সংস্কারে ভূমিকা রাখবে। তবে নথিতে খেলাপি ঋণ কমানোর নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যমাত্রা বা ঠিক কতটি ব্যাংক পুনর্গঠন করা হবে তার উল্লেখ নেই।শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণের ব্যয় আরও বাড়ল একনেক সভায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশোধনীতে প্রকল্পটির মোট ব্যয় বাড়িয়ে ২২,২১৩ কোটি টাকা করা হয়েছে। এর আগে দ্বিতীয় সংশোধনীতে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১,৩৬৫.৫১ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এই মূল প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮৪৭.৫৭ কোটি টাকা।প্রকল্প প্রস্তাবে জানানো হয়, অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, নতুন কাজ যুক্ত হওয়া এবং চুক্তি অনুযায়ী মূল্য সমন্বয়ের কারণেই ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, 'তৃতীয় টার্মিনাল চালু না হলেও ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৬৬৭ কোটি টাকা দিতে হয়েছে। এছাড়া ভিভিআইপিদের বিশেষ সুবিধা ও কার্গো হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন অংশে আরও ২৯৪ কোটি টাকা প্রয়োজন হচ্ছে।'অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পসমূহসভায় স্বাস্থ্য খাতের 'ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইচআইভি/এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ' এবং 'পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (১ম সংশোধিত)' প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।প্রতিবন্ধী ও সামাজিক সুরক্ষায় 'চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠান রৌফাবাদ, চট্টগ্রাম-এ হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা' প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।পানি সম্পদ ও অবকাঠামো খাতের অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে—মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনীর বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (অংশ-১); মেঘনা নদীর ভাঙন হতে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাধীন শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা; মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (৩য় সংশোধিত)।আইনশৃঙ্খলা, ভূমি ও জ্বালানি খাতের অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পসমূহ—ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে ৩টি সিটি কর্পোরেশন, ১টি পৌরসভা এবং ২টি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন (২য় সংশোধিত); র্যাব-এর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ (২য় সংশোধিত); ফেনী জেলার সোনাগাজীতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ; তিনটি পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ।
অনলাইন জরিপ
বাজারে নতুন আলুর চড়া দামের আশায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। শীত আসার আগেই নতুন আলু বাজারে তুলে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় আমন ধান কাটার পরপরই উঁচু জমিতে আলু রোপণ শুরু করেছেন তারা। গত মৌসুমে আলুর দাম কম থাকায় লোকসান গুনতে হয়েছে অনেক কৃষককে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার অনুকূল আবহাওয়া, তুলনামূলক বীজের দাম ও সারের স্বাভাবিক সরবরাহকে কাজে লাগিয়ে আগেভাগেই মাঠে নেমেছেন কৃষকেরা। কিশোরগঞ্জ উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই আগাম আলু চাষের জন্য পরিচিত। এঅঞ্চলের কৃষকেরা শীতের আগেই আলু বাজারে তুলে তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করেন।কৃষকেরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগাম আলু প্রতি কেজি ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে। স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় সেভেন জাতের আলু রোপণের ৫০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই তোলা যায়। বাজারে নতুন আলুর চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় আগাম আলু চাষে কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে।সরেজমিনে দেখা যায়, বাহাগিলী, নিতাই, পুটিমারী, গাড়াগ্রাম ও রণচণ্ডীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে আগাম আমন ধান কাটার পরপরই জমি প্রস্তুত করে আলু রোপণ করছেন কৃষকেরা। কেউ আলু রোপণ শেষ করেছেন, আবার কেউ জমি প্রস্তুত করছেন। ফলে মাঠে বেড়েছে কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের ব্যস্ততা। বেড়েছে শ্রমিকের চাহিদা ও মজুরিও।বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি পশ্চিমপাড়া গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি এবার ৫০ শতাংশ জমিতে আগাম আলু রোপণ করছি। জমি ইজারা, হালচাষ, শ্রমিক ও কৃষি উপকরণসহ আলু তোলা পর্যন্ত প্রায় ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। বাজারদর ভালো থাকলে প্রতি কেজি আলু ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে। একই এলাকার কৃষক এজাজুল ইসলাম বলেন, গত বছর বিঘাপ্রতি বেশ লোকসান হয়েছে। এবার সেই লোকসানের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগাম আলু চাষ করছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলন ও চড়া দাম পাওয়ার আশা করছি। পুটিমারী ইউনিয়নের কৃষক মনছুর আলী বলেন, প্রতি বছরই আমাদের উপজেলায় আগাম আলু চাষ হয়। আমি এবার দুই বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছি। হিমাগার থেকে আলু এনে বীজ হিসেবে ব্যবহার করেছি। খরচ কিছুটা বেশি হয়েছে। তবে ভালো দাম পেলে লাভ হবে। এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম বলেন, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা ভালো বাজারদর পেয়ে লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় ৫ হাজার ৮৯০ জন কৃষকের মাঝে প্রায় ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকার কৃষি ঋণ মওকুফের সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক কৃষকের হাতে পাঁচটি করে মোট ২৯ হাজার ৪৫০টি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজনকে ঘিরে কৃষকদের মাঝে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে বোদা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বোদা মডেল পাইলট সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে কৃষি ঋণ মওকুফ সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে কয়েক হাজার কৃষক অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে স্থানীয় শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং রাজশাহী থেকে আগত শিল্পীদের গম্ভীরা পরিবেশনের মাধ্যমে কৃষকবান্ধব বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।জেলা প্রশাসক মোসাঃ শুকরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার আবু সাইম, বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহেমদ রাশেদ উন নবী এবং বোদা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দিল রেজা ফেরদৌস চিন্ময়সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা।প্রধান অতিথি অনুষ্ঠানে ৫ হাজার ৮৯০ জন কৃষকের হাতে প্রায় ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকার কৃষি ঋণ মওকুফের সনদ তুলে দেন। পাশাপাশি প্রত্যেক কৃষককে পাঁচটি করে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা প্রদান করা হয়। সব মিলিয়ে ২৯ হাজার ৪৫০টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কৃষকদের অংশগ্রহণে হাঁস ধরা, কলাগাছ খেলা, দড়ি টানাটানিসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনে অংশ নিয়ে কৃষকরা আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগে উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।
রংপুরের ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারে এসেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও জুনের মাঝামাঝি সময়ে এই রসালো ও সুস্বাদু আমের আনুষ্ঠানিক বিক্রি শুরু হয়েছে।সোমবার (১৫ জুন) থেকে সরকারিভাবে রংপুরের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারজাতকরণ শুরু হয়। প্রথম দিনেই রংপুরের বিখ্যাত আম বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থল পদাগঞ্জ হাটসহ বিভিন্ন বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।আমবাগানের মালিক, আমের ফড়িয়া, বাগানের পরিচর্যায় নিয়োজিত ব্যক্তি, মৌসুমি আম বিক্রেতা, অনলাইনে আম বিক্রেতা, পরিবহন ব্যবসায়ী, কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসায়ী সবাই যে যার মতো করে আম কেনা-বেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পরিপক্ব হওয়ার আগেই এক সপ্তাহ আগে থেকেই এই আম বিক্রি শুরু করেছেন।চাষি ও স্থানীয় পাইকারি বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মান ও আকারের ওপর ভিত্তি করে প্রতি মণ বড় সাইজের আমের দাম এখন ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা এবং মাঝারি সাইজের প্রতি মণ আম ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ পাইকারি মূল্যে প্রতি কেজি আমের দাম পড়ছে ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা।তবে খুচরা বাজারে বড় সাইজের আম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আর মাঝারি সাইজের আম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।স্থানীয় আমচাষি মেহেদী হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘নিজস্ব পাঁচ বিঘা জমিতে এবার আম চাষ করেছেন। টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ফলন কম হয়েছে। সেইসঙ্গে আমের গায়ের কালারও পরিবর্তন হয়েছে। গত বছর শুরুতে যে আমের মণ ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত ছিল, এবার সেই আমের দাম কমে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’পদাগঞ্জ এলাকার আমচাষি মোসাব্বির বকসি বলেন, ৮ একর জমিতে আমের চাষ করেছি। শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে বাগানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এখন যে দামে বিক্রি হচ্ছে তাতে আশানুরূপ লাভ হবে না। তবে দিন গড়ালে দাম আরও বাড়তে পারে।’ঢাকা থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘রংপুরের মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বাগান থেকে আম সংগ্রহ করে ট্রাকে করে চলে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। শুধু তাই নয়, কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর পাশাপাশি এবারও অনলাইনে হাঁড়িভাঙ্গা আম বিক্রির ধুম পড়েছে। ফেসবুক পেজ ও ই-কমার্স সাইটগুলোর মাধ্যমে ঘরে বসেই ক্রেতারা একদম তাজা আম পেয়ে যাচ্ছেন।কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো প্রতি কেজি আমের খরচ ১৩ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ১৬ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ক্যারেট/বক্স, প্যাকিং খরচসহ এক মণ আম পাঠাতে ৩৬০০ থেকে ৪০০০ টাকা খরচ পড়ছে। এদিকে রংপুর নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সড়ক, সিটি বাজার, লালবাগ, মডার্ন মোড়, ধাপ বাজার, শাপলা চত্বরসহ নগরীর বিভিন্ন হাট-বাজারেও মিলছে এই আম। হাট-বাজার ছাড়াও পাড়ামহল্লার অলিগলিতে ফেরি করে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি করতে দেখা গেছে।স্থানীয়রা বলেন, সরকারি উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ জুন থেকে আম বাজারজাত শুরু হয়েছে। কিন্তু এই আম পরিপক্ব না হতেই এক সপ্তাহ আগে থেকে অনেকেই বাড়তি লাভের আশায় বাগান থেকে পেরে বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো শুরু করেছেন।পদাগঞ্জ এলাকার মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমের কারণে এবার আগেভাগেই আম পাড়া শুরু হয়েছে। তবে কেউ কেউ আম পাকাতে স্প্রে মেশাচ্ছেন। যদিও এটা করা অন্যায় এবং এতে হাঁড়িভাঙা আমের প্রকৃত স্বাদ থাকছে না।’পাইকারি ব্যবসায়ী আলম মিয়া বলেন, ‘বাগানে আম পরিপক্ব হয়েছে। বাগান মালিকরা তাকে ডেকে আম বিক্রির কথা বলেন। তাই এক সপ্তাহ আগ থেকেই তাদের কাছ থেকে তিনি আম কিনে বিক্রি শুরু করছেন।’কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবার রংপুর জেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০০ হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে হাঁড়িভাঙা আমের ফলন হয় প্রায় ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০০ কোটি টাকার ওপরে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি হবে বলে।কৃষি সম্প্রসারণ রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শিলাবৃষ্টিতে হাঁড়িভাঙা ঝড়ে পড়লেও ফলন ভালো হয়েছে। আকারেও বড় হয়েছে। তাই কৃষকরা পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করা যায়।’হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারজাতকরণের উদ্বোধনী দিনে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘হাড়িভাঙ্গা আমের জন্য পদাগঞ্জ বাজার অন্যতম বাণিজ্যিক জায়গা। তবে এটার অবকাঠামোগত কিছু অসুবিধা আছে। এই অসুবিধাগুলো দূর করার জন্য তিন বছর মেয়াদি অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা নিয়েছি। এই হাটটাকে কীভাবে আরও উন্নত করা যায় এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ কীভাবে লাঘব করা যায়- সে বিষয়ে কাজ করছি। এছাড়াও রপ্তানির প্রতিবন্ধকতাগুলোও সমাধানের চেষ্টা করছি।’উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। হাঁড়িভাঙা আম এখন আর কেবল দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, পাকিস্তান, ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই আম রপ্তানি করা হয়। দেশের ভেতরে ফেসবুক ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বাগান থেকে আম সরবরাহের হার গত কয়েক বছরে কয়েক গুণ বেড়েছে।
“করবো মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করবো বারো মাস”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ৩ দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পলাশবাড়ীর আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ ফল মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলায় দেশীয় বিভিন্ন মৌসুমি ফল, উন্নত জাতের ফলের চারা, আধুনিক ফল উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোহেলের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহম্মেদ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও শেখ জাবের আহম্মেদ বলেন:“ফল চাষের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের ঘাটতি পূরণে আমাদের দেশীয় ফলের ভূমিকা অপরিসীম।”তিনি মেলায় আগত সকলকে এবং উপজেলার সর্বস্তরের জনগণকে যার যার বসতবাড়ি ও পতিত জমিতে বিভিন্ন জাতের পুষ্টিকর ও লাভজনক ফলদ গাছ রোপণের উদাত্ত আহ্বান জানান।ছবি: সংগৃহীতঅনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নকিবুল হাসান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা গোলেনুর, উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক এবং পলাশবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত চন্দ্র প্রামানিক।এছাড়াও মেলা প্রাঙ্গণে কৃষি অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকে আসা কৃষক-কৃষাণী, স্কুলের শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।মেলা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সফল কৃষকরা তাদের নিজেদের বাগানে উৎপাদিত নানা প্রজাতির ও হরেক রকমের মৌসুমি ফল স্টলে প্রদর্শন করছেন।উপজেলা কৃষি অফিস তথা আয়োজকরা জানান, ফল চাষে স্থানীয় কৃষকদের আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করা, সাধারণ মানুষের মাঝে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে ফল সংরক্ষণ ও সঠিক বাজারজাতকরণ বিষয়ে সম্যক ধারণা দেওয়াই এই মেলার মূল উদ্দেশ্য। আগামী তিন দিন এই মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশীয় ফলের যত বিলুপ্ত প্রজাতি রয়েছে, সেগুলো কৃষকদের উৎপাদনে উৎসাহিত করার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) খামারবাড়ির বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি) চত্বরে তিন দিনব্যাপী (১৮-২০ জুন) জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।এর আগে তিনি পুরো মেলা ঘুরে দেশীয় বিভিন্ন ফলের সঙ্গে পরিচিত হন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর দেশে ফল মেলার উৎসব হয়। এ মেলার মাধ্যমে ফল উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে। দেশীয় ফলের যত বিলুপ্ত প্রজাতি রয়েছে, সেগুলো ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।কৃষিমন্ত্রী বলেন, একই সঙ্গে বিদেশ থেকে যেসব ফল আমদানি করা হতো, সেসব ফলের জাতের জিন এনে দেশে চাষাবাদের মাধ্যমে অনন্য বিপ্লব ঘটানো হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশীয়ভাবে উৎপাদন করে আমাদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনা হচ্ছে।ড্রাগন ফলের উদাহরণ দিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিদেশের তুলনায় আমাদের উৎপাদিত ড্রাগন ফল সুস্বাদু ও সুমিষ্ট। এ ফলের উদ্ভাবনী কাজে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।চলতি অর্থবছরে কৃষিতে বাজেট বেড়েছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এর বাইরে উন্নয়ন ও প্রণোদনা বাজেট বেড়েছে গত অর্থবছরের তুলনায় ৫৯ শতাংশ। তাই কৃষিতে বাজেট কমেছে কথাটি সঠিক নয় বলে জানান মন্ত্রী।
রংপুরের জনপ্রিয় ও সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আমের আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। তীব্র তাপদাহের কারণে এবার নির্ধারিত সময়ের পাঁচ দিন আগেই আম বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে হাঁড়িভাঙা আমের বাজারজাতকরণের উদ্বোধন করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এ সময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।একসময় রংপুর অঞ্চলে আম বিক্রির প্রচলিত হিসাব ছিল ‘গন্ডা’ ও ‘হালি’ ভিত্তিক। দুই দশক আগেও ৩৬ গন্ডা বা ৩৬ হালিতে একশ আম পাইকারি বিক্রি হতো। পরে সেই আম শহরে ৩২ গন্ডায় একশ হিসেবে বিক্রি করা হতো। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই ঐতিহ্য এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই গন্ডা হিসেবে আম বিক্রির প্রচলন সম্পর্কে জানেন না। এখন আম বিক্রি হয় কেজি দরে।স্থানীয় প্রবীণরা জানান, একসময় ৮ হালিকে এক পোয়া, ১৬ হালিকে দুই পোয়া এবং ২৪ হালিকে তিন পোয়া বলা হতো। বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসজুড়ে বিভিন্ন জাতের আমে বাজার ভরে থাকত। আধুনিকতার ছোঁয়া ও আমের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গন্ডা ও হালির হিসাব হারিয়ে গেছে।প্রবীণ আলী হোসেন মোল্লা বলেন, ১৫ থেকে ২০ বছর আগেও ৩৬ গন্ডায় একশ আম ২৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতো। ফজলি, কেরোয়া, এছাহাক তেলি, ছাইবুদ্দিন, আশ্বিনী, সাদা নেংড়া, কালা নেংড়া, কলিকাতা নেংড়া, মিশ্রীভোগ, গোপালভোগ, আম্রপালি, সাদা রচি, চোচা ও আঁটিসহ বিভিন্ন জাতের আম গন্ডা হিসেবে কেনাবেচা হতো। বর্তমানে এসব জাতের আমের চাষ কমে গেছে এবং বাজার দখল করেছে হাঁড়িভাঙা আম। তিনি বলেন, হাঁড়িভাঙা আমের ওজন সাধারণত ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম হয়ে থাকে। মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় দেশজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে অতীতের ঐতিহ্য ধরে রাখতে কিছু আম এখনো গন্ডা বা হালি হিসেবে বিক্রির ব্যবস্থা থাকা উচিত।কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলায় এবার প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়েছে এক হাজার ৯২০ হেক্টরের বেশি জমিতে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যায়। এবার হাঁড়িভাঙা আমের উৎপাদন ২০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যার বাজারমূল্য ৩০০ কোটি টাকারও বেশি।মৌসুমের শুরুতে হাঁড়িভাঙা আম প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও মৌসুমের শেষ দিকে দাম ১৫০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকার আমচাষি সামছুজ্জামান বলেন, এবার আমের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। কৃষকরা ভালো দাম পাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার হাঁড়িভাঙা আমের ‘অন ইয়ার’। ফলে উৎপাদনও বেশি হয়েছে। বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশা করছি।