দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কের রাণীরবন্দরে ড্রাম ট্রাক ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে চারজন আহত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা ড্রাম ট্রাক আগুন দিয়েছে।রোবববার (২৪ মে) দুপুর ১২টার দিকের এ ঘটনায় বিকাল ৩টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।দশমাইল থেকে সৈয়দপুরগামী ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ট্রাকটিকে আটক করে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উত্তেজিত জনতার বাধার মুখে আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন এলাকাবাসী।চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন নবী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে স্থানীয়দের সাথে আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন।
অনলাইন জরিপ
রংপুর নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করতে আধুনিক কসাইখানা (স্লটার হাউস) নির্মাণ করেছে সিটি করপোরেশন। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নগরীর ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কসাইখানাটি এখন উদ্বোধনের প্রহর গুনছে। বর্তমানে এখানে পরীক্ষামূলকভাবে পশু জবাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এই কসাইখানায় পশু জবাইয়ের জন্য রয়েছে পৃথক ইউনিট ও উন্নত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। এছাড়া মাংসের গুণমান ঠিক রাখতে জীবাণুনাশক সুবিধা, স্বাস্থ্যসম্মত সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এখানে পশু জবাইয়ের আগে বিশেষজ্ঞ দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা হবে, ফলে অসুস্থ পশুর মাংস বাজারে আসার কোনো সুযোগ থাকবে না।মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে নবনির্মিত এই প্রকল্প পরিদর্শন করেন রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন। তিনি বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,"পরীক্ষামূলকভাবে পশু জবাই শুরু হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ ও পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা গুছিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে অতিদ্রুত এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।"অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু জবাই ও যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর করতে এই প্রকল্প বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুল হুদা জানান, উন্নত দেশের মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাংস প্রক্রিয়াজাত করা গেলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নগরবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল রহমান বলেন, "খোলা স্থানে জবাইয়ের ফলে যে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণ হতো, আধুনিক কসাইখানা চালু হলে তা বন্ধ হবে।" রাশেদা বেগম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, "নিরাপদ খাদ্য নিয়ে আমরা এখন অনেক সচেতন। এমন ব্যবস্থা চালু হলে আমরা নিশ্চিন্তে মাংস কিনতে পারব।"
রংপুরের ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের প্রতীক 'হাঁড়িভাঙা' আমের স্বাদ নিতে অপেক্ষা আর মাত্র এক মাসের। জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্যের মর্যাদা পাওয়ার পর এবারই প্রথম বাজারে আসছে এই আম। অনুকূল আবহাওয়া আর বাম্পার ফলনে এবার রংপুর অঞ্চলে হাঁড়িভাঙা আমকে কেন্দ্র করে ২৫০ কোটি টাকারও বেশি বাণিজ্যের স্বপ্ন দেখছেন চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা।কৃষিবিদদের মতে, এ বছর হাঁড়িভাঙা আমের ‘অন ইয়ার’। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার ফলন অনেক বেশি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, "এবার গাছে প্রচুর আম ধরেছে। আমরা আশা করছি ২৫০ কোটিরও বেশি টাকার বাণিজ্য হবে।" জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে হাঁড়িভাঙার চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১০ থেকে ১২ টন ফলন হিসেবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টি আম বড় ও রসালো হতে সাহায্য করেছে। যদিও শিলাবৃষ্টিতে কিছু বাগানের সামান্য ক্ষতি হয়েছে, তবে সার্বিক অবস্থা অত্যন্ত ইতিবাচক।আঁশবিহীন, পাতলা ছাল আর ছোট আঁটির এই আম মিষ্টি ও সুগন্ধে অনন্য। প্রতিটি আমের ওজন গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আমটি রংপুরের নিজস্ব জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা ও ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ বহুগুণ বেড়েছে।কৃষিবিদ ও চাষিদের মতে, পরিপক্ব হাঁড়িভাঙা আমের আসল স্বাদ পেতে জুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। মিঠাপুকুরের আমচাষি নাজমুল ইসলাম জানান, বাগানগুলোতে এখন শেষ সময়ের পরিচর্যা চলছে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখনই যোগাযোগ শুরু করেছেন।সুজন-এর রংপুর জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, "হাঁড়িভাঙা এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বাগান থেকে আম সরবরাহের হারও বাড়ছে।" তবে আমটি দ্রুত পচনশীল হওয়ায় বিশেষ মালবাহী ট্রেন এবং আধুনিক হিমাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা।
মধু মাসের আগাম বার্তা নিয়ে বাজারে আসতে শুরু করেছে রসালো ফল লিচু। তবে লিচু প্রেমীদের জন্য সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত খবর হলো, আগামী (১৫ মে) এর পর থেকেই পুরোদমে বাজারজাত করা যাবে উত্তরের জনপদ দিনাজপুরের সুস্বাদু ও সুমিষ্ট লিচু।কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, অপরিপক্ক লিচু বাজারে আসা রোধ করতে এবং ক্রেতাদের গুণগত মানসম্পন্ন ফল পৌঁছে দিতে প্রতি বছরের মতো এবারও সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। দিনাজপুরের প্রধান অর্থকরী ফসল এই লিচু যেন রাসায়নিকমুক্ত এবং পরিপক্ক অবস্থায় মানুষের হাতে পৌঁছায়, সেটি নিশ্চিত করতেই (১৫ মে) পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। গাছে গাছে গাঢ় সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে হালকা সবুজ লিচুর গুটি । ছবি: হেল্প ডেক্সদিনাজপুরের বড় মাঠসহ বিভিন্ন অস্থায়ী বাজারগুলোতে এখন সাজসাজ রব। বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা লিচু পাড়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রথম পর্যায়ে বাজারে আসবে স্থানীয় জাতের ‘মাদরাজি’ লিচু। এরপর পর্যায়ক্রমে বোম্বাই, বেদানা এবং সবশেষে বিশ্বখ্যাত ‘চায়না-থ্রি’ লিচু বাজারে নামবে। লিচু বাজারজাতকরণ নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করাবে । দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লিচু দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ ট্রাক ও পরিবহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া বাজারে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা এবং লেনদেন সহজ করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে থাকবে।বাগানিরা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার দিনাজপুরের লিচু থেকে শতকোটি টাকার ব্যবসা হবে। তীব্র গরমের কারণে ফলের আকার কিছুটা ছোট হলেও স্বাদে কোনো কমতি হবে না বলে জানিয়েছেন চাষিরা।আগামী মঙ্গলবার থেকে বিপণিবিতানগুলো রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তার ফলে ঈদ বাজারের পাশাপাশি মৌসুমী ফলের বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কালবৈশাখী ঝড়ে হাড়িভাঙ্গা আমের জন্য বিখ্যাত রংপুরের মিঠাপুকুরের খোড়াগাছ, পদাগঞ্জ ও বদরগঞ্জের শ্যামপুর আম বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে ঘর-বাড়ির ক্ষতির পাশাপাশি ধান, ভুট্টা ও সবজি ক্ষেতেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) রাত ১২টার পর থেকে থেমে থেমে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে রংপুর জেলায়।রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঝড়ে বৃষ্টি কম হলেও বাতাসের বেগ ছিলো তীব্র (ঘণ্টায় ৪৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার)। যা সর্বোচ্চ ৩ মিনিট ছিল।ঝড়ে মিঠাপুকুরের খোড়াগাছ, পদাগঞ্জ ও বদরগঞ্জের শ্যামপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের আম বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমগাছে আসা গুঁটি ঝরে গেছে। গাছের প্রায় ১৫-২০ ভাগ আম পড়ে গেছে। এরকম আর দুই চারদিন শিলা বৃষ্টি হলে এ বছর কাঙ্ক্ষিত আমের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।আমচাষিদের দাবি, কালবৈশাখী ঝড়ে গুঁটি আম ঝরে পড়েছে। এ রকম আর কয়েক দিন হলে এ বছর কাঙ্ক্ষিত আমের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।মিঠাপুকুরের খোরাগাছ ইউনিয়নে আম চাষি রাঙা মিয়া জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে আম গাছ উপরে পরে গেছে, ব্যাপক আম পড়েছে, এমনিতেই এবারে আম কম ধরেছে। কয়েক দফা কালবৈশাখী ঝড়ে বেশ আম পড়ে গেল। বদরগঞ্জ লালদিঘি আম চাষি বরকত আলী জানান, গাছের আম প্রায় পড়ে গেছে। এবারে বেশ লোকসান হবে।ঢাকা থেকে আগত আবদুল ওয়াহাব জানান, তিনি প্রতি বছর আম বাগান কেনেন, এবারও কিনেছেন কিন্তু এবারে অনেক টাকার ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে। কেননা অনেক গাছ পড়ে গেছে, আমও পড়ে গেছে। রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম কামরুল হাসান জানান, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড় হয়েছে। আগামী দু-একদিন রংপুর অঞ্চলে আরও ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল জানান, গুটি আম ঝড়বৃষ্টি হলে কিছু পড়ে যায়, এবারের কালবৈশাখী ঝড়ে হাঁড়িভাঙা আম পড়েছে। বড় ধরনের ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি।