পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ও তেঁতুলিয়া উপজেলায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশু ও এক ট্রাক্টর শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দেবীগঞ্জে বালিবাহী ট্রাকের চাপায় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেল ও সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপোতা পাঁচকল এলাকায় দেবীগঞ্জ-বোদা মহাসড়কে বালিবাহী ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে পাপড়ি রাণী রায় (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। নিহত পাপড়ি ওই এলাকার সেবেন্দ্রনাথ রায়ের মেয়ে এবং সোনাপোতা ২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় মহাসড়কের পাশে ভুট্টা শুকানোর কাজ করছিলেন পাপড়ির বাবা সেবেন্দ্রনাথ রায়। এসময় বাবাকে খুঁজতে সেখানে যায় শিশু পাপড়ি। একপর্যায়ে রাস্তা পার হতে গেলে দেবীগঞ্জগামী একটি দ্রুতগতির বালুবাহী ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিষ্ট হয়ে মারা যায় শিশুটি।দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক ট্রাকটি ফেলে চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। এদিকে ঘটনার আকস্মিকতায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় জনতা। তারা ঘাতক ট্রাকটি আটকে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন,"পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে, এই ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"এদিকে, মঙ্গলবার বিকেলের দিকে তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের ধারাগছ এলাকায় ট্রাক্টর উল্টে আনোয়ার হোসেন (২১) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত আনোয়ার ওই ইউনিয়নের মাঝিপাড়া এলাকার ইব্রাহিম হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ট্রাক্টর শ্রমিক ছিলেন। পুলিশ জানায়, বিকেলে ধারাগছ এলাকায় একটি ট্রাক্টর মোড় নেওয়ার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন চালকের সহকারী আনোয়ার। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান বলেন,"দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক্টরটি থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।"
অনলাইন জরিপ
রাজনীতি
আসন্ন স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ রোববার বিকেলে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য সংগঠক ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি সারজিস আলম প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য হাজারের বেশি অ্যাপ্লিকেশন জমা হয়েছিল। সেই থেকে আমরা প্রাথমিকভাবে ১০০ জনের নাম ঘোষণা করছি। আমরা আশা করছি এ মাসের ২০ তারিখে দ্বিতীয় ধাপে আবারও ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারব। আমাদের এই নাম ঘোষণা প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। সারজিস আলম আরও বলেন, ‘আমাদের সারাদেশ থেকে এনসিপিতে যারা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে আছেন, নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের যারা পরিশ্রমী, গ্রহণযোগ্য, যারা মানুষের ওপর কখনো জুলুমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না, যাদের সঙ্গে ফ্যাসিস্টদের সরাসরি সম্পৃক্ততা বা তাদের পর্যায়ে অপরাধের সম্পৃক্ততা ছিল না, তারা অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দলেরই হোক না কেন, তারা এনসিপির প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবে।’ সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট রূপরেখা, কোনো সময়সীমা আমরা পাইনি। আমরা আশা করব যে সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে একটা টাইমলাইন আমাদেরকে দেবে। যেহেতু ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়, তাই সিটি কর্পোরেশন, উপজেলায় নির্বাচনের সময়সীমা দেওয়া হবে। তারা যেটা বলছেন, অতি দ্রুত, সেটা পাঁচ বছরও হইতে পারে, পাঁচ মাসও হইতে পারে। আমরা এটা স্পষ্ট সময়সীমা দাবি করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যাদেরকে প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়েছে, তারা প্রশাসকের পদে থেকে ভোট চাচ্ছেন। সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের কাজ নগরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। কিন্তু তারা পোস্টার দিয়ে পুরো নগরের সকল দেয়াল ভরে ফেলেছেন। আমরা এর আগেও নির্বাচনের নিরপেক্ষতার স্বার্থে দাবি জানিয়েছি যে, প্রশাসক যারা নিয়োজিত হয়েছেন তারা সেই সিটে বসে প্রশাসকের চেয়ারে বসে নির্বাচন করতে পারবেন না। তারা যদি নির্বাচন অংশগ্রহণ করেন তাহলে এটা নির্বাচনটা একদম শুরু থেকেই বিতর্কিত, একপাক্ষিক এবং নির্বাচনে কোন ধরনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে না।’ গুরুত্বপূর্ণ জেলায় যারা প্রার্থীঢাকার সাভার উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সালামত উল্লাহ রনি, শিল্পাঞ্চল খ্যাত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় মো. তুহিন মাহমুদ এবং টাঙ্গাইল পৌরসভায় মেয়র পদে মাসুদুর রহমান রাসেল, ফরিদপুর পৌরসভায় মেয়র পদে সাইফ খাঁন এবং মাদারীপুর পৌরসভায় মোহাম্মদ হাসিবুল্লাহকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় জোবাইরুল আলম মানিক, নোয়াখালী পৌরসভায় মেয়র পদে কাজী মাইনুদ্দিন তানভীর এবং কক্সবাজার সদর উপজেলায় শফিকুল ইসলাম শফিক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আমিনুল হক চৌধুরী এবং চাঁদপুর সদর উপজেলায় জসিম গাজী প্রার্থী হয়েছেন। উত্তরাঞ্চলের মধ্যে বগুড়ার সদর উপজেলায় এ এম জেড শাহরিয়ার এবং শিবগঞ্জে জাহাঙ্গীর আলম, রাজশাহীর গোদাগারী উপজেলায় আতিকুর রহমান এবং সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌরসভায় ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মামুন লিয়ন, কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলায় অ্যাডভোকেট আবুল হাশিম বাদশা নির্বাচন করবেন। সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় মো. জাকারিয়া (লাদেন) এবং কানাইঘাট উপজেলায় বুরহান উদ্দিন ইউসুফ চেয়ারম্যান পদে লড়বেন। অন্যদিকে ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলায় ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম এবং শেরপুর সদর উপজেলায় ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ লিখন মিয়াকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। রংপুর সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় মাওলানা এম এ তাফসীর হাসান, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলায় ফরিদ আহমেদ এবং ভোলা সদর উপজেলায় জিয়াউর রহমান মনোনয়ন পেয়েছেন।
আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের উত্তরাঞ্চলীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আবু সাঈদ লিওন।রবিবার (১০ মে ) রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে সারা দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের এক শত জনের প্রার্থীর মধ্যে জলঢাকা উপজেলার প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়।এসময় দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল মানুষের পাশে থেকে সামাজিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন আবু সাঈদ লিওন। বর্তমানে তিনি এনসিপির নীলফামারী জেলা কমিটির উত্তরাঞ্চলীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় তরুণ সমাজ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছে ইতোমধ্যেই তিনি একজন সক্রিয় ও জনমুখী নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় আবু সাঈদ লিওন, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজকে বলেন, উপজেলা পরিষদ শুধু একটি প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে হলে স্থানীয় সরকারকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে হবে। আমি চাই জলঢাকার প্রতিটি মানুষ উন্নয়ন ও ন্যায্য সেবার সুফল ভোগ করুক।তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জলঢাকার মানুষ নানা সমস্যা ও বঞ্চনার মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করছে। কৃষক ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না, শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে, অনেক এলাকায় এখনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। আমি জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চাই। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি আধুনিক, উন্নত ও মানবিক জলঢাকা গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। তিনি জানান, নির্বাচিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবেন। পাশাপাশি দুর্নীতি ও স্বজন প্রীতিমুক্ত স্বচ্ছ উপজেলা পরিষদ গঠনেরও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।এদিকে, তাঁর মনোনয়ন ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়লে জলঢাকা উপজেলায় এনসিপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।অনেকেই মনে করছেন, তরুণ ও জনসম্পৃক্ত নেতৃত্ব হিসেবে আবু সাঈদ লিওন জলঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারেন
ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা জাতীয় ছাত্রশক্তির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ৯টায় জাতীয় ছাত্রশক্তি ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার পক্ষ থেকে এ কমিটি প্রকাশ করা হয়।প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগামী ০৬ (ছয়) মাসের জন্য বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় যোদ্ধা মোঃ জুনায়েদ আল ফুয়াদকে আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়াও ফরহাদ হুসেনকে মুখ্য সংগঠক দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। নবগঠিত এ কমিটিতে আরও অনেক তরুণ ও সক্রিয় সদস্য স্থান পেয়েছেন। সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, তাদের কর্মদক্ষতা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা ইতোমধ্যেই ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার নেতৃবৃন্দের আস্থা ও মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।নতুন এ কমিটি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল কলেজে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অনার্স প্রথম বর্ষ ভর্তি হতে আসা নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে ও ভর্তি প্রক্রিয়া সহজ করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, কারমাইকেল কলেজ শাখা। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এবং সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে ‘ইনফরমেশন বুথ ও হেল্প ডেস্ক’।শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও ভিড়ের কথা মাথায় রেখে ক্যাম্পাসের তিনটি কৌশলগত স্থানে বুথ স্থাপন করা হয়েছে: প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখভাগ,থার্ড বিল্ডিং-এর সামনে, কলেজ ব্যাংকের সামনে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহায়তায় নিয়োজিত শিবিরের স্বেচ্ছাসেবকরা ভর্তির ফরম পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ও সঠিক বিন্যাস করে দিচ্ছেন। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য সৌজন্য উপহার হিসেবে প্রদান করা হচ্ছে: লেখার জন্য মানসম্মত কলম, প্রয়োজনীয় তথ্য (নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর) লেখার সুবিধা সংবলিত খাম, তীব্র গরমে স্বস্তির জন্য সুপেয় পানি ও টিস্যু, শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে চকলেট। শাখা নেতৃবৃন্দ জানান, "কারমাইকেল কলেজ উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে জ্ঞান অর্জনে আসে। নতুন পরিবেশে এসে তারা যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা বিভ্রান্তির শিকার না হয়, সেজন্যই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমরা চাই নবীন শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের মধ্য দিয়ে তাদের কলেজ জীবন শুরু করুক।"ভর্তি প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এই সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে শরিফ ওসমান হাদি বলেন, বিএনপি অসহযোগিতা করলে তাদের জাতির কাছে জবাবদিহি করতে হবে। জামায়াত অসহযোগিতা করলে জবাবদিহি করতে হবে তাদেরও। এই সরকারের মেয়াদ হবে ১০ মাস থেকে এক বছর। যদি জাতীয় সরকার না করতে পারেন তাহলে জাতীয় ঐক্য কাউন্সিল গড়ে তোলেন। জাতীয় ঐক্য কাউন্সিল প্রধান হবেন ড. ইউনূস। সব রাজনৈতিক দল থেকে সেখানে প্রতিনিধি থাকবে সদস্য হিসাবে। তাদের সাংবিধানিক মর্যাদা হবে ক্যাবিনেট মন্ত্রী পরিষদের মতো। তারা মন্ত্রী হবেন না, উপদেষ্টা হবেন না কিন্তু ওয়াচডগ হিসাবে কাজ করবেন।জুলাই ঘোষণাপত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত জুলাই ঘোষণাপত্রের কার্যক্রম না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আওয়ামী কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে কোনো লাভ নেই। যদি জুলাই ঘোষণাপত্র না আসে, যারা জুলাইয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দিল্লির সঙ্গে মিলে আওয়ামী লীগ তাদের কচুকাটা করবে। জুলাই ঘোষণাপত্র সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেলেই আওয়ামী কার্যক্রম নিষিদ্ধ হবে।
দেষ্টাকে বলেছি, গণঅভ্যুত্থানের যে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সেই দায়িত্ব শেষ করেই অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন।এনসিপির পাঁচ দাবি সম্পর্কে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনে জুলাই ঘোষণাপত্র একটি দাবি ছিল এবং সেটি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ কার্যদিবস সময় নেওয়া হয়েছিল; সেটি যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হয় সে দাবি জানিয়েছি। আমাদের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ড. ইউনূস স্যারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হবে।নাহিদ বলেন, দ্বিতীয়ত—জুলাই আন্দোলনে যারা শহিদ ও আহত হয়েছেন তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ধীরগতিতে হচ্ছে সেটি দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে হবে। তৃতীয়ত—শেখ হাসিনার আমলে হওয়া জাতীয় ও স্থানীয় সব নির্বাচনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করতে বলেছি। কারণ সে সময়ে শেখ হাসিনা ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় নির্বাচন করেছিল এবং মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছিল। দিনের ভোট রাতে করেছে, ডামি প্রার্থীর ভোট হয়েছে। ফলে সেই নির্বাচনগুলো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেই নির্বাচনগুলোকে সেই সময়ের বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন সময়ে প্রত্যাখান করেছে। আবার সেই নির্বাচনগুলো নিয়ে আদালতে নিয়ে এক ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। সেই বিশৃঙ্খলা এড়াতে পূর্বের নির্বাচনগুলোকে আইনগতভাবে যাতে অবৈধ ঘোষণা করা হয় সেই দাবি জানিয়েছি।চতুর্থ নম্বরে নাহিদ জানান, রাজনৈতিক দল হিসেবে বর্তমান যে ইলেকশন কমিশন সেটার ওপরে আস্থা রাখতে পারছেন না। ইলেকশন কমিশন পুনর্গঠন করে স্থানীয় নির্বাচন দ্রুত আয়োজন করার দাবি জানান তারা।সর্বশেষ জুলাই গণহত্যার বিচার ও জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে এনসিপি।প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত