প্রেমিক-প্রেমিকা দুজনের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্কের পর কোনো কারণে বিয়ে না হলে পুরুষের বিরুদ্ধে সাত বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান আছে, কিন্তু একই পরিস্থিতিতে নারীর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ ধরা হয় না। এ নিয়ে নতুন করে আইনি ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
আইন কেন শুধু পুরুষকে শাস্তির আওতায় এনেছে এবং নারীর ক্ষেত্রে কেন নীরব—এ প্রশ্নে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। আদালত বলেছে, সংবিধানের চোখে পুরুষ-নারী সমান; তবে এই আইনে কেন বৈষম্য বজায় রাখা হলো, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে আইন মন্ত্রণালয়কে।
বিচারপতি হাবিবুল গনি ও বিচারপতি নজরুল ইসলামের বেঞ্চ রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রুল জারি করেন। রিটকারী পক্ষের যুক্তি ছিল। ভালোবাসার সম্পর্কে বা দুজনের সম্মতিতে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা হওয়া কোনো অপরাধ নয়। পরবর্তীতে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া, মনোমালিন্য কিংবা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারা সামাজিক বাস্তবতার অংশ। এ ক্ষেত্রে কেবল পুরুষকে দায়ী করে শাস্তির বিধান রাখা এবং নারীর ক্ষেত্রে আইন নীরব থাকা পুরোপুরি বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানের ২৭, ২৮ ও ৩১ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।
রিটে আদালতকে জানানো হয় যে নতুন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি ধারায় বলা হয়েছে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার পর পুরুষ যদি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে এটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। কিন্তু নারীর বিরুদ্ধে একই ধরনের প্রতারণামূলক আচরণের অভিযোগ উঠলেও আইনে কোনো শাস্তির বিধান নেই, আইন এ বিষয়টি পুরোপুরি নীরব। এমনকি অভিযুক্ত নারী বিবাহিত নাকি অবিবাহিত—এ সম্পর্কেও আইনে কোনো স্পষ্ট ধারা নেই।
রিটকারীর আইনজীবীরা আদালতে উদাহরণ দিয়ে বলেন, একজন বিবাহিত নারীও, যিনি দুই-তিন সন্তানের মা, তিনি চাইলে আরেকজন পুরুষকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে পারেন। পরে সে সম্পর্ক ভেঙে গেলে তিনি পুরুষের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন। কিন্তু পুরুষ একই অভিযোগ নারীর বিরুদ্ধে করতে পারবেন না, কারণ আইনে এমন কোনো সুযোগ নেই। এতে করে একটি শ্রেণির হাতে আরেকটি শ্রেণিকে শোষণের সুযোগ তৈরি হয়, যা আইন প্রণয়নের মূল নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আদালতে আরও প্রশ্ন ওঠে
ঠিক কোন মুহূর্তে অপরাধ সংঘটিত হয়?
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া মাত্রই, নাকি সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে?
যদি দুজনের সম্মতি থাকে, তবে একতরফাভাবে পুরুষকে দায়ী করা যুক্তিযুক্ত কি-না?
একই আচরণের জন্য নারীর শাস্তির বিধান না রাখা কি সাংবিধানিকভাবে টিকে থাকতে পারে?
আইনের এই অস্পষ্টতা ও বৈষম্যই রিটকারীদের মতে বড় সমস্যা। তারা বলেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আবেগঘন পরিস্থিতিতে ফৌজদারি শাস্তি জুড়ে দেওয়া অনেক ক্ষেত্রেই অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে। সম্পর্ক ভেঙে গেলে প্রতিশোধ, চাপ সৃষ্টি কিংবা ব্ল্যাকমেইলের হাতিয়ার হিসেবে আইনের এই ধারাটি ব্যবহৃত হতে পারে।
রুল জারির পর আদালত আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন—কেন শুধুমাত্র পুরুষকে দায়ী করে এই ধারা করা হয়েছে এবং কেন এটি সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করা হবে না—তা ব্যাখ্যা দিতে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
প্রেমিক-প্রেমিকা দুজনের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্কের পর কোনো কারণে বিয়ে না হলে পুরুষের বিরুদ্ধে সাত বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান আছে, কিন্তু একই পরিস্থিতিতে নারীর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ ধরা হয় না। এ নিয়ে নতুন করে আইনি ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
আইন কেন শুধু পুরুষকে শাস্তির আওতায় এনেছে এবং নারীর ক্ষেত্রে কেন নীরব—এ প্রশ্নে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। আদালত বলেছে, সংবিধানের চোখে পুরুষ-নারী সমান; তবে এই আইনে কেন বৈষম্য বজায় রাখা হলো, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে আইন মন্ত্রণালয়কে।
বিচারপতি হাবিবুল গনি ও বিচারপতি নজরুল ইসলামের বেঞ্চ রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রুল জারি করেন। রিটকারী পক্ষের যুক্তি ছিল। ভালোবাসার সম্পর্কে বা দুজনের সম্মতিতে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা হওয়া কোনো অপরাধ নয়। পরবর্তীতে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া, মনোমালিন্য কিংবা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারা সামাজিক বাস্তবতার অংশ। এ ক্ষেত্রে কেবল পুরুষকে দায়ী করে শাস্তির বিধান রাখা এবং নারীর ক্ষেত্রে আইন নীরব থাকা পুরোপুরি বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানের ২৭, ২৮ ও ৩১ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।
রিটে আদালতকে জানানো হয় যে নতুন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি ধারায় বলা হয়েছে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার পর পুরুষ যদি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে এটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। কিন্তু নারীর বিরুদ্ধে একই ধরনের প্রতারণামূলক আচরণের অভিযোগ উঠলেও আইনে কোনো শাস্তির বিধান নেই, আইন এ বিষয়টি পুরোপুরি নীরব। এমনকি অভিযুক্ত নারী বিবাহিত নাকি অবিবাহিত—এ সম্পর্কেও আইনে কোনো স্পষ্ট ধারা নেই।
রিটকারীর আইনজীবীরা আদালতে উদাহরণ দিয়ে বলেন, একজন বিবাহিত নারীও, যিনি দুই-তিন সন্তানের মা, তিনি চাইলে আরেকজন পুরুষকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে পারেন। পরে সে সম্পর্ক ভেঙে গেলে তিনি পুরুষের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন। কিন্তু পুরুষ একই অভিযোগ নারীর বিরুদ্ধে করতে পারবেন না, কারণ আইনে এমন কোনো সুযোগ নেই। এতে করে একটি শ্রেণির হাতে আরেকটি শ্রেণিকে শোষণের সুযোগ তৈরি হয়, যা আইন প্রণয়নের মূল নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আদালতে আরও প্রশ্ন ওঠে
ঠিক কোন মুহূর্তে অপরাধ সংঘটিত হয়?
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া মাত্রই, নাকি সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে?
যদি দুজনের সম্মতি থাকে, তবে একতরফাভাবে পুরুষকে দায়ী করা যুক্তিযুক্ত কি-না?
একই আচরণের জন্য নারীর শাস্তির বিধান না রাখা কি সাংবিধানিকভাবে টিকে থাকতে পারে?
আইনের এই অস্পষ্টতা ও বৈষম্যই রিটকারীদের মতে বড় সমস্যা। তারা বলেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আবেগঘন পরিস্থিতিতে ফৌজদারি শাস্তি জুড়ে দেওয়া অনেক ক্ষেত্রেই অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে। সম্পর্ক ভেঙে গেলে প্রতিশোধ, চাপ সৃষ্টি কিংবা ব্ল্যাকমেইলের হাতিয়ার হিসেবে আইনের এই ধারাটি ব্যবহৃত হতে পারে।
রুল জারির পর আদালত আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন—কেন শুধুমাত্র পুরুষকে দায়ী করে এই ধারা করা হয়েছে এবং কেন এটি সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করা হবে না—তা ব্যাখ্যা দিতে।

আপনার মতামত লিখুন