রংপুর    মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
জুফাস নিউজ

ডোমারের বটতলী বাজারের ঝুঁকিপূর্ণ শতবর্ষী বট-পাকুড় গাছের ডালপালা অপসারণ

ডোমারের বটতলী বাজারের ঝুঁকিপূর্ণ শতবর্ষী বট-পাকুড় গাছের ডালপালা অপসারণ
ডোমারে ইউএনও-র উপস্থিতিতে শতবর্ষী গাছের ডাল কাটা হলো। ছবি: জুফাস নিউজ

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বটতলী বাজারে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও জননিরাপত্তার ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ানো শতবর্ষী একটি বট-পাকুড় গাছের ডালপালা অবশেষে কেটে অপসারণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতায় বহু বছরের পুরোনো এই জটিল সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বটতলী বাজার এলাকার বাসিন্দা মামুনুর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন যে, প্রতিবেশী মৃত দুখিরাম রায়ের জমিতে থাকা বিশাল শতবর্ষী বট-পাকুড় গাছের ডালপালা তাঁর বসতঘরের ওপর ঝুলে থাকায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। গাছটি অত্যন্ত পুরোনো হওয়ায় এর বড় বড় ডাল দুর্বল হয়ে প্রায়ই ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে ক্ষয়ক্ষতি করছিল।

এই গাছটিকে কেন্দ্র করে মৃত দুখিরাম রায়ের উত্তরাধিকারীদের সঙ্গে মামুনুর রশিদের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং মামলা-মোকদ্দমার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তাছাড়া, গাছটিকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় ও সামাজিক নানা বিশ্বাস থাকায় ইতিপূর্বে ডালপালা কাটার সব উদ্যোগই বারবার ব্যর্থ হয়।

ইউএনও-র হস্তক্ষেপে শতবর্ষী গাছের ডালপালা অপসারণ । ছবি: জুফাস নিউজ

সম্প্রতি ভুক্তভোগী পরিবার ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বীর কাছে একটি লিখিত আবেদন করেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তিনি গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ডোমার উপজেলা পরিষদ হলরুমে উভয় পক্ষ, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। 

উক্ত সভায় উপস্থিত ধর্মীয় নেতারা অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে স্পষ্ট করে বলেন—“ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতি হওয়া কোনো ধর্মই সমর্থন করে না।” এই যৌক্তিক আলোচনার পর সবার সম্মতিতে গাছের ঝুঁকিপূর্ণ ডালপালা কাটার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত রোববার সকালে ইউএনও শায়লা সাঈদ তন্বীর সরাসরি উপস্থিতিতে দুই পক্ষের সদস্য, ধর্মীয় নেতা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ডালপালা কাটার কাজ শুরু হয়। প্রায় দুই দিনব্যাপী কাজ শেষে গতকাল সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে ডালপালা অপসারণের পুরো কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

দীর্ঘদিনের আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেয়ে ভুক্তভোগী মামুনুর রশিদ আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন:

“আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছিলাম। ঝড়-বৃষ্টি হলেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। বহুবার চেষ্টা করেও যা সমাধান হয়নি, ইউএনও শায়লা সাঈদ তন্বী স্যার তা মানবিকভাবে বিবেচনা করে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাধান করে দিয়েছেন। আমরা প্রশাসন ও ধর্মীয় নেতাসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, “মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সব পক্ষের সুনির্দিষ্ট মতামতের ভিত্তিতে এবং ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এই জটিল সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করা হয়েছে।”


আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


ডোমারের বটতলী বাজারের ঝুঁকিপূর্ণ শতবর্ষী বট-পাকুড় গাছের ডালপালা অপসারণ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বটতলী বাজারে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও জননিরাপত্তার ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ানো শতবর্ষী একটি বট-পাকুড় গাছের ডালপালা অবশেষে কেটে অপসারণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতায় বহু বছরের পুরোনো এই জটিল সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বটতলী বাজার এলাকার বাসিন্দা মামুনুর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন যে, প্রতিবেশী মৃত দুখিরাম রায়ের জমিতে থাকা বিশাল শতবর্ষী বট-পাকুড় গাছের ডালপালা তাঁর বসতঘরের ওপর ঝুলে থাকায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। গাছটি অত্যন্ত পুরোনো হওয়ায় এর বড় বড় ডাল দুর্বল হয়ে প্রায়ই ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে ক্ষয়ক্ষতি করছিল।

এই গাছটিকে কেন্দ্র করে মৃত দুখিরাম রায়ের উত্তরাধিকারীদের সঙ্গে মামুনুর রশিদের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং মামলা-মোকদ্দমার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তাছাড়া, গাছটিকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় ও সামাজিক নানা বিশ্বাস থাকায় ইতিপূর্বে ডালপালা কাটার সব উদ্যোগই বারবার ব্যর্থ হয়।

ইউএনও-র হস্তক্ষেপে শতবর্ষী গাছের ডালপালা অপসারণ । ছবি: জুফাস নিউজ

সম্প্রতি ভুক্তভোগী পরিবার ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বীর কাছে একটি লিখিত আবেদন করেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তিনি গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ডোমার উপজেলা পরিষদ হলরুমে উভয় পক্ষ, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। 

উক্ত সভায় উপস্থিত ধর্মীয় নেতারা অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে স্পষ্ট করে বলেন—“ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতি হওয়া কোনো ধর্মই সমর্থন করে না।” এই যৌক্তিক আলোচনার পর সবার সম্মতিতে গাছের ঝুঁকিপূর্ণ ডালপালা কাটার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত রোববার সকালে ইউএনও শায়লা সাঈদ তন্বীর সরাসরি উপস্থিতিতে দুই পক্ষের সদস্য, ধর্মীয় নেতা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ডালপালা কাটার কাজ শুরু হয়। প্রায় দুই দিনব্যাপী কাজ শেষে গতকাল সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে ডালপালা অপসারণের পুরো কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

দীর্ঘদিনের আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেয়ে ভুক্তভোগী মামুনুর রশিদ আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন:

“আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছিলাম। ঝড়-বৃষ্টি হলেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। বহুবার চেষ্টা করেও যা সমাধান হয়নি, ইউএনও শায়লা সাঈদ তন্বী স্যার তা মানবিকভাবে বিবেচনা করে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাধান করে দিয়েছেন। আমরা প্রশাসন ও ধর্মীয় নেতাসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, “মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সব পক্ষের সুনির্দিষ্ট মতামতের ভিত্তিতে এবং ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এই জটিল সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করা হয়েছে।”



জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ