নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের তামান্না সিনেমা হল থেকে ওয়াবদা মোড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ না করেই চলছে উন্নয়নকাজ। সড়কের মাঝখানে প্রায় ১৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ চলায় যান চলাচলে চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তামান্না মোড় থেকে শিল্প সাহিত্য সংসদ সড়ক পর্যন্ত ঢালাইয়ের কাজ চলছে। তবে এই অংশের বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো সড়কের মাঝখানেই রয়ে গেছে। খুঁটিগুলো না সরিয়েই চারপাশ দিয়ে ঢালাই করে রাস্তা ভরাট করা হচ্ছে। এতে রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায় এবং মাঝপথে বাধা থাকায় প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।শিল্প সাহিত্য সংসদ এলাকার ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,"সড়কের মাঝখানে খুঁটি রেখেই ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। বারবার ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষকে বলার পরও এগুলো সরানো হয়নি। এভাবে কাজ শেষ হলে এই এলাকায় যানজট ও দুর্ঘটনার শেষ থাকবে না।"৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফেকু মিয়া জানান, নেসকোর এই খুঁটিগুলো দ্রুত সরিয়ে জনভোগান্তি কমানো জরুরি। নয়তো কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের এই উন্নয়নকাজ মানুষের উপকারের বদলে মরণফাঁদে পরিণত হবে।সৈয়দপুর পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে এই সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। রংপুরের সাম্মি বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজ বাস্তবায়ন করছে। তামান্না সিনেমা হল থেকে ওয়াবদা মোড় এবং মদিনা মোড় থেকে বসুনিয়া মোড় পর্যন্ত মোট ৭ কিলোমিটার রাস্তা এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম দাবি করেছেন,"নেসকো কর্তৃপক্ষকে খুঁটি সরানোর জন্য জানানো হয়েছে। আশা করছি আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে এগুলো সরিয়ে ফেলা হবে।"তবে সৈয়দপুর নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম হোসেন ভিন্ন কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "খুঁটি সরানোর বিষয়ে পৌরসভার পক্ষ থেকে এখনো কোনো আবেদন করা হয়নি। আবেদন পেলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।"