রূপকথা: কি করেন আপনি?
- দেখতেই তো পাচ্ছো কি করি! কাপড় আয়রন!
রূপকথা: আপনার মুখে শুনতে চাই, কি করেন। হি হি।
- আচ্ছা আমার পাঞ্জাবি এবং শার্ট গুলো প্রায় আয়রন করা শেষ। তোমার কালকে ধুয়ে দেওয়া বোরখা আর কোকরানো জামাটা নিয়ে আসো আয়রন করি।
রূপকথা: হ্যা ওত সুন্দর বোরখাটা দেই আর আপনি নষ্ট করে ফেল। তুমি আয়রন করতে পারবে না। রাস্তার মোড়ের হালিম চাচাই বেস্ট।
- হ্যালো মিসে্স ওটা আমি কিনে দিছি ওকে্। নষ্ট করলে নতুন পাবা।
রূপকথা: না থাক। ওটা আমার প্রিয় বোরখা। আচ্ছা, এখন তো তোমার কাজ শেষ! এখন যাও গোসল করে নামাজ পড়তে।
- আচ্ছা যাচ্ছি। কিন্তু কি ব্যাপার? কোথায় যাচ্ছো?
রূপকথা: (চড়ুই বন্ধু), (বিননীদেবী'র) দের হ্যাংক আউট করতে।
- কই আমায় তো বললা না কিছু?
রূপকথা: বলতেও হবে তোমাকে আবার? বললেই তো রাখে আস্তে যাবা! তাই বলিনি।
- আচ্ছা যাও; সন্ধ্যার আগে বাসায় ফিড়তে হবে আর সাবধানে যাইও। মেসেজ করলে রিপ্লাই দিতে ভুলো না। আল্লাহ হাফেজ। ফি আমানিল্লাহ।
রূপকথার: আল্লাহ হাফেজ।
- এটা বলে রূপকথা সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগল। আজকের এই বিষয়টা একদম বাজে ছিল। সবসময় বলা হয় তাকে যে, না বলে কোথাও যাইয়েন না? ভয় হয় ওনাকে নিয়ে। একটু অগোছালো তো। গুছিয়ে চলতে পারে না ঠিক মতো। আর এটা মানিয়ে চলা লাগে আমারেই। এটা অবশ্য আমার দায়িত্ব। কিন্তু না বলে বাহিরে যাওয়াটা আমি পছন্দ করি না কখনো তার কাছে থেকে। এগুলো ভাবতে ভাবতে দিন ডুুবে বিকেল। বিকেলে হাট্টতে বেড়ালাম। আর কদিন ধরে কি জানি হয়েছে কিছু লেখার মনমানসিকতা নেই। তার উপর রূপকথা। ওনাকে নিয়ে ভাবতে বসলে আমার মাথার উপর বিরাট বটগাছের ছায়া মনে হয়। কিছুটা শান্তির আবার কিছুটা অপ্রকাশিত বিচ্ছিরি কল্পনা। তবুও বেশ শান্তির। তাজহাট পেড়িয়ে মনে হল। আজকের রান্নাটা আমার দায়িত্বে নেই। পরমুহূর্তেই মনে হলো সে নিশ্চয়ই খেয়ে আসবে। আর একার জন্য রান্নায় কোনো ফিলিংস নাই।একা খেয়ে কোন তৃপ্তি পাবো না৷ তাই রান্না চিন্তা মাথা থেকে বর্তমান ঝেড়ে ফেললাম। আজ বুধবার। লালবাগের বড় হাট। বেশ কিছু বাজার করে। বাসায় ফিরলাম। এসে দেখি এখনো হাসেনি সে। মনটা অন্য মনস্ক হতে দেরী করল না। ফোন দিলাম বিজি দেখাচ্ছে। বিননীদেবী'রে ফোন দিলাম। সে নাকি চলে গেছে। তার মানে আসতেছে। আসুক কিছু কথা বলব আজকে। রাগ বা ঝগড়া না তাকে বোঝাতে হবে পূর্ণরায়।
২৫মিনিট পর...
বেল বাজাচ্ছে। খুলে দিলাম।
রূপকথা: আসসালামু আলাইকুম। কি ব্যাপার অনেক্ক্ষণ যাবত বেল বাজাচ্ছি। ঘুমিয়ে ছিলেন নাকি?
- ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ঘুমাচ্ছিলাম না। বাজার করে আনছি সেগুলো আলাদা আলাদা প্যাকেটে ভরলাম। মুরগির আনছি সেগুলো পরিষ্কার করতেছি। তাই একটু লেট।
রূপকথা: ওহ। সাহায্য করব?
- না থাক। আমি পারবো।
রূপকথা: কি ব্যাপার অভিমান করছেন আবার?
- ধুর না। কিসের অভিমান। অভিমান না।
রূপকথা: তাহলে চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলছেন না যে?
- আরে পাগলী অনেকক্ষণ যাবত কাজ করছি তো কোমড় লাগে আসছে তাই মুখ দিয়ে কথা আসছে না।
রূপকথার: তাহলে একা কাজ করতে গেলেন কেন? আর এতগুলো মুরগির মাংস। ফ্রিজে রাখলেই হইত।
- হ্যাঁ হইত খুব ভালো মতো। রাখলে রক্ত দিয়ে ডিপ ভর্তি হইত।সেগুলো গন্ধ করত। তার চেয়ে কষ্ট করা ভালো।
রূপকথা: এতগুলো মাংস কেউ কিনে। কেউ দেখলে মনে করবে আমার বিয়ে।
- হা হা।হ্যাঁ তোমাকে আবার বিয়ে দিতে হবে; পাত্র খুঁজি।
রূপকথা: হ্যা খুঁজো। আচ্ছা বাদ দেন ওগুলো। আমি ফ্রেশ হয়ে আসি কেমন। বাহিরে অনেক গরম ঘামে একাকার।
- কিছুক্ষণ পর যখন ফ্রেশ হয়ে আসে।তখন আমি আমার রুমে বই পড়ি। কোন এক লেখকের।
রূপকথা: কি বই পড়েন দেখি! ওহ এটা। আচ্ছা জানেন আজ সবাই মিলে অনেক মজা হইল। আপনার কথা জিজ্ঞেস করল।
- কি বললে?
রূপকথা: বলছি কিছু একটা! বড় কথা হচ্ছে চলেন ঘুরতে যাই। (চড়ুই বন্ধু)ও যাইতে চাচ্ছে।
- আচ্ছা চলো।
রূপকথা: এবার ডাকপাখি থাকবে না। আপনার ফ্রেন্ডকে নেন দুজনকে। আমরা যাই তিনজন। আর আপনার ঔই ক্যামেরা ম্যান বন্ধু তো যাবেই আপনার। সবাই মিলে তাহলে হচ্ছে ৭জন। আগের মতো। খাওয়া এবং হোটেল ভাড়া নিজের। গা্রির তেল আমাদের।
- এমনি এই মাসে আমার ক্রাইসিস তুমিও আমায় চাপ দিচ্ছো তেলের টাকা দিয়ে। আর গাড়ির সাভিসিং করাতে হবে কিছু। পিছনের একটা চাকার তো সমস্যা। পরের মাসে যাই কেমন? এ মাসে আমার ছুটি নিয়ে সমস্যা। আর গাড়িটাও ঠিক হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ এতদিনে।
রূপকথা: আচ্ছা ঠিক আছে। কোথায় নিয়ে যাবেন তাহলে?
- এবার ভাবছি সিলেট ঘুরব।সিলেট ঘোরা হয় নাই। সবার মুখে শুনি সিলেট নাকি বাংলার মালোশিয়া। হি হি। অনেক সুন্দর নাকি।
রূপকথা: হ্যা চলেন তাহলে।পরের মাসের ১১ তারিখে।
- আচ্ছা।
আমার কিছু কথা ছিলো!
রূপকথা: হ্যা বলেন?
- যদি আমি কখনো ভুল করি কোন কিছু নিয়ে তাহলে আমায় সঙ্গে সঙ্গে বলিয়েন। কারণ আমাকে ভুল থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। শিক্ষা নিতে হবে। আর যদি মনে চেপে রাখেন, মুখ খুলে না বলেন, তাহলে আমি ঔই ভুলটা বার বার করব।
রূপকথা: হ্যা ঠিক আছে বলব?
- আর একটা বিষয় এর আগেও বলছি! আবার বলছি। কখনো কোন মুহূর্তের জন্য বাহিরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে আমাকে বলতে হবে। বান্ধবীদের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন বলে যাবেন৷ ছেলে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাবেন বলে যাবেন। আপনার বেস্টফেন্ডের সঙ্গে খেতে যাবেন কোথাও আমাকে বললেই, পারমিশন দিয়ে দেই। আমি কখনোই না করব না। আপনার সবকিছুর স্বাধীনতা আছে আমার কাছে। আগামীতেও থাকবে। কিন্তু ছেলে বন্ধুকে বাসায় আনা যাবে না কোন প্রোগ্রাম ছাড়া৷ যতকিছু কথা এবং কাজ সব বাহিরে। তাই বলে সন্দেহ করছি না। সমাজ বলতেও কিছু আছে; এটা খেয়াল রাখা দরকার রূপকথা। আপনার বান্ধবী আসবে, থাকবে, যাবে, খাবে, ওদের জন্য দরজা সবসময় খোলা আমার। এটা খেয়াল রাখিয়েন। আর
বিশ্বাসের মর্যাদাটা রাখিয়েন।
এগুলো বলার কারণ কি জানেন? আজ না বলে যাচ্ছিলেন। রাগ হলেও কিছু করার ছিলো না। আমার ভয় হয়। রাস্তা ঘাট ভালো না।কখন কি হয় না হয়। ফোন দিচ্ছিলাম, ফোনও তুলছিলেন না। কি করব বলেন? তাই আমি নিজে গিয়ে রাখে আস্তে চাই এবং নিয়ে আসতে চাই। দেখেন না কলেজে নামিয়ে অফিস যাই। কতবার মেসেজ করি দেখেন না?
রূপকথা: হ্যা দেখি!!
- তাহলে আমার ভয়টাকে। তিব্র করিয়েন না নেক্সট নাইমে। যাই হোক না কেন ফোন টা ধরিয়েন। আপনার কিছু হলে আমি আজও ঠিক থাকি না।
রূপকথা: আচ্ছা এখন থেকে বলে যাবো!
- এতগুলো কথা বললাম। ভুল বুঝিয়েন না প্লিজ। মন খারাপ করে দিলাম? রাগ দেখাইনি তো পাগলি; কথাগুলো বলা জরুরি ছিলো।

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
রূপকথা: কি করেন আপনি?
- দেখতেই তো পাচ্ছো কি করি! কাপড় আয়রন!
রূপকথা: আপনার মুখে শুনতে চাই, কি করেন। হি হি।
- আচ্ছা আমার পাঞ্জাবি এবং শার্ট গুলো প্রায় আয়রন করা শেষ। তোমার কালকে ধুয়ে দেওয়া বোরখা আর কোকরানো জামাটা নিয়ে আসো আয়রন করি।
রূপকথা: হ্যা ওত সুন্দর বোরখাটা দেই আর আপনি নষ্ট করে ফেল। তুমি আয়রন করতে পারবে না। রাস্তার মোড়ের হালিম চাচাই বেস্ট।
- হ্যালো মিসে্স ওটা আমি কিনে দিছি ওকে্। নষ্ট করলে নতুন পাবা।
রূপকথা: না থাক। ওটা আমার প্রিয় বোরখা। আচ্ছা, এখন তো তোমার কাজ শেষ! এখন যাও গোসল করে নামাজ পড়তে।
- আচ্ছা যাচ্ছি। কিন্তু কি ব্যাপার? কোথায় যাচ্ছো?
রূপকথা: (চড়ুই বন্ধু), (বিননীদেবী'র) দের হ্যাংক আউট করতে।
- কই আমায় তো বললা না কিছু?
রূপকথা: বলতেও হবে তোমাকে আবার? বললেই তো রাখে আস্তে যাবা! তাই বলিনি।
- আচ্ছা যাও; সন্ধ্যার আগে বাসায় ফিড়তে হবে আর সাবধানে যাইও। মেসেজ করলে রিপ্লাই দিতে ভুলো না। আল্লাহ হাফেজ। ফি আমানিল্লাহ।
রূপকথার: আল্লাহ হাফেজ।
- এটা বলে রূপকথা সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগল। আজকের এই বিষয়টা একদম বাজে ছিল। সবসময় বলা হয় তাকে যে, না বলে কোথাও যাইয়েন না? ভয় হয় ওনাকে নিয়ে। একটু অগোছালো তো। গুছিয়ে চলতে পারে না ঠিক মতো। আর এটা মানিয়ে চলা লাগে আমারেই। এটা অবশ্য আমার দায়িত্ব। কিন্তু না বলে বাহিরে যাওয়াটা আমি পছন্দ করি না কখনো তার কাছে থেকে। এগুলো ভাবতে ভাবতে দিন ডুুবে বিকেল। বিকেলে হাট্টতে বেড়ালাম। আর কদিন ধরে কি জানি হয়েছে কিছু লেখার মনমানসিকতা নেই। তার উপর রূপকথা। ওনাকে নিয়ে ভাবতে বসলে আমার মাথার উপর বিরাট বটগাছের ছায়া মনে হয়। কিছুটা শান্তির আবার কিছুটা অপ্রকাশিত বিচ্ছিরি কল্পনা। তবুও বেশ শান্তির। তাজহাট পেড়িয়ে মনে হল। আজকের রান্নাটা আমার দায়িত্বে নেই। পরমুহূর্তেই মনে হলো সে নিশ্চয়ই খেয়ে আসবে। আর একার জন্য রান্নায় কোনো ফিলিংস নাই।একা খেয়ে কোন তৃপ্তি পাবো না৷ তাই রান্না চিন্তা মাথা থেকে বর্তমান ঝেড়ে ফেললাম। আজ বুধবার। লালবাগের বড় হাট। বেশ কিছু বাজার করে। বাসায় ফিরলাম। এসে দেখি এখনো হাসেনি সে। মনটা অন্য মনস্ক হতে দেরী করল না। ফোন দিলাম বিজি দেখাচ্ছে। বিননীদেবী'রে ফোন দিলাম। সে নাকি চলে গেছে। তার মানে আসতেছে। আসুক কিছু কথা বলব আজকে। রাগ বা ঝগড়া না তাকে বোঝাতে হবে পূর্ণরায়।
২৫মিনিট পর...
বেল বাজাচ্ছে। খুলে দিলাম।
রূপকথা: আসসালামু আলাইকুম। কি ব্যাপার অনেক্ক্ষণ যাবত বেল বাজাচ্ছি। ঘুমিয়ে ছিলেন নাকি?
- ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ঘুমাচ্ছিলাম না। বাজার করে আনছি সেগুলো আলাদা আলাদা প্যাকেটে ভরলাম। মুরগির আনছি সেগুলো পরিষ্কার করতেছি। তাই একটু লেট।
রূপকথা: ওহ। সাহায্য করব?
- না থাক। আমি পারবো।
রূপকথা: কি ব্যাপার অভিমান করছেন আবার?
- ধুর না। কিসের অভিমান। অভিমান না।
রূপকথা: তাহলে চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলছেন না যে?
- আরে পাগলী অনেকক্ষণ যাবত কাজ করছি তো কোমড় লাগে আসছে তাই মুখ দিয়ে কথা আসছে না।
রূপকথার: তাহলে একা কাজ করতে গেলেন কেন? আর এতগুলো মুরগির মাংস। ফ্রিজে রাখলেই হইত।
- হ্যাঁ হইত খুব ভালো মতো। রাখলে রক্ত দিয়ে ডিপ ভর্তি হইত।সেগুলো গন্ধ করত। তার চেয়ে কষ্ট করা ভালো।
রূপকথা: এতগুলো মাংস কেউ কিনে। কেউ দেখলে মনে করবে আমার বিয়ে।
- হা হা।হ্যাঁ তোমাকে আবার বিয়ে দিতে হবে; পাত্র খুঁজি।
রূপকথা: হ্যা খুঁজো। আচ্ছা বাদ দেন ওগুলো। আমি ফ্রেশ হয়ে আসি কেমন। বাহিরে অনেক গরম ঘামে একাকার।
- কিছুক্ষণ পর যখন ফ্রেশ হয়ে আসে।তখন আমি আমার রুমে বই পড়ি। কোন এক লেখকের।
রূপকথা: কি বই পড়েন দেখি! ওহ এটা। আচ্ছা জানেন আজ সবাই মিলে অনেক মজা হইল। আপনার কথা জিজ্ঞেস করল।
- কি বললে?
রূপকথা: বলছি কিছু একটা! বড় কথা হচ্ছে চলেন ঘুরতে যাই। (চড়ুই বন্ধু)ও যাইতে চাচ্ছে।
- আচ্ছা চলো।
রূপকথা: এবার ডাকপাখি থাকবে না। আপনার ফ্রেন্ডকে নেন দুজনকে। আমরা যাই তিনজন। আর আপনার ঔই ক্যামেরা ম্যান বন্ধু তো যাবেই আপনার। সবাই মিলে তাহলে হচ্ছে ৭জন। আগের মতো। খাওয়া এবং হোটেল ভাড়া নিজের। গা্রির তেল আমাদের।
- এমনি এই মাসে আমার ক্রাইসিস তুমিও আমায় চাপ দিচ্ছো তেলের টাকা দিয়ে। আর গাড়ির সাভিসিং করাতে হবে কিছু। পিছনের একটা চাকার তো সমস্যা। পরের মাসে যাই কেমন? এ মাসে আমার ছুটি নিয়ে সমস্যা। আর গাড়িটাও ঠিক হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ এতদিনে।
রূপকথা: আচ্ছা ঠিক আছে। কোথায় নিয়ে যাবেন তাহলে?
- এবার ভাবছি সিলেট ঘুরব।সিলেট ঘোরা হয় নাই। সবার মুখে শুনি সিলেট নাকি বাংলার মালোশিয়া। হি হি। অনেক সুন্দর নাকি।
রূপকথা: হ্যা চলেন তাহলে।পরের মাসের ১১ তারিখে।
- আচ্ছা।
আমার কিছু কথা ছিলো!
রূপকথা: হ্যা বলেন?
- যদি আমি কখনো ভুল করি কোন কিছু নিয়ে তাহলে আমায় সঙ্গে সঙ্গে বলিয়েন। কারণ আমাকে ভুল থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। শিক্ষা নিতে হবে। আর যদি মনে চেপে রাখেন, মুখ খুলে না বলেন, তাহলে আমি ঔই ভুলটা বার বার করব।
রূপকথা: হ্যা ঠিক আছে বলব?
- আর একটা বিষয় এর আগেও বলছি! আবার বলছি। কখনো কোন মুহূর্তের জন্য বাহিরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে আমাকে বলতে হবে। বান্ধবীদের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন বলে যাবেন৷ ছেলে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাবেন বলে যাবেন। আপনার বেস্টফেন্ডের সঙ্গে খেতে যাবেন কোথাও আমাকে বললেই, পারমিশন দিয়ে দেই। আমি কখনোই না করব না। আপনার সবকিছুর স্বাধীনতা আছে আমার কাছে। আগামীতেও থাকবে। কিন্তু ছেলে বন্ধুকে বাসায় আনা যাবে না কোন প্রোগ্রাম ছাড়া৷ যতকিছু কথা এবং কাজ সব বাহিরে। তাই বলে সন্দেহ করছি না। সমাজ বলতেও কিছু আছে; এটা খেয়াল রাখা দরকার রূপকথা। আপনার বান্ধবী আসবে, থাকবে, যাবে, খাবে, ওদের জন্য দরজা সবসময় খোলা আমার। এটা খেয়াল রাখিয়েন। আর
বিশ্বাসের মর্যাদাটা রাখিয়েন।
এগুলো বলার কারণ কি জানেন? আজ না বলে যাচ্ছিলেন। রাগ হলেও কিছু করার ছিলো না। আমার ভয় হয়। রাস্তা ঘাট ভালো না।কখন কি হয় না হয়। ফোন দিচ্ছিলাম, ফোনও তুলছিলেন না। কি করব বলেন? তাই আমি নিজে গিয়ে রাখে আস্তে চাই এবং নিয়ে আসতে চাই। দেখেন না কলেজে নামিয়ে অফিস যাই। কতবার মেসেজ করি দেখেন না?
রূপকথা: হ্যা দেখি!!
- তাহলে আমার ভয়টাকে। তিব্র করিয়েন না নেক্সট নাইমে। যাই হোক না কেন ফোন টা ধরিয়েন। আপনার কিছু হলে আমি আজও ঠিক থাকি না।
রূপকথা: আচ্ছা এখন থেকে বলে যাবো!
- এতগুলো কথা বললাম। ভুল বুঝিয়েন না প্লিজ। মন খারাপ করে দিলাম? রাগ দেখাইনি তো পাগলি; কথাগুলো বলা জরুরি ছিলো।

আপনার মতামত লিখুন