রংপুর    বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
জুফাস নিউজ

রংপুরে যৌতুক না দেওয়ায় বিয়েতে আসেনি বর

বিয়ের বাড়ির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। স্বজন ও অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য রান্না করা হরেক পদের খাবার সাজানো। কনের গায়ে হলুদ শেষ, বিয়ের সাজে কনেও প্রস্তুত। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বরযাত্রী নিয়ে আসার ঠিক আগ মুহূর্তে কনে পক্ষের কাছে দাবি করা হলো নগদ ৫ লাখ টাকা যৌতুক এবং ৩ লাখ টাকার আসবাবপত্র! তাৎক্ষণিক সেই বিপুল অংকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় শেষ পর্যন্ত বিয়ের পিঁড়িতে বরের গাড়ি আর এসে পৌঁছায়নি।গত রবিবার (১২ জুলাই) রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নে এই অমানবিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিচার ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কনের অসহায় পিতা।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের চক পলাশবাড়ী এলাকার শাহ আলমের মেয়ের সাথে তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ালকুঠি ইউনিয়নের সর্দারপাড়ার আবদুল হালিম শাহের ছেলে মিলন মিয়ার বিয়ে ঠিক হয়। ১২ জুলাই (রবিবার) বিয়ের নির্ধারিত দিনে কনের বাড়িতে প্যান্ডেল সাজানো, রান্নাবান্নাসহ সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছিল।মেয়ের গায়ে হলুদ সম্পন্ন হওয়ার পর যখন বরের জন্য গাড়ি পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে, তখনই বরপক্ষ থেকে যৌতুকের এই বিশাল দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বর আর কনেকে নিতে আসেনি।[TECHTARANGA-POST:6372]অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে কনের বাবা শাহ আলম বলেন:"আমার বাজার খরচ থেকে শুরু করে রান্নাবান্না সব প্রস্তুত করেছি। হঠাৎ করে ওখান থেকে খবর আসলো বিয়ে হবে না। কেন হবে না জানতে চাইলে ওরা সরাসরি জানায়, নগদ ৫ লাখ টাকা যৌতুক এবং ৩ লাখ টাকার ঘরের আসবাবপত্র দিতে হবে। আমার মেয়ের গায়ে হলুদ মাখা হয়ে গেছে। এই অবস্থায় সমাজ ও আত্মীয়-স্বজনের সামনে আমাদের মান-সম্মান সব শেষ হয়ে গেল। এই মেয়ে নিয়ে এখন আমি কোথায় যাব?"কনের ভগ্নিপতি জানান, বিয়ের কেনাকাটা থেকে শুরু করে সব চূড়ান্ত হওয়ার পর শেষ মুহূর্তে বরপক্ষ এমন আচরণ করেছে। অনন্যোপায় হয়ে পরিবারটি প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েছে।যৌতুক দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে বরের বাবা আবদুল হালিম শাহ দাবি করেন:"আমরা এক টাকাও যৌতুক চাইনি। আমরা ১ লাখ টাকা দেনমোহর করতে বলেছিলাম। কিন্তু কনের পরিবার জোর করে ৫ লাখ টাকা দেনমোহর করতে চায়। এই দ্বন্দ্বে ছেলে বিয়ে করতে যায়নি। বিয়ে না হওয়াটা ভিন্ন বিষয়। তবে মেয়ের পরিবারের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা আমরা আলোচনা করে পরিশোধ করতে রাজি আছি।"যৌতুকের মতো সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোনাব্বর হোসেন বলেন,"অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। আমি হাড়িয়ালকুঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি।"এ বিষয়ে হাড়িয়ালকুঠি ইউপি চেয়ারম্যান কুমারেশ রায় বলেন, "গত সোমবার আমি দুই পক্ষের সঙ্গেই বসে প্রাথমিক কথা বলেছি। আশা করছি আলোচনার মাধ্যমে খুব দ্রুতই এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়টির একটি সুষ্ঠু সমাধান হবে।"ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী এই জঘন্য যৌতুক প্রথার অবসান এবং এর সাথে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

রংপুরে যৌতুক না দেওয়ায় বিয়েতে আসেনি বর