রংপুর    শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
জুফাস নিউজ

হিলিতে ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত আগাছা পার্থেনিয়াম, দুশ্চিন্তায় স্থানীয়রা

দিনাজপুরের হিলি রেলস্টেশন ও এর আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত আগাছা পার্থেনিয়াম। দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া এ আগাছাটি এখন স্থানীয় বাসিন্দা ও ট্রেনযাত্রীদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, আগাছাটি মানুষের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুতই এসব বিষাক্ত আগাছা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।হিলি রেলস্টেশন, স্টেশন মাস্টারের কার্যালয় ও আশপাশের এলাকা, সংকেত কেন্দ্র এবং রেললাইনের ধারে ঝাঁকে ঝাঁকে পার্থেনিয়ামের সাদা ফুল ফুটেছে। প্রতিদিন শত শত যাত্রী এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন। অসাবধানতায় অনেকেই এই গাছের সংস্পর্শে আসছেন।চিকিৎসকদের মতে, পার্থেনিয়াম শুধু স্পর্শের মাধ্যমে নয়, এর রেণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়েও মানুষের ক্ষতি করতে পারে। এই গাছের সংস্পর্শে ত্বকে লালচে দাগ, চুলকানি, মারাত্মক একজিমা বা ত্বকের প্রদাহ হতে পারে। এছাড়া এর ফুলের রেণু বাতাসের মাধ্যমে শ্বাসনালীতে ঢুকলে অ্যালার্জি, তীব্র হাঁপানি ও সাইনাসের সমস্যাও হতে পারে। দীর্ঘদিন এই গাছের কাছাকাছি থাকলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতাও কমে যেতে পারে।এমনকি শুধু মানুষ নয়, গবাদিপশুর জন্যও পার্থেনিয়াম ক্ষতিকর। গবাদিপশু এই আগাছা খেলে তাদের লিভার ও পাকস্থলীর ক্ষতি হতে পারে। গাভীর দুধের স্বাদ তেতো হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বলেন, হিলি রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় বিষাক্ত কিছু গাছ ছড়িয়ে পড়েছে। ছোটবেলায় তারা এখানে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলতেন। এখন এসব গাছ ছড়িয়ে পড়ায় আর খেলতে পারেন না। গাছগুলো গবাদিপশু, পাখি ও মানুষের ক্ষতি করে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এগুলো ধ্বংস করে এলাকা পরিষ্কার রাখা।স্থানীয় বাসিন্দা রাহিম শেখ বলেন, তার পেছনে থাকা গাছটি পার্থেনিয়াম নামে বিষাক্ত আগাছা বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এটি মানুষ ও পশুপাখির জন্য ক্ষতিকর হলে কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং এলাকা দ্রুত পরিষ্কার করা।স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্টেশনের পাশের রাস্তা দিয়ে তারা যাতায়াত করেন। রাস্তার দুই পাশে দেখতে সুন্দর সাদা ফুল ফুটলেও গাছগুলো ক্ষতিকর। এগুলো মানুষের পাশাপাশি গরু-ছাগলেরও ক্ষতি করে। শরীরে লাগলে চুলকানি ও বড় ধরনের ঘা হতে পারে। তাই এসব গাছ ধ্বংস করা দরকার।হিলি রেলস্টেশনের মাস্টার জয়ন্ত চক্রবর্তী বলেন, গাছটি বিষাক্ত কি না, তা তিনি আগে জানতেন না। সংবাদকর্মীদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। রেলের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয় এবং পরিবেশ ঠিক রাখতে ওষুধ দিয়ে বিভিন্ন ঘাসও ধ্বংস করা হচ্ছে। পার্থেনিয়ামের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. হুমায়ন কবির বলেন, পার্থেনিয়াম এ অঞ্চলের উদ্ভিদ নয়। এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আগাছা। এর ক্ষতিকর দিক হলো এটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ ও গবাদিপশু উভয়ের জন্যই এটি ক্ষতিকর। গবাদিপশু ভুল করে এই আগাছা খেলে মুখে ঘা হতে পারে। দীর্ঘদিন খেলে লিভারের ক্ষতি ও কিডনি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দুগ্ধবতী গাভী বা ছাগল এটি খেলে দুধের স্বাদ পরিবর্তন হতে পারে। এই আগাছা খাওয়া গবাদিপশুর মাংসের স্বাদও বদলে যেতে পারে।তিনি আরো বলেন, মানুষের ত্বকে সরাসরি লাগলে ত্বকের প্রদাহ হতে পারে। এর পরাগরেণু শ্বাসনালীর মাধ্যমে ফুসফুসে গেলে হাঁপানি ও অতিসংবেদনশীলতার মতো প্রতিক্রিয়া হতে পারে। পার্থেনিয়াম শনাক্ত করা গেলে খালি হাতে এটি ধরা উচিত নয়।হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, রেলস্টেশনের পরিত্যক্ত জায়গা ও বিভিন্ন ভবনের পরিত্যক্ত স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে পার্থেনিয়ামের অস্তিত্ব দেখা গেছে। এ ধরনের আগাছা নির্মূল বা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে হবে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে যেসব এলাকায় এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, সেসব এলাকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।তিনি জানান, পার্থেনিয়াম তুলে মাটিতে গর্ত করে পুঁতে ফেলা বা পুড়িয়ে ফেলার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়া ক্লোরিনযুক্ত আগাছানাশকের সঙ্গে পানিতে খাবার লবণ মিশিয়ে ছিটিয়েও আগাছাটি নির্মূল করা সম্ভব। তবে সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো আগাছা তুলে গর্ত করে পুঁতে ফেলা। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এটি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।হিলি রেলস্টেশনের মাস্টার জয়ন্ত চক্রবর্তী বলেন, গাছটি বিষাক্ত কি না, তা তিনি আগে জানতেন না। সংবাদকর্মীদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। রেলের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয় এবং পরিবেশ ঠিক রাখতে ওষুধ দিয়ে বিভিন্ন ঘাসও ধ্বংস করা হচ্ছে। পার্থেনিয়ামের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।[TECHTARANGA-POST:6558]হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. হুমায়ন কবির বলেন, পার্থেনিয়াম এ অঞ্চলের উদ্ভিদ নয়। এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আগাছা। এর ক্ষতিকর দিক হলো এটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ ও গবাদিপশু উভয়ের জন্যই এটি ক্ষতিকর। গবাদিপশু ভুল করে এই আগাছা খেলে মুখে ঘা হতে পারে। দীর্ঘদিন খেলে লিভারের ক্ষতি ও কিডনি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দুগ্ধবতী গাভী বা ছাগল এটি খেলে দুধের স্বাদ পরিবর্তন হতে পারে। এই আগাছা খাওয়া গবাদিপশুর মাংসের স্বাদও বদলে যেতে পারে।তিনি আরো বলেন, মানুষের ত্বকে সরাসরি লাগলে ত্বকের প্রদাহ হতে পারে। এর পরাগরেণু শ্বাসনালীর মাধ্যমে ফুসফুসে গেলে হাঁপানি ও অতিসংবেদনশীলতার মতো প্রতিক্রিয়া হতে পারে। পার্থেনিয়াম শনাক্ত করা গেলে খালি হাতে এটি ধরা উচিত নয়।হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, রেলস্টেশনের পরিত্যক্ত জায়গা ও বিভিন্ন ভবনের পরিত্যক্ত স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে পার্থেনিয়ামের অস্তিত্ব দেখা গেছে। এ ধরনের আগাছা নির্মূল বা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে হবে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে যেসব এলাকায় এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, সেসব এলাকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।তিনি জানান, পার্থেনিয়াম তুলে মাটিতে গর্ত করে পুঁতে ফেলা বা পুড়িয়ে ফেলার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়া ক্লোরিনযুক্ত আগাছানাশকের সঙ্গে পানিতে খাবার লবণ মিশিয়ে ছিটিয়েও আগাছাটি নির্মূল করা সম্ভব। তবে সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো আগাছা তুলে গর্ত করে পুঁতে ফেলা। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এটি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

হিলিতে ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত আগাছা পার্থেনিয়াম, দুশ্চিন্তায় স্থানীয়রা