সৈয়দপুর গোলাহাটে রাস্তা নির্মাণকাজে ফিরছে স্বস্তি
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসানের আশায় স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার গোলাহাট এলাকার বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা সড়ক, খানাখন্দ এবং ড্রেনের পানি রাস্তায় জমে থাকার কারণে চরম ভোগান্তিতে থাকা এই এলাকায় অবশেষে শুরু হয়েছে রাস্তা পুনর্র্নিমাণের কাজ। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ফিরে এসেছে স্বস্থি ও আশাবাদ।স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটির বেহাল অবস্থার কারণে পথচারী, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও যানবাহন চালকদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হতো। সামান্য বৃষ্টিতেই ড্রেনের পানি রাস্তায় উঠে আসত। ফলে চলাচল যেমন কষ্টকর হয়ে উঠত, তেমনি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও ছিল সবসময়।বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সরেজমিনে গেলে দেখা যায় গোলাহাট রেলওয়ে কলোনী জামে মসজিদ থেকে গোলাহাট কবরস্থান গেট পর্যন্ত রাস্তা ঢালাইয়ের জন্য রড বিছিয়ে শ্রমিকগুলো কাজ করছেন। অথচ রাস্তার এই অংশই ছিল সবচেয়ে বেশি অবহেলিত এবং সবচেয়ে বেশি ভাঙ্গা এবং পুরো ড্রেনের পানি রাস্তায় এখানেই আসতো।রাস্তার নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় এখন এলাকার মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি। তারা আশা করছেন, দ্রæত কাজ শেষ হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান হবে।গোলাহাট কবরস্থান গেটে এলাকার দোকান্দার মো. ইমরান বলেন, এই রাস্তায় চলাচল করা খুবই কষ্টকর ছিল। বর্ষাকালে তো আরও ভয়াবহ অবস্থা হতো। এখন কাজ শুরু হওয়ায় আমরা অনেক খুশি। আশা করি ভালো মানের কাজ হবে।ওই এলাকার গৃহিণী রওশন আরা বেগম বলেন, বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যেতে খুব সমস্যা হতো। কাদা-পানি আর ভাঙা রাস্তার কারণে প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। অবশেষে কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্থি লাগছে।অপর বাসিন্দা ওয়াকার আনসারী বলেন, অনেক দিন ধরে এই রাস্তার সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলাম আমরা এলাকাবাসী। এর জন্য মানববন্ধন থেকে শুরু করে আন্দোলনও করতে হয়েছে এলাকাবাসীকে। এখন কাজ শুরু হয়েছে, এজন্য পৌর প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। দ্রæত কাজ শেষ হলে ব্যবসা-বাণিজ্যও সহজ হবে।রিকশাচালক আব্দুস সালাম বলেন, ভাঙা রাস্তায় রিকশা চালাতে অনেক কষ্ট হতো, প্রায়ই গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতো। নতুন রাস্তা হলে আমাদেরও কষ্ট অনেক কমে যাবে।জানা গেছে, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৈয়দপুর পৌরসভায় বর্তমানে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক সংস্কার, নতুন ড্রেন নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন পরিষ্কার, মশক নিধনে স্প্রে কার্যক্রম, সড়কবাতি স্থাপন এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ ইতোমধ্যে নগরবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রায় ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দুটি সড়ক এবং একটি মাস্টার ড্রেন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া শহরের অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত সড়কও পর্যায়ক্রমে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল খালেক বলেন, প্রকল্পগুলোর গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। যাতে কাজের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলি বলেন, শহরবাসীর নাগরিক সুবিধা বাড়াতে শতভাগ উন্নয়ন বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। প্রকল্পগুলো শেষ হলে যাতায়াত ও পানি নিষ্কাশনের দীর্ঘদিনের সমস্যার উল্লেখযোগ্য সমাধান হবে।[TECHTARANGA-POST:6386]এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা বলেন, সৈয়দপুর পৌরসভার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করছি, পৌর পরিষদের নির্বাচন হওয়ার আগেই বেশিরভাগ উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। নগরবাসীর সহযোগিতায় একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পৌরসভা গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।