তালের শাঁসের উপকারিতা জানলে অবাক হবেন!
আজকাল হাতের নাগালেই পাওয়া যাচ্ছে কাঁচা তালের শাঁস। শুধুমাত্র গ্রীষ্মকালে এ ফল পাওয়া যায়। ফলটি শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা।সুস্বাদু এ ফলটি খেতে রসালো ও নরম। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খনিজ উপাদান যেমন পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, জিঙ্ক, ফাইবার ইত্যাদি। এতে আরও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।তালের শাঁসের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে মিরপুর ইসলামি ব্যাংক হসপিটাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারের সিনিয়র পুষ্টিবিদ শরীফা আক্তার শাম্মী বলেছেন, মৌসুমি ফল তালের শাঁস খাওয়াটা গরমের এ সময় সবার জন্যই ভালো। কেননা এটি শরীরের সুস্থতা নিশ্চিতে সাহায্য করে। তবে এটা ভরা পেটে খেলেই ভালো হবে। উপকারিতা তালের শাঁস খেলে যেসব উপকার মিলবেএটি পানিশূন্যতা রোধ করে শরীর হাইড্রেটেড রাখবে।শরীর দ্রুত শীতল অনুভব পাবে।লিভারের যত্নে কচি তালের শাঁস খাওয়া যেতে পারে। এটি লিভারের সমস্যা দূর করতে পারে।আয়রনের ঘাটতি মেটাতে নিয়মিত তালের শাঁস খেলে উপকার পাওয়া যায়।যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে তারা ডায়েট লিস্টে তালের শাঁস রাখতে পারেন।বেশি তাপমাত্রায় অনেকেরই হজমের সমস্যা হয়। এ সমস্যা দূর করতে বেশ কার্যকরী তালের শাঁস।চোখের অ্যালার্জি, পানি পড়া ইত্যাদি রোগ-প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে এ মৌসুমি ফল।রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ভালো কাজ করে তালের শাঁস।শুষ্ক ত্বক, রোদে পোড়া ভাব দূর করতেও নিয়মিত খেতে পারেন তালের শাঁস।প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রুখে দিতে পারে।তালের শাঁস কাদের জন্য ক্ষতিকর?ডায়াবেটিস রোগী: তালের শাঁসে প্রাকৃতিক চিনি (গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ) থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে। রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে গিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের তালের শাঁস একেবারে না খাওয়া বা খুব কম পরিমাণে খাওয়া উচিত।অ্যালার্জি প্রবণ ব্যক্তি: কিছু মানুষ তালজাতীয় খাবারে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন, যেমন চুলকানি, র্যাশ, হাঁচি, ইত্যাদি। যদি কখনো তাল খাওয়ার পর শরীরে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এড়িয়ে চলা ভালো।হজমে সমস্যা: তালের শাঁস অতিরিক্ত ঠান্ডা প্রকৃতির, ফলে যাদের পেট ঠান্ডা বা অম্লতা সমস্যা আছে, তাদের জন্য এটি খেলে উল্টো প্রভাব ফেলতে পারে – ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা হতে পারে।শিশু ও গর্ভবতী নারী: শিশুদের জন্য তালের শাঁস কাঁচা বা ভালোভাবে পরিষ্কার না করা থাকলে হজমে সমস্যা হতে পারে। গর্ভবতী নারীদের জন্য সরাসরি ক্ষতিকর না হলেও, হজমের সমস্যা থাকলে সাবধানে খাওয়া উচিত।