রংপুর    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জুফাস নিউজ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বালিয়াডাঙ্গীতে মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে অর্ধশত শিক্ষার্থী অসুস্থ

বালিয়াডাঙ্গীতে মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে অর্ধশত শিক্ষার্থী অসুস্থ
ছবি: জুফাস নিউজ

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মিড ডে মিলের প্যাকেটজাত দুধ খেয়ে ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৪৬ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ কৃত দুপুরে দুধ খাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেটে ব্যথা, পেটে পীড়া ও বমির উপসর্গ দেখা দেয়।

ঘটনার শুরু হয় উপজেলার মধুপুর (১) নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ বিদ্যালয়ের ৪২ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। পরে মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ জন এবং তুলশীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আরও ১ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টা পর্যন্ত মোট ৪৬ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই বমি করেছে এবং বেশ কয়েকজন পেটের ব্যথা ও পীড়ায় ভুগছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসক। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন বলেও জানান তারা।

মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, আজ দুপুরে আমাদের মিড ডে মিলের, পাউরুটি ও প্যাকেটজাত দুধ দেয়া হয় খেতে। পরে দুধ খাওয়ার পরপরই আমাদের পেটে ব্যথা শুরু হয়। অনেকের বমি আসে এবং কয়েকজন বিদ্যালয়েই বমিও করে। তাদের অভিযোগ, দুধের স্বাদ তিতা ছিল এবং নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো গন্ধও পাওয়া যাচ্ছিল। বিষয়টি শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের জানানো হলেও দুধ খেতে বলা হয়। দুধ খাওয়ার পরই তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনিকা দেবনাথের বাবা মানিক দেবনাথ বলেন, মেয়ের পেটে ব্যথা শুরু হলে প্রথমে তাকে বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন তিনি।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিযোগ, দুধ বিতরণের আগে সেটি ভালো আছে কি না, তা যথাযথভাবে পরীক্ষা না করেই শিক্ষার্থীদের খেতে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীর গুরুতর ক্ষতি হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।

তবে মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহিল সাফি বলেন, ঘটনার সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন এবং দিনাজপুরে যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন। বিদ্যালয়ে দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক ফেরদৌসী বেগম দুধ বিতরণ করেন। প্যাকেটের ভেতরে থাকায় বাইরে থেকে দুধের সমস্যা বোঝা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস, বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি বুলবুল ইসলাম ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা চলছে এবং তারা বর্তমানে ভালো আছে। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস জানান, বিদ্যালয়ে থাকা অবশিষ্ট খাবার জব্দ করতে বলা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্যাকেটজাত দুধ সরবরাহ করে রংপুর ডেইরি ফুডস অ্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহকারী হিসেবে দায়িত্বে থাকা আবু রিয়াল বলেন, দুধগুলো আগের দিন বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হয়েছিল। উপজেলার অন্যান্য বিদ্যালয়ে দুধ খেয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। নির্দিষ্ট তিনটি বিদ্যালয়ে কেন এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না।

এদিকে, দুধ খেয়ে একসঙ্গে এত শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সরবরাহ করা দুধ ও অবশিষ্ট খাবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিষয় : বালিয়াডাঙ্গীর খবর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বালিয়াডাঙ্গীতে মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে অর্ধশত শিক্ষার্থী অসুস্থ

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মিড ডে মিলের প্যাকেটজাত দুধ খেয়ে ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৪৬ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ কৃত দুপুরে দুধ খাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেটে ব্যথা, পেটে পীড়া ও বমির উপসর্গ দেখা দেয়।

ঘটনার শুরু হয় উপজেলার মধুপুর (১) নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ বিদ্যালয়ের ৪২ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। পরে মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ জন এবং তুলশীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আরও ১ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টা পর্যন্ত মোট ৪৬ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই বমি করেছে এবং বেশ কয়েকজন পেটের ব্যথা ও পীড়ায় ভুগছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসক। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন বলেও জানান তারা।

মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, আজ দুপুরে আমাদের মিড ডে মিলের, পাউরুটি ও প্যাকেটজাত দুধ দেয়া হয় খেতে। পরে দুধ খাওয়ার পরপরই আমাদের পেটে ব্যথা শুরু হয়। অনেকের বমি আসে এবং কয়েকজন বিদ্যালয়েই বমিও করে। তাদের অভিযোগ, দুধের স্বাদ তিতা ছিল এবং নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো গন্ধও পাওয়া যাচ্ছিল। বিষয়টি শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের জানানো হলেও দুধ খেতে বলা হয়। দুধ খাওয়ার পরই তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনিকা দেবনাথের বাবা মানিক দেবনাথ বলেন, মেয়ের পেটে ব্যথা শুরু হলে প্রথমে তাকে বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন তিনি।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিযোগ, দুধ বিতরণের আগে সেটি ভালো আছে কি না, তা যথাযথভাবে পরীক্ষা না করেই শিক্ষার্থীদের খেতে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীর গুরুতর ক্ষতি হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।

তবে মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহিল সাফি বলেন, ঘটনার সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন এবং দিনাজপুরে যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন। বিদ্যালয়ে দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক ফেরদৌসী বেগম দুধ বিতরণ করেন। প্যাকেটের ভেতরে থাকায় বাইরে থেকে দুধের সমস্যা বোঝা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস, বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি বুলবুল ইসলাম ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা চলছে এবং তারা বর্তমানে ভালো আছে। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস জানান, বিদ্যালয়ে থাকা অবশিষ্ট খাবার জব্দ করতে বলা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্যাকেটজাত দুধ সরবরাহ করে রংপুর ডেইরি ফুডস অ্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহকারী হিসেবে দায়িত্বে থাকা আবু রিয়াল বলেন, দুধগুলো আগের দিন বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হয়েছিল। উপজেলার অন্যান্য বিদ্যালয়ে দুধ খেয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। নির্দিষ্ট তিনটি বিদ্যালয়ে কেন এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না।

এদিকে, দুধ খেয়ে একসঙ্গে এত শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সরবরাহ করা দুধ ও অবশিষ্ট খাবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন তারা।


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ