একদিকে স্বজন হারানোর তীব্র শোক, অন্যদিকে অলৌকিক কোনো ঘটনার জন্য ব্যাকুল অপেক্ষা! নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সাপের কামড়ে মারা যাওয়া তরুণ সাপুড়ে বিজয় রায়ের (২০) মরদেহ যখন শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল, ঠিক তখনই ঘটল এক অদ্ভুত কাণ্ড। পথিমধ্যে হঠাৎ একটি জীবন্ত বিষধর সাপ দেখে স্বজনদের মনে জেগে ওঠে এক অলৌকিক আশা—"এই সাপই কি ফিরিয়ে দেবে বিজয়ের প্রাণ?"
সেই অবাস্তব বিশ্বাস থেকে লাশ সৎকারের বদলে পুনরায় বাড়িতে ফিরিয়ে এনে ৮-১০ জন ওঝা ডেকে চলে তান্ত্রিক ঝাড়ফুঁকের কসরত।
উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের জুরাবান্ধা মালিপাড়া এলাকার বিপুল রায়ের ছেলে বিজয় রায় পেশায় ছিলেন সাপুড়ে। গত ৭ আগস্ট রাতে একটি মেলায় সাপের খেলা দেখানোর সময় নিজের পোষা সাপের কামড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক সপ্তাহ ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
শুক্রবার ভোরে হাসপাতাল থেকে বিজয়ের মরদেহ বাড়িতে আনা হয়। সিদ্ধান্ত ছিল শেষকৃত্য শেষে ছাই তিস্তা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু লাশ বের করার মুখে বাড়ির পাশেই এক বিষধর সাপের দেখা মেলে। আর তাতেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে শোকাহত পরিবারটি। স্থানীয় কুসংস্কার ও ধারণার বশবর্তী হয়ে স্বজনরা ভাবেন, ওই সাপ বিজয়ের শরীর থেকে বিষ টেনে নিয়ে তাকে বাঁচিয়ে তুলতে এসেছে।
সঙ্গে সঙ্গে শ্মশানের প্রক্রিয়া স্থগিত করে লাশ ঘরে এনে শুরু হয় ওঝাদের ঝাড়ফুঁক। বিজয়ের বাবা বিপুল রায় বলেন, "ছেলেটার শেষ কৃত্য করতে যাওয়ার সময় সামনে সাপ আসল। আমাদের মনে হলো ঝাড়ফুঁক করলে ছেলে হয়তো বেঁচে উঠবে, তাই ওঝা ডেকে চেষ্টা করছি।"
খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শত শত মানুষ ভিড় জমায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ম তোড়ে ভাসিয়ে এক মৃতদেহ বাঁচানোর এই কুসংস্কারচ্ছন্ন চেষ্টা দেখতে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল গফুর বলেন:
"চিকিৎসকরা যাকে মৃত ঘোষণা করেছেন, তাকে ঝাড়ফুঁক করে বাঁচানো সম্ভব নয়। এলাকায় যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, সে জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।"
বিষয় : নীলফামারীর খবর কিশোরগঞ্জ

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
একদিকে স্বজন হারানোর তীব্র শোক, অন্যদিকে অলৌকিক কোনো ঘটনার জন্য ব্যাকুল অপেক্ষা! নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সাপের কামড়ে মারা যাওয়া তরুণ সাপুড়ে বিজয় রায়ের (২০) মরদেহ যখন শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল, ঠিক তখনই ঘটল এক অদ্ভুত কাণ্ড। পথিমধ্যে হঠাৎ একটি জীবন্ত বিষধর সাপ দেখে স্বজনদের মনে জেগে ওঠে এক অলৌকিক আশা—"এই সাপই কি ফিরিয়ে দেবে বিজয়ের প্রাণ?"
সেই অবাস্তব বিশ্বাস থেকে লাশ সৎকারের বদলে পুনরায় বাড়িতে ফিরিয়ে এনে ৮-১০ জন ওঝা ডেকে চলে তান্ত্রিক ঝাড়ফুঁকের কসরত।
উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের জুরাবান্ধা মালিপাড়া এলাকার বিপুল রায়ের ছেলে বিজয় রায় পেশায় ছিলেন সাপুড়ে। গত ৭ আগস্ট রাতে একটি মেলায় সাপের খেলা দেখানোর সময় নিজের পোষা সাপের কামড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক সপ্তাহ ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
শুক্রবার ভোরে হাসপাতাল থেকে বিজয়ের মরদেহ বাড়িতে আনা হয়। সিদ্ধান্ত ছিল শেষকৃত্য শেষে ছাই তিস্তা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু লাশ বের করার মুখে বাড়ির পাশেই এক বিষধর সাপের দেখা মেলে। আর তাতেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে শোকাহত পরিবারটি। স্থানীয় কুসংস্কার ও ধারণার বশবর্তী হয়ে স্বজনরা ভাবেন, ওই সাপ বিজয়ের শরীর থেকে বিষ টেনে নিয়ে তাকে বাঁচিয়ে তুলতে এসেছে।
সঙ্গে সঙ্গে শ্মশানের প্রক্রিয়া স্থগিত করে লাশ ঘরে এনে শুরু হয় ওঝাদের ঝাড়ফুঁক। বিজয়ের বাবা বিপুল রায় বলেন, "ছেলেটার শেষ কৃত্য করতে যাওয়ার সময় সামনে সাপ আসল। আমাদের মনে হলো ঝাড়ফুঁক করলে ছেলে হয়তো বেঁচে উঠবে, তাই ওঝা ডেকে চেষ্টা করছি।"
খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শত শত মানুষ ভিড় জমায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ম তোড়ে ভাসিয়ে এক মৃতদেহ বাঁচানোর এই কুসংস্কারচ্ছন্ন চেষ্টা দেখতে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল গফুর বলেন:
"চিকিৎসকরা যাকে মৃত ঘোষণা করেছেন, তাকে ঝাড়ফুঁক করে বাঁচানো সম্ভব নয়। এলাকায় যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, সে জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।"

আপনার মতামত লিখুন