নীলফামারীর জলঢাকায় প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে বখাটেদের প্রহার ও পরবর্তীতে পরিবারের শারীরিক-মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মিষ্টি রানী (১৪) নামে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঘুঘুমারী জেলে পাড়া গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিহত মিষ্টি রানী ওই গ্রামের ননী গোপাল (ওরফে পেলকা)-এর মেয়ে এবং স্থানীয় ঘুঘুমারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির নিয়মিত ছাত্রী ছিল।
স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং পার্শ্ববর্তী মীরগঞ্জ ইউনিয়নের কুটিপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন (ওরফে লিসা, ১৮)-এর সঙ্গে মিষ্টি রানীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
কয়েকদিন আগে তাঁরা দুজন স্থানীয় ঘুঘুমারী 'দুয়াই-সুয়াই' পুকুর পাড়ে দেখা করতে গেলে এলাকার কয়েকজন বখাটে তাদের অবরুদ্ধ করে ফেলে। সেখানে বখাটেরা ওই কিশোর-কিশোরীকে বেধড়ক মারপিট করে আটকে রাখে। পরে স্থানীয় ‘টটে’ নামের এক ব্যক্তি মধ্যস্থতার অজুহাতে ছেলেটির বাবার কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা আদায় করে আলমগীরকে ছেড়ে দেয়।
ঘটনার পরদিন মিষ্টি রানী নিজ বাড়িতে পরিবারের কাছে প্রেমিক আলমগীরের প্রতি নিজের পছন্দের কথা জানায় এবং তাকেই বিয়ে করার আকুতি প্রকাশ করে। তবে এ কথা শোনার পর পরিবারের সদস্যরা প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হন। অভিযোগ রয়েছে, মেয়ের বাবা-মা তার ওপর তীব্র শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান।
একদিকে প্রকাশ্যে বখাটেদের মারধর ও অপমান, অন্যদিকে নিজ পরিবারে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ১৪ বছরের এই কিশোরী। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে পরিবারের অগোচরে সে নিজ ঘরে ঘাসমারা (কীটনাশক) পান করে আত্মহত্যা করে।
এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র থমথমে পরিস্থিতি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী বখাটেদের চাঁদাবাজি-মারধর এবং পরিবারের অতি-নিয়ন্ত্রণ ও নির্যাতনকেই এই অবুঝ কিশোরীর অকাল মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মীরগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মো. রাজু সরকার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিষয় : আত্মহত্যা জলঢাকার খবর নীলফামারীর খবর

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
নীলফামারীর জলঢাকায় প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে বখাটেদের প্রহার ও পরবর্তীতে পরিবারের শারীরিক-মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মিষ্টি রানী (১৪) নামে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঘুঘুমারী জেলে পাড়া গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিহত মিষ্টি রানী ওই গ্রামের ননী গোপাল (ওরফে পেলকা)-এর মেয়ে এবং স্থানীয় ঘুঘুমারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির নিয়মিত ছাত্রী ছিল।
স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং পার্শ্ববর্তী মীরগঞ্জ ইউনিয়নের কুটিপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন (ওরফে লিসা, ১৮)-এর সঙ্গে মিষ্টি রানীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
কয়েকদিন আগে তাঁরা দুজন স্থানীয় ঘুঘুমারী 'দুয়াই-সুয়াই' পুকুর পাড়ে দেখা করতে গেলে এলাকার কয়েকজন বখাটে তাদের অবরুদ্ধ করে ফেলে। সেখানে বখাটেরা ওই কিশোর-কিশোরীকে বেধড়ক মারপিট করে আটকে রাখে। পরে স্থানীয় ‘টটে’ নামের এক ব্যক্তি মধ্যস্থতার অজুহাতে ছেলেটির বাবার কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা আদায় করে আলমগীরকে ছেড়ে দেয়।
ঘটনার পরদিন মিষ্টি রানী নিজ বাড়িতে পরিবারের কাছে প্রেমিক আলমগীরের প্রতি নিজের পছন্দের কথা জানায় এবং তাকেই বিয়ে করার আকুতি প্রকাশ করে। তবে এ কথা শোনার পর পরিবারের সদস্যরা প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হন। অভিযোগ রয়েছে, মেয়ের বাবা-মা তার ওপর তীব্র শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান।
একদিকে প্রকাশ্যে বখাটেদের মারধর ও অপমান, অন্যদিকে নিজ পরিবারে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ১৪ বছরের এই কিশোরী। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে পরিবারের অগোচরে সে নিজ ঘরে ঘাসমারা (কীটনাশক) পান করে আত্মহত্যা করে।
এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র থমথমে পরিস্থিতি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী বখাটেদের চাঁদাবাজি-মারধর এবং পরিবারের অতি-নিয়ন্ত্রণ ও নির্যাতনকেই এই অবুঝ কিশোরীর অকাল মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মীরগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মো. রাজু সরকার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন