সকালে হাসপাতালের বিছানায় জন্ম দিলেন ফুটফুটে এক সন্তান, আর তার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই নিজেকে সামলে নিয়ে বসলেন এইচএসসি পরীক্ষার খাতায়! দৃঢ় ইচ্ছা আর অদম্য মানসিক শক্তির এমন এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী আন্নাবিউল উম্মি।
গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এইচএসসি সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষায় সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে অংশ নেন সাহসী এই তরুণী।
আন্নাবিউল উম্মি সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকার বাসিন্দা আজাহার আলীর মেয়ে এবং কয়া গোলাহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিয়মিত শিক্ষার্থী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ তীব্র প্রসবব্যথা শুরু হলে দ্রুত আন্নাবিউল উম্মিকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সকালেই তিনি একটি সুস্থ-সুন্দর কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।
সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মারাত্মক শারীরিক ক্লান্তি ও যন্ত্রণা সত্ত্বেও পরীক্ষা মিস না করার বিষয়ে অটল থাকেন তিনি। চিকিৎসকদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা ও ছাড়পত্র নেওয়ার পরই নিজের অদম্য ইচ্ছার কথা পরিবারকে জানান। পরে বিষয়টি কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে তাঁরা তাৎক্ষণিক বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। দুপুর হতেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নেন আন্নাবিউল।
নিজের এমন সাহসী সিদ্ধান্তের অভিজ্ঞতা জানিয়ে আন্নাবিউল উম্মি বলেন:
“সন্তান হওয়ার পর প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছিল, তবু একটিবারের জন্যও পরীক্ষা মিস করতে চাইনি। একটি পুরো বছরের পরিশ্রম ও স্বপ্ন যেন নষ্ট না হয়ে যায়, তাই এই অবস্থায় পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি এবং আমার সদ্যজাত শিশুর জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।”
সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব শাহীদ শাহাব এ বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “ওই দিন সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার্থী আন্নাবিউলের বিশেষ পরিস্থিতি জানার পরপরই আমরা তাঁকে স্বাচ্ছন্দে পরীক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও সুযোগ তৈরি করে দিই। একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর এই শিক্ষাভীতিহীন মনোভাব প্রশংসার দাবি রাখে।”
পরীক্ষা শেষ হওয়া মাত্রই অদম্য এই তরুণী মা ও তাঁর নবজাতক সন্তানের জন্য কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিশেষ শুভেচ্ছাস্বরূপ উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
বিষয় : সৈয়দপুর খবর নীলফামারীর খবর

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬
সকালে হাসপাতালের বিছানায় জন্ম দিলেন ফুটফুটে এক সন্তান, আর তার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই নিজেকে সামলে নিয়ে বসলেন এইচএসসি পরীক্ষার খাতায়! দৃঢ় ইচ্ছা আর অদম্য মানসিক শক্তির এমন এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী আন্নাবিউল উম্মি।
গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এইচএসসি সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষায় সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে অংশ নেন সাহসী এই তরুণী।
আন্নাবিউল উম্মি সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকার বাসিন্দা আজাহার আলীর মেয়ে এবং কয়া গোলাহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিয়মিত শিক্ষার্থী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ তীব্র প্রসবব্যথা শুরু হলে দ্রুত আন্নাবিউল উম্মিকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সকালেই তিনি একটি সুস্থ-সুন্দর কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।
সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মারাত্মক শারীরিক ক্লান্তি ও যন্ত্রণা সত্ত্বেও পরীক্ষা মিস না করার বিষয়ে অটল থাকেন তিনি। চিকিৎসকদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা ও ছাড়পত্র নেওয়ার পরই নিজের অদম্য ইচ্ছার কথা পরিবারকে জানান। পরে বিষয়টি কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে তাঁরা তাৎক্ষণিক বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। দুপুর হতেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নেন আন্নাবিউল।
নিজের এমন সাহসী সিদ্ধান্তের অভিজ্ঞতা জানিয়ে আন্নাবিউল উম্মি বলেন:
“সন্তান হওয়ার পর প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছিল, তবু একটিবারের জন্যও পরীক্ষা মিস করতে চাইনি। একটি পুরো বছরের পরিশ্রম ও স্বপ্ন যেন নষ্ট না হয়ে যায়, তাই এই অবস্থায় পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি এবং আমার সদ্যজাত শিশুর জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।”
সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব শাহীদ শাহাব এ বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “ওই দিন সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার্থী আন্নাবিউলের বিশেষ পরিস্থিতি জানার পরপরই আমরা তাঁকে স্বাচ্ছন্দে পরীক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও সুযোগ তৈরি করে দিই। একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর এই শিক্ষাভীতিহীন মনোভাব প্রশংসার দাবি রাখে।”
পরীক্ষা শেষ হওয়া মাত্রই অদম্য এই তরুণী মা ও তাঁর নবজাতক সন্তানের জন্য কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিশেষ শুভেচ্ছাস্বরূপ উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন