রংপুর    সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
জুফাস নিউজ

সংসার ভাঙার নেপথ্যে স্বামী-স্ত্রীর দূরত্ব কেন বাড়ছে?

সংসার ভাঙার নেপথ্যে স্বামী-স্ত্রীর দূরত্ব কেন বাড়ছে?
দাম্পত্যে মানসিক দূরত্ব

দাম্পত্য জীবনে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে সমাজে নানা ধরনের ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নারীদের সাধারণ একটি অভিযোগ থাকে যে তাদের স্বামীরা কেবল শারীরিক চাহিদাকেই প্রাধান্য দেন এবং মানসিক অনুভূতিগুলো বুঝতে চান না। সম্প্রতি একটি বিশেষ পডকাস্ট অনুষ্ঠানে এই স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর মুনমুন জাহান।এই ধরনের ঢালাও মানসিকতা দাম্পত্য জীবনের মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনে বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞের তথ্যমতে প্রতিটি মানুষের কিছু মৌলিক চাহিদা থাকে এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে শারীরিক সম্পর্ক অন্যতম প্রধান একটি চাহিদা। অনেক সময় স্ত্রীরা স্বামীদের এই চাহিদাকে খাটো করে দেখেন কিংবা কেবল এই কারণেই তাদের বিয়ে করা হয়েছে বলে অপবাদ দেন। এই ধরনের মন্তব্য পুরুষের আত্মসম্মান ও শ্রদ্ধাবোধে প্রচণ্ড আঘাত করে যা সম্পর্কের স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করে। এর ফলে স্বামীরা ধীরে ধীরে নিজেদের গুটিয়ে নিতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে স্ত্রীর কাছ থেকে সম্পূর্ণ দূরত্ব বজায় রেখে চলেন।

পরবর্তীতে এই মানসিক ও শারীরিক দূরত্ব থেকে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝি অনেক নতুন দম্পতির সংসার ভাঙার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।পডকাস্টের আলোচনায় জানানো হয় যে স্বামীদের এই দূরত্ব দেখে স্ত্রীরা তখন আবার তাদের পেছনে ছোটাছুটি শুরু করেন কিন্তু ততক্ষণে পুরুষটি মানসিক সংযোগ হারিয়ে ফেলেন। অনেক ক্ষেত্রে স্বামীরা তখন পর্নোগ্রাফি বা হস্তমৈথুনের মতো বিকল্প পথের দিকে ঝুঁকে পড়েন যা স্ত্রীর জন্য আরও বেশি অপমানজনক পরিস্থিতি তৈরি করে। একই ছাদের নিচে বসবাস করেও এই ধরনের দূরত্ব তৈরি হওয়াকে এক বড় সংকট হিসেবে দেখছেন সমাজবিজ্ঞানীরা।

নারীদের শারীরিক উদ্দীপনা ও চাহিদার প্রক্রিয়াটি মূলত তাদের মানসিক অবস্থার ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। ডক্টর মুনমুন জাহান জানান যে নারীদের ক্ষেত্রে এই উদ্দীপনা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের বিষয় নয় বরং সারা দিন ধরে তাদের প্রতি স্বামীদের আচরণ এবং ভালোবাসার মাধ্যমে এটি তৈরি হয়। স্বামী কতটুকু সময় দিচ্ছেন প্রশংসা করছেন এবং গৃহস্থালি কাজে সহযোগিতা করছেন তার ওপর স্ত্রীর মানসিক প্রস্তুতি নির্ভর করে। চূড়ান্ত শারীরিক আনন্দ বা অর্গাজমের বিষয়টি সরাসরি মস্তিষ্কের সাথে জড়িত থাকায় নারীদের নিজেদের শরীর ও পুরো জৈবিক ব্যবস্থা সম্পর্কে সঠিক ও বিজ্ঞানসম্মত ধারণা থাকা প্রয়োজন।

সম্পর্ক সুন্দর রাখতে কেবল স্বামীদের ওপর পুরো দায় না চাপিয়ে স্ত্রীদেরও সমানভাবে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে নিজেদের ভালো লাগা ও চাহিদাগুলো বুঝতে হবে এবং তা সঙ্গীর সাথে খোলামেলা ভাগ করে নিতে হবে। সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্য জীবনের জন্য পারস্পরিক মানসম্মত সময় কাটানো এবং নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

বিষয় : বিনোদন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬


সংসার ভাঙার নেপথ্যে স্বামী-স্ত্রীর দূরত্ব কেন বাড়ছে?

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

দাম্পত্য জীবনে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে সমাজে নানা ধরনের ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নারীদের সাধারণ একটি অভিযোগ থাকে যে তাদের স্বামীরা কেবল শারীরিক চাহিদাকেই প্রাধান্য দেন এবং মানসিক অনুভূতিগুলো বুঝতে চান না। সম্প্রতি একটি বিশেষ পডকাস্ট অনুষ্ঠানে এই স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর মুনমুন জাহান।এই ধরনের ঢালাও মানসিকতা দাম্পত্য জীবনের মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনে বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞের তথ্যমতে প্রতিটি মানুষের কিছু মৌলিক চাহিদা থাকে এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে শারীরিক সম্পর্ক অন্যতম প্রধান একটি চাহিদা। অনেক সময় স্ত্রীরা স্বামীদের এই চাহিদাকে খাটো করে দেখেন কিংবা কেবল এই কারণেই তাদের বিয়ে করা হয়েছে বলে অপবাদ দেন। এই ধরনের মন্তব্য পুরুষের আত্মসম্মান ও শ্রদ্ধাবোধে প্রচণ্ড আঘাত করে যা সম্পর্কের স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করে। এর ফলে স্বামীরা ধীরে ধীরে নিজেদের গুটিয়ে নিতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে স্ত্রীর কাছ থেকে সম্পূর্ণ দূরত্ব বজায় রেখে চলেন।

পরবর্তীতে এই মানসিক ও শারীরিক দূরত্ব থেকে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝি অনেক নতুন দম্পতির সংসার ভাঙার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।পডকাস্টের আলোচনায় জানানো হয় যে স্বামীদের এই দূরত্ব দেখে স্ত্রীরা তখন আবার তাদের পেছনে ছোটাছুটি শুরু করেন কিন্তু ততক্ষণে পুরুষটি মানসিক সংযোগ হারিয়ে ফেলেন। অনেক ক্ষেত্রে স্বামীরা তখন পর্নোগ্রাফি বা হস্তমৈথুনের মতো বিকল্প পথের দিকে ঝুঁকে পড়েন যা স্ত্রীর জন্য আরও বেশি অপমানজনক পরিস্থিতি তৈরি করে। একই ছাদের নিচে বসবাস করেও এই ধরনের দূরত্ব তৈরি হওয়াকে এক বড় সংকট হিসেবে দেখছেন সমাজবিজ্ঞানীরা।

নারীদের শারীরিক উদ্দীপনা ও চাহিদার প্রক্রিয়াটি মূলত তাদের মানসিক অবস্থার ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। ডক্টর মুনমুন জাহান জানান যে নারীদের ক্ষেত্রে এই উদ্দীপনা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের বিষয় নয় বরং সারা দিন ধরে তাদের প্রতি স্বামীদের আচরণ এবং ভালোবাসার মাধ্যমে এটি তৈরি হয়। স্বামী কতটুকু সময় দিচ্ছেন প্রশংসা করছেন এবং গৃহস্থালি কাজে সহযোগিতা করছেন তার ওপর স্ত্রীর মানসিক প্রস্তুতি নির্ভর করে। চূড়ান্ত শারীরিক আনন্দ বা অর্গাজমের বিষয়টি সরাসরি মস্তিষ্কের সাথে জড়িত থাকায় নারীদের নিজেদের শরীর ও পুরো জৈবিক ব্যবস্থা সম্পর্কে সঠিক ও বিজ্ঞানসম্মত ধারণা থাকা প্রয়োজন।

সম্পর্ক সুন্দর রাখতে কেবল স্বামীদের ওপর পুরো দায় না চাপিয়ে স্ত্রীদেরও সমানভাবে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে নিজেদের ভালো লাগা ও চাহিদাগুলো বুঝতে হবে এবং তা সঙ্গীর সাথে খোলামেলা ভাগ করে নিতে হবে। সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্য জীবনের জন্য পারস্পরিক মানসম্মত সময় কাটানো এবং নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ