২২ বছর পর এমপিওভুক্তি: অনুমোদনহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ সনদ ব্যবহারের অভিযোগে তেঁতুলিয়ার কলেজ অধ্যক্ষকে ঘিরে বিতর্ক
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান উচ্চ মাধ্যমিক বিএম অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ একরামুল হকের বিরুদ্ধে অনুমোদন না পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ সনদ ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ২২ বছর এমপিওভুক্ত হতে না পারলেও চলতি বছরের জুন মাসে তিনি এমপিওভুক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে অধ্যক্ষ হিসেবে একাধিকবার এমপিওভুক্তির আবেদন করেন একরামুল হক। আবেদনপত্রে তিনি ঢাকার কুইন্স ইউনিভার্সিটি থেকে অর্জিত এমবিএ সনদ দাখিল করেন। তবে ২০২০ সালের ২৬ জুলাই কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, তাঁর দাখিল করা এমবিএ সনদটি ইউজিসি অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতির কথাও উল্লেখ করা হয়।এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, প্রভাষক পদে নির্ধারিত অভিজ্ঞতা এবং স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক। অভিযোগ রয়েছে, অধ্যক্ষের স্নাতক পর্যায়ের সনদ যাচাই, পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র এবং ছাড়পত্র নিয়েও প্রশ্ন ছিল। এসব কারণেই অতীতে তাঁর এমপিও আবেদন অনুমোদন পায়নি।তবে একই সনদ ও তথ্যের ভিত্তিতে চলতি বছরের জুন মাসে কীভাবে তিনি এমপিওভুক্ত হলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:6426]অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ একরামুল হক বলেন, সব কাগজপত্র যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের পরই তিনি এমপিওভুক্ত হয়েছেন। ২০২০ সালে তাঁর এমবিএ সনদ নিয়ে উত্থাপিত আপত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, পরবর্তীতে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করা হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো পরিপত্র বা দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।এ বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (এমপিও) মো. খোরশেদ আলম বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরে মন্তব্য জানানো হবে।