পঞ্চগড়ে রাস্তা দখল করে পাথর-বালুর কারবার: বাড়ছে জনদুর্ভোগ
পঞ্চগড় জেলার মডেলহাট থেকে তালমা বাজার পর্যন্ত সড়কটির ওপর দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার একাংশ কিংবা মূল পথ দখল করে অবলীলায় চলছে পাথর ও বালুর লোড-আনলোড কার্যক্রম। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও অসাধু ব্যবসায়ীদের এমন কর্মকাণ্ডে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি, দীর্ঘ যানজট এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ, পথচারী ও চালকেরা।সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশে কিংবা অনেক ক্ষেত্রে চলন্ত রাস্তার ওপরেই সারি সারি বড় ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। সেখান থেকেই দিন-রাত সমান তালে চলে বালু ও পাথর ওঠানামার কাজ। এতে প্রসস্থ সড়কটি সংকুচিত হয়ে ছোট গলি বা সংক্রীর্ণ রাস্তায় পরিণত হয়।ব্যস্ততম এই আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে। পাথর-বালুর ট্রাক সড়কের সিংহভাগ দখল করায় প্রতিদিন দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ট্রাক থেকে বালু ও পাথর ওঠানামার সময় পুরো এলাকায় তীব্র ধুলাবালি ছড়িয়ে পড়ে, যা আশপাশের বাসিন্দা ও পথচারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে। বিশেষ করে বাইক চালক ও পথচারীদের চোখের সমস্যার পাশাপাশি বড় ধরণের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।স্থানীয় অধিবাসীরা আক্ষেপ করে জানান:"সড়ক দখল করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালানোয় আমাদের চলাচল বিষিয়ে উঠেছে। স্কুল-কলেজগামী কোমলমতি শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও জরুরি চিকিৎসায় হাসপাতালে রওনা হওয়া মুমূর্ষু রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। কোনো একটি ট্রাক লোড-আনলোড শুরু করলে পুরো রাস্তার চলাচল প্রায় থমকে যায়।"স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধু মডেলহাট থেকে তালমা বাজার সড়ক নয়; বরং পঞ্চগড় জেলার অন্যান্য মূল ও সংযোগ সড়কেও একই ধরনের দৃশ্য দেখা যায়। জাতীয় বা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে এভাবে প্রকাশ্য নির্মাণসামগ্রী রেখে ও লোড-আনলোড করে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছে। দিনের পর দিন এই জনদুর্ভোগ বাড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্থায়ী বা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।তারা জোর দাবি জানান, অবিলম্বে মডেলহাট-তালমা বাজারসহ পুরো পঞ্চগড়ের সড়কগুলো থেকে এসব অবৈধ লোড-আনলোড পয়েন্ট উচ্ছেদ করে রাস্তা দখলমুক্ত করতে হবে। একই সাথে স্থায়ীভাবে সড়ক নিরাপদ রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।