রংপুর    শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
জুফাস নিউজ
প্রকাশ : শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

আমি ডাকলেই যিনি শত কাজ ফেলে আমার দেওয়া দায়িত্ব পালন করতেন: সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদের স্মরণে খবির উদ্দিন প্রামাণিক

আমি ডাকলেই যিনি শত কাজ ফেলে আমার দেওয়া দায়িত্ব পালন করতেন: সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদের স্মরণে খবির উদ্দিন প্রামাণিক
সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদের মহান দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছেন। ছবি: সংগৃহীত

“আমি ডাকলেই যিনি শত কাজ ফেলে আমার দেওয়া দায়িত্ব পালন করতে ছুটে আসতেন, সেই পরম শ্রদ্ধেয় মানুষটি আজ আর আমাদের মাঝে নেই। মৌলভী আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন, ভাবতেই বুকটা কেঁপে ওঠে”—জনপ্রিয় প্রবীণ সাংবাদিক ও তারাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে কথাগুলো বলছিলেন ‘সাপ্তাহিক তারার আলো’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মো: খবির উদ্দিন প্রামাণিক।

বিগত পবিত্র রমজান মাসের এক পুণ্যময় জুমার দিনে (শুক্রবার) ইন্তেকাল করেন সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ। তাঁর এই মহিমান্বিত দিনে চলে যাওয়াকে উপস্থিত অনেকেই ‘পুণ্যবান আত্মার লক্ষণ’ ও অনেক ভালো মৃত্যুর দিন হিসেবে মন্তব্য করেছিলেন।

মরহুমের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে খবির উদ্দিন প্রামাণিক বলেন,

“যেকোনো জাতীয় বা মহান দিবসে তিনি সবার আগে আমাকে ফোন করতেন। প্রেসক্লাবের পক্ষে শহীদ বেদীতে ফুল দেওয়া হবে কিনা, কখন দেওয়া হবে—সব তথ্য জেনে নিতেন। সাংগঠনিক কাজে আমি কোনো কারণে উপস্থিত থাকতে না পারলেও তিনি অত্যন্ত নিখুঁত ও সঠিকভাবে সব দায়িত্ব একাই সামলে নিতেন। তিনি শুধু একজন সহকর্মী ছিলেন না, ছিলেন এক বিশ্বস্ত অভিভাবক।”

স্মৃতিপটে ভেসে ওঠা একটি সোনালী মুহূর্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহান বিজয় দিবসে রংপুরের তারাগঞ্জ প্রেসক্লাবের পক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের সময় তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বেই কমিটির অন্যান্য সদস্যরা তারাগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছিলেন। আজ সেই মাঠ আছে, স্মৃতিস্তম্ভ আছে, কিন্তু নেতৃত্ব দেওয়া সেই মানুষটি আর নেই।

মরহুম আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত সাহসিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি জাতীয় দৈনিক ‘বাংলাদেশ সমাচার’ ও ‘দৈনিক বাংলা’সহ দেশের বিভিন্ন নামকরা জাতীয় গণমাধ্যমে কাজ করে স্থানীয় সাংবাদিকদের আদর্শে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি রংপুরের তারাগঞ্জের সুপরিচিত ও জনপ্রিয় স্থানীয় পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক চিকলী’-র সম্পাদকের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সাফল্যের সঙ্গে পালন করেছিলেন।

খবির উদ্দিন প্রামাণিক মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “মহান আল্লাহ তায়ালার ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি পরকালের চিরস্থায়ী জীবনে পাড়ি জমিয়েছেন। আমি দোয়া করি, মহান রাব্বুল আলামিন যেন তাঁর সকল নেক আমল কবুল করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন। আমিন।”

সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদের এই চলে যাওয়া তারাগঞ্জের সাংবাদিকতা জগতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করেছে, যা কখনো পূরণ হবার নয় বলে মনে করছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

বিষয় : তারাগঞ্জ তারাগঞ্জ উপজেলার খবর শোকহত

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬


আমি ডাকলেই যিনি শত কাজ ফেলে আমার দেওয়া দায়িত্ব পালন করতেন: সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদের স্মরণে খবির উদ্দিন প্রামাণিক

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

featured Image

“আমি ডাকলেই যিনি শত কাজ ফেলে আমার দেওয়া দায়িত্ব পালন করতে ছুটে আসতেন, সেই পরম শ্রদ্ধেয় মানুষটি আজ আর আমাদের মাঝে নেই। মৌলভী আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন, ভাবতেই বুকটা কেঁপে ওঠে”—জনপ্রিয় প্রবীণ সাংবাদিক ও তারাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে কথাগুলো বলছিলেন ‘সাপ্তাহিক তারার আলো’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মো: খবির উদ্দিন প্রামাণিক।

বিগত পবিত্র রমজান মাসের এক পুণ্যময় জুমার দিনে (শুক্রবার) ইন্তেকাল করেন সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ। তাঁর এই মহিমান্বিত দিনে চলে যাওয়াকে উপস্থিত অনেকেই ‘পুণ্যবান আত্মার লক্ষণ’ ও অনেক ভালো মৃত্যুর দিন হিসেবে মন্তব্য করেছিলেন।

মরহুমের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে খবির উদ্দিন প্রামাণিক বলেন,

“যেকোনো জাতীয় বা মহান দিবসে তিনি সবার আগে আমাকে ফোন করতেন। প্রেসক্লাবের পক্ষে শহীদ বেদীতে ফুল দেওয়া হবে কিনা, কখন দেওয়া হবে—সব তথ্য জেনে নিতেন। সাংগঠনিক কাজে আমি কোনো কারণে উপস্থিত থাকতে না পারলেও তিনি অত্যন্ত নিখুঁত ও সঠিকভাবে সব দায়িত্ব একাই সামলে নিতেন। তিনি শুধু একজন সহকর্মী ছিলেন না, ছিলেন এক বিশ্বস্ত অভিভাবক।”

স্মৃতিপটে ভেসে ওঠা একটি সোনালী মুহূর্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহান বিজয় দিবসে রংপুরের তারাগঞ্জ প্রেসক্লাবের পক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের সময় তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বেই কমিটির অন্যান্য সদস্যরা তারাগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছিলেন। আজ সেই মাঠ আছে, স্মৃতিস্তম্ভ আছে, কিন্তু নেতৃত্ব দেওয়া সেই মানুষটি আর নেই।

মরহুম আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত সাহসিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি জাতীয় দৈনিক ‘বাংলাদেশ সমাচার’ ও ‘দৈনিক বাংলা’সহ দেশের বিভিন্ন নামকরা জাতীয় গণমাধ্যমে কাজ করে স্থানীয় সাংবাদিকদের আদর্শে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি রংপুরের তারাগঞ্জের সুপরিচিত ও জনপ্রিয় স্থানীয় পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক চিকলী’-র সম্পাদকের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সাফল্যের সঙ্গে পালন করেছিলেন।

খবির উদ্দিন প্রামাণিক মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “মহান আল্লাহ তায়ালার ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি পরকালের চিরস্থায়ী জীবনে পাড়ি জমিয়েছেন। আমি দোয়া করি, মহান রাব্বুল আলামিন যেন তাঁর সকল নেক আমল কবুল করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন। আমিন।”

সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদের এই চলে যাওয়া তারাগঞ্জের সাংবাদিকতা জগতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করেছে, যা কখনো পূরণ হবার নয় বলে মনে করছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ