রৌমারীতে একটি সেতুর জন্য ২০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী বাজার এলাকায় ভাঙা সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পার হচ্ছেন এ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। বর্ষায় পানির স্রোত বাড়লে সেই ঝুঁকি হয়ে ওঠে আরও ভয়াবহ ও দুর্বিষহ।জানা যায়, ২০১৯ সালের বন্যায় সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর সুদীর্ঘ সাত বছর পার হলেও এখনো সেতুটি আলোর মুখ দেখেনি। এ নড়বড়ে ভাঙা সেতুর ওপর কোনো রকম কাঠের সাঁকো বানিয়ে চলছে যাতায়াত।এ এলাকার ভুক্তভোগীরা জানান, এই সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন উত্তর খাউরিয়া, পশ্চিম খেদাইমারী, কলেজপাড়া, সুখের বাতির চর, গেন্দার আলগা, সাহেবের আলগা, চরঘুঘুমারীসহ আশপাশের চরাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর তাদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।এ ভাঙা সাঁকোর ওপর দিয়ে চর শৌলমারী মহাবিদ্যালয় ও চর শৌলমারী বহুমুখী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়র কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত সাঁকো টি পারাপার হয়ে হয়। বর্ষাকালে পানির প্রবাহ বাড়লে ঝুঁকি আরও দ্বিগুণ বেড়ে যায়।সরেজমিনে দেখা গেছে, কাঠের তৈরি সাঁকোটির বিভিন্ন অংশ নড়বড়ে। এর ওপর দিয়ে ঘোড়ার গাড়ি, অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত ভ্যান, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল চলাচল করছে। একসঙ্গে যানবাহন চলাচলের সময় সাঁকোটি দুলতে থাকে। ওই সাঁকোয় যানবাহন উঠলে ভয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন পথচারীরা। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।চর শৌলমারী বাজার এলাকার বাসিন্দা শিক্ষক সাইদুর রহমান বলেন, কয়েক বছর আগে বন্যায় সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আমরা খুব কষ্ট করে চলাচল করছি। এ সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মানুষ চলাচল করে অথচ এ নড়বড়ে ভাঙা সেতু দিয়ে ঝুঁকি মানুষ চলাচল করছে। প্রশাসনের কোন মাথা ব্যথা নেই। এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।একই এলাকার লোকমান হাকিম, সিরাজুল ইসলাম বলেন, এই পথেই স্কুল-কলেজ ও বাজারে প্রয়োজনীয় কাজে যেতে হলে এই সাঁকো পার হতে হয়। অনেক শঙ্কা নিয়েই এ সেতুর ওপর দিয়ে যেতে হয়। বর্ষার সময় এ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়।শিক্ষার্থী জুয়েল, ওসমান, শিলা, নার্গিসসহ অনেকেই বলেন, নড়বড়ে ভাঙা সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।ঘোড়ার গাড়িচালক জবিউল মিয়া বলেন, ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে এই সাঁকো পার হওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। একটু এদিক-ওদিক হলে গাড়ি উল্টে যেতে পারে। তবু বিকল্প পথ না থাকায় বাধ্য হয়ে সাঁকো দিয়েই যেতে হয়।[TECHTARANGA-POST:6638]শৌলমারী বাজারের ব্যবসায়ী মুন্না শেখ বলেন, সেতু না থাকায় শুধু যাতায়াতেই সমস্যা হচ্ছে না, ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়ছে। চরাঞ্চলের মানুষ বাজারে পণ্য নিয়ে আসতে ঝুঁকি ও বাড়তি সময়ের মুখে পড়েন। একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।রৌমারী উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম খোকন জানান, নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শৌলমারী বাজার এলাকার রাস্তার কার্পেটিংসহ সেতুর কাজ শীঘ্রই শুরু হবে।