গ্রামীণ বাংলার আবহমান ঐতিহ্য আর আধুনিক কৃষিশিল্পের যুগলবন্দী প্রত্যক্ষ করলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রент টি. ক্রিস্টেনসেন। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় গিয়ে একদিকে যেমন শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ায় টানা তেলের ঘানি দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে ঘুরে দেখেছেন দেশের অন্যতম বৃহৎ আধুনিক ডেইরি ফার্ম।
গতকাল রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত গঙ্গাচড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী এই চোখজুড়ানো সফর পরিচালনা করেন।
সফরের শুরুতেই বেতগাড়ী ইউনিয়নের চন্দনের হাটে হাজির হন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সেখানে কাঠের ঘানিতে ঘোড়া জুড়ে দিয়ে খাঁটি সরিষার তেল নিষ্কাশনের চিরায়ত দৃশ্য সশরীরে ঘুরে দেখেন তিনি।
যন্ত্রপাতির এই যুগেও কীভাবে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে খাঁটি তেল তৈরি হচ্ছে, তা গাছি ও শ্রমিকদের কাছে কৌতূহল নিয়ে জানতে চান তিনি। দেশীয় প্রযুক্তির এমন বৈচিত্র্য দেখে মুগ্ধ রাষ্ট্রদূত মন্তব্য করেন:
"সরিষার তেল তৈরির শত বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি বাংলাদেশে এখনও এভাবে সুন্দরভাবে টিকে আছে দেখে আমি সত্যি অভিভূত!"
ঘানির ঐতিহ্য দেখার পর রাষ্ট্রদূত খাপরিখাল এলাকায় অবস্থিত ‘প্যারাগন এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি লিমিটেড’-এর আন্তর্জাতিক মানের খামার পরিদর্শনে যান। সেখানে গরু পরিচর্যা, আধুনিক খাদ্যাভ্যাস এবং হাইজিন মেনে দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণের নানা কৌশল ঘুরে দেখেন এবং খামারে উৎপাদিত তাজা তরল দুধ পান করেন।
খামার পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমেরিকা থেকে আমদানিকৃত মানসম্পন্ন সয়াবিন ও ভুট্টা এই খামারে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে যেমন বাংলাদেশের গবাদিপশুর দুগ্ধ উৎপাদনশীলতা বাড়ছে, তেমনি আমেরিকান কৃষকদের জন্য তৈরি হচ্ছে বিশাল রপ্তানি বাজার। ফলে দুই দেশের মধ্যে কৃষিভিত্তিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।
সফরে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডিয়েন ডাওসহ ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল হাই সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান ও গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁদের স্বাগত জানান।
গঙ্গাচড়ার সফল সফর শেষ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাঁর পরবর্তী গন্তব্য লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারাজের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
বিষয় : রংপুরের খবর গংগাচড়া পরিদর্শন

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
গ্রামীণ বাংলার আবহমান ঐতিহ্য আর আধুনিক কৃষিশিল্পের যুগলবন্দী প্রত্যক্ষ করলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রент টি. ক্রিস্টেনসেন। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় গিয়ে একদিকে যেমন শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ায় টানা তেলের ঘানি দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে ঘুরে দেখেছেন দেশের অন্যতম বৃহৎ আধুনিক ডেইরি ফার্ম।
গতকাল রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত গঙ্গাচড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী এই চোখজুড়ানো সফর পরিচালনা করেন।
সফরের শুরুতেই বেতগাড়ী ইউনিয়নের চন্দনের হাটে হাজির হন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সেখানে কাঠের ঘানিতে ঘোড়া জুড়ে দিয়ে খাঁটি সরিষার তেল নিষ্কাশনের চিরায়ত দৃশ্য সশরীরে ঘুরে দেখেন তিনি।
যন্ত্রপাতির এই যুগেও কীভাবে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে খাঁটি তেল তৈরি হচ্ছে, তা গাছি ও শ্রমিকদের কাছে কৌতূহল নিয়ে জানতে চান তিনি। দেশীয় প্রযুক্তির এমন বৈচিত্র্য দেখে মুগ্ধ রাষ্ট্রদূত মন্তব্য করেন:
"সরিষার তেল তৈরির শত বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি বাংলাদেশে এখনও এভাবে সুন্দরভাবে টিকে আছে দেখে আমি সত্যি অভিভূত!"
ঘানির ঐতিহ্য দেখার পর রাষ্ট্রদূত খাপরিখাল এলাকায় অবস্থিত ‘প্যারাগন এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি লিমিটেড’-এর আন্তর্জাতিক মানের খামার পরিদর্শনে যান। সেখানে গরু পরিচর্যা, আধুনিক খাদ্যাভ্যাস এবং হাইজিন মেনে দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণের নানা কৌশল ঘুরে দেখেন এবং খামারে উৎপাদিত তাজা তরল দুধ পান করেন।
খামার পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমেরিকা থেকে আমদানিকৃত মানসম্পন্ন সয়াবিন ও ভুট্টা এই খামারে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে যেমন বাংলাদেশের গবাদিপশুর দুগ্ধ উৎপাদনশীলতা বাড়ছে, তেমনি আমেরিকান কৃষকদের জন্য তৈরি হচ্ছে বিশাল রপ্তানি বাজার। ফলে দুই দেশের মধ্যে কৃষিভিত্তিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।
সফরে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডিয়েন ডাওসহ ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল হাই সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান ও গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁদের স্বাগত জানান।
গঙ্গাচড়ার সফল সফর শেষ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাঁর পরবর্তী গন্তব্য লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারাজের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

আপনার মতামত লিখুন