রংপুর    মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
জুফাস নিউজ
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

১০ দিনে ৬ খুন : রংপুর কি তবে নৃশংসতায় নাম লেখাচ্ছে?

১০ দিনে ৬ খুন : রংপুর কি তবে নৃশংসতায় নাম লেখাচ্ছে?
প্রতিকী ছবি

উত্তরাঞ্চলের শান্ত শহর হিসেবে পরিচিত রংপুরে হঠাৎ করেই অপরাধের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। গত মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে নগরের তাজহাট, মাছুয়াপাড়া ও হারাগাছ—এই তিন এলাকায় পৃথক তিনটি নৃশংস ঘটনায় মোট ৬ জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পর পর এসব লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে পুরো নগরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে চরম আতঙ্ক। সচেতন নাগরিক সমাজ ও অধিবাসীদের মনে এখন একটাই তাড়া করা প্রশ্ন—‘রংপুরও কি তবে নৃশংসতায় নাম লেখাচ্ছে?’

১০ দিনের রক্তঝরা ঘটনাপঞ্জি

  • ১৩ আগস্ট (তাজহাট): আনসারি মোড় এলাকার এক রিকশা গ্যারেজের তালাবদ্ধ শাটার কেটে আবদুর রহমান নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

  • ২২ আগস্ট (মাছুয়াপাড়া ট্র্যাজেডি): নিজ বাসভবনে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীকে গলা পেঁচিয়ে পশাচিকভাবে হত্যা করা হয়। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়া এবং পরিচয় আড়াল করতেই এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়।

  • ২৩ আগস্ট (হারাগাছ): চরচতুরা গ্রামের এক নির্জন সড়ক থেকে আবু সিদ্দিক (৩৫) নামের এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত ও গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

পর পর এসব মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), রংপুর মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট জোবায়দুল ইসলাম বুলেট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

"রংপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটছে। পুলিশ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। মূল মাদক কারবারিদের না ধরে শুধু সেবনকারীদের গ্রেপ্তার করে মামলার সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। খুন হওয়ার পর আসামি ধরায় কোনো কৃতিত্ব নেই; মানুষের জীবন রক্ষাই হওয়া উচিত প্রধান কাজ।"

একই সুর মিলিয়ে স্থানীয় কলেজ শিক্ষক আব্দুল আজিজ সতর্ক করে জানান, মাদকের পেছনে থাকা মূল প্রভাবশালী চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে সামনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

তবে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। তাঁর দাবি, মাছুয়াপাড়ার ঘটনার রহস্য পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে উন্মোচন করেছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের স্বীকারোক্তির সাথে তদন্তের পূর্ণ মিল পাওয়া গেছে। অপরাধীদের দমনে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

হত্যাকাণ্ডগুলোর সুনির্দিষ্ট বিচার ও নগরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তার দাবি এখন রংপুরবাসীর মুখে মুখে।

বিষয় : রংপুরের খবর হত্যা অপরাধ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


১০ দিনে ৬ খুন : রংপুর কি তবে নৃশংসতায় নাম লেখাচ্ছে?

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

উত্তরাঞ্চলের শান্ত শহর হিসেবে পরিচিত রংপুরে হঠাৎ করেই অপরাধের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। গত মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে নগরের তাজহাট, মাছুয়াপাড়া ও হারাগাছ—এই তিন এলাকায় পৃথক তিনটি নৃশংস ঘটনায় মোট ৬ জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পর পর এসব লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে পুরো নগরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে চরম আতঙ্ক। সচেতন নাগরিক সমাজ ও অধিবাসীদের মনে এখন একটাই তাড়া করা প্রশ্ন—‘রংপুরও কি তবে নৃশংসতায় নাম লেখাচ্ছে?’

১০ দিনের রক্তঝরা ঘটনাপঞ্জি

  • ১৩ আগস্ট (তাজহাট): আনসারি মোড় এলাকার এক রিকশা গ্যারেজের তালাবদ্ধ শাটার কেটে আবদুর রহমান নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

  • ২২ আগস্ট (মাছুয়াপাড়া ট্র্যাজেডি): নিজ বাসভবনে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীকে গলা পেঁচিয়ে পশাচিকভাবে হত্যা করা হয়। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়া এবং পরিচয় আড়াল করতেই এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়।

  • ২৩ আগস্ট (হারাগাছ): চরচতুরা গ্রামের এক নির্জন সড়ক থেকে আবু সিদ্দিক (৩৫) নামের এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত ও গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

পর পর এসব মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), রংপুর মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট জোবায়দুল ইসলাম বুলেট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

"রংপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটছে। পুলিশ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। মূল মাদক কারবারিদের না ধরে শুধু সেবনকারীদের গ্রেপ্তার করে মামলার সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। খুন হওয়ার পর আসামি ধরায় কোনো কৃতিত্ব নেই; মানুষের জীবন রক্ষাই হওয়া উচিত প্রধান কাজ।"

একই সুর মিলিয়ে স্থানীয় কলেজ শিক্ষক আব্দুল আজিজ সতর্ক করে জানান, মাদকের পেছনে থাকা মূল প্রভাবশালী চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে সামনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

তবে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। তাঁর দাবি, মাছুয়াপাড়ার ঘটনার রহস্য পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে উন্মোচন করেছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের স্বীকারোক্তির সাথে তদন্তের পূর্ণ মিল পাওয়া গেছে। অপরাধীদের দমনে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

হত্যাকাণ্ডগুলোর সুনির্দিষ্ট বিচার ও নগরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তার দাবি এখন রংপুরবাসীর মুখে মুখে।


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ