রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ভীমপুর সাইলবাড়ি ডাংগাপাড়া গ্রামের সৱমংলা নদীটি পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়তই থমকে দাঁড়ায় পথচারীরা। নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা ৩৫ বছরের পুরোনো জরাজীর্ণ সেতুটি। দীর্ঘদিনের সংস্কারহীনতায় ভাঙা রেলিং ও খসে পড়া পিলারের কঙ্কাল নিয়ে টিকে থাকা এই সেতুটি এখন স্থানীয়দের কাছে কোনো অবকাঠামো নয়, যেন এক জীবন্ত 'মৃত্যুর ফাঁদে' পরিণত হয়েছে।
প্রতিদিন এই জরাজীর্ণ সেতুটি পার হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে ছোটেন আশপাশের ১০টি গ্রামের অন্তত ১৫ হাজার মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির দুই পাশের সুরক্ষা রেলিং বলতে কিছুই অবশিষ্ট নেই। মাঝখানের স্লাব ভেঙে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। পিলারের সিমেন্ট ও প্লাস্টার খসে পড়ে ভেতরের রড বেরিয়ে এসেছে। অটোরিকশা, মোটরসাইকেল বা ভ্যান পার হওয়ার সময় সামান্য অসাবধানতায় সেতু থেকে সোজা নদীর খালে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য এখানে নিত্যদিনের।
স্থানীয় বাসিন্দা হায়দার রহিম ও মহিদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "গত ১৭ বছর ধরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না দিয়েও কোনো সুফল মেলেনি। কয়েকদিন আগেই একটি যাত্রীবাহী ভ্যান সেতু থেকে খালে পড়ে চালক মারাত্মক আহত হন। এর আগেও একাধিক শিক্ষার্থী সাইকেলসহ নিচে পড়ে দুর্ঘটনাকবলিত হয়েছে। অন্ধকার নামলে এই সেতু পার হওয়া মানেই জীবন বাজি রাখা।"
সেতুটির এমন ভগ্নদশার সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে। আশপাশের ১০টি গ্রামের কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত ধান, সবজিসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য সহজে হাটে নিয়ে যেতে পারছেন না। ভারী যানবাহন দূরে থাক, হালকা ভ্যান-অটোরিকশাও এই সেতুতে উঠতে ভয় পায়। ফলে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহারে গুনতে হচ্ছে বাড়তি সময় ও দ্বিগুণের বেশি পরিবহন খরচ।
বর্ষার এই দিনে নদী উপচে পানি বাড়লে সেতুটির অবশিষ্টাংশটুকুও ভেঙে পড়ে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার চরম আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন গ্রামবাসী।
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তারাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী নাফিউর রহমান জানান:
"সেতুটির জরাজীর্ণ অবস্থার কথা বিবেচনা করে এটি পুনর্নির্মাণের জন্য জেলা পর্য়ায়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট ও নতুন প্রকল্পের অনুমোদন মিললেই দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।"
বিষয় : তারাগঞ্জ উপজেলার খবর

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ভীমপুর সাইলবাড়ি ডাংগাপাড়া গ্রামের সৱমংলা নদীটি পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়তই থমকে দাঁড়ায় পথচারীরা। নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা ৩৫ বছরের পুরোনো জরাজীর্ণ সেতুটি। দীর্ঘদিনের সংস্কারহীনতায় ভাঙা রেলিং ও খসে পড়া পিলারের কঙ্কাল নিয়ে টিকে থাকা এই সেতুটি এখন স্থানীয়দের কাছে কোনো অবকাঠামো নয়, যেন এক জীবন্ত 'মৃত্যুর ফাঁদে' পরিণত হয়েছে।
প্রতিদিন এই জরাজীর্ণ সেতুটি পার হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে ছোটেন আশপাশের ১০টি গ্রামের অন্তত ১৫ হাজার মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির দুই পাশের সুরক্ষা রেলিং বলতে কিছুই অবশিষ্ট নেই। মাঝখানের স্লাব ভেঙে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। পিলারের সিমেন্ট ও প্লাস্টার খসে পড়ে ভেতরের রড বেরিয়ে এসেছে। অটোরিকশা, মোটরসাইকেল বা ভ্যান পার হওয়ার সময় সামান্য অসাবধানতায় সেতু থেকে সোজা নদীর খালে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য এখানে নিত্যদিনের।
স্থানীয় বাসিন্দা হায়দার রহিম ও মহিদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "গত ১৭ বছর ধরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না দিয়েও কোনো সুফল মেলেনি। কয়েকদিন আগেই একটি যাত্রীবাহী ভ্যান সেতু থেকে খালে পড়ে চালক মারাত্মক আহত হন। এর আগেও একাধিক শিক্ষার্থী সাইকেলসহ নিচে পড়ে দুর্ঘটনাকবলিত হয়েছে। অন্ধকার নামলে এই সেতু পার হওয়া মানেই জীবন বাজি রাখা।"
সেতুটির এমন ভগ্নদশার সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে। আশপাশের ১০টি গ্রামের কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত ধান, সবজিসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য সহজে হাটে নিয়ে যেতে পারছেন না। ভারী যানবাহন দূরে থাক, হালকা ভ্যান-অটোরিকশাও এই সেতুতে উঠতে ভয় পায়। ফলে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহারে গুনতে হচ্ছে বাড়তি সময় ও দ্বিগুণের বেশি পরিবহন খরচ।
বর্ষার এই দিনে নদী উপচে পানি বাড়লে সেতুটির অবশিষ্টাংশটুকুও ভেঙে পড়ে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার চরম আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন গ্রামবাসী।
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তারাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী নাফিউর রহমান জানান:
"সেতুটির জরাজীর্ণ অবস্থার কথা বিবেচনা করে এটি পুনর্নির্মাণের জন্য জেলা পর্য়ায়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট ও নতুন প্রকল্পের অনুমোদন মিললেই দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।"

আপনার মতামত লিখুন