রংপুর    রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
জুফাস নিউজ

'মব' সৃষ্টি করে সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ সিদ্ধার্থের ভাই পার্থের বিরুদ্ধে

'মব' সৃষ্টি করে সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ সিদ্ধার্থের ভাই পার্থের বিরুদ্ধে
হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত সিদ্ধার্থের ভাই পার্থ দাস। ছবি: জুফাস নিউজ

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় আলোচিত চার খুনের ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিককে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের জড়ো করে ‘মব’ তৈরি করার অভিযোগ রয়েছে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের ভাই পার্থ দাসের বিরুদ্ধে। খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকারকে এভাবে হেনস্থার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিহত গণপতি চক্রবর্তীর নিজ এলাকা মাছুয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

সাংবাদিককে হেনস্থার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রংপুরের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তারা ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।

হেনস্থার শিকার সেলিম সরকার জানান, চার খুনের ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে ও সংবাদ সংগ্রহ করতে তিনজন সহকর্মীর সাথে বিকেলে ঘটনাস্থলে যান তিনি। পরে পাশের বৈরাগীপাড়া এলাকায় যাওয়ার সময় পার্থ দাস তার মোটরসাইকেল আটকে দেন এবং চাবি কেড়ে নেন।

সেলিম সরকার বলেন, এ সময় পার্থ দাস চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে জড়ো করেন। পরে উপস্থিত লোকজনের সামনে পার্থ তাকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করেন এবং বলেন, তিনি গলিতে ঢুকেছিলেন এবং তার ব্যাগে কিছু রয়েছে। এরপর তার সঙ্গে উগ্র আচরণ করা হয়।

তিনি বলেন, একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় কয়েকজন সেখানে জড়ো হন। পরে ঘটনাস্থলে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল আসে। ওই সাংবাদিকের ব্যাগে কী রয়েছে, তা পরীক্ষা করতে উগ্র আচরণ করেন শুরু করে পার্থ দাস। পরে ডিবি সদস্যরা ব্যাগটি খুলে দেখান। সেখানে সন্দেহজনক কিছু না পাওয়ার পর তাকে যেতে দেওয়া হয়।

সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আলমগীর হোসেন নামে আরেক সংবাদকর্মী জানান, মব সৃষ্টি করে সাংবাদিককে হেনস্তা করে পার্থ। এ সময় তারা কয়েকজন তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও উল্টো সবাইকে দোষ দিয়ে রাগারাগি করে সে।

ঢাকা পোস্টের নিজস্ব প্রতিবেদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক বলেন, প্রথম দিন থেকেই পার্থ দাস এবং তার বাবা বিনয় দাস একেক সময় একেক রকম বক্তব্য দিচ্ছেন। এবং তারা মাঝেমধ্যে উগ্র আচরণ করছেন। তাদের এমন পরস্পরবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলেই তারা সাংবাদিকদের উপর ক্ষেপে যাচ্ছেন এবং সংবাদকর্মীরা তথ্য সংগ্রহ করতে আসুক তারা চাচ্ছেন না।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল ওই বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জসিম উদ্দিন বলেন, খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকারকে আটক করে হেনস্থা করা হয়েছে। পরে ডিবির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে তার ব্যাগ খুলে দেখান। ব্যাগে ওই সাংবাদিকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি।

বিষয় : রংপুরের খবর সাংবাদিক

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


'মব' সৃষ্টি করে সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ সিদ্ধার্থের ভাই পার্থের বিরুদ্ধে

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় আলোচিত চার খুনের ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিককে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের জড়ো করে ‘মব’ তৈরি করার অভিযোগ রয়েছে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের ভাই পার্থ দাসের বিরুদ্ধে। খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকারকে এভাবে হেনস্থার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিহত গণপতি চক্রবর্তীর নিজ এলাকা মাছুয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

সাংবাদিককে হেনস্থার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রংপুরের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তারা ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।

হেনস্থার শিকার সেলিম সরকার জানান, চার খুনের ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে ও সংবাদ সংগ্রহ করতে তিনজন সহকর্মীর সাথে বিকেলে ঘটনাস্থলে যান তিনি। পরে পাশের বৈরাগীপাড়া এলাকায় যাওয়ার সময় পার্থ দাস তার মোটরসাইকেল আটকে দেন এবং চাবি কেড়ে নেন।

সেলিম সরকার বলেন, এ সময় পার্থ দাস চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে জড়ো করেন। পরে উপস্থিত লোকজনের সামনে পার্থ তাকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করেন এবং বলেন, তিনি গলিতে ঢুকেছিলেন এবং তার ব্যাগে কিছু রয়েছে। এরপর তার সঙ্গে উগ্র আচরণ করা হয়।

তিনি বলেন, একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় কয়েকজন সেখানে জড়ো হন। পরে ঘটনাস্থলে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল আসে। ওই সাংবাদিকের ব্যাগে কী রয়েছে, তা পরীক্ষা করতে উগ্র আচরণ করেন শুরু করে পার্থ দাস। পরে ডিবি সদস্যরা ব্যাগটি খুলে দেখান। সেখানে সন্দেহজনক কিছু না পাওয়ার পর তাকে যেতে দেওয়া হয়।

সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আলমগীর হোসেন নামে আরেক সংবাদকর্মী জানান, মব সৃষ্টি করে সাংবাদিককে হেনস্তা করে পার্থ। এ সময় তারা কয়েকজন তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও উল্টো সবাইকে দোষ দিয়ে রাগারাগি করে সে।

ঢাকা পোস্টের নিজস্ব প্রতিবেদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক বলেন, প্রথম দিন থেকেই পার্থ দাস এবং তার বাবা বিনয় দাস একেক সময় একেক রকম বক্তব্য দিচ্ছেন। এবং তারা মাঝেমধ্যে উগ্র আচরণ করছেন। তাদের এমন পরস্পরবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলেই তারা সাংবাদিকদের উপর ক্ষেপে যাচ্ছেন এবং সংবাদকর্মীরা তথ্য সংগ্রহ করতে আসুক তারা চাচ্ছেন না।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল ওই বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জসিম উদ্দিন বলেন, খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকারকে আটক করে হেনস্থা করা হয়েছে। পরে ডিবির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে তার ব্যাগ খুলে দেখান। ব্যাগে ওই সাংবাদিকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি।


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ