বাবার অসুস্থতা আর সংসারের চরম টানাপোড়েনের মাঝে পরিবারের একমাত্র উপার্জনের সম্বল ছিল একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান। সেই ভ্যানের হ্যান্ডেল ধরে পড়াশোনা আর সংসারের চাকা সচল রাখছিল ১৪ বছরের কিশোর রেজোয়ান। কিন্তু একদল ধূর্ত প্রতারকের মিষ্টি কথায় বিশ্বাস করে মুহূর্তেই সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায় সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী।
তবে সৈয়দপুরের রাস্তায় রেজোয়ানের বুকফাটা কান্নার দৃশ্য সংবাদমাধ্যমে উঠে আসার পর দ্রুত তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসন।
রেজোয়ান নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর বাহাগড়ী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের অলিয়ার হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার ছাত্র।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল সকালে। প্রতিদিনের মতো ভ্যান নিয়ে তারাগঞ্জ বাজারে যায় রেজোয়ান। সেখানে দুই ব্যক্তি সৈয়দপুরে কেনাকাটা করতে যাওয়ার কথা বলে ৫০০ টাকা ভাড়ায় তাকে চুক্তি করে। সৈয়দপুরে পৌঁছে একজন নামাজ পড়ার কথা বলে সরে পড়ে, আর অন্যজন রেজোয়ানকে কৌশলে একটি দোকান থেকে পান কিনে আনতে পাঠায়।
রেজোয়ান পান নিয়ে ফিরে এসে দেখে—না আছে সেই দুই যাত্রী, না আছে পরিবারের শেষ সম্বল ভ্যানটি! চোখের সামনে উপার্জনের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজপথেই কান্নায় ভেঙে পড়ে কিশোর রেজোয়ান। পরে তার সেই কান্নার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ‘জুফাস নিউজ’-এর অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
সংবাদটি নজরে আসামাত্রই মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। তিনি রেজোয়ানের পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং পরিবারটি যেন আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে জন্য প্রশাসন থেকে রেজোয়ানকে একটি নতুন ব্যাটারিচালিত ভ্যান কিনে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশ দ্রুত রেজোয়ানকে থানায় এনে প্রতারকদের বিবরণ ও ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে। পুলিশ জানিয়েছে, শহরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে প্রতারক চক্রটির সদস্যদের গ্রেপ্তারে জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বিষয় : সৈয়দপুরের খবর চুরি

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
বাবার অসুস্থতা আর সংসারের চরম টানাপোড়েনের মাঝে পরিবারের একমাত্র উপার্জনের সম্বল ছিল একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান। সেই ভ্যানের হ্যান্ডেল ধরে পড়াশোনা আর সংসারের চাকা সচল রাখছিল ১৪ বছরের কিশোর রেজোয়ান। কিন্তু একদল ধূর্ত প্রতারকের মিষ্টি কথায় বিশ্বাস করে মুহূর্তেই সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায় সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী।
তবে সৈয়দপুরের রাস্তায় রেজোয়ানের বুকফাটা কান্নার দৃশ্য সংবাদমাধ্যমে উঠে আসার পর দ্রুত তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসন।
রেজোয়ান নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর বাহাগড়ী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের অলিয়ার হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার ছাত্র।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল সকালে। প্রতিদিনের মতো ভ্যান নিয়ে তারাগঞ্জ বাজারে যায় রেজোয়ান। সেখানে দুই ব্যক্তি সৈয়দপুরে কেনাকাটা করতে যাওয়ার কথা বলে ৫০০ টাকা ভাড়ায় তাকে চুক্তি করে। সৈয়দপুরে পৌঁছে একজন নামাজ পড়ার কথা বলে সরে পড়ে, আর অন্যজন রেজোয়ানকে কৌশলে একটি দোকান থেকে পান কিনে আনতে পাঠায়।
রেজোয়ান পান নিয়ে ফিরে এসে দেখে—না আছে সেই দুই যাত্রী, না আছে পরিবারের শেষ সম্বল ভ্যানটি! চোখের সামনে উপার্জনের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজপথেই কান্নায় ভেঙে পড়ে কিশোর রেজোয়ান। পরে তার সেই কান্নার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ‘জুফাস নিউজ’-এর অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
সংবাদটি নজরে আসামাত্রই মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। তিনি রেজোয়ানের পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং পরিবারটি যেন আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে জন্য প্রশাসন থেকে রেজোয়ানকে একটি নতুন ব্যাটারিচালিত ভ্যান কিনে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশ দ্রুত রেজোয়ানকে থানায় এনে প্রতারকদের বিবরণ ও ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে। পুলিশ জানিয়েছে, শহরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে প্রতারক চক্রটির সদস্যদের গ্রেপ্তারে জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন