রংপুর    বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
জুফাস নিউজ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ৪৫ লাখ টাকায় রাস্তা কার্পেটিং, উঠে যাচ্ছে সাত দিনে

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সদ্য নির্মিত একটি গ্রামীণ সড়কের কার্পেটিং ঢালাইয়ের মাত্র সাত দিনের মধ্যেই পিচ ও খোয়া উঠে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, পর্যাপ্ত বিটুমিন না দেওয়া এবং নির্মাণ নীতিমালা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে কাজ সম্পন্ন করায় উদ্বোধনের আগেই সড়কটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।সরেজমিনে কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের দর্জিপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সদ্য নির্মিত সড়কটির বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং আলগা হয়ে ধসে পড়ছে। অবস্থা এতটাই নাজুক যে, কোথাও কোথাও হাত বা পায়ের সামান্য ঘষাতেই পিচ ও কুচি পাথর উঠে মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সড়কের কয়েকটি অংশে বড় বড় ফাটল এবং রাস্তার দুই পাশের অংশে ভাঙনের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা গেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মাগুড়া ইউনিয়নের চেকপোস্ট থেকে দর্জিপাড়া গ্রাম পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক টেকসই করার উদ্যোগ নেয়। প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সুমন ট্রেডার্স’। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ছুটির দিনে সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ শেষ করেছে। সড়ক নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট ও রোলার দিয়ে সমতলকরণ (কম্প্যাকশন) করা হয়নি। এছাড়া ইট-খোয়া, বালু ও কুচি পাথরের সঠিক স্তর (লেয়ার) না দিয়েই তড়িঘড়ি করে নামমাত্র বিটুমিনের প্রলেপ দেওয়া হয়। ফলে নামমাত্র এই কার্পেটিং এক সপ্তাহও টিকছে না।রাস্তার এই বেহাল দশা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মজনু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:“ঢালাই দেওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় রাস্তার পিচ উঠে যাচ্ছে। আমরা ঠিকাদারকে বারবার ভালোভাবে কাজ করার কথা বললেও তিনি আমাদের সাধারণ মানুষের কথায় কোনো গুরুত্ব দেননি। সরকারি টাকার এমন অপচয় আমরা মেনে নেব না।”মাগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান মিঠু তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, “সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে সরকারি ছুটির দিনে কাজ করা হয়েছে, যাতে কোনো তদারকি কর্মকর্তা উপস্থিত থাকতে না পারেন। স্থানীয় জনগণ নিম্নমানের কাজের বিষয়ে বারবার আপত্তি তুললেও ঠিকাদার তা ক্ষমতার জোরে উপেক্ষা করেছেন। বিষয়টি আমি নিজে উপজেলা প্রকৌশলীকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানালেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুমন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মসগুল হক সাংবাদিকদের জানান, সেখানে কোনো নিম্নমানের কাজ করা হয়নি। সিডিউল মেনেই কাজ হয়েছে। তবে বিভিন্ন স্থানে কাজ করলেও কেন শুধু এই প্রকল্প নিয়েই অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান বলেন, “বিষয়টি আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) দেখেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাস্তার প্রকৃত অবস্থা এবং ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে অনিয়ম যাচাই করা হবে। সিডিউল অনুযায়ী কাজের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”সরকারি ৪৫ লাখ টাকার এই সড়কটির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ৪৫ লাখ টাকায় রাস্তা কার্পেটিং, উঠে যাচ্ছে সাত দিনে