রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার চাঁদপাড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম ঝুঁকির মধ্যে চলছে শিক্ষাকার্যক্রম। শ্রেণিকক্ষগুলোতে বড় বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় যেকোনো সময় ছাদ ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রায় সাত মাস আগে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে পরিত্যক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও নতুন ভবন না থাকায় বাধ্য হয়ে বারান্দায় পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের বুজরুক সন্তোষপুর গ্রামের চাঁদপাড়ায় অবস্থিত বিদ্যালয়টি ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হয়। ২০০২ সালে নির্মিত চার কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবনটি বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ভবনের ছাদে পলেস্তারা খসে পড়ছে, রড ক্ষয়ে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রেখে বারান্দায় বেঞ্চ বসিয়ে দুই শিফটে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। শিশু থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত সকালে এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিকেলে পাঠদান চলছে।
সম্প্রতি বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এখন খোলা বারান্দায় আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনজুমান আরা এবং জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক ছায়ফুল ইসলাম বলেন, ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, তাই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। তারা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য আবু বকর সিদ্দিক বলেন, যেকোনো সময় ভবন ধসে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত নতুন ভবনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
মিঠাপুকুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র রায় জানান, বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং নতুন ভবনের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে পাঠদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার চাঁদপাড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম ঝুঁকির মধ্যে চলছে শিক্ষাকার্যক্রম। শ্রেণিকক্ষগুলোতে বড় বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় যেকোনো সময় ছাদ ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রায় সাত মাস আগে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে পরিত্যক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও নতুন ভবন না থাকায় বাধ্য হয়ে বারান্দায় পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের বুজরুক সন্তোষপুর গ্রামের চাঁদপাড়ায় অবস্থিত বিদ্যালয়টি ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হয়। ২০০২ সালে নির্মিত চার কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবনটি বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ভবনের ছাদে পলেস্তারা খসে পড়ছে, রড ক্ষয়ে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রেখে বারান্দায় বেঞ্চ বসিয়ে দুই শিফটে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। শিশু থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত সকালে এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিকেলে পাঠদান চলছে।
সম্প্রতি বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এখন খোলা বারান্দায় আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনজুমান আরা এবং জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক ছায়ফুল ইসলাম বলেন, ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, তাই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। তারা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য আবু বকর সিদ্দিক বলেন, যেকোনো সময় ভবন ধসে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত নতুন ভবনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
মিঠাপুকুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র রায় জানান, বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং নতুন ভবনের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে পাঠদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন