গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলায় মধ্যরাতের আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে শত শত ঘরবাড়ি, গাছপালা, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি, যার ফলে গতকাল রবিবার রাত থেকেই সুন্দরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহক সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। চরাঞ্চলের বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন।
সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আব্দুল বারী আজ সোমবার দুপুরে জানান, "রাত আড়াইটার দিকে শুরু হওয়া প্রবল ঝড়ে হাসপাতাল ও উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন এলাকায় ১২টি খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং আরও ৪টি হেলে গেছে। অন্তত ২০ থেকে ৩০টি স্থানে মেইন লাইনের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় ৮০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। ৪৫ জন কর্মী নিয়ে দ্রুত সংযোগ চালুর চেষ্টা চলছে।"
এদিকে ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে সুন্দরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ও বেশ কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মীরগঞ্জ বাজারে বিশাল বটগাছ ভেঙে বেশ কয়েকটি দোকান গুঁড়িয়ে গেছে। উপড়ে পড়া গাছ ও খুঁটির কারণে বিভিন্ন স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ঝড়ের সাথে ভারী বৃষ্টিতে কৃষকের পাকা ধানক্ষেত ও পানের বরজ পানিতে তলিয়ে গেছে। দহবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল আলম সরকার জানান, তার ইউনিয়নে ৩৫-৪০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি বাড়ি পুরোপুরি মাটির সাথে মিশে গেছে।
অন্যদিকে, ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলের এরেন্ডাবাড়ি ও ফজলুপুর ইউনিয়নেও তাণ্ডব চালিয়েছে এই ঝড়। এরেন্ডাবাড়ির ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ জানান, "দক্ষিণ হরিচণ্ডি গ্রামের অন্তত ১৫-২০টি পরিবার ঘর হারিয়ে সম্পূর্ণ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। গাছ ও ঘর চাপা পড়ে ময়নাল নামের এক কৃষকের দুটি ছাগল মারা গেছে।" ফজলুপুরের বুলবুলির চরেও ঘরবাড়ির টিনের চাল বাতাসে উড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি এবং ফুলছড়ি ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দ্রুত তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তালিকা চূড়ান্ত হলেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি জরুরি সহায়তা দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলায় মধ্যরাতের আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে শত শত ঘরবাড়ি, গাছপালা, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি, যার ফলে গতকাল রবিবার রাত থেকেই সুন্দরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহক সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। চরাঞ্চলের বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন।
সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আব্দুল বারী আজ সোমবার দুপুরে জানান, "রাত আড়াইটার দিকে শুরু হওয়া প্রবল ঝড়ে হাসপাতাল ও উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন এলাকায় ১২টি খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং আরও ৪টি হেলে গেছে। অন্তত ২০ থেকে ৩০টি স্থানে মেইন লাইনের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় ৮০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। ৪৫ জন কর্মী নিয়ে দ্রুত সংযোগ চালুর চেষ্টা চলছে।"
এদিকে ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে সুন্দরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ও বেশ কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মীরগঞ্জ বাজারে বিশাল বটগাছ ভেঙে বেশ কয়েকটি দোকান গুঁড়িয়ে গেছে। উপড়ে পড়া গাছ ও খুঁটির কারণে বিভিন্ন স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ঝড়ের সাথে ভারী বৃষ্টিতে কৃষকের পাকা ধানক্ষেত ও পানের বরজ পানিতে তলিয়ে গেছে। দহবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল আলম সরকার জানান, তার ইউনিয়নে ৩৫-৪০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি বাড়ি পুরোপুরি মাটির সাথে মিশে গেছে।
অন্যদিকে, ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলের এরেন্ডাবাড়ি ও ফজলুপুর ইউনিয়নেও তাণ্ডব চালিয়েছে এই ঝড়। এরেন্ডাবাড়ির ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ জানান, "দক্ষিণ হরিচণ্ডি গ্রামের অন্তত ১৫-২০টি পরিবার ঘর হারিয়ে সম্পূর্ণ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। গাছ ও ঘর চাপা পড়ে ময়নাল নামের এক কৃষকের দুটি ছাগল মারা গেছে।" ফজলুপুরের বুলবুলির চরেও ঘরবাড়ির টিনের চাল বাতাসে উড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি এবং ফুলছড়ি ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দ্রুত তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তালিকা চূড়ান্ত হলেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি জরুরি সহায়তা দেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন