রংপুর    বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
জুফাস নিউজ
আপডেট : বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তারে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ, আহত ২

সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তারে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ, আহত ২
প্রতিকী ছবি

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় আদালতের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। আসামির স্বজন ও সহযোগীদের হামলায় এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের পূর্ব ফকদনপুর কালিতলা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট (এনআই) অ্যাক্টের একটি চেক প্রত্যাখ্যান মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. সুমন (৪২)-কে গ্রেপ্তারের জন্য বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সদর থানার এএসআই মো. সারোয়ার জাহানের নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল অভিযান পরিচালনা করে। কালিতলা বাজার এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ মহাসড়ক থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করার পরপরই তার স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার আসামি সুমনের নির্দেশে তার মা পারুল বেগম (৫৫), বোন রানী বেগম (২৩), ময়না (২৫) ও ভাই জাহাঙ্গীর আলম (৩২)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জন ব্যক্তি দলবদ্ধ হয়ে পুলিশের আইনানুগ দায়িত্ব পালনে বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা বাঁশের লাঠি দিয়ে পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন এবং সুমনকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ সদস্যরা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে থানায় জরুরি বার্তা পাঠান। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে। এ সময় নারী কনস্টেবলের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে পারুল বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। মূল আসামি সুমনও পুলিশের হেফাজতেই থাকেন। তবে তার ভাই-বোনসহ অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

হামলায় আহত এএসআই মো. সারোয়ার জাহান ও কনস্টেবল মো. আব্দুস সালামকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা থানায় ফিরে আসেন।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই এএসআই সারোয়ার জাহান বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সরকারি কাজে বাধা, পুলিশকে অবরুদ্ধ করা, হামলা ও গুরুতর জখম করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আদালতের সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশ হামলার শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তারে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ, আহত ২

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় আদালতের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। আসামির স্বজন ও সহযোগীদের হামলায় এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের পূর্ব ফকদনপুর কালিতলা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট (এনআই) অ্যাক্টের একটি চেক প্রত্যাখ্যান মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. সুমন (৪২)-কে গ্রেপ্তারের জন্য বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সদর থানার এএসআই মো. সারোয়ার জাহানের নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল অভিযান পরিচালনা করে। কালিতলা বাজার এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ মহাসড়ক থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করার পরপরই তার স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার আসামি সুমনের নির্দেশে তার মা পারুল বেগম (৫৫), বোন রানী বেগম (২৩), ময়না (২৫) ও ভাই জাহাঙ্গীর আলম (৩২)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জন ব্যক্তি দলবদ্ধ হয়ে পুলিশের আইনানুগ দায়িত্ব পালনে বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা বাঁশের লাঠি দিয়ে পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন এবং সুমনকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ সদস্যরা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে থানায় জরুরি বার্তা পাঠান। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে। এ সময় নারী কনস্টেবলের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে পারুল বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। মূল আসামি সুমনও পুলিশের হেফাজতেই থাকেন। তবে তার ভাই-বোনসহ অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

হামলায় আহত এএসআই মো. সারোয়ার জাহান ও কনস্টেবল মো. আব্দুস সালামকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা থানায় ফিরে আসেন।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই এএসআই সারোয়ার জাহান বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সরকারি কাজে বাধা, পুলিশকে অবরুদ্ধ করা, হামলা ও গুরুতর জখম করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আদালতের সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশ হামলার শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ