ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের তেগাছিয়া গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৩টি পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। গভীর রাতে সংঘটিত এ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক বসতঘর, রান্নাঘর, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, খাদ্যসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আকস্মিক এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে এলাকাবাসী হঠাৎ তীব্র তাপ অনুভব করেন। পরে বাইরে বের হয়ে একটি বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসেন এবং বিভিন্নভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি।পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তাদের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ফলে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। [TECHTARANGA-POST:6135]অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের কেউ মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছেন, আবার কেউ রান্নাঘর থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন। তবে প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে রয়েছেন খয়রুল, মজিবর, আবুল ও জুলফিকার পরিবারের সদস্যরা। আগুনে তাদের বসতঘর ও ঘরে থাকা প্রয়োজনীয় মালামাল পুড়ে যাওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপনের মুখে পড়েছেন। অনেকেই বর্তমানে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় আশ্রয় নিয়েছেন। ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দাবি জানান। এলাকাবাসীর মতে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য দ্রুত আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং আগুন লাগার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে জানা গেছে।অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কান্না ও আহাজারিতে পুরো এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।