কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৭ নম্বর চিলারং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চিলারং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মো. আলাউদ্দীন (৫৬) ওই ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগীর বাবা পেশায় দিনমজুর। ঘটনার দিন সকালে তিনি অসুস্থ বড় মেয়েকে চিকিৎসার জন্য দিনাজপুরে নিয়ে যান। একই সময়ে কিশোরীর মা কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ির বাইরে ছিলেন। ফলে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী একাই বাড়িতে অবস্থান করছিল।
দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে ইউপি সদস্য আলাউদ্দীন বাড়িতে এসে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি চান। কিশোরী ফটোকপি দিলে তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। একপর্যায়ে বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে ঘরের ভেতরে ঢুকে কিশোরীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আত্মরক্ষার্থে কিশোরী খাটের নিচে লুকিয়ে পড়ে। পরে সুযোগ বুঝে ঘর থেকে বের হয়ে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন। এ সময় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে দিনাজপুর থেকে ফিরে বাবা মেয়ের গলায় আঁচড়ের দাগ ও শারীরিক অসুস্থতা দেখতে পেয়ে তাকে দ্রুত ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত আলাউদ্দীন অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো হুমকি দেন।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচার প্রক্রিয়া চলমান। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগটি প্রমাণিত বলে গণ্য করা যাবে না।
বিষয় : ঠাকুরগাঁও সংবাদ ধর্ষণ

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬
কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৭ নম্বর চিলারং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চিলারং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মো. আলাউদ্দীন (৫৬) ওই ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগীর বাবা পেশায় দিনমজুর। ঘটনার দিন সকালে তিনি অসুস্থ বড় মেয়েকে চিকিৎসার জন্য দিনাজপুরে নিয়ে যান। একই সময়ে কিশোরীর মা কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ির বাইরে ছিলেন। ফলে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী একাই বাড়িতে অবস্থান করছিল।
দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে ইউপি সদস্য আলাউদ্দীন বাড়িতে এসে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি চান। কিশোরী ফটোকপি দিলে তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। একপর্যায়ে বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে ঘরের ভেতরে ঢুকে কিশোরীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আত্মরক্ষার্থে কিশোরী খাটের নিচে লুকিয়ে পড়ে। পরে সুযোগ বুঝে ঘর থেকে বের হয়ে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন। এ সময় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে দিনাজপুর থেকে ফিরে বাবা মেয়ের গলায় আঁচড়ের দাগ ও শারীরিক অসুস্থতা দেখতে পেয়ে তাকে দ্রুত ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত আলাউদ্দীন অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো হুমকি দেন।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচার প্রক্রিয়া চলমান। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগটি প্রমাণিত বলে গণ্য করা যাবে না।

আপনার মতামত লিখুন