রংপুর    মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
জুফাস নিউজ

ডোমারে আমবাড়ী বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ জন পরীক্ষা দিয়ে ১০ জনই ফেল

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ‘আমবাড়ী (বহুমুখী) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ জন শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে বিদ্যালয়টির সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে দেশব্যাপী প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে এই হতাশাজনক চিত্র সামনে আসে। জানা গেছে, এবার বিদ্যালয়টির মানবিক শাখা থেকে মোট ১০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, সুবিশাল ভবন, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক-কর্মচারী এবং সরকারি বরাদ্দে নির্মিত অবকাঠামোর অভাব নেই। তবে ঘাটতি রয়েছে শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত উপস্থিতি এবং সন্তোষজনক পাঠদানের পরিবেশে।বিদ্যালয়ের নথিপত্র অনুযায়ী ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী ১৫৫ জন হলেও বাস্তবে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে মাত্র ২০ থেকে ৩০ জন উপস্থিত থাকে।বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে এক একরেরও বেশি জমির ওপর প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০০ সালে এর নিম্ন মাধ্যমিক শাখা এমপিওভুক্ত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৪ সালে মাধ্যমিক শাখায় পাঠদানের অনুমোদন দেওয়া হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ের জন্য কোনো পদ বা নতুন শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নিম্ন মাধ্যমিক শাখার শিক্ষকরাই মাধ্যমিক স্তরের পাঠদান চালিয়ে আসছেন। বর্তমানে ৬ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মচারী দিয়ে চলছে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম।পাসের হার শূন্য হওয়ার পেছনের কারণবিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে দায়িত্বরত সহকারী শিক্ষক জিকরুল হক বলেন, "শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং তীব্র শিক্ষক সংকট আমাদের বড় সমস্যা। তবে এই এলাকায় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে 'বাল্যবিবাহ'। এসব কারণেই এবার পাসের হার শূন্যে নেমেছে। তবে বিগত ৫ বছরে আমাদের প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৬০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যেই ছিল।"অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, শুধু বাল্যবিবাহ নয়—শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা ও প্রশাসনিক নজরদারির অভাবেই দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা পরিবেশ ভেঙে পড়েছে।স্থানীয় ৭৪ বছর বয়সী বাসিন্দা আব্দুর মজিদ জানান, গত দুই-তিন বছরে এলাকায় আশঙ্কাজনক হারে বাল্যবিবাহ বেড়ে গেছে। দারিদ্র্য ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে পরিবারগুলো অল্প বয়সেই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। এতে পড়াশোনা মাঝপথেই থেমে যাচ্ছে। বাল্যবিবাহ রোধে পরিবার ও প্রশাসনের জোরালো ভূমিকা দাবি করেন তিনি।বিষয়টি নিশ্চিত করে ডোমার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. সাফিউল ইসলাম বলেন, "আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের খারাপ ফলাফলের প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনাসাপেক্ষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

ডোমারে আমবাড়ী বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ জন পরীক্ষা দিয়ে ১০ জনই ফেল