রংপুর    শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
জুফাস নিউজ
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

শহীদ আবু সাঈদের কবরের পাশে এখনো অঝোরে কাঁদেন মা

শহীদ আবু সাঈদের কবরের পাশে এখনো অঝোরে কাঁদেন মা

ছেলের ছবি হাতে নিয়ে কবরের পাশে গিয়ে এখনো অঝোরে কাঁদেন জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম। প্রিয় সন্তানের মায়াভরা মুখ প্রতিনিয়ত তার মনে ভেসে ওঠে। আবু সাঈদের স্মৃতি এখনো পরিবারের কাছে জীবন্ত।বিচারহীনতার শঙ্কা আর ছেলের শোকে দিন কাটছে তার।মেধাবী আবু সাঈদকে নিয়ে পরিবারের অনেক আশা ও স্বপ্ন ছিল।

কিন্তু জুলাই বিপ্লব চলাকালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিবাদী সরকারের বাহিনীর গুলিতে তা ধূলিসাৎ হয়ে যায়। আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও মামলার রায় কার্যকরের জোর দাবি জানিয়েছে পরিবার। একই সঙ্গে আবু সাঈদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পরিবারের সদস্যরা জানান, তার স্বপ্ন বাস্তবায়িত না হলে জুলাই আন্দোলনের সফলতা ম্লান হয়ে যাবে।

আবু সাঈদের সহযোদ্ধা সুমন, ইমরান ও ইমতিসহ সহপাঠীরা জানান, আবু সাঈদ ছিল জুলাই আন্দোলনের আইডল। তার আত্মত্যাগ সারা দেশের জুলাই যোদ্ধাদের সাহস জুগিয়েছে। তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের মামলায় যে রায় হয়েছে তাতে তারা আশার প্রতিফলন দেখেননি। প্ররোচনাকারীদের শাস্তির আওতায় আনা এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা এখন সময়ের দাবি। রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শহীদ পরিবারের সদস্যদের মনে শান্তি ফিরে আসবে না।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আবু সাঈদ অত্যন্ত ভদ্র ও মার্জিত ছেলে ছিল। তাকে যারা হত্যা করেছে এবং যারা এই হত্যাকাণ্ডে উৎসাহ জুগিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই ও মামলার বাদী রমজান আলী বলেন, মামলায় কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড হলেও রায় কার্যকর হতে দেখছি না। প্রথম শহীদের বিচার যদি দ্রুত কার্যকর না হয়, তবে অন্য পরিবার কীভাবে বিচার পাবে?মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আজ যদি ছেলে বেঁচে থাকত, তাহলে আমাকে মা বলে ডাকত। 

সন্তানের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার কার্যকর হোক—এটাই আমার একমাত্র দাবি। বাবা মকবুল হোসেন বলেন, রায় যেন দ্রুত কার্যকর হয়, এটাই প্রত্যাশা।এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, রায় ট্রাইব্যুনালে হয়েছে, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই। পলাতক আসামিদের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শওকত আলী বলেন, আবু সাঈদের স্মৃতি ধরে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করছে। তার আত্মত্যাগের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় আজ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।

বিষয় : রংপুরের খবর শহীদ আবু সাঈদ জুলাই বিপ্লব

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


শহীদ আবু সাঈদের কবরের পাশে এখনো অঝোরে কাঁদেন মা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

ছেলের ছবি হাতে নিয়ে কবরের পাশে গিয়ে এখনো অঝোরে কাঁদেন জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম। প্রিয় সন্তানের মায়াভরা মুখ প্রতিনিয়ত তার মনে ভেসে ওঠে। আবু সাঈদের স্মৃতি এখনো পরিবারের কাছে জীবন্ত।বিচারহীনতার শঙ্কা আর ছেলের শোকে দিন কাটছে তার।মেধাবী আবু সাঈদকে নিয়ে পরিবারের অনেক আশা ও স্বপ্ন ছিল।

কিন্তু জুলাই বিপ্লব চলাকালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিবাদী সরকারের বাহিনীর গুলিতে তা ধূলিসাৎ হয়ে যায়। আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও মামলার রায় কার্যকরের জোর দাবি জানিয়েছে পরিবার। একই সঙ্গে আবু সাঈদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পরিবারের সদস্যরা জানান, তার স্বপ্ন বাস্তবায়িত না হলে জুলাই আন্দোলনের সফলতা ম্লান হয়ে যাবে।

আবু সাঈদের সহযোদ্ধা সুমন, ইমরান ও ইমতিসহ সহপাঠীরা জানান, আবু সাঈদ ছিল জুলাই আন্দোলনের আইডল। তার আত্মত্যাগ সারা দেশের জুলাই যোদ্ধাদের সাহস জুগিয়েছে। তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের মামলায় যে রায় হয়েছে তাতে তারা আশার প্রতিফলন দেখেননি। প্ররোচনাকারীদের শাস্তির আওতায় আনা এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা এখন সময়ের দাবি। রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শহীদ পরিবারের সদস্যদের মনে শান্তি ফিরে আসবে না।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আবু সাঈদ অত্যন্ত ভদ্র ও মার্জিত ছেলে ছিল। তাকে যারা হত্যা করেছে এবং যারা এই হত্যাকাণ্ডে উৎসাহ জুগিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই ও মামলার বাদী রমজান আলী বলেন, মামলায় কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড হলেও রায় কার্যকর হতে দেখছি না। প্রথম শহীদের বিচার যদি দ্রুত কার্যকর না হয়, তবে অন্য পরিবার কীভাবে বিচার পাবে?মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আজ যদি ছেলে বেঁচে থাকত, তাহলে আমাকে মা বলে ডাকত। 

সন্তানের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার কার্যকর হোক—এটাই আমার একমাত্র দাবি। বাবা মকবুল হোসেন বলেন, রায় যেন দ্রুত কার্যকর হয়, এটাই প্রত্যাশা।এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, রায় ট্রাইব্যুনালে হয়েছে, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই। পলাতক আসামিদের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শওকত আলী বলেন, আবু সাঈদের স্মৃতি ধরে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করছে। তার আত্মত্যাগের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় আজ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ