রংপুর    সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
জুফাস নিউজ
প্রকাশ : সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

নিউজের সাক্ষাৎকার নিতে সরকারি কর্মকর্তাকে ‘মহোদয়’ বা ‘স্যার’ বলার বাধ্যবাধকতা

নিউজের সাক্ষাৎকার নিতে সরকারি কর্মকর্তাকে ‘মহোদয়’ বা ‘স্যার’ বলার বাধ্যবাধকতা
অভিযুক্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক সাংবাদিককে তথ্য ও সাক্ষাৎকার নিতে গেলে তাকে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করতে হবে— এমন মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একাত্তর টেলিভিশনের হিলি প্রতিনিধি ছামিউল ইসলাম আরিফ তথ্য ও সাক্ষাৎকার নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিনের কার্যালয়ে যান। এ সময় দাপ্তরিক শিষ্টাচার বা ‘অফিস ডেকোরাম’ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ওই কর্মকর্তা সাংবাদিককে বলেন, তথ্য বা সাক্ষাৎকার নিতে এলে তাকে ‘স্যার’ অথবা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করতে হবে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি আরও বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা একই গ্রেডের কর্মকর্তা। ইউএনওকে যেহেতু সবাই ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেন, তাই পেশাগত সৌজন্যের অংশ হিসেবে তাকেও একইভাবে সম্বোধন করা উচিত।

এ বিষয়ে সাংবাদিক ছামিউল ইসলাম আরিফ বলেন, মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিকরা সাধারণত পারস্পরিক সম্মান ও আন্তরিকতার ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ বজায় রাখেন। অতীতে এ দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য ও সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় কখনো নির্দিষ্ট কোনো সম্বোধন বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

তিনি বলেন, সাংবাদিকের কাজ জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ করা। সম্বোধনের বিষয়টি পারস্পরিক সৌজন্যের অংশ হতে পারে, কিন্তু তথ্য দেওয়ার শর্ত হিসেবে নির্দিষ্ট সম্বোধনের দাবি করা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপেশাদার আচরণ।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল বলেন, সরকারি কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কে কীভাবে সম্বোধন করবেন, সেটি ব্যক্তিগত বিষয়।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকের মতে, সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিক উভয়েই নিজ নিজ পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হলেও নির্দিষ্ট সম্বোধন বাধ্যতামূলক করার দাবি প্রশাসনিক শিষ্টাচার ও পেশাগত সম্পর্কের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিষয় : দিনাজপুরের খবর সাংবাদিক

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


নিউজের সাক্ষাৎকার নিতে সরকারি কর্মকর্তাকে ‘মহোদয়’ বা ‘স্যার’ বলার বাধ্যবাধকতা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক সাংবাদিককে তথ্য ও সাক্ষাৎকার নিতে গেলে তাকে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করতে হবে— এমন মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একাত্তর টেলিভিশনের হিলি প্রতিনিধি ছামিউল ইসলাম আরিফ তথ্য ও সাক্ষাৎকার নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিনের কার্যালয়ে যান। এ সময় দাপ্তরিক শিষ্টাচার বা ‘অফিস ডেকোরাম’ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ওই কর্মকর্তা সাংবাদিককে বলেন, তথ্য বা সাক্ষাৎকার নিতে এলে তাকে ‘স্যার’ অথবা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করতে হবে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি আরও বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা একই গ্রেডের কর্মকর্তা। ইউএনওকে যেহেতু সবাই ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেন, তাই পেশাগত সৌজন্যের অংশ হিসেবে তাকেও একইভাবে সম্বোধন করা উচিত।

এ বিষয়ে সাংবাদিক ছামিউল ইসলাম আরিফ বলেন, মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিকরা সাধারণত পারস্পরিক সম্মান ও আন্তরিকতার ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ বজায় রাখেন। অতীতে এ দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য ও সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় কখনো নির্দিষ্ট কোনো সম্বোধন বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

তিনি বলেন, সাংবাদিকের কাজ জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ করা। সম্বোধনের বিষয়টি পারস্পরিক সৌজন্যের অংশ হতে পারে, কিন্তু তথ্য দেওয়ার শর্ত হিসেবে নির্দিষ্ট সম্বোধনের দাবি করা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপেশাদার আচরণ।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল বলেন, সরকারি কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কে কীভাবে সম্বোধন করবেন, সেটি ব্যক্তিগত বিষয়।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকের মতে, সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিক উভয়েই নিজ নিজ পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হলেও নির্দিষ্ট সম্বোধন বাধ্যতামূলক করার দাবি প্রশাসনিক শিষ্টাচার ও পেশাগত সম্পর্কের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ