প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল
তীব্র সমালোচনার মুখে অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আলাদাভাবে পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার মূল নীতির পরিপন্থী হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই দেশজুড়ে শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইতিমধ্যে বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তটি বাতিল করা হয়েছে।এর আগে পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ না থাকার অজুহাতে চলতি শিক্ষাবর্ষে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪০ টাকা এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে পরীক্ষার ফি নেওয়ার একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।গত শনিবার ঢাকার এক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছিলেন, বরাদ্দ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আপাতত সরকারিভাবে পরীক্ষার খরচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় সাময়িকভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই ফি নেওয়ার মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।তবে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক হওয়া সত্ত্বেও পরীক্ষার জন্য আলাদা ফি নেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে অবৈতনিক শিক্ষার মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেন দেশের শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষা আইনের সাথে সাংঘর্ষিক।”সিদ্ধান্ত বাতিলের এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের শিক্ষার ব্যয়ভার কমাতে সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর। সরকারের ভেতরে অভ্যন্তরীণ অর্থের বরাদ্দ-সংক্রান্ত সাময়িক জটিলতার কারণেই প্রাথমিকভাবে এই ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যা এখন চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে। [TECHTARANGA-POST:6151]মাহ্দী আমিন স্পষ্ট করে বলেন:“সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি না নেওয়ার বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিগত অবস্থান রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক দ্রুত বিস্তারিত অবহিত করবেন।”তিনি আরও যোগ করেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা খাতে পরিবারগুলোর ব্যয় যতটা সম্ভব কমানোই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তারই অংশ হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত কোনো আর্থিক চাপ না দেওয়ার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”সরকারের এই দ্রুত ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ফলে সারা দেশের লাখো প্রাথমিক শিক্ষার্থী ও সাধারণ অভিভাবকদের মাঝে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে এসেছে।