উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি নিবিড় নজরদারি আর নানামুখী সমন্বিত উদ্যোগে রংপুরের তারাগঞ্জে শিক্ষা ব্যবস্থায় বইতে শুরু করেছে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুবাতাস। শুধু জরাজীর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, বরং মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিতকরণ, শতভাগ উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের নীতিবান ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।
শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আদর্শ একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নিয়মিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শনে নামছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাববর হোসেন।
পরিদর্শনকালে প্রথাগত দাপ্তরিক তদারকির চিরাচরিত গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি ক্লাসরুমে ঢুকে পড়ছেন ইউএনও। নিজেই চক-ডাস্টার হাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন, নিচ্ছেন তাদের পড়াশোনার খুঁটিনাটি খোঁজখবর। পাঠ্যপুস্তকের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিষ্টাচার, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চায় উদ্বুদ্ধ করছেন তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের আরও আন্তরিক ও উদ্ভাবনী হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন।
শিক্ষার মানোন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাববর হোসেন বলেন:
“প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার প্রকৃত গুণগত মান নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা শুধু জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক না হয়ে সুশিক্ষিত ও নীতিবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক। এজন্য শ্রেণিকক্ষে আনন্দদায়ক পরিবেশ তৈরি, অনাকাঙ্ক্ষিত ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষকদের পূর্ণ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার সার্বিক পরিবেশের টেকসই মানোন্নয়নে আমাদের এই তদারকি অব্যাহত থাকবে।”
বিষয়টিকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর উল্লেখ করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান জানান, “শিক্ষাব্যবস্থার টেকসই কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়, দরকার পাঠদান পদ্ধতির আধুনিকায়ন। ইউএনও স্যারের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় আমরা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতে কাজ করছি। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে প্রজেক্টর ও আধুনিক শিক্ষাউপকরণের ব্যবহার বাড়ানো এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কড়া মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।”
অন্যদিকে, প্রশাসনের এমন নিবিড় ও সরেজমিন নজরদারিকে স্বাগত জানিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাগমা শিলভীয়া খান আশা প্রকাশ করেন, এই জোরালো মনিটরিং ও দিকনির্দেশনা তারাগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষার ভিতকে আরও বেশি মজবুত করবে।
উপজেলা প্রশাসনের এমন ধারাবাহিক ও সরাসরি পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। তাঁদের মতে, প্রশাসনের এমন ইতিবাচক ও প্রত্যক্ষ তদারকি অব্যাহত থাকলে তারাগঞ্জের শিক্ষার সার্বিক চিত্রে একটি টেকসই, বৈপ্লবিক ও দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আসবে।
বিষয় : তারাগঞ্জ তারাগঞ্জ উপজেলার খবর ইউএনও

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি নিবিড় নজরদারি আর নানামুখী সমন্বিত উদ্যোগে রংপুরের তারাগঞ্জে শিক্ষা ব্যবস্থায় বইতে শুরু করেছে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুবাতাস। শুধু জরাজীর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, বরং মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিতকরণ, শতভাগ উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের নীতিবান ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।
শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আদর্শ একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নিয়মিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শনে নামছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাববর হোসেন।
পরিদর্শনকালে প্রথাগত দাপ্তরিক তদারকির চিরাচরিত গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি ক্লাসরুমে ঢুকে পড়ছেন ইউএনও। নিজেই চক-ডাস্টার হাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন, নিচ্ছেন তাদের পড়াশোনার খুঁটিনাটি খোঁজখবর। পাঠ্যপুস্তকের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিষ্টাচার, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চায় উদ্বুদ্ধ করছেন তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের আরও আন্তরিক ও উদ্ভাবনী হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন।
শিক্ষার মানোন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাববর হোসেন বলেন:
“প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার প্রকৃত গুণগত মান নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা শুধু জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক না হয়ে সুশিক্ষিত ও নীতিবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক। এজন্য শ্রেণিকক্ষে আনন্দদায়ক পরিবেশ তৈরি, অনাকাঙ্ক্ষিত ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষকদের পূর্ণ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার সার্বিক পরিবেশের টেকসই মানোন্নয়নে আমাদের এই তদারকি অব্যাহত থাকবে।”
বিষয়টিকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর উল্লেখ করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান জানান, “শিক্ষাব্যবস্থার টেকসই কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়, দরকার পাঠদান পদ্ধতির আধুনিকায়ন। ইউএনও স্যারের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় আমরা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতে কাজ করছি। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে প্রজেক্টর ও আধুনিক শিক্ষাউপকরণের ব্যবহার বাড়ানো এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কড়া মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।”
অন্যদিকে, প্রশাসনের এমন নিবিড় ও সরেজমিন নজরদারিকে স্বাগত জানিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাগমা শিলভীয়া খান আশা প্রকাশ করেন, এই জোরালো মনিটরিং ও দিকনির্দেশনা তারাগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষার ভিতকে আরও বেশি মজবুত করবে।
উপজেলা প্রশাসনের এমন ধারাবাহিক ও সরাসরি পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। তাঁদের মতে, প্রশাসনের এমন ইতিবাচক ও প্রত্যক্ষ তদারকি অব্যাহত থাকলে তারাগঞ্জের শিক্ষার সার্বিক চিত্রে একটি টেকসই, বৈপ্লবিক ও দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আসবে।

আপনার মতামত লিখুন