বিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে নীলফামারী জেলার বিভিন্ন পশুর হাট। জেলার সবচেয়ে বড় কোরবানির পশুর হাট হিসেবে পরিচিত সদর উপজেলার ঢেলাপীর হাটে বিপুল পরিমাণ পশুর আমদানি লক্ষ্য করা গেছে। তবে প্রথমদিকের হাট হওয়ায় পশুর তুলনায় ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল কিছুটা কম, যার ফলে বেচাকেনায় ছিল ধীরগতি। বাজারে বড় গরুর চেয়ে মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা ও বিক্রি সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও শুক্রবার বসে ঐতিহ্যবাহী এই ঢেলাপীর হাট। এই হাটে নীলফামারীর বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রংপুর ও দিনাজপুর জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক খামারি ও ব্যবসায়ী পশু নিয়ে আসেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল থেকেই পায়ে হেঁটে কিংবা নসিমন, করিমন ও ট্রাকে করে হাটে পশু আনা শুরু হয়। দুপুরের মধ্যেই পুরো হাট এলাকা কয়েক হাজার গরু-ছাগলে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এবারের হাটের অন্যতম ইতিবাচক দিক ছিল এর পরিপাটি পরিবেশ ও জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা। খোলামেলা পরিবেশে বসা এই হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অসুস্থ পশু বিক্রি ঠেকাতে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাঠেই সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের একটি মেডিকেল টিম।
হাটের সার্বিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখা যায়, গরুর পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাগলও উঠেছে হাটে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আসা পাইকাররা মূলত বড় আকারের গরু কিনতে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তবে স্থানীয় সাধারণ ক্রেতাদের মূল আকর্ষণ ছিল মাঝারি সাইজের গরুর দিকে। বিক্রেতাদের ভাষ্যমতে, বর্তমানে ৭০ থেকে ৮৫ হাজার টাকা দামের গরুর চাহিদাই বাজারে সবচেয়ে বেশি।
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভাবকী ইউনিয়ন থেকে হাটে আসা কৃষক আলী হোসেন জানান, তিনি হাটে দুটি গরু এনেছিলেন—একটি বড় এবং একটি মাঝারি। এর মধ্যে মাঝারি আকারের গরুটি তিনি ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পেরেছেন। তবে বড় গরুটির কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেটি বিক্রি না করে আবার বাড়িতেই ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
হাট সংশ্লিষ্টরা এবং ইজারাদাররা মনে করছেন, ঈদের এখনো কিছুদিন বাকি থাকায় ক্রেতারা মূলত এখন বাজার যাচাই করছেন। আগামী হাটগুলোতে কেনাবেচা পুরোদমে জমে উঠবে এবং বড় গরুর বাজারও চাঙ্গা হবে বলে আশা করছেন তারা।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
বিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে নীলফামারী জেলার বিভিন্ন পশুর হাট। জেলার সবচেয়ে বড় কোরবানির পশুর হাট হিসেবে পরিচিত সদর উপজেলার ঢেলাপীর হাটে বিপুল পরিমাণ পশুর আমদানি লক্ষ্য করা গেছে। তবে প্রথমদিকের হাট হওয়ায় পশুর তুলনায় ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল কিছুটা কম, যার ফলে বেচাকেনায় ছিল ধীরগতি। বাজারে বড় গরুর চেয়ে মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা ও বিক্রি সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও শুক্রবার বসে ঐতিহ্যবাহী এই ঢেলাপীর হাট। এই হাটে নীলফামারীর বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রংপুর ও দিনাজপুর জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক খামারি ও ব্যবসায়ী পশু নিয়ে আসেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল থেকেই পায়ে হেঁটে কিংবা নসিমন, করিমন ও ট্রাকে করে হাটে পশু আনা শুরু হয়। দুপুরের মধ্যেই পুরো হাট এলাকা কয়েক হাজার গরু-ছাগলে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এবারের হাটের অন্যতম ইতিবাচক দিক ছিল এর পরিপাটি পরিবেশ ও জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা। খোলামেলা পরিবেশে বসা এই হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অসুস্থ পশু বিক্রি ঠেকাতে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাঠেই সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের একটি মেডিকেল টিম।
হাটের সার্বিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখা যায়, গরুর পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাগলও উঠেছে হাটে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আসা পাইকাররা মূলত বড় আকারের গরু কিনতে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তবে স্থানীয় সাধারণ ক্রেতাদের মূল আকর্ষণ ছিল মাঝারি সাইজের গরুর দিকে। বিক্রেতাদের ভাষ্যমতে, বর্তমানে ৭০ থেকে ৮৫ হাজার টাকা দামের গরুর চাহিদাই বাজারে সবচেয়ে বেশি।
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভাবকী ইউনিয়ন থেকে হাটে আসা কৃষক আলী হোসেন জানান, তিনি হাটে দুটি গরু এনেছিলেন—একটি বড় এবং একটি মাঝারি। এর মধ্যে মাঝারি আকারের গরুটি তিনি ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পেরেছেন। তবে বড় গরুটির কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেটি বিক্রি না করে আবার বাড়িতেই ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
হাট সংশ্লিষ্টরা এবং ইজারাদাররা মনে করছেন, ঈদের এখনো কিছুদিন বাকি থাকায় ক্রেতারা মূলত এখন বাজার যাচাই করছেন। আগামী হাটগুলোতে কেনাবেচা পুরোদমে জমে উঠবে এবং বড় গরুর বাজারও চাঙ্গা হবে বলে আশা করছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন