উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও ব্যস্ততম শহর নীলফামারীর সৈয়দপুর। বিমানবন্দর এবং দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানার কারণে এ শহরের গুরুত্ব অন্যান্য যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে কিছুটা আলাদা। প্রতিদিন ব্যবসা-বাণিজ্য ও নানা প্রয়োজনে প্রায় দেড় লাখ মানুষ এ শহরে যাতায়াত করেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, ব্যবসা-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ এই জনপদে আজও গড়ে ওঠেনি কোনো ভালোমানের আধুনিক বাস টার্মিনাল কিংবা যাত্রী ছাউনি।
দীর্ঘ ৪০ বছর আগে নির্মিত শহরের একমাত্র বাস টার্মিনালটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় বর্তমানে তা ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে এক চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র। টার্মিনালের মূল ভবনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সেখানে তালা ঝুলিয়ে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের বসার বা একটু মাথা গোঁজার মতো কোনো জায়গা নেই।
টার্মিনালের ভেতরের পার্কিং এরিয়া ও সড়কগুলো বড় বড় খানাখন্দে ভরা। সামান্য বৃষ্টি হলেই টার্মিনালের বিভিন্ন স্থানে কুচকুচে কালো পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, যা দেখতে হুবহু মিনি পুকুরের মতো লাগে। কাদা-জল মাড়িয়ে যাত্রী ও শ্রমিকদের চলাচল করতে হচ্ছে চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে।
টার্মিনালের ভেতরটা খানাখন্দে ভরা ও যাতায়াতের অনুপযোগী হওয়ায় বাধ্য হয়ে চালকেরা টার্মিনালের ভেতরে গাড়ি না ঢুকিয়ে ব্যস্ততম মহাসড়কের ওপরেই বাস পার্কিং করছেন। প্রতিদিন অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃজেলা রুটের পাঁচ শতাধিক বাস এই টার্মিনাল হয়ে চলাচল করে। এসব বাস মহাসড়কের ওপর যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করার কারণে তীব্র যানজটের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা।
টার্মিনালের এমন দীর্ঘমেয়াদি বেহাল দশায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি। তিনি বলেন,
“এই অঞ্চলের এত গুরুত্বপূর্ণ একটি টার্মিনাল বছরের পর বছর এভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকাটা লজ্জাজনক।”
জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির বর্তমান সভাপতি অভিযোগ করে বলেন:
“টার্মিনালটি দ্রুত সংস্কার করার জন্য আমরা সৈয়দপুর পৌর কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েছি। কিন্তু বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও আজ পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান সমাধান মেলেনি।”
যোগাযোগ করা হলে পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছে। পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ না পাওয়ার কারণেই মূলত বড় ধরনের সংস্কার কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে বলেন, “বরাদ্দ প্রাপ্তির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই টার্মিনাল সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।”
বিলাসবহুল নৈশকোচ ও আন্তঃজেলা বাস চলাচলের এই গুরুত্বপূর্ণ হাবটির আধুনিকায়ন ও দ্রুত সংস্কার দেখতে এখন প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাসের বাস্তব প্রতিফলন চান সৈয়দপুরবাসী।

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও ব্যস্ততম শহর নীলফামারীর সৈয়দপুর। বিমানবন্দর এবং দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানার কারণে এ শহরের গুরুত্ব অন্যান্য যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে কিছুটা আলাদা। প্রতিদিন ব্যবসা-বাণিজ্য ও নানা প্রয়োজনে প্রায় দেড় লাখ মানুষ এ শহরে যাতায়াত করেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, ব্যবসা-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ এই জনপদে আজও গড়ে ওঠেনি কোনো ভালোমানের আধুনিক বাস টার্মিনাল কিংবা যাত্রী ছাউনি।
দীর্ঘ ৪০ বছর আগে নির্মিত শহরের একমাত্র বাস টার্মিনালটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় বর্তমানে তা ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে এক চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র। টার্মিনালের মূল ভবনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সেখানে তালা ঝুলিয়ে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের বসার বা একটু মাথা গোঁজার মতো কোনো জায়গা নেই।
টার্মিনালের ভেতরের পার্কিং এরিয়া ও সড়কগুলো বড় বড় খানাখন্দে ভরা। সামান্য বৃষ্টি হলেই টার্মিনালের বিভিন্ন স্থানে কুচকুচে কালো পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, যা দেখতে হুবহু মিনি পুকুরের মতো লাগে। কাদা-জল মাড়িয়ে যাত্রী ও শ্রমিকদের চলাচল করতে হচ্ছে চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে।
টার্মিনালের ভেতরটা খানাখন্দে ভরা ও যাতায়াতের অনুপযোগী হওয়ায় বাধ্য হয়ে চালকেরা টার্মিনালের ভেতরে গাড়ি না ঢুকিয়ে ব্যস্ততম মহাসড়কের ওপরেই বাস পার্কিং করছেন। প্রতিদিন অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃজেলা রুটের পাঁচ শতাধিক বাস এই টার্মিনাল হয়ে চলাচল করে। এসব বাস মহাসড়কের ওপর যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করার কারণে তীব্র যানজটের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা।
টার্মিনালের এমন দীর্ঘমেয়াদি বেহাল দশায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি। তিনি বলেন,
“এই অঞ্চলের এত গুরুত্বপূর্ণ একটি টার্মিনাল বছরের পর বছর এভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকাটা লজ্জাজনক।”
জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির বর্তমান সভাপতি অভিযোগ করে বলেন:
“টার্মিনালটি দ্রুত সংস্কার করার জন্য আমরা সৈয়দপুর পৌর কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েছি। কিন্তু বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও আজ পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান সমাধান মেলেনি।”
যোগাযোগ করা হলে পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছে। পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ না পাওয়ার কারণেই মূলত বড় ধরনের সংস্কার কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে বলেন, “বরাদ্দ প্রাপ্তির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই টার্মিনাল সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।”
বিলাসবহুল নৈশকোচ ও আন্তঃজেলা বাস চলাচলের এই গুরুত্বপূর্ণ হাবটির আধুনিকায়ন ও দ্রুত সংস্কার দেখতে এখন প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাসের বাস্তব প্রতিফলন চান সৈয়দপুরবাসী।

আপনার মতামত লিখুন