রংপুর    শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
জুফাস নিউজ
আপডেট : শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

চার বছর ধরে পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে ক্লাস, ঝুঁকিতে ২৬১ শিক্ষার্থীর জীবন

চার বছর ধরে পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে ক্লাস, ঝুঁকিতে ২৬১ শিক্ষার্থীর জীবন

করাত হাতে বাবাকে হত্যার চেষ্টা, পঞ্চগড়ে যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড

করাত হাতে বাবাকে হত্যার চেষ্টা, পঞ্চগড়ে যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড

জুয়ার আসরে ডিবির অভিযান, ইউপি সদস্যসহ তিন জুয়াড়ি আটক

জুয়ার আসরে ডিবির অভিযান, ইউপি সদস্যসহ তিন জুয়াড়ি আটক

পঞ্চগড়ে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগে অগ্রাধিকার

পঞ্চগড়ে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগে অগ্রাধিকার

পালিত বোনকে ওয়ারিশ সনদ দেওয়ার অভিযোগ, তদন্তে উপজেলা প্রশাসন

পালিত বোনকে ওয়ারিশ সনদ দেওয়ার অভিযোগ, তদন্তে উপজেলা প্রশাসন

হাসপাতালের বেডে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, চিকিৎসাধীন রোগী গ্রেপ্তার

হাসপাতালের বেডে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, চিকিৎসাধীন রোগী গ্রেপ্তার

২২ বছর পর এমপিওভুক্তি: অনুমোদনহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ সনদ ব্যবহারের অভিযোগে তেঁতুলিয়ার কলেজ অধ্যক্ষকে ঘিরে বিতর্ক

২২ বছর পর এমপিওভুক্তি: অনুমোদনহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ সনদ ব্যবহারের অভিযোগে তেঁতুলিয়ার কলেজ অধ্যক্ষকে ঘিরে বিতর্ক

চা চাষিদের ভর্তুকির সার বরাদ্দ নিশ্চিতের আশ্বাস, চায়ের চোরাচালান রোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

চা চাষিদের ভর্তুকির সার বরাদ্দ নিশ্চিতের আশ্বাস, চায়ের চোরাচালান রোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

চার বছর ধরে পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে ক্লাস, ঝুঁকিতে ২৬১ শিক্ষার্থীর জীবন

চার বছর ধরে পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে ক্লাস, ঝুঁকিতে ২৬১ শিক্ষার্থীর জীবন
হাফিজাবাদ ইউনিয়নের কানাপাড়া ঠেকরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৬১ শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করছে। ছবি: জুফাস নিউজ

সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের কানাপাড়া ঠেকরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৬১ শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করছে। চার বছর আগে সরকারিভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা টিনশেড ভবনটি এখনো শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দেয়ালে বড় ফাটল, খসে পড়া প্লাস্টার, বেরিয়ে থাকা রড ও ছিদ্রযুক্ত টিনের ছাউনি ভবনটিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যালয়টি ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮৪ সালে নির্মিত হয় টিনশেড ভবনটি। ভবনটি ২০২২ সালের ২১ মার্চ উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। একই বছরের ১৬ মে উপজেলা প্রকৌশলী ভবনটি নিলামের জন্য মূল্য নির্ধারণ করলেও আজ পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় পুরোনো ভবনেই চলছে পাঠদান।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের প্রায় প্রতিটি দেয়ালে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে কংক্রিট খসে লোহার রড বেরিয়ে এসেছে। বৃষ্টির সময় টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ ও শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে যায়। চার কক্ষের ভবনের তিনটি কক্ষ বর্তমানে শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফরিন জাহান জানায়, প্রতিদিন ভয় নিয়ে ক্লাস করতে হয়। ভবনের বিভিন্ন স্থানে রড বেরিয়ে থাকায় সবসময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। একই শ্রেণির মাহির রাইয়ান বলে, বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, ফলে স্বাভাবিকভাবে ক্লাস করা সম্ভব হয় না। আরেক শিক্ষার্থী তাসকিন আহমেদ লাবীবের ভাষ্য, দেয়ালের ফাটল দেখে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সবাই উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার দত্ত জানান, বিদ্যালয়ের অন্য পাকা ভবনের একটি কক্ষ অফিস এবং অপরটি ডিজিটাল ক্লাসরুম ও প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে বাকি শ্রেণিগুলোর জন্য পরিত্যক্ত টিনশেড ভবনই একমাত্র ভরসা। নতুন ভবনের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও এখনো কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোমিনুল হক বলেন, পরিত্যক্ত ভবনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত আপাতত ওই ভবনেই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শুধু আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবসম্মত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বিষয় : পঞ্চগড় ঝুুঁকিপূর্ণ পাঠদান

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


চার বছর ধরে পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে ক্লাস, ঝুঁকিতে ২৬১ শিক্ষার্থীর জীবন

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের কানাপাড়া ঠেকরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৬১ শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করছে। চার বছর আগে সরকারিভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা টিনশেড ভবনটি এখনো শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দেয়ালে বড় ফাটল, খসে পড়া প্লাস্টার, বেরিয়ে থাকা রড ও ছিদ্রযুক্ত টিনের ছাউনি ভবনটিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যালয়টি ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮৪ সালে নির্মিত হয় টিনশেড ভবনটি। ভবনটি ২০২২ সালের ২১ মার্চ উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। একই বছরের ১৬ মে উপজেলা প্রকৌশলী ভবনটি নিলামের জন্য মূল্য নির্ধারণ করলেও আজ পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় পুরোনো ভবনেই চলছে পাঠদান।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের প্রায় প্রতিটি দেয়ালে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে কংক্রিট খসে লোহার রড বেরিয়ে এসেছে। বৃষ্টির সময় টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ ও শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে যায়। চার কক্ষের ভবনের তিনটি কক্ষ বর্তমানে শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফরিন জাহান জানায়, প্রতিদিন ভয় নিয়ে ক্লাস করতে হয়। ভবনের বিভিন্ন স্থানে রড বেরিয়ে থাকায় সবসময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। একই শ্রেণির মাহির রাইয়ান বলে, বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, ফলে স্বাভাবিকভাবে ক্লাস করা সম্ভব হয় না। আরেক শিক্ষার্থী তাসকিন আহমেদ লাবীবের ভাষ্য, দেয়ালের ফাটল দেখে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সবাই উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার দত্ত জানান, বিদ্যালয়ের অন্য পাকা ভবনের একটি কক্ষ অফিস এবং অপরটি ডিজিটাল ক্লাসরুম ও প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে বাকি শ্রেণিগুলোর জন্য পরিত্যক্ত টিনশেড ভবনই একমাত্র ভরসা। নতুন ভবনের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও এখনো কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোমিনুল হক বলেন, পরিত্যক্ত ভবনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত আপাতত ওই ভবনেই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শুধু আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবসম্মত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ