রংপুর নগরীর প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা থেকে বাচ্চু মিয়া (৬০) নামে এক রোগীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নগরীর বদরগঞ্জ রোডের পীরজাবাদ এলাকায় অবস্থিত ‘প্রাইম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’-এর সার্জারি-১ ওয়ার্ডের বাথরুম থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বাচ্চু মিয়া দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য দরগারপাড়া এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে ডান পায়ের উরুতে ঘা, তীব্র শ্বাসকষ্ট ও ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা নিয়ে প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি-১ ওয়ার্ডে ভর্তি হন বাচ্চু মিয়া। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নিহতের স্বজনদের বরাতে পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে স্ত্রী আমিনা বেগমের সহায়তায় স্বাভাবিকভাবেই ওয়ার্ডের বাথরুমে যান এবং নিভৃতে ফিরে আসেন বাচ্চু মিয়া। এর কিছুক্ষণ পর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি নিজের ব্যবহৃত একটি গামছা হাতে নিয়ে আবারও একা বাথরুমের দিকে রওনা হন। এ সময় স্ত্রী সাথে যেতে চাইলে তিনি নিজেই যেতে পারবেন বলে জানান।
পরবর্তীতে সকালে ওষুধ ও ইনজেকশন দেওয়ার সময় ডিউটিরত নার্স ও ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা বাচ্চু মিয়াকে বিছানায় না পেয়ে খোঁজ শুরু করেন। স্ত্রী বাথরুমের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ মিলছিল না। পরবর্তীতে হাসপাতালের কর্মী ও স্বজনেরা বাথরুমের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে ভেন্টিলেশনের রডের সঙ্গে গামছা দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় বাচ্চু মিয়ার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিথর দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানায়, এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে— তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বিষয় : রংপুরের খবর মৃত্যু ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
রংপুর নগরীর প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা থেকে বাচ্চু মিয়া (৬০) নামে এক রোগীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নগরীর বদরগঞ্জ রোডের পীরজাবাদ এলাকায় অবস্থিত ‘প্রাইম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’-এর সার্জারি-১ ওয়ার্ডের বাথরুম থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বাচ্চু মিয়া দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য দরগারপাড়া এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে ডান পায়ের উরুতে ঘা, তীব্র শ্বাসকষ্ট ও ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা নিয়ে প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি-১ ওয়ার্ডে ভর্তি হন বাচ্চু মিয়া। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নিহতের স্বজনদের বরাতে পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে স্ত্রী আমিনা বেগমের সহায়তায় স্বাভাবিকভাবেই ওয়ার্ডের বাথরুমে যান এবং নিভৃতে ফিরে আসেন বাচ্চু মিয়া। এর কিছুক্ষণ পর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি নিজের ব্যবহৃত একটি গামছা হাতে নিয়ে আবারও একা বাথরুমের দিকে রওনা হন। এ সময় স্ত্রী সাথে যেতে চাইলে তিনি নিজেই যেতে পারবেন বলে জানান।
পরবর্তীতে সকালে ওষুধ ও ইনজেকশন দেওয়ার সময় ডিউটিরত নার্স ও ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা বাচ্চু মিয়াকে বিছানায় না পেয়ে খোঁজ শুরু করেন। স্ত্রী বাথরুমের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ মিলছিল না। পরবর্তীতে হাসপাতালের কর্মী ও স্বজনেরা বাথরুমের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে ভেন্টিলেশনের রডের সঙ্গে গামছা দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় বাচ্চু মিয়ার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিথর দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানায়, এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে— তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আপনার মতামত লিখুন