রংপুর    মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
জুফাস নিউজ

আষাঢ়ের প্রথম দিন আজ, বর্ষার সুরে প্রকৃতি মাতোয়ারা

আষাঢ়ের প্রথম দিন আজ, বর্ষার সুরে প্রকৃতি মাতোয়ারা
ছবি: সংগৃহীত

ঋতুবৈচিত্র্যের ষড়ঋতুর দেশের ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের দ্বিতীয় ঋতু বর্ষা তথা আষাঢ়ের প্রথম দিন আজ। ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে বেশ কদিন আগেই। কিন্তু এবার ঘটা করে হাজির হলো বর্ষা। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এবার ৬ জুন মৌসুমি বায়ু দেশে প্রবেশ করলেও দুদিন আগে থেকে সারা দেশে সক্রিয় হয়েছে।

নীল গগনে কালো মেঘের চোখ রাঙানিতে আজ থেকে বৃষ্টির রাজত্ব শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কদিন আগে থেকেই অঝোর ধারায় আকাশ কাঁদিয়ে বর্ষারানি তার আগমনের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে ষড়ঋতুর দেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলে।

গতকাল রোববার জ্যৈষ্ঠের শেষ দিনে সারা দেশেই কম-বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ময়মনসিংহে সবচেয়ে বেশি ১২২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। তবে এদিন আকাশ মেঘলা থাকলেও রাজধানীতে কোনো বৃষ্টি হয়নি; যদিও আগের দুদিনে শনিবার ৩৫ ও শুক্রবার ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝরে।

গতকাল রোববার রাতে আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক আমার দেশকে বলেন, আজ সোমবারও রাজধানীসহ সারা দেশে কম-বেশি বৃষ্টি হবে। তবে ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে অধিক বৃষ্টি হতে পারে। বর্ধিত পাঁচ দিনে বৃষ্টির প্রবণতা আরো বাড়বে। তিনি আরো বলেন, এ সময়ে বৃষ্টি হলেও তা অনেকটাই উষ্ণ বৃষ্টি, বেশি সময় ধরে না হলে তাপমাত্রা সহজে কমে না; বরং ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের গতকাল সন্ধ্যা ৬টার পূর্বাভাসে বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এতে আজ সোমবার রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সে সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

বর্ষা নিয়ে কবি-সাহিত্যিকরা লিখেছেন অগণিত গান ও কবিতা। আবেগাপ্লুত হয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন— বর্ষা ঋতু এলো এলো বিজয়ীর সাজে, বাজে গুরু গুরু আনন্দ-ডমরু অম্বর মাঝে।

এছাড়া ‘আয়রে মেঘ আয়রে’সহ অগণিত গান ও কবিতায় বর্ষার স্বরূপ প্রকাশ করেছেন কবি-সাহিত্যিকরা। শুধু কি তা-ই, বর্ষার আগমনে গাছে শোভাবর্ধন করে কদম ফুল। মেঘের গুড়ুম গুড়ুম গর্জনে ময়ূর নাচে পেখম তুলে।

বর্ষা আমাদের জন্য অপরিহার্য এক ঋতু। বৃষ্টি না হলে শস্যাদি জন্মাবে না, বেড়ে উঠবে না প্রাণ। বৃষ্টির অভাবে মাটি যখন অনুর্বর হয়ে যায়, তখন বর্ষা এসে তা উর্বর করে। আমাদের নদী-মাঠ-ঘাটের দেশ বর্ষায় ভরে ওঠে সবুজে-শ্যামলে। আবেগে ভরে বর্ষা সবার মনকে স্নিগ্ধ করে তোলে। পুরাতন জঞ্জাল ধুয়ে-মুছে জেগে ওঠে প্রাণচাঞ্চল্যে।

আষাঢ়ে প্রকৃতি রূপ-রঙে হয়ে ওঠে ঢলঢলে। তাপপ্রবাহে চৌচির মাঠ-ঘাট, খাল-বিল আর বনবীথিকায় জেগে ওঠে নবীন প্রাণের ছন্দ। সময়-অসময়ে ঝমাঝম বৃষ্টি, কর্দমাক্ত পথঘাট, চারধারে অথৈ পানিতে আবহমান বাংলা রূপ নেয় অপরূপ রূপবতী সলিল দুহিতায়। ফুলে ফুলে শোভিত হয় প্রকৃতি। তাল-তমাল, শাল-পিয়াল আর মরাল কপোতের বনবীথিকায় চোখে পড়ে বকুল, কদম, জারুল, পারুল, কৃষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়াসহ অসংখ্য ফুল।

গ্রীষ্মের রুদ্র প্রকৃতির গ্লানি আর জরাকে ধুয়ে-মুছে প্রশান্তি স্নিগ্ধতা ও সবুজে ভরে তোলে আষাঢ়। প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের কাছে তাই বর্ষা নিয়ে আসে অভিনব ব্যঞ্জনা। আর বাঙালি মননে সবচেয়ে বেশি রোমান্টিকতার সুর বেজেছে এ বর্ষা ঋতুতেই। গানে-কবিতায়-সাহিত্যজুড়ে তারই প্রতিফলন ঘটেছে নানাভাবে।

আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক বলেন, ‘মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশেই বৃষ্টি হচ্ছে। এখন কোথাও কোথাও স্বল্প থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। তবে ভারী বর্ষণ এখনো শুরু না হলেও ধীরে ধীরে বর্ষার বৃষ্টি বাড়বে।’

বিষয় : আষাড়

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


আষাঢ়ের প্রথম দিন আজ, বর্ষার সুরে প্রকৃতি মাতোয়ারা

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

ঋতুবৈচিত্র্যের ষড়ঋতুর দেশের ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের দ্বিতীয় ঋতু বর্ষা তথা আষাঢ়ের প্রথম দিন আজ। ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে বেশ কদিন আগেই। কিন্তু এবার ঘটা করে হাজির হলো বর্ষা। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এবার ৬ জুন মৌসুমি বায়ু দেশে প্রবেশ করলেও দুদিন আগে থেকে সারা দেশে সক্রিয় হয়েছে।

নীল গগনে কালো মেঘের চোখ রাঙানিতে আজ থেকে বৃষ্টির রাজত্ব শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কদিন আগে থেকেই অঝোর ধারায় আকাশ কাঁদিয়ে বর্ষারানি তার আগমনের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে ষড়ঋতুর দেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলে।

গতকাল রোববার জ্যৈষ্ঠের শেষ দিনে সারা দেশেই কম-বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ময়মনসিংহে সবচেয়ে বেশি ১২২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। তবে এদিন আকাশ মেঘলা থাকলেও রাজধানীতে কোনো বৃষ্টি হয়নি; যদিও আগের দুদিনে শনিবার ৩৫ ও শুক্রবার ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝরে।

গতকাল রোববার রাতে আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক আমার দেশকে বলেন, আজ সোমবারও রাজধানীসহ সারা দেশে কম-বেশি বৃষ্টি হবে। তবে ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে অধিক বৃষ্টি হতে পারে। বর্ধিত পাঁচ দিনে বৃষ্টির প্রবণতা আরো বাড়বে। তিনি আরো বলেন, এ সময়ে বৃষ্টি হলেও তা অনেকটাই উষ্ণ বৃষ্টি, বেশি সময় ধরে না হলে তাপমাত্রা সহজে কমে না; বরং ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের গতকাল সন্ধ্যা ৬টার পূর্বাভাসে বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এতে আজ সোমবার রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সে সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

বর্ষা নিয়ে কবি-সাহিত্যিকরা লিখেছেন অগণিত গান ও কবিতা। আবেগাপ্লুত হয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন— বর্ষা ঋতু এলো এলো বিজয়ীর সাজে, বাজে গুরু গুরু আনন্দ-ডমরু অম্বর মাঝে।

এছাড়া ‘আয়রে মেঘ আয়রে’সহ অগণিত গান ও কবিতায় বর্ষার স্বরূপ প্রকাশ করেছেন কবি-সাহিত্যিকরা। শুধু কি তা-ই, বর্ষার আগমনে গাছে শোভাবর্ধন করে কদম ফুল। মেঘের গুড়ুম গুড়ুম গর্জনে ময়ূর নাচে পেখম তুলে।

বর্ষা আমাদের জন্য অপরিহার্য এক ঋতু। বৃষ্টি না হলে শস্যাদি জন্মাবে না, বেড়ে উঠবে না প্রাণ। বৃষ্টির অভাবে মাটি যখন অনুর্বর হয়ে যায়, তখন বর্ষা এসে তা উর্বর করে। আমাদের নদী-মাঠ-ঘাটের দেশ বর্ষায় ভরে ওঠে সবুজে-শ্যামলে। আবেগে ভরে বর্ষা সবার মনকে স্নিগ্ধ করে তোলে। পুরাতন জঞ্জাল ধুয়ে-মুছে জেগে ওঠে প্রাণচাঞ্চল্যে।

আষাঢ়ে প্রকৃতি রূপ-রঙে হয়ে ওঠে ঢলঢলে। তাপপ্রবাহে চৌচির মাঠ-ঘাট, খাল-বিল আর বনবীথিকায় জেগে ওঠে নবীন প্রাণের ছন্দ। সময়-অসময়ে ঝমাঝম বৃষ্টি, কর্দমাক্ত পথঘাট, চারধারে অথৈ পানিতে আবহমান বাংলা রূপ নেয় অপরূপ রূপবতী সলিল দুহিতায়। ফুলে ফুলে শোভিত হয় প্রকৃতি। তাল-তমাল, শাল-পিয়াল আর মরাল কপোতের বনবীথিকায় চোখে পড়ে বকুল, কদম, জারুল, পারুল, কৃষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়াসহ অসংখ্য ফুল।

গ্রীষ্মের রুদ্র প্রকৃতির গ্লানি আর জরাকে ধুয়ে-মুছে প্রশান্তি স্নিগ্ধতা ও সবুজে ভরে তোলে আষাঢ়। প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের কাছে তাই বর্ষা নিয়ে আসে অভিনব ব্যঞ্জনা। আর বাঙালি মননে সবচেয়ে বেশি রোমান্টিকতার সুর বেজেছে এ বর্ষা ঋতুতেই। গানে-কবিতায়-সাহিত্যজুড়ে তারই প্রতিফলন ঘটেছে নানাভাবে।

আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক বলেন, ‘মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশেই বৃষ্টি হচ্ছে। এখন কোথাও কোথাও স্বল্প থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। তবে ভারী বর্ষণ এখনো শুরু না হলেও ধীরে ধীরে বর্ষার বৃষ্টি বাড়বে।’


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ