নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় এক নববধূকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাতে ডিমলা থানায় মামলা রেকর্ড হওয়ার পরপরই পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মামলার প্রধান আসামি অলিয়ার রহমান (৪২) ও জাহিদুল ইসলাম (৩৬)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ মে রাতে উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের জোরজিগা এলাকার ওই নববধূ তাঁর নিজ বাড়িতে একা ছিলেন। তাঁর স্বামী সে সময় কর্মস্থলে অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে একদল লম্পট ওই নববধূকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। রাতে স্বামী বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে না পেয়ে স্বজনদের সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অপহরণের পর ওই নববধূকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। শুধু তাই নয়, পাশবিক নির্যাতনের সময় মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে রাখা হয় এবং ঘটনা কাউকে জানালে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েকটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ভুক্তভোগীর সইও নেওয়া হয়।
টানা কয়েকদিন নির্যাতনের পর নববধূ শারীরিকভাবে প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়লে, গত ২ জুন বিকেলে অভিযুক্তরা তাঁকে ডিমলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ জানান।
এই জঘন্য ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ঘটনাটির ভয়াবহতা বিবেচনা করে নীলফামারীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ফরহাদ হোসেন খানের সরাসরি হস্তক্ষেপে গত রোববার রাতে ডিমলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
মামলায় অলিয়ার রহমান, আমির হোসেন ওরফে কালা, রবি মামুদ, আমজাদ হোসেন ও জাহিদুল ইসলামসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শওকত আলী সরকার মামলা দায়ের ও দুই আসামিকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ তৎপর ছিল। মামলা রুজু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান দুই আসামিকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিমলা থানার ওসি (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী জানান, গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে গতকাল সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানিয়ে আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। পলাতক বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় এক নববধূকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাতে ডিমলা থানায় মামলা রেকর্ড হওয়ার পরপরই পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মামলার প্রধান আসামি অলিয়ার রহমান (৪২) ও জাহিদুল ইসলাম (৩৬)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ মে রাতে উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের জোরজিগা এলাকার ওই নববধূ তাঁর নিজ বাড়িতে একা ছিলেন। তাঁর স্বামী সে সময় কর্মস্থলে অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে একদল লম্পট ওই নববধূকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। রাতে স্বামী বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে না পেয়ে স্বজনদের সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অপহরণের পর ওই নববধূকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। শুধু তাই নয়, পাশবিক নির্যাতনের সময় মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে রাখা হয় এবং ঘটনা কাউকে জানালে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েকটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ভুক্তভোগীর সইও নেওয়া হয়।
টানা কয়েকদিন নির্যাতনের পর নববধূ শারীরিকভাবে প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়লে, গত ২ জুন বিকেলে অভিযুক্তরা তাঁকে ডিমলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ জানান।
এই জঘন্য ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ঘটনাটির ভয়াবহতা বিবেচনা করে নীলফামারীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ফরহাদ হোসেন খানের সরাসরি হস্তক্ষেপে গত রোববার রাতে ডিমলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
মামলায় অলিয়ার রহমান, আমির হোসেন ওরফে কালা, রবি মামুদ, আমজাদ হোসেন ও জাহিদুল ইসলামসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শওকত আলী সরকার মামলা দায়ের ও দুই আসামিকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ তৎপর ছিল। মামলা রুজু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান দুই আসামিকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিমলা থানার ওসি (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী জানান, গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে গতকাল সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানিয়ে আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। পলাতক বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন