রংপুর    শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
জুফাস নিউজ
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সংবাদ সংগ্রহের ব্যস্ততা ফেলে অবলা শালিক পাখিকে বাঁচিয়ে আকাশে ওড়ালেন সাংবাদিক খলিলুর রহমান

সংবাদ সংগ্রহের ব্যস্ততা ফেলে অবলা শালিক পাখিকে বাঁচিয়ে আকাশে ওড়ালেন সাংবাদিক খলিলুর রহমান
পাখির ছানা বাঁচিয়ে অনন্য নজির সাংবাদিক খলিলুরের। ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে ঝড়ে বাসা থেকে পড়ে যাওয়া একটি অসহায় শালিক পাখির ছানাকে উদ্ধার করে অনন্য মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও পাখিপ্রেমী খলিলুর রহমান। গত রাতে ঝড়ে আক্রান্ত পাখিটিকে উদ্ধার করে পরম মমতায় দিনভর সেবা দিয়ে সুস্থ করার পর তিনি সেটিকে আবার মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রাতে তারাগঞ্জ উপজেলায় হালকা ঝড়-বৃষ্টি হয়। ঝড়ের তোড়ে উপজেলা পরিষদের সামনের একটি গাছ থেকে শালিক পাখির একটি বাসা ভেঙে নিচে পড়ে যায়। আজ সকালে সাংবাদিক খলিলুর রহমান পেশাগত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় মাটিতে পড়ে থাকা পাখির ছানাটিকে দেখতে পান। তীব্র ঠাণ্ডা, ওপর থেকে পড়ার আঘাত ও আতঙ্কে পাখির ছানাটি তখন প্রায় নিস্তেজ ও মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল।

নিজের গুরুত্বপূর্ণ সব কাজের ব্যস্ততা একপাশে সরিয়ে রেখে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি পাখিটিকে মাটি থেকে তুলে উদ্ধার করেন। পরম মমতায় সেটিকে কাপড়ে জড়িয়ে উষ্ণতা দেন এবং ড্রপার দিয়ে পানি ও খাবার খাইয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তাঁর দিনভর নিবিড় সেবা-যত্ন ও ভালোবাসায় শালিক ছানাটি ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ সুস্থ ও চঞ্চল হয়ে ওঠে।

পাখিটি পুরোপুরি সুস্থ ও উড়তে সক্ষম হওয়ার পর বিকেলে খলিলুর রহমান সেটিকে উপজেলা পরিষদের সামনের খোলা প্রাঙ্গণে নিয়ে যান এবং নিজের হাত থেকে মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করেন। ডানা মেলে পাখিটি কিচিরমিচির শব্দে আবার প্রকৃতির বুকে ফিরে যায়।

এই মানবিক উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিক খলিলুর রহমান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন:

“পাখিরা প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ও আমাদের পরম বন্ধু। আমরা প্রতিদিন সমাজের নানা অসংগতি আর মানুষের সুখ-দুঃখের খবর তুলে ধরি। কিন্তু ঝড়-তুফানের রাতে এই অবলা প্রাণীরা যে কতটা অসহায় হয়ে পড়ে, তা আজ সকালে শালিক পাখিটিকে না দেখলে বুঝতাম না। মানবিকতার খাতিরেই ওকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। নিজের সন্তানের মতো ওকে সারাদিন আগলে রেখে সুস্থ করার পর যখন ও ডানা মেলে আকাশে উড়ে গেল, সেই তৃপ্তি ও আনন্দ সংবাদ লেখার চেয়েও অনেক বেশি শান্তির।”

একজন সংবাদকর্মীর এমন অনন্য ও মানবিক উদ্যোগের কথা মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন।

স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বলছেন, সমাজের দর্পণ হিসেবে সাংবাদিকরা যেমন কাজ করেন, তেমনই বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি খলিলুর রহমানের এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ বর্তমান সমাজের সবার জন্য এক দারুণ অনুকরণীয় বার্তা। অবলা জীবজন্তুর প্রতি মানুষের এমন মমত্ববোধই পারে প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে।

জুফাস নিউজ/সরিতপ্র

বিষয় : তারাগঞ্জ তারাগঞ্জ উপজেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


সংবাদ সংগ্রহের ব্যস্ততা ফেলে অবলা শালিক পাখিকে বাঁচিয়ে আকাশে ওড়ালেন সাংবাদিক খলিলুর রহমান

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬

featured Image

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে ঝড়ে বাসা থেকে পড়ে যাওয়া একটি অসহায় শালিক পাখির ছানাকে উদ্ধার করে অনন্য মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও পাখিপ্রেমী খলিলুর রহমান। গত রাতে ঝড়ে আক্রান্ত পাখিটিকে উদ্ধার করে পরম মমতায় দিনভর সেবা দিয়ে সুস্থ করার পর তিনি সেটিকে আবার মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রাতে তারাগঞ্জ উপজেলায় হালকা ঝড়-বৃষ্টি হয়। ঝড়ের তোড়ে উপজেলা পরিষদের সামনের একটি গাছ থেকে শালিক পাখির একটি বাসা ভেঙে নিচে পড়ে যায়। আজ সকালে সাংবাদিক খলিলুর রহমান পেশাগত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় মাটিতে পড়ে থাকা পাখির ছানাটিকে দেখতে পান। তীব্র ঠাণ্ডা, ওপর থেকে পড়ার আঘাত ও আতঙ্কে পাখির ছানাটি তখন প্রায় নিস্তেজ ও মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল।

নিজের গুরুত্বপূর্ণ সব কাজের ব্যস্ততা একপাশে সরিয়ে রেখে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি পাখিটিকে মাটি থেকে তুলে উদ্ধার করেন। পরম মমতায় সেটিকে কাপড়ে জড়িয়ে উষ্ণতা দেন এবং ড্রপার দিয়ে পানি ও খাবার খাইয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তাঁর দিনভর নিবিড় সেবা-যত্ন ও ভালোবাসায় শালিক ছানাটি ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ সুস্থ ও চঞ্চল হয়ে ওঠে।

পাখিটি পুরোপুরি সুস্থ ও উড়তে সক্ষম হওয়ার পর বিকেলে খলিলুর রহমান সেটিকে উপজেলা পরিষদের সামনের খোলা প্রাঙ্গণে নিয়ে যান এবং নিজের হাত থেকে মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করেন। ডানা মেলে পাখিটি কিচিরমিচির শব্দে আবার প্রকৃতির বুকে ফিরে যায়।

এই মানবিক উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিক খলিলুর রহমান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন:

“পাখিরা প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ও আমাদের পরম বন্ধু। আমরা প্রতিদিন সমাজের নানা অসংগতি আর মানুষের সুখ-দুঃখের খবর তুলে ধরি। কিন্তু ঝড়-তুফানের রাতে এই অবলা প্রাণীরা যে কতটা অসহায় হয়ে পড়ে, তা আজ সকালে শালিক পাখিটিকে না দেখলে বুঝতাম না। মানবিকতার খাতিরেই ওকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। নিজের সন্তানের মতো ওকে সারাদিন আগলে রেখে সুস্থ করার পর যখন ও ডানা মেলে আকাশে উড়ে গেল, সেই তৃপ্তি ও আনন্দ সংবাদ লেখার চেয়েও অনেক বেশি শান্তির।”

একজন সংবাদকর্মীর এমন অনন্য ও মানবিক উদ্যোগের কথা মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন।

স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বলছেন, সমাজের দর্পণ হিসেবে সাংবাদিকরা যেমন কাজ করেন, তেমনই বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি খলিলুর রহমানের এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ বর্তমান সমাজের সবার জন্য এক দারুণ অনুকরণীয় বার্তা। অবলা জীবজন্তুর প্রতি মানুষের এমন মমত্ববোধই পারে প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে।

জুফাস নিউজ/সরিতপ্র


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ