তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে ২০ কিলোমিটারব্যাপী এক বিশাল ও অভূতপূর্ব মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগামীকাল শনিবার (২০ জুন) নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা থেকে শুরু হয়ে ডিমলা উপজেলার ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করবে দলটি।
দলটির নীলফামারী জেলা সেক্রেটারি আন্তাজুল ইসলাম জানান, আগামীকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জলঢাকা উপজেলার ট্রাফিক মোড় থেকে এই মানববন্ধন শুরু হবে। এটি দীর্ঘ ২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ডিমলা উপজেলার ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় গিয়ে শেষ হবে।
তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন, শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকট, সেচ সমস্যা এবং নদীকেন্দ্রিক জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের আর্থ-সামাজিক দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে। উত্তরাঞ্চলের কৃষি, সামগ্রিক পরিবেশ ও অর্থনীতির বৈপ্লবিক উন্নয়নে এ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
জামায়াত নেতা আরও আক্ষেপ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়া হলেও এর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেশের মানুষ দেখেনি। তাই উত্তরাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের ন্যায্য দাবি আদায়ে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে এই দীর্ঘ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে তিস্তা নদীসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মী, সমর্থক, কৃষক, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেবেন।
এদিকে এই কর্মসূচির ঠিক আগের দিন দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ কমান্ড এলাকা ও তিস্তা নদী অববাহিকা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল।
পরিদর্শন দলে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। এ সময় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ৯ সদস্যের বিশেষ কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে নীলফামারীর ডালিয়াস্থ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভিআইপি গেস্ট হাউস ‘অবসর’-এর সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রীরা এক যুগান্তকারী ঘোষণা দেন।
মন্ত্রীরা স্পষ্ট করে জানান:
“তিস্তা পাড়ের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে সকলকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করা হবে। কোনো বিদেশের মুখাপেক্ষী না হয়ে, দেশের নিজস্ব অর্থায়নেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে বর্তমান সরকার।”
একদিকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত শুরুর দাবিতে বৃহৎ রাজনৈতিক দলের বিশাল কর্মসূচি, অন্যদিকে সরকারের তিন প্রভাবশালী মন্ত্রীর নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস—সব মিলিয়ে তিস্তা অববাহিকার লাখো মানুষের মাঝে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার হয়েছে।

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে ২০ কিলোমিটারব্যাপী এক বিশাল ও অভূতপূর্ব মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগামীকাল শনিবার (২০ জুন) নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা থেকে শুরু হয়ে ডিমলা উপজেলার ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করবে দলটি।
দলটির নীলফামারী জেলা সেক্রেটারি আন্তাজুল ইসলাম জানান, আগামীকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জলঢাকা উপজেলার ট্রাফিক মোড় থেকে এই মানববন্ধন শুরু হবে। এটি দীর্ঘ ২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ডিমলা উপজেলার ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় গিয়ে শেষ হবে।
তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন, শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকট, সেচ সমস্যা এবং নদীকেন্দ্রিক জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের আর্থ-সামাজিক দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে। উত্তরাঞ্চলের কৃষি, সামগ্রিক পরিবেশ ও অর্থনীতির বৈপ্লবিক উন্নয়নে এ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
জামায়াত নেতা আরও আক্ষেপ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়া হলেও এর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেশের মানুষ দেখেনি। তাই উত্তরাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের ন্যায্য দাবি আদায়ে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে এই দীর্ঘ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে তিস্তা নদীসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মী, সমর্থক, কৃষক, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেবেন।
এদিকে এই কর্মসূচির ঠিক আগের দিন দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ কমান্ড এলাকা ও তিস্তা নদী অববাহিকা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল।
পরিদর্শন দলে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। এ সময় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ৯ সদস্যের বিশেষ কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে নীলফামারীর ডালিয়াস্থ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভিআইপি গেস্ট হাউস ‘অবসর’-এর সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রীরা এক যুগান্তকারী ঘোষণা দেন।
মন্ত্রীরা স্পষ্ট করে জানান:
“তিস্তা পাড়ের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে সকলকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করা হবে। কোনো বিদেশের মুখাপেক্ষী না হয়ে, দেশের নিজস্ব অর্থায়নেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে বর্তমান সরকার।”
একদিকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত শুরুর দাবিতে বৃহৎ রাজনৈতিক দলের বিশাল কর্মসূচি, অন্যদিকে সরকারের তিন প্রভাবশালী মন্ত্রীর নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস—সব মিলিয়ে তিস্তা অববাহিকার লাখো মানুষের মাঝে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন