রংপুরের ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারে এসেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও জুনের মাঝামাঝি সময়ে এই রসালো ও সুস্বাদু আমের আনুষ্ঠানিক বিক্রি শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) থেকে সরকারিভাবে রংপুরের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারজাতকরণ শুরু হয়। প্রথম দিনেই রংপুরের বিখ্যাত আম বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থল পদাগঞ্জ হাটসহ বিভিন্ন বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
আমবাগানের মালিক, আমের ফড়িয়া, বাগানের পরিচর্যায় নিয়োজিত ব্যক্তি, মৌসুমি আম বিক্রেতা, অনলাইনে আম বিক্রেতা, পরিবহন ব্যবসায়ী, কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসায়ী সবাই যে যার মতো করে আম কেনা-বেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পরিপক্ব হওয়ার আগেই এক সপ্তাহ আগে থেকেই এই আম বিক্রি শুরু করেছেন।
চাষি ও স্থানীয় পাইকারি বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মান ও আকারের ওপর ভিত্তি করে প্রতি মণ বড় সাইজের আমের দাম এখন ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা এবং মাঝারি সাইজের প্রতি মণ আম ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ পাইকারি মূল্যে প্রতি কেজি আমের দাম পড়ছে ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা।
তবে খুচরা বাজারে বড় সাইজের আম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আর মাঝারি সাইজের আম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।
স্থানীয় আমচাষি মেহেদী হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘নিজস্ব পাঁচ বিঘা জমিতে এবার আম চাষ করেছেন। টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ফলন কম হয়েছে। সেইসঙ্গে আমের গায়ের কালারও পরিবর্তন হয়েছে। গত বছর শুরুতে যে আমের মণ ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত ছিল, এবার সেই আমের দাম কমে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
পদাগঞ্জ এলাকার আমচাষি মোসাব্বির বকসি বলেন, ৮ একর জমিতে আমের চাষ করেছি। শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে বাগানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এখন যে দামে বিক্রি হচ্ছে তাতে আশানুরূপ লাভ হবে না। তবে দিন গড়ালে দাম আরও বাড়তে পারে।’
ঢাকা থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘রংপুরের মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বাগান থেকে আম সংগ্রহ করে ট্রাকে করে চলে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। শুধু তাই নয়, কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর পাশাপাশি এবারও অনলাইনে হাঁড়িভাঙ্গা আম বিক্রির ধুম পড়েছে। ফেসবুক পেজ ও ই-কমার্স সাইটগুলোর মাধ্যমে ঘরে বসেই ক্রেতারা একদম তাজা আম পেয়ে যাচ্ছেন।
কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো প্রতি কেজি আমের খরচ ১৩ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ১৬ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ক্যারেট/বক্স, প্যাকিং খরচসহ এক মণ আম পাঠাতে ৩৬০০ থেকে ৪০০০ টাকা খরচ পড়ছে।এদিকে রংপুর নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সড়ক, সিটি বাজার, লালবাগ, মডার্ন মোড়, ধাপ বাজার, শাপলা চত্বরসহ নগরীর বিভিন্ন হাট-বাজারেও মিলছে এই আম। হাট-বাজার ছাড়াও পাড়ামহল্লার অলিগলিতে ফেরি করে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি করতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা বলেন, সরকারি উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ জুন থেকে আম বাজারজাত শুরু হয়েছে। কিন্তু এই আম পরিপক্ব না হতেই এক সপ্তাহ আগে থেকে অনেকেই বাড়তি লাভের আশায় বাগান থেকে পেরে বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো শুরু করেছেন।
পদাগঞ্জ এলাকার মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমের কারণে এবার আগেভাগেই আম পাড়া শুরু হয়েছে। তবে কেউ কেউ আম পাকাতে স্প্রে মেশাচ্ছেন। যদিও এটা করা অন্যায় এবং এতে হাঁড়িভাঙা আমের প্রকৃত স্বাদ থাকছে না।’
পাইকারি ব্যবসায়ী আলম মিয়া বলেন, ‘বাগানে আম পরিপক্ব হয়েছে। বাগান মালিকরা তাকে ডেকে আম বিক্রির কথা বলেন। তাই এক সপ্তাহ আগ থেকেই তাদের কাছ থেকে তিনি আম কিনে বিক্রি শুরু করছেন।’
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবার রংপুর জেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০০ হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে হাঁড়িভাঙা আমের ফলন হয় প্রায় ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০০ কোটি টাকার ওপরে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি হবে বলে।
কৃষি সম্প্রসারণ রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শিলাবৃষ্টিতে হাঁড়িভাঙা ঝড়ে পড়লেও ফলন ভালো হয়েছে। আকারেও বড় হয়েছে। তাই কৃষকরা পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করা যায়।’
হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারজাতকরণের উদ্বোধনী দিনে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘হাড়িভাঙ্গা আমের জন্য পদাগঞ্জ বাজার অন্যতম বাণিজ্যিক জায়গা। তবে এটার অবকাঠামোগত কিছু অসুবিধা আছে। এই অসুবিধাগুলো দূর করার জন্য তিন বছর মেয়াদি অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা নিয়েছি। এই হাটটাকে কীভাবে আরও উন্নত করা যায় এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ কীভাবে লাঘব করা যায়- সে বিষয়ে কাজ করছি। এছাড়াও রপ্তানির প্রতিবন্ধকতাগুলোও সমাধানের চেষ্টা করছি।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। হাঁড়িভাঙা আম এখন আর কেবল দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, পাকিস্তান, ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই আম রপ্তানি করা হয়। দেশের ভেতরে ফেসবুক ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বাগান থেকে আম সরবরাহের হার গত কয়েক বছরে কয়েক গুণ বেড়েছে।

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
রংপুরের ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারে এসেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও জুনের মাঝামাঝি সময়ে এই রসালো ও সুস্বাদু আমের আনুষ্ঠানিক বিক্রি শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) থেকে সরকারিভাবে রংপুরের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারজাতকরণ শুরু হয়। প্রথম দিনেই রংপুরের বিখ্যাত আম বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থল পদাগঞ্জ হাটসহ বিভিন্ন বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
আমবাগানের মালিক, আমের ফড়িয়া, বাগানের পরিচর্যায় নিয়োজিত ব্যক্তি, মৌসুমি আম বিক্রেতা, অনলাইনে আম বিক্রেতা, পরিবহন ব্যবসায়ী, কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসায়ী সবাই যে যার মতো করে আম কেনা-বেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পরিপক্ব হওয়ার আগেই এক সপ্তাহ আগে থেকেই এই আম বিক্রি শুরু করেছেন।
চাষি ও স্থানীয় পাইকারি বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মান ও আকারের ওপর ভিত্তি করে প্রতি মণ বড় সাইজের আমের দাম এখন ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা এবং মাঝারি সাইজের প্রতি মণ আম ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ পাইকারি মূল্যে প্রতি কেজি আমের দাম পড়ছে ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা।
তবে খুচরা বাজারে বড় সাইজের আম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আর মাঝারি সাইজের আম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।
স্থানীয় আমচাষি মেহেদী হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘নিজস্ব পাঁচ বিঘা জমিতে এবার আম চাষ করেছেন। টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ফলন কম হয়েছে। সেইসঙ্গে আমের গায়ের কালারও পরিবর্তন হয়েছে। গত বছর শুরুতে যে আমের মণ ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত ছিল, এবার সেই আমের দাম কমে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
পদাগঞ্জ এলাকার আমচাষি মোসাব্বির বকসি বলেন, ৮ একর জমিতে আমের চাষ করেছি। শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে বাগানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এখন যে দামে বিক্রি হচ্ছে তাতে আশানুরূপ লাভ হবে না। তবে দিন গড়ালে দাম আরও বাড়তে পারে।’
ঢাকা থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘রংপুরের মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বাগান থেকে আম সংগ্রহ করে ট্রাকে করে চলে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। শুধু তাই নয়, কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর পাশাপাশি এবারও অনলাইনে হাঁড়িভাঙ্গা আম বিক্রির ধুম পড়েছে। ফেসবুক পেজ ও ই-কমার্স সাইটগুলোর মাধ্যমে ঘরে বসেই ক্রেতারা একদম তাজা আম পেয়ে যাচ্ছেন।
কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো প্রতি কেজি আমের খরচ ১৩ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ১৬ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ক্যারেট/বক্স, প্যাকিং খরচসহ এক মণ আম পাঠাতে ৩৬০০ থেকে ৪০০০ টাকা খরচ পড়ছে।এদিকে রংপুর নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সড়ক, সিটি বাজার, লালবাগ, মডার্ন মোড়, ধাপ বাজার, শাপলা চত্বরসহ নগরীর বিভিন্ন হাট-বাজারেও মিলছে এই আম। হাট-বাজার ছাড়াও পাড়ামহল্লার অলিগলিতে ফেরি করে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি করতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা বলেন, সরকারি উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ জুন থেকে আম বাজারজাত শুরু হয়েছে। কিন্তু এই আম পরিপক্ব না হতেই এক সপ্তাহ আগে থেকে অনেকেই বাড়তি লাভের আশায় বাগান থেকে পেরে বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো শুরু করেছেন।
পদাগঞ্জ এলাকার মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমের কারণে এবার আগেভাগেই আম পাড়া শুরু হয়েছে। তবে কেউ কেউ আম পাকাতে স্প্রে মেশাচ্ছেন। যদিও এটা করা অন্যায় এবং এতে হাঁড়িভাঙা আমের প্রকৃত স্বাদ থাকছে না।’
পাইকারি ব্যবসায়ী আলম মিয়া বলেন, ‘বাগানে আম পরিপক্ব হয়েছে। বাগান মালিকরা তাকে ডেকে আম বিক্রির কথা বলেন। তাই এক সপ্তাহ আগ থেকেই তাদের কাছ থেকে তিনি আম কিনে বিক্রি শুরু করছেন।’
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবার রংপুর জেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০০ হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে হাঁড়িভাঙা আমের ফলন হয় প্রায় ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০০ কোটি টাকার ওপরে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি হবে বলে।
কৃষি সম্প্রসারণ রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শিলাবৃষ্টিতে হাঁড়িভাঙা ঝড়ে পড়লেও ফলন ভালো হয়েছে। আকারেও বড় হয়েছে। তাই কৃষকরা পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করা যায়।’
হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারজাতকরণের উদ্বোধনী দিনে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘হাড়িভাঙ্গা আমের জন্য পদাগঞ্জ বাজার অন্যতম বাণিজ্যিক জায়গা। তবে এটার অবকাঠামোগত কিছু অসুবিধা আছে। এই অসুবিধাগুলো দূর করার জন্য তিন বছর মেয়াদি অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা নিয়েছি। এই হাটটাকে কীভাবে আরও উন্নত করা যায় এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ কীভাবে লাঘব করা যায়- সে বিষয়ে কাজ করছি। এছাড়াও রপ্তানির প্রতিবন্ধকতাগুলোও সমাধানের চেষ্টা করছি।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। হাঁড়িভাঙা আম এখন আর কেবল দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, পাকিস্তান, ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই আম রপ্তানি করা হয়। দেশের ভেতরে ফেসবুক ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বাগান থেকে আম সরবরাহের হার গত কয়েক বছরে কয়েক গুণ বেড়েছে।

আপনার মতামত লিখুন