যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ঐতিহাসিক ঐতিহ্য এবং গভীর শোকের আবহে নীলফামারীর সৈয়দপুরে পালিত হয়েছে পবিত্র আশুরা। আজ শুক্রবার (২৬ জুন) হিজরি ১৪৪৮ সনের ১০ মহররম মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই দিনটি উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
৬১ হিজরির (৬৮০ খ্রিষ্টাব্দ) এই দিনে ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্য ও সঙ্গীরা ইয়াজিদ বাহিনীর বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করে শাহাদতবরণ করেছিলেন। ইসলামের প্রকৃত আদর্শ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সেই অবিস্মরণীয় আত্মত্যাগের স্মৃতি স্মরণে সৈয়দপুরে আজ সকাল থেকেই নানা আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
আজ সকাল থেকেই সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন ইমামবাড়াগুলোতে নিয়াজ-ফাতেহা, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে বিকেল গড়াতেই শহরজুড়ে বের হয় পবিত্র আশুরার মূল আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল। শোকাহত হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে তাজিয়া মিছিলটি শহরের গোলাহাট এলাকা থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে মিছিলটি স্থানীয় প্রতীকী কারবালা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
বিশেষ করে সৈয়দপুরের অবাঙালি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শোক, ত্যাগ ও মানবতার চেতনা ধারণ করে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সংরক্ষিত ও পালিত হয়ে আসছে।
আশুরাকে কেন্দ্র করে সৈয়দপুরের পাড়া-মহল্লার ইমামবাড়া সংলগ্ন বিভিন্ন সড়কে দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা। এছাড়া হযরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর মাজারের আদলে তৈরি করা হয়েছে প্রতীকী তাজিয়া।
মিছিল ও সমাবেশের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে লাঠিখেলা, তলোয়ারের লড়াই ও আগুনের নান্দনিক কসরত প্রদর্শন করা হয়, যা দেখতে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর ভিড় জমে। অন্যদিকে হাতিখানায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কারবালা প্রাঙ্গণে বসেছে লোকজ মেলা। মেলায় নারী, পুরুষ ও শিশুদের ব্যাপক উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ধর্মীয় এই বৃহৎ সমাবেশ ও অনুষ্ঠানকে ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সৈয়দপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করার পাশাপাশি র্যাব ও পুলিশের বিশেষ টহল জোরদার রাখা হয়েছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খল পরিবেশে সৈয়দপুরে পবিত্র আশুরার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হচ্ছে।
বিষয় : সৈয়দপুরের খবর আজ পবিত্র আশুরা

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬
যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ঐতিহাসিক ঐতিহ্য এবং গভীর শোকের আবহে নীলফামারীর সৈয়দপুরে পালিত হয়েছে পবিত্র আশুরা। আজ শুক্রবার (২৬ জুন) হিজরি ১৪৪৮ সনের ১০ মহররম মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই দিনটি উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
৬১ হিজরির (৬৮০ খ্রিষ্টাব্দ) এই দিনে ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্য ও সঙ্গীরা ইয়াজিদ বাহিনীর বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করে শাহাদতবরণ করেছিলেন। ইসলামের প্রকৃত আদর্শ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সেই অবিস্মরণীয় আত্মত্যাগের স্মৃতি স্মরণে সৈয়দপুরে আজ সকাল থেকেই নানা আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
আজ সকাল থেকেই সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন ইমামবাড়াগুলোতে নিয়াজ-ফাতেহা, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে বিকেল গড়াতেই শহরজুড়ে বের হয় পবিত্র আশুরার মূল আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল। শোকাহত হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে তাজিয়া মিছিলটি শহরের গোলাহাট এলাকা থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে মিছিলটি স্থানীয় প্রতীকী কারবালা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
বিশেষ করে সৈয়দপুরের অবাঙালি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শোক, ত্যাগ ও মানবতার চেতনা ধারণ করে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সংরক্ষিত ও পালিত হয়ে আসছে।
আশুরাকে কেন্দ্র করে সৈয়দপুরের পাড়া-মহল্লার ইমামবাড়া সংলগ্ন বিভিন্ন সড়কে দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা। এছাড়া হযরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর মাজারের আদলে তৈরি করা হয়েছে প্রতীকী তাজিয়া।
মিছিল ও সমাবেশের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে লাঠিখেলা, তলোয়ারের লড়াই ও আগুনের নান্দনিক কসরত প্রদর্শন করা হয়, যা দেখতে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর ভিড় জমে। অন্যদিকে হাতিখানায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কারবালা প্রাঙ্গণে বসেছে লোকজ মেলা। মেলায় নারী, পুরুষ ও শিশুদের ব্যাপক উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ধর্মীয় এই বৃহৎ সমাবেশ ও অনুষ্ঠানকে ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সৈয়দপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করার পাশাপাশি র্যাব ও পুলিশের বিশেষ টহল জোরদার রাখা হয়েছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খল পরিবেশে সৈয়দপুরে পবিত্র আশুরার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন