নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঁধ নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না পেয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার নির্মাণ সামগ্রী লুট করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
গত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখ বুধবার দুপুর আনুমানিক ৩:০০ ঘটিকায় ডিমলা থানার ছোটখাতা গ্রোয়িং বাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাব-কন্ট্রাক্টর মোঃ আজম আলী (৪২) বাদী হয়ে ডিমলা থানায় ৫ জন নামীয় এবং আরও ৩৫-৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে "মেসার্স সোয়েব ট্রেডার্স" নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ নং- DPM 24/25-26 এর অধীনে ছোটখাতা গ্রোয়িং বাঁধ এলাকায় একটি বাঁধ নির্মাণ কাজ বরাদ্দ পায়। উক্ত প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে সাব-কন্ট্রাক্ট নিয়ে কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব পান স্থানীয় ঠিকাদার মোঃ আজম আলী। ১৫ জুলাই দুপুরে তিনি শ্রমিক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজের সাইটে উপস্থিত হয়ে প্রস্তুতি শুরু করলে আসামিরা লাঠি, লোহার রড, ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিতভাবে সাইটটি ঘিরে ফেলে।
অভিযোগে ভুক্তভোগী ঠিকাদার আজম আলী উল্লেখ করেন, আসামিরা প্রকাশ্যে তার নিকট ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারপিট করতে উদ্যত হয়। পরবর্তীতে আসামিরা সাইটে কাজের জন্য রাখা ৫০০ পিস জিও ব্যাগ, ৫০টি টিউব, আনুমানিক ২০০ ফিট পাইপসহ মোট ৪,৫০,০০০/- (চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকার মালামাল জোরপূর্বক লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার সময় স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে আসামিরা ঠিকাদার ও শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তারা হুমকি দিয়ে বলে যে, দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দিয়ে কাজ শুরু করার চেষ্টা করলে ঠিকাদার ও শ্রমিকদের হত্যা করে লাশ তিস্তা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়াও মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেল খাটানোর হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই বাঁধ নির্মাণ কাজটি নির্ধারিত সময়ে সমাপ্ত করতে না পারলে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে স্থানীয় জনগণের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থায় কাজের নিরাপত্তা এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও স্থানীয় সচেতন মহল।
মামলার প্রধান আসামিরা হলেন:
১. মোঃ বাবু (৪৫), ২. মোঃ ইমরান আলী (৪০), ৩. মোঃ লেবু মিয়া (৫২), ৪. মোঃ অহিদুজ্জামান (৪৮), ৫. মোঃ হাবিবুর রহমান (৩৫), সর্বসাং- ছোটখাতা (গ্রোয়িং পাড়া), ডিমলা, নীলফামারী।
ডিমলা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিষয় : ডিমলার খবর নীলফামারীর খবর চাঁদাবাজি

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঁধ নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না পেয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার নির্মাণ সামগ্রী লুট করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
গত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখ বুধবার দুপুর আনুমানিক ৩:০০ ঘটিকায় ডিমলা থানার ছোটখাতা গ্রোয়িং বাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাব-কন্ট্রাক্টর মোঃ আজম আলী (৪২) বাদী হয়ে ডিমলা থানায় ৫ জন নামীয় এবং আরও ৩৫-৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে "মেসার্স সোয়েব ট্রেডার্স" নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ নং- DPM 24/25-26 এর অধীনে ছোটখাতা গ্রোয়িং বাঁধ এলাকায় একটি বাঁধ নির্মাণ কাজ বরাদ্দ পায়। উক্ত প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে সাব-কন্ট্রাক্ট নিয়ে কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব পান স্থানীয় ঠিকাদার মোঃ আজম আলী। ১৫ জুলাই দুপুরে তিনি শ্রমিক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজের সাইটে উপস্থিত হয়ে প্রস্তুতি শুরু করলে আসামিরা লাঠি, লোহার রড, ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিতভাবে সাইটটি ঘিরে ফেলে।
অভিযোগে ভুক্তভোগী ঠিকাদার আজম আলী উল্লেখ করেন, আসামিরা প্রকাশ্যে তার নিকট ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারপিট করতে উদ্যত হয়। পরবর্তীতে আসামিরা সাইটে কাজের জন্য রাখা ৫০০ পিস জিও ব্যাগ, ৫০টি টিউব, আনুমানিক ২০০ ফিট পাইপসহ মোট ৪,৫০,০০০/- (চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকার মালামাল জোরপূর্বক লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার সময় স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে আসামিরা ঠিকাদার ও শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তারা হুমকি দিয়ে বলে যে, দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দিয়ে কাজ শুরু করার চেষ্টা করলে ঠিকাদার ও শ্রমিকদের হত্যা করে লাশ তিস্তা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়াও মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেল খাটানোর হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই বাঁধ নির্মাণ কাজটি নির্ধারিত সময়ে সমাপ্ত করতে না পারলে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে স্থানীয় জনগণের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থায় কাজের নিরাপত্তা এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও স্থানীয় সচেতন মহল।
মামলার প্রধান আসামিরা হলেন:
১. মোঃ বাবু (৪৫), ২. মোঃ ইমরান আলী (৪০), ৩. মোঃ লেবু মিয়া (৫২), ৪. মোঃ অহিদুজ্জামান (৪৮), ৫. মোঃ হাবিবুর রহমান (৩৫), সর্বসাং- ছোটখাতা (গ্রোয়িং পাড়া), ডিমলা, নীলফামারী।
ডিমলা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন