রংপুর    রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জুফাস নিউজ
প্রকাশ : রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ভিটেমাটি গিলছে তিস্তা ত্রাণহীন তিস্তাপাড়ে শুধুই এখন কান্নার রোল

ভিটেমাটি গিলছে তিস্তা ত্রাণহীন তিস্তাপাড়ে শুধুই এখন কান্নার রোল

সৈয়দপুরে শতবর্ষী ৩৩ গাছ কাটার নিলাম ‘অনিবার্য কারণে’ স্থগিত: রেলওয়ের বিজ্ঞপ্তিতে ধোঁয়াশা, সংরক্ষণের দাবি স্থানীয়দের

সৈয়দপুরে শতবর্ষী ৩৩ গাছ কাটার নিলাম ‘অনিবার্য কারণে’ স্থগিত: রেলওয়ের বিজ্ঞপ্তিতে ধোঁয়াশা, সংরক্ষণের দাবি স্থানীয়দের

জুলাই শহীদ ও আহতদের স্মরণে  সৈয়দপুরে দোয়া মাহফিল, সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

জুলাই শহীদ ও আহতদের স্মরণে সৈয়দপুরে দোয়া মাহফিল, সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নীলফামারী কিশোরগঞ্জে বিয়ের পর কনে নিয়ে ফেরার পথে মাইক্রোবাস খাদে, শিশুসহ নিহত ২

নীলফামারী কিশোরগঞ্জে বিয়ের পর কনে নিয়ে ফেরার পথে মাইক্রোবাস খাদে, শিশুসহ নিহত ২

সৈয়দপুরের তৈরী বাঁশের পণ্য ঠাই পেয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে

সৈয়দপুরের তৈরী বাঁশের পণ্য ঠাই পেয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে

সৈয়দপুর গোলাহাটে রাস্তা নির্মাণকাজে ফিরছে স্বস্তি

সৈয়দপুর গোলাহাটে রাস্তা নির্মাণকাজে ফিরছে স্বস্তি

ডিমলায় ঠিকাদারকে প্রাণনাশের হুমকি ও চাঁদাবাজি, এলাকায় উত্তেজনা

ডিমলায় ঠিকাদারকে প্রাণনাশের হুমকি ও চাঁদাবাজি, এলাকায় উত্তেজনা

মানবতার সেবায় নতুন দায়িত্বে ডোমারের মোঃ রাব্বানী ইসলাম

মানবতার সেবায় নতুন দায়িত্বে ডোমারের মোঃ রাব্বানী ইসলাম

ভিটেমাটি গিলছে তিস্তা ত্রাণহীন তিস্তাপাড়ে শুধুই এখন কান্নার রোল

ভিটেমাটি গিলছে তিস্তা ত্রাণহীন তিস্তাপাড়ে শুধুই এখন কান্নার রোল
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি কমার সাথে সাথেই শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। ছবি: জুফাস নিউজ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি কমার সাথে সাথেই শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। ভাঙনের করাল গ্রাসে প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি আর মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়স্থল। তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবনে এখন নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের মুখে একটাই আকুতি—"হামার ঘরবাড়ি সউগ শ্যাষ হইয়া গেইল, এ্যালা হামরা কোন্টে যামো?"

সরেজমিনে তিস্তাপাড়ের ভাঙনকবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। চোখের সামনেই নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা। নদীর পাড়ে কোনোমতে টিকে থাকা জরাজীর্ণ টিনের ঘরের সামনে দিশেহারা হয়ে বসে আছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। কারও ঘরের কোণায় নৌকা বাঁধা, আবার কেউ গৃহহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বন্যার নোংরা পানি আর ভাঙনের আতঙ্কে কাটছে তাদের দিনরাত।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভাঙনের তীব্রতায় তারা সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত এই দুর্গত এলাকায় কোনো প্রকার সরকারি বা বেসরকারি ত্রাণ কিংবা সাহায্য-সহযোগিতা পৌঁছায়নি।

"নদী তো সউগ কাড়ি নিল। থাকার জায়গা নাই, খাবার দাবার নাই। ছাওয়া-পোয়া নিয়া উপাস থাকার মতো অবস্থা। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ একটা দানাও নিয়া আমাগো পাশে দাঁড়ায় নাই।"

ত্রাণ না পৌঁছানোয় ভাঙনকবলিত এলাকায় তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারগুলো দিন এনে দিন খাওয়ার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় অনেকেই বাঁধের ওপর বা অন্যের জমিতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

তিস্তাপাড়ের মানুষের এখন কেবল ত্রাণের অপেক্ষা নয়, তারা চান এই ভাঙনের একটি স্থায়ী সমাধান। প্রতি বছর বন্যার পর এই ভাঙন তাদের জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। স্থানীয়রা অবিলম্বে সরকারি উদ্যোগে ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

সবকিছু হারিয়ে তিস্তাপাড়ের এই মানুষগুলোর চোখে এখন কেবলই অন্ধকার ভবিষ্যৎ। প্রশাসন ও বিত্তবানদের দ্রুত হস্তক্ষপই পারে এই অসহায় মানুষগুলোর মুখে একটু হাসি ফোটাতে।

বিষয় : তিস্তা ব্যারেজ নীলফামারীর খবর নদীভাঙন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬


ভিটেমাটি গিলছে তিস্তা ত্রাণহীন তিস্তাপাড়ে শুধুই এখন কান্নার রোল

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি কমার সাথে সাথেই শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। ভাঙনের করাল গ্রাসে প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি আর মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়স্থল। তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবনে এখন নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের মুখে একটাই আকুতি—"হামার ঘরবাড়ি সউগ শ্যাষ হইয়া গেইল, এ্যালা হামরা কোন্টে যামো?"

সরেজমিনে তিস্তাপাড়ের ভাঙনকবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। চোখের সামনেই নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা। নদীর পাড়ে কোনোমতে টিকে থাকা জরাজীর্ণ টিনের ঘরের সামনে দিশেহারা হয়ে বসে আছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। কারও ঘরের কোণায় নৌকা বাঁধা, আবার কেউ গৃহহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বন্যার নোংরা পানি আর ভাঙনের আতঙ্কে কাটছে তাদের দিনরাত।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভাঙনের তীব্রতায় তারা সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত এই দুর্গত এলাকায় কোনো প্রকার সরকারি বা বেসরকারি ত্রাণ কিংবা সাহায্য-সহযোগিতা পৌঁছায়নি।

"নদী তো সউগ কাড়ি নিল। থাকার জায়গা নাই, খাবার দাবার নাই। ছাওয়া-পোয়া নিয়া উপাস থাকার মতো অবস্থা। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ একটা দানাও নিয়া আমাগো পাশে দাঁড়ায় নাই।"

ত্রাণ না পৌঁছানোয় ভাঙনকবলিত এলাকায় তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারগুলো দিন এনে দিন খাওয়ার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় অনেকেই বাঁধের ওপর বা অন্যের জমিতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

তিস্তাপাড়ের মানুষের এখন কেবল ত্রাণের অপেক্ষা নয়, তারা চান এই ভাঙনের একটি স্থায়ী সমাধান। প্রতি বছর বন্যার পর এই ভাঙন তাদের জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। স্থানীয়রা অবিলম্বে সরকারি উদ্যোগে ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

সবকিছু হারিয়ে তিস্তাপাড়ের এই মানুষগুলোর চোখে এখন কেবলই অন্ধকার ভবিষ্যৎ। প্রশাসন ও বিত্তবানদের দ্রুত হস্তক্ষপই পারে এই অসহায় মানুষগুলোর মুখে একটু হাসি ফোটাতে।


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ