রংপুর    রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
জুফাস নিউজ

সরকারি দপ্তরে হয়রানি বন্ধে কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

সরকারি দপ্তরে হয়রানি বন্ধে কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

সরকারি কর্মকর্তার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার প্রধান পরিচয় তিনি জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা। ক্যাডার বা কর্মস্থল ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সবার মূল দায়িত্ব জনগণের সেবা করা। সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সেবক। তাই কোনো নাগরিক যেন সরকারি দপ্তরে গিয়ে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সাভারের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) মিলনায়তনে নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

চার মাসব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে শীর্ষ দশজনের হাতে সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তিনি।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ক্যাডার বা কর্মস্থল যা-ই হোক না কেন, সবার প্রথম ও প্রধান পরিচয় হলো— আপনারা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা এবং জনগণের সেবক। অফিসে সেবা নিতে আসা নাগরিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে। কারও আবেদনপত্রে ভুল থাকলে তাকে শুধু ফিরিয়ে না দিয়ে, কীভাবে তা সংশোধন করা যায় সেই পরামর্শ দেওয়াটাই মানবিকতার বহিঃপ্রকাশ।

এসময় প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের ‘নিজের সঙ্গে যেমন আচরণ প্রত্যাশা করেন, অন্যের সঙ্গেও তেমন আচরণ করার’ নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অবশ্যই আইন ও বিধিবিধান মেনে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে দায়িত্ব পালনের সময় নাগরিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও আধুনিক রাষ্ট্র ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এ বিষয়ে একটি উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো নাগরিক আবেদনপত্র নিয়ে সরকারি দপ্তরে এলে তাতে ভুল থাকলে সংশোধন করতে বলা অন্যায় নয়। তবে শুধু ভুল ধরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে ভুলটি কোথায় হয়েছে এবং কীভাবে, কার মাধ্যমে তা সংশোধন করতে হবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দিলে নাগরিক উপকৃত হবেন। তাঁর মতে, এ ধরনের আচরণই প্রশাসনের আন্তরিকতা ও মানবিকতার পরিচয়।

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নেও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের কাছে যে ইশতেহার দেওয়া হয়েছিল, নির্বাচনে জনগণের রায়ের পর সেটি এখন জনগণের দলিল। এই ইশতেহার বাস্তবায়ন করা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ব পালনের প্রশাসনিক কাজ কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে।

সরকারি সেবায় দীর্ঘসূত্রতা কমানোর বিষয়েও নবীন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক মানসিকতা সরকারি সেবা সহজ ও নাগরিকবান্ধব করতে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে নবীন কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করেন তিনি।

বিষয় : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


সরকারি দপ্তরে হয়রানি বন্ধে কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

সরকারি কর্মকর্তার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার প্রধান পরিচয় তিনি জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা। ক্যাডার বা কর্মস্থল ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সবার মূল দায়িত্ব জনগণের সেবা করা। সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সেবক। তাই কোনো নাগরিক যেন সরকারি দপ্তরে গিয়ে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সাভারের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) মিলনায়তনে নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

চার মাসব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে শীর্ষ দশজনের হাতে সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তিনি।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ক্যাডার বা কর্মস্থল যা-ই হোক না কেন, সবার প্রথম ও প্রধান পরিচয় হলো— আপনারা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা এবং জনগণের সেবক। অফিসে সেবা নিতে আসা নাগরিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে। কারও আবেদনপত্রে ভুল থাকলে তাকে শুধু ফিরিয়ে না দিয়ে, কীভাবে তা সংশোধন করা যায় সেই পরামর্শ দেওয়াটাই মানবিকতার বহিঃপ্রকাশ।

এসময় প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের ‘নিজের সঙ্গে যেমন আচরণ প্রত্যাশা করেন, অন্যের সঙ্গেও তেমন আচরণ করার’ নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অবশ্যই আইন ও বিধিবিধান মেনে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে দায়িত্ব পালনের সময় নাগরিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও আধুনিক রাষ্ট্র ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এ বিষয়ে একটি উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো নাগরিক আবেদনপত্র নিয়ে সরকারি দপ্তরে এলে তাতে ভুল থাকলে সংশোধন করতে বলা অন্যায় নয়। তবে শুধু ভুল ধরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে ভুলটি কোথায় হয়েছে এবং কীভাবে, কার মাধ্যমে তা সংশোধন করতে হবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দিলে নাগরিক উপকৃত হবেন। তাঁর মতে, এ ধরনের আচরণই প্রশাসনের আন্তরিকতা ও মানবিকতার পরিচয়।

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নেও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের কাছে যে ইশতেহার দেওয়া হয়েছিল, নির্বাচনে জনগণের রায়ের পর সেটি এখন জনগণের দলিল। এই ইশতেহার বাস্তবায়ন করা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ব পালনের প্রশাসনিক কাজ কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে।

সরকারি সেবায় দীর্ঘসূত্রতা কমানোর বিষয়েও নবীন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক মানসিকতা সরকারি সেবা সহজ ও নাগরিকবান্ধব করতে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে নবীন কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করেন তিনি।


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ