রংপুর    মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
জুফাস নিউজ

আর্কাইভ দেখুন

রংপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের র‌্যালি, রং ছিটিয়ে বিশ্বকাপ উল্লাস

রংপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের র‌্যালি, রং ছিটিয়ে বিশ্বকাপ উল্লাস

বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে সারা দেশের মতো রংপুরেও শুরু হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে এবং বিশ্বকাপের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে রংপুরে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থকেরা আয়োজন করেছেন এক বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি।আর্জেন্টিনার পতাকা, জার্সি, বাঁশির শব্দ এবং রং ছিটিয়ে উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে নগরীর বিভিন্ন সড়ক।সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে নগরীর টাউন হল চত্বর থেকে আর্জেন্টিনা ফ্যানস ক্লাব রংপুরের উদ্যোগে এই বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালি টাউন হল চত্বর থেকে শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে অংশ নেন বিভিন্ন বয়সী ফুটবলপ্রেমী, কিশোর-তরুণ থেকে শুরু করে মধ্যবয়সীরাও।অনেকেই আর্জেন্টিনা দলের নীল-সাদা জার্সি পরে এবং জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে বাঁশি বাজিয়ে এবং রং ছিটিয়ে সমর্থকেরা উচ্ছ্বাস তুলে ধরেন। পরে সেখানে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা দলের বিভিন্ন স্মরণীয় ম্যাচের ভিডিও ক্লিপ প্রদর্শন করা হয়। এতে উপস্থিত সমর্থকেরা দলটির অতীত সাফল্য স্মরণ করেন এবং বিশ্বকাপে দলের জন্য শুভকামনা জানান।আর্জেন্টিনা ফ্যানস ক্লাব রংপুরের অন্যতম সংগঠক ময়নুল হক বলেন, ‘ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই আর্জেন্টিনাকে ঘিরে আলাদা এক আবেগ কাজ করে।বিশ্বের অন্যতম গোছানো ও শৈল্পিক ফুটবল খেলা দল আর্জেন্টিনা। আমরা নানা আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের প্রিয় দলকে উৎসাহ দিতে চাই। একই সঙ্গে রংপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের শক্তিশালী অবস্থানও তুলে ধরতে চাই।’তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান আর্জেন্টিনা দলে অনেক বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দলটি ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে।বিশেষ করে লিওনেল মেসির নেতৃত্ব ও অনুপ্রেরণায় দলটির প্রতি আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা বিশ্বাস করি, এবারও আর্জেন্টিনা শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার।’আর্জেন্টিনা সমর্থক এম এম কাদের বলেন, ‘আজকের আয়োজনের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রিয় দলের সমর্থনে বন্ধুদের নিয়ে র‍্যালিতে অংশ নিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। বিশ্বকাপের আনন্দ সবাই মিলে ভাগাভাগি করাই আমাদের উদ্দেশ্য।’আর্জেন্টিনা সমর্থক রিয়াজুজ্জামান হৃদয় বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। বিশ্বকাপ এলেই আমরা দলকে সমর্থন জানাতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিই। এমন আয়োজন আমাদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’সমর্থক জায়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনা দলের খেলা দেখতে পছন্দ করি। তাদের ফুটবলের ধরন আমার ভালো লাগে। তাই মন থেকে দলটিকে সমর্থন করি। র‍্যালিতে অংশ নিয়ে অনেক আনন্দ পেয়েছি।’ ছবি: সংগৃহীতআর্জেন্টিনা ফ্যানস ক্লাব রংপুরের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হওয়ায় সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। আমাদের প্রিয় দল আর্জেন্টিনা এবারও বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, দলটি ভালো খেলবে এবং শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে শক্ত অবস্থানে থাকবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সমর্থকদের র‌্যালি ও শোভাযাত্রার অংশ হিসেবেই রংপুরে এ আয়োজন করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা। আমরা চাই খেলাকে কেন্দ্র করে সবাই আনন্দ করবে এবং সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ বজায় থাকবে।’আর্জেন্টিনা ফ্যানস ক্লাব রংপুরের সভাপতি এবং মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন বলেন, ‘আমাদের প্রিয় দেশ বাংলাদেশ। আমরা কোনো দেশের রাজনীতি বা অন্য কিছু নয়, শুধুমাত্র একটি ফুটবল দলকে সমর্থন করি। সেই ভালোবাসা থেকেই আজকের এই বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আনন্দ-উল্লাসের আয়োজন।’তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আর্জেন্টিনা এবং লিওনেল মেসির ভক্ত হলেও অন্য কোনো দলের প্রতি আমাদের কোনো বিদ্বেষ নেই। আমরা চাই সবাই মিলে বিশ্বকাপ উপভোগ করুক। ফুটবল অনিশ্চয়তার খেলা, তবে আমাদের বিশ্বাস আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার হবে।’র‌্যালি ঘিরে নগরীতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পথচারী ও সাধারণ মানুষও কিছু সময়ের জন্য দাঁড়িয়ে আনন্দ উপভোগ করেন। বিশ্বকাপকে ঘিরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের এই বর্ণাঢ্য আয়োজন ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। সমর্থকদের প্রত্যাশা, মাঠের খেলায়ও তাদের প্রিয় দল সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করবে।


হাঁড়িভাঙার বাজারজাত শুরু, চাষিরা চান কোল্ড স্টোরেজ

হাঁড়িভাঙার বাজারজাত শুরু, চাষিরা চান কোল্ড স্টোরেজ

রংপুরের ঐতিহ্য আর গৌরবের প্রতীক, জিআই পণ্য ‘হাঁড়িভাঙা’ আমের আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকায় বাগানে আম পেড়ে এই মৌসুমের বিক্রয় কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে পদাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আমচাষি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন জেলা প্রশাসক। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি হাঁড়িভাঙা আমকে জেলা প্রশাসনের ‘অগ্রাধিকার প্রকল্প’ হিসেবে ঘোষণা করেন। চাষিরা এসময় আম সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণ, যাতায়াতের জন্য রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, ব্যাংকিং সুবিধা বৃদ্ধি, হাটে স্থায়ী শেড ও ওয়াশ ব্লক স্থাপন এবং বিদেশে আম রফতানির সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানান।চাষিদের দাবির প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক আশ্বাস দিয়ে বলেন, “হাঁড়িভাঙা আমের বিশ্ববাজার ধরতে এবং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত সড়ক সংস্কার, ব্যাংকের শাখা স্থাপন এবং আম পরিবহনের জন্য ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন’ চালুসহ সব সমস্যার সমাধানে জেলা প্রশাসন কাজ করছে।”উদ্বোধনের প্রথম দিনেই পদাগঞ্জ হাটে প্রচুর আমের সরবরাহ দেখা গেছে। তবে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে কেনাবেচায় কিছুটা ধীরগতি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জমে ওঠে বাজার। বর্তমানে প্রতি মণ হাঁড়িভাঙা আম মানভেদে ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।ফলন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াচলতি মৌসুমে শিলাবৃষ্টির কারণে আমের ফলন প্রায় ৩০ শতাংশ কম হলেও আমের আকার বেশ বড় হয়েছে। কৃষকরা জানান, ফলন কম হওয়ায় দাম আশানুরূপ না পেলে তাদের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। তবে কৃষি বিভাগ আশার বাণী শুনিয়েছে। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সিরাজুল ইসলাম জানান, ফলন কিছুটা কম হলেও আমের গুণগত মান ও আকার ভালো হয়েছে। শুরুতে দাম কিছুটা কম মনে হলেও দিন বাড়ার সাথে সাথে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।ঐতিহ্যবাহী এই আমের বাজারজাতকরণ শুরু হওয়ায় রংপুরের আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখন ব্যস্ততা আর উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।


নতুন কারিকুলামে কোচিং নির্ভরতা কমবে: শিক্ষামন্ত্রী

নতুন কারিকুলামে কোচিং নির্ভরতা কমবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষার্থীদের কোচিংনির্ভরতা কমাতে নতুন সিলেবাস ও কারিকুলাম এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যাতে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষাই হয়ে ওঠে মূল ভিত্তি। সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এহসানুল হক মিলন বলেন, সারা দেশে কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে নির্মাণাধীন ৩২৯টি নতুন টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাজ আগামী দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়নে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করছে। আগামী দিনের উন্নত বাংলাদেশ গড়তে কারিগরি ট্রেনিং সেন্টারসহ সার্বিক কারিগরি শিক্ষার বিস্তার অপরিহার্য। যুগোপযোগী ও কর্মমুখী শিক্ষাই হবে নতুন প্রজন্মের প্রধান হাতিয়ার।তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তরের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার শিক্ষা খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চায়।শিক্ষাক্ষেত্রে সেশনজট কমিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৮ সালের মধ্যে এমন ব্যবস্থা করা হবে যাতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে দ্রুত পরবর্তী ধাপে যেতে পারে। কলেজ শেষ করেই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান শুরু করতে পারবে।এ সময় তিনি জানান, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফল দুই মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে।শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের বিষয়ে তিনি জানান, ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের সব স্কুলে সংশোধিত ও পরিমার্জিত নতুন বই পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে বই হাতে পায়।কোচিংনির্ভরতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যেও কাজ চলছে বলে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এমনভাবে নতুন সিলেবাস ও কারিকুলাম তৈরি করা হচ্ছে যাতে শিক্ষার্থীদের অযথা কোচিং সেন্টারে যেতে না হয়। শিক্ষার্থীদের শুধু চার দেয়ালের মধ্যে পাঠদানে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।এসময় উপস্থিত ছিলেন, মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।


কুড়িগ্রামে প্রথমবার চালু হলো ‘রেডি টু কুক’ মাছের দোকান

কুড়িগ্রামে প্রথমবার চালু হলো ‘রেডি টু কুক’ মাছের দোকান

কুড়িগ্রামে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ‘রেডি টু কুক’ বা রান্না উপযোগী দেশীয় মাছের দোকান। জেলার রাজারহাট উপজেলার রেলস্টেশন এলাকায় ‘জান্নাতি ফ্রেশ অ্যান্ড ফ্রোজেন মৎস্য পণ্য বিক্রয় কেন্দ্রে’ বাজারদরেই পরিষ্কার, প্যাকেটজাত ও হিমায়িত দেশীয় মাছ বিক্রি করা হচ্ছে।আরডিআরএস বাংলাদেশের সহায়তায় স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু মিয়া ও তার স্ত্রী পেয়ারা বেগম প্রায় দুই মাস আগে উদ্যোগটি শুরু করেন। দোকানে মলা, দারকিনা, পুঁটি, ট্যাংরা, শিং, মাগুর, চাপিলা, খলিসা ও টাকিসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছ কেটে, পরিষ্কার করে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্যাকেটজাত করে সংরক্ষণ করা হয়। অনলাইন ও হোম ডেলিভারির ব্যবস্থাও রয়েছে।উদ্যোক্তা বাবলু মিয়া জানান, আগে তিনি খাদ্যগুদামে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।বয়সজনিত কারণে ভারী কাজ করতে না পারায় আরডিআরএস বাংলাদেশের সহায়তায় এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ কেজি মাছ বিক্রি হচ্ছে।পেয়ারা বেগম বলেন, প্রতিদিন বাজার থেকে মাছ সংগ্রহ করে পরিষ্কার ও প্যাকেটজাত করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়। সীমিত লাভে বাজারদরেই মাছ বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি‌বে‌শিরা জানান, ছোট মাছ পরিষ্কার ও প্রস্তুত করতে সময় বেশি লাগায় অনেকেই তা কিনতে অনাগ্রহী হন। এ উদ্যোগের ফলে ঝামেলামুক্তভাবে দেশীয় মাছ কিনে সরাসরি রান্না করা সম্ভব হচ্ছে।আরডিআরএস বাংলাদেশের মৎস্য টেকনিক্যাল অফিসার মোজাম্মেল হক বলেন, সংস্থাটি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহায়তায় নতুন উদ্যোক্তা ও নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করছে। ভবিষ্যতে জেলার অন্য উপজেলাতেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।রাজারহাট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।


আষাঢ়ের প্রথম দিন আজ, বর্ষার সুরে প্রকৃতি মাতোয়ারা

আষাঢ়ের প্রথম দিন আজ, বর্ষার সুরে প্রকৃতি মাতোয়ারা

ঋতুবৈচিত্র্যের ষড়ঋতুর দেশের ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের দ্বিতীয় ঋতু বর্ষা তথা আষাঢ়ের প্রথম দিন আজ। ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে বেশ কদিন আগেই। কিন্তু এবার ঘটা করে হাজির হলো বর্ষা। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এবার ৬ জুন মৌসুমি বায়ু দেশে প্রবেশ করলেও দুদিন আগে থেকে সারা দেশে সক্রিয় হয়েছে।নীল গগনে কালো মেঘের চোখ রাঙানিতে আজ থেকে বৃষ্টির রাজত্ব শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কদিন আগে থেকেই অঝোর ধারায় আকাশ কাঁদিয়ে বর্ষারানি তার আগমনের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে ষড়ঋতুর দেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলে।গতকাল রোববার জ্যৈষ্ঠের শেষ দিনে সারা দেশেই কম-বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ময়মনসিংহে সবচেয়ে বেশি ১২২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। তবে এদিন আকাশ মেঘলা থাকলেও রাজধানীতে কোনো বৃষ্টি হয়নি; যদিও আগের দুদিনে শনিবার ৩৫ ও শুক্রবার ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝরে।গতকাল রোববার রাতে আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক আমার দেশকে বলেন, আজ সোমবারও রাজধানীসহ সারা দেশে কম-বেশি বৃষ্টি হবে। তবে ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে অধিক বৃষ্টি হতে পারে। বর্ধিত পাঁচ দিনে বৃষ্টির প্রবণতা আরো বাড়বে। তিনি আরো বলেন, এ সময়ে বৃষ্টি হলেও তা অনেকটাই উষ্ণ বৃষ্টি, বেশি সময় ধরে না হলে তাপমাত্রা সহজে কমে না; বরং ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়।এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের গতকাল সন্ধ্যা ৬টার পূর্বাভাসে বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এতে আজ সোমবার রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সে সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।বর্ষা নিয়ে কবি-সাহিত্যিকরা লিখেছেন অগণিত গান ও কবিতা। আবেগাপ্লুত হয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন— বর্ষা ঋতু এলো এলো বিজয়ীর সাজে, বাজে গুরু গুরু আনন্দ-ডমরু অম্বর মাঝে।এছাড়া ‘আয়রে মেঘ আয়রে’সহ অগণিত গান ও কবিতায় বর্ষার স্বরূপ প্রকাশ করেছেন কবি-সাহিত্যিকরা। শুধু কি তা-ই, বর্ষার আগমনে গাছে শোভাবর্ধন করে কদম ফুল। মেঘের গুড়ুম গুড়ুম গর্জনে ময়ূর নাচে পেখম তুলে।বর্ষা আমাদের জন্য অপরিহার্য এক ঋতু। বৃষ্টি না হলে শস্যাদি জন্মাবে না, বেড়ে উঠবে না প্রাণ। বৃষ্টির অভাবে মাটি যখন অনুর্বর হয়ে যায়, তখন বর্ষা এসে তা উর্বর করে। আমাদের নদী-মাঠ-ঘাটের দেশ বর্ষায় ভরে ওঠে সবুজে-শ্যামলে। আবেগে ভরে বর্ষা সবার মনকে স্নিগ্ধ করে তোলে। পুরাতন জঞ্জাল ধুয়ে-মুছে জেগে ওঠে প্রাণচাঞ্চল্যে।আষাঢ়ে প্রকৃতি রূপ-রঙে হয়ে ওঠে ঢলঢলে। তাপপ্রবাহে চৌচির মাঠ-ঘাট, খাল-বিল আর বনবীথিকায় জেগে ওঠে নবীন প্রাণের ছন্দ। সময়-অসময়ে ঝমাঝম বৃষ্টি, কর্দমাক্ত পথঘাট, চারধারে অথৈ পানিতে আবহমান বাংলা রূপ নেয় অপরূপ রূপবতী সলিল দুহিতায়। ফুলে ফুলে শোভিত হয় প্রকৃতি। তাল-তমাল, শাল-পিয়াল আর মরাল কপোতের বনবীথিকায় চোখে পড়ে বকুল, কদম, জারুল, পারুল, কৃষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়াসহ অসংখ্য ফুল।গ্রীষ্মের রুদ্র প্রকৃতির গ্লানি আর জরাকে ধুয়ে-মুছে প্রশান্তি স্নিগ্ধতা ও সবুজে ভরে তোলে আষাঢ়। প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের কাছে তাই বর্ষা নিয়ে আসে অভিনব ব্যঞ্জনা। আর বাঙালি মননে সবচেয়ে বেশি রোমান্টিকতার সুর বেজেছে এ বর্ষা ঋতুতেই। গানে-কবিতায়-সাহিত্যজুড়ে তারই প্রতিফলন ঘটেছে নানাভাবে।আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক বলেন, ‘মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশেই বৃষ্টি হচ্ছে। এখন কোথাও কোথাও স্বল্প থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। তবে ভারী বর্ষণ এখনো শুরু না হলেও ধীরে ধীরে বর্ষার বৃষ্টি বাড়বে।’


চামড়া সংরক্ষণে বিনামূল্যে ৩০ হাজার টন লবণ দেবে সরকার

শৈশবে একসাথে খেলাধুলা, শেষযাত্রাতেও পাশাপাশি দুই বন্ধু অহিদ ও মাসুদ

অন্য কেউ আপনার জিমেইল ব্যবহার করছে? এখনই ব্যবস্থা না নিলে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি!

সৈয়দপুর রুটে এয়ার অ্যাস্ট্রার ভাড়া কমলো, টিকিট ৩ হাজার ৩৫০ টাকা

দুলাভাইয়ের বাড়িতে দাওয়াতে এসে মারধরে শ্যালকের মৃত্যু

তারাগঞ্জে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগে বরখাস্ত শিক্ষক

পার্বতীপুরে রেলগেটে ট্রেন–ট্রাক সংঘর্ষে ১১ যাত্রী আহত

জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে তারাগঞ্জ উপজেলার থানাপাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা

ঈদের দিন সকাল থেকে আবহাওয়া যেমন থাকবে রংপুরে!

১০

ঘরে বসেই স্টারলিংকের সংযোগ পাবেন যেভাবে

জনপ্রিয় সব খবর

বাজারে এলো রংপুরের হাঁড়িভাঙা, ৩০০ কোটি টাকার ব্যবসার আশা

বর্ণিল সাজে কারমাইকেল কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগ, নবীনবরণের প্রস্তুতি

রংপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের র‌্যালি, রং ছিটিয়ে বিশ্বকাপ উল্লাস

হাঁড়িভাঙার বাজারজাত শুরু, চাষিরা চান কোল্ড স্টোরেজ

নতুন কারিকুলামে কোচিং নির্ভরতা কমবে: শিক্ষামন্ত্রী

কুড়িগ্রামে প্রথমবার চালু হলো ‘রেডি টু কুক’ মাছের দোকান

আষাঢ়ের প্রথম দিন আজ, বর্ষার সুরে প্রকৃতি মাতোয়ারা

বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কে পুরুষের ৭ বছরের জেল

যারা খেলা বোঝে তারা ব্রাজিল করে: অপু বিশ্বাস

১০

তারাগঞ্জে ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ও ২৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

সর্বশেষ সব খবর

আর্কাইভ